চোখের ছানি: কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা
Cataract • 06 Feb,2026 • 👁 339 Views
Category: সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
চোখের ছানি কী, কেন হয়, চোখের ছানির লক্ষণ, ঝুঁকি ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে জানুন বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ।
চোখের ছানি কী?
চোখের ছানি (Cataract) হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে চোখের স্বচ্ছ লেন্স ধীরে ধীরে ঘোলা বা অস্বচ্ছ হয়ে যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় চোখের লেন্স পরিষ্কার থাকে এবং আলোকে রেটিনায় ফোকাস করতে সাহায্য করে। কিন্তু ছানি হলে লেন্সের স্বচ্ছতা নষ্ট হয়, ফলে দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমে আসে।
চোখের ছানি কেন হয়?
চোখের ছানি সাধারণত বয়সজনিত কারণে হয়ে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের লেন্সের প্রোটিনে পরিবর্তন ঘটে, যা লেন্সকে ঘোলা করে তোলে। তবে বয়স ছাড়াও ডায়াবেটিস, দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ওষুধ সেবন, চোখে আঘাত, ধূমপান, অতিরিক্ত রোদে থাকা এবং জন্মগত কারণেও চোখের ছানি হতে পারে।
চোখের ছানির সাধারণ লক্ষণ
চোখের ছানির লক্ষণ ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। শুরুতে অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও সময়ের সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ঝাপসা বা ধোঁয়াটে দেখা
চোখের ছানির সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো ঝাপসা দেখা। মনে হয় যেন চোখের সামনে কুয়াশা বা ধোঁয়া জমে আছে। চশমা বদলালেও দৃষ্টিশক্তি পরিষ্কার হয় না।
আলোতে সমস্যা হওয়া
ছানি হলে উজ্জ্বল আলোতে চোখে অস্বস্তি লাগে। সূর্যের আলো বা গাড়ির হেডলাইট চোখে বেশি ঝলকানি সৃষ্টি করে। রাতে গাড়ি চালানোর সময় এই সমস্যা আরও প্রকট হয়।
রঙ ফ্যাকাশে দেখা
চোখের ছানির কারণে রঙ আগের মতো উজ্জ্বল দেখা যায় না। সবকিছু হলদেটে বা বিবর্ণ মনে হয়, যা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা সৃষ্টি করে।
দ্বৈত দৃষ্টি (Double Vision)
কিছু ক্ষেত্রে এক চোখ দিয়ে তাকালে একটি বস্তু দুইটি দেখা যেতে পারে। এটি চোখের ছানির একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
চোখের ছানির ধরন
চোখের ছানি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যা লেন্সের কোন অংশ আক্রান্ত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে।
বয়সজনিত ছানি
সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বয়সজনিত ছানি। সাধারণত ৫০ বছরের পর ধীরে ধীরে এই ছানি তৈরি হয় এবং সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে।
জন্মগত ছানি
কিছু শিশু জন্মের সময়ই চোখের ছানি নিয়ে জন্মাতে পারে। এটি জেনেটিক কারণ বা গর্ভাবস্থায় মায়ের সংক্রমণের কারণে হতে পারে।
ডায়াবেটিক ছানি
ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে চোখের ছানি দ্রুত তৈরি হয়। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে লেন্স দ্রুত ঘোলা হয়ে যেতে পারে।
চোখের ছানির ঝুঁকি কার বেশি?
বয়স্ক ব্যক্তি, ডায়াবেটিস রোগী, দীর্ঘদিন স্টেরয়েড সেবনকারী, ধূমপায়ী, অতিরিক্ত রোদে কাজ করা মানুষ এবং যাদের পরিবারে ছানির ইতিহাস আছে—তাদের চোখের ছানির ঝুঁকি বেশি।
চোখের ছানি কি ওষুধে ভালো হয়?
বর্তমানে চোখের ছানি সম্পূর্ণভাবে ভালো করার জন্য কোনো কার্যকর ওষুধ নেই। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু চোখের ড্রপ দৃষ্টির অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করলেও ছানি সম্পূর্ণ দূর করতে পারে না।
চোখের ছানির কার্যকর চিকিৎসা
চোখের ছানির একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হলো অপারেশন। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে ঘোলা লেন্সটি অপসারণ করে তার জায়গায় কৃত্রিম স্বচ্ছ লেন্স (IOL – Intraocular Lens) প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে ফ্যাকো সার্জারি ও লেজার সার্জারি খুবই নিরাপদ ও সফল পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ছানি অপারেশন কি ঝুঁকিপূর্ণ?
আধুনিক প্রযুক্তির কারণে চোখের ছানি অপারেশন এখন খুবই নিরাপদ। অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞ দ্বারা করালে জটিলতার ঝুঁকি অত্যন্ত কম এবং বেশিরভাগ রোগী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
চোখের ছানি প্রতিরোধে করণীয়
চোখের ছানি পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও কিছু অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। যেমন—ধূমপান পরিহার করা, রোদে বের হলে সানগ্লাস ব্যবহার করা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা।
কখন চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন?
যদি ঝাপসা দেখা, আলোতে সমস্যা, রাতে দেখার অসুবিধা বা দৃষ্টিশক্তি হঠাৎ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞ (Ophthalmologist)-এর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor Service BD তে
চোখের ছানি একটি সাধারণ কিন্তু গুরুতর দৃষ্টিজনিত সমস্যা। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা না করলে এটি অন্ধত্বের কারণ হতে পারে। তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় চোখের ছানি সম্পূর্ণভাবে নিরাময়যোগ্য। তাই লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করাই সুস্থ দৃষ্টির চাবিকাঠি।
Related Articles
Continue reading in সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা