Explore our Specialist

Rest easy knowing your health is our top priority. Our advanced medical services offer optimal care, ensuring your well-being without compromising safety or quality.

Our expert doctors

Welcome to Doctor Service BD, here you can find a gather of best doctors. With leading experts in every medical field, we ensure unparalleled service and care for all our patients.

doctor
Medicine Specialist
Dr. Md. Mojibul Haque (Sobuj)
Medicine specialist and diabetologist

MBBS, BCS (Health), MD (Internal Medicine) BSMMU

doctor
Medicine Specialist
Dr. SK. Md. Afzal Uddin
Internal Medicine Specialist

MBBS, BCS (Health), MD(Internal Medicine),FACP(Glasgow,UK),FCCP(USA),MRSM(London),FRSPH(UK), Honorary Professor,Queensland university,Brisbane Australia.

doctor
Pulmonology,Asthma, Chest Medicine Specialist
Dr. Ahmad Zainuddin Sani
Chest Diseases & Respiratory Medicine Specialist

MBBS, BCS (Health), MD (Chest Medicine)

doctor
ENT -Ear Nose Throat specialist
Dr. Muhammad Mahmudul Haque Anik
Ear, Nose, Throat Specialist & Head Neck Specialist Surgeon

MBBS, BCS (Health), FCPS (ENT), Advanced Clinical Fellow in Otology(BSMMU)

doctor
Nephrology Specialist
Dr. Md. Safayet Hossain Pramanik
Nephrology & Kidney Specialist

MBBS, BCS (Health),MD (Nephrology) Bangabandhu Sheikh Mujib Medical University (PG Hospital), Member, International Society Of Nephrology (ISN),MACP (America)

doctor
Gastroenterology Specialist

Explore our Diagonostic

Meet with the best diagnostics represented across each medical specialty. With the best medical services.

doctor-image
Al Arafa Clinic & Diagnostic Center Rajshahi

Al-Arafah Clinic, Bir Sreshtho Shaheed Captain Mohiuddin Jahangir Smarani, Rajshahi, Bangladesh


doctor-image
Islami Bank Hospital Rajshahi

CJ65+J96 Islami Bank Medical College Hospital, Rajshahi, air, port road, Rajshahi 6203



Latest Blogs Articles

Read top articles from health experts.

blog-image

ডাঃ রেহানা পারভীন । গাইনোকোলজিস্ট রাজশাহী

স্ত্রীরোগ,বন্ধ্যাত্ব, প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন রাজশাহীডাঃ রেহানা পারভীনএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি), বিএমইউগাইনি, বন্ধ্যাত্ব, প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন সহকারী অধ্যাপক (গাইনি বিভাগ)রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহীডাঃ রেহানা পারভীন – স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সার্জনডাঃ রেহানা পারভীন  রাজশাহীর সু-পরিচিত, অভিজ্ঞ ও দক্ষ  স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন । তিনি  এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) এবং এমএস (স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি), বিএমইউ ডিগ্রিধারী একজন গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন। তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, মাসিকের বিভিন্ন সমস্যা, গর্ভাবস্থার পরিচর্যা, প্রসবকালীন জটিলতা এবং বিভিন্ন স্ত্রীরোগের চিকিৎসায় তিনি পরামর্শ ও চিকিৎসা প্রদান করেন।তিনি রাজশাহীতে গর্ভধারণের আগে থেকে শুরু করে গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়, প্রসব এবং প্রসব-পরবর্তী সময় পর্যন্ত নারীর স্বাস্থ্যসেবায় নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে আসছেন । ডাঃ রেহানা পারভীন রাজশাহীর রোগীদের কাছে এক বিশ্বস্ত নাম । ।যেসব রোগ ও সমস্যার চিকিৎসা প্রদান করেনঅনিয়মিত মাসিকমাসিক অনিয়মিত হওয়া, অতিরিক্ত বা কম রক্তপাত, দীর্ঘদিন মাসিক না হওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। হরমোনের সমস্যা, PCOS বা জরায়ুর সমস্যাসহ সম্ভাব্য কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।অতিরিক্ত মাসিক রক্তপাতস্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বা দীর্ঘদিন মাসিক চললে রক্তস্বল্পতা তৈরি হতে পারে। জরায়ুর ফাইব্রয়েড, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা অন্যান্য সমস্যার কারণে এটি হতে পারে।পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)PCOS নারীদের একটি সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা, যার ফলে অনিয়মিত মাসিক, ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত লোম এবং গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনযাপন পরিবর্তন, পরীক্ষা ও চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।গর্ভকালীন পরিচর্যাগর্ভধারণের পর মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য নিয়মিত চেকআপ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং পুষ্টি ও জীবনযাপন সংক্রান্ত পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ করা হয়।উচ্চঝুঁকির গর্ভাবস্থাডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, পূর্ববর্তী গর্ভাবস্থায় জটিলতা বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে কিছু গর্ভাবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।প্রসবকালীন সমস্যাস্বাভাবিক প্রসবের প্রস্তুতি, প্রসবের সময় বিভিন্ন জটিলতা এবং প্রসবের পর মায়ের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যায় পরামর্শ দেওয়া হয়।জরায়ুর ফাইব্রয়েডজরায়ুর পেশিতে তৈরি হওয়া একটি সাধারণ ধরনের টিউমারকে ফাইব্রয়েড বলা হয়। এর কারণে অতিরিক্ত মাসিক রক্তপাত, তলপেটে ব্যথা বা গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। আকার ও উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।ডিম্বাশয়ের সিস্টডিম্বাশয়ে তরল বা অন্যান্য উপাদান দিয়ে তৈরি থলি বা সিস্ট হতে পারে। অনেক সিস্ট নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়, তবে বড় সিস্ট বা উপসর্গ থাকলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।জরায়ু ও জরায়ুমুখের বিভিন্ন সমস্যাজরায়ু বা জরায়ুমুখে সংক্রমণ, অস্বাভাবিক রক্তপাত, ব্যথা বা অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। উপসর্গ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।বন্ধ্যত্ব বা গর্ভধারণে সমস্যানিয়মিত চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হলে নারী ও পুরুষ উভয়ের বিভিন্ন কারণ বিবেচনা করা প্রয়োজন। নারীর হরমোন, ডিম্বস্ফোটন, জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের অবস্থা মূল্যায়নের মাধ্যমে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়।যোনিপথের সংক্রমণযোনিপথে অস্বাভাবিক স্রাব, চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা দুর্গন্ধ বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। সংক্রমণের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রয়োজন।তলপেট ও পেলভিক ব্যথাতলপেট বা পেলভিক অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা মাসিকের সমস্যা, সংক্রমণ, সিস্ট, এন্ডোমেট্রিওসিসসহ বিভিন্ন কারণে হতে পারে। কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।এন্ডোমেট্রিওসিসজরায়ুর ভেতরের আস্তরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বৃদ্ধি পেলে এন্ডোমেট্রিওসিস হতে পারে। এতে তীব্র মাসিক ব্যথা, পেলভিক ব্যথা এবং কখনও গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।স্ত্রীরোগের বিভিন্ন সার্জিক্যাল সমস্যাজরায়ু, ডিম্বাশয় বা অন্যান্য গাইনি-সংক্রান্ত সমস্যায় যখন সার্জিক্যাল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তখন রোগীর অবস্থা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সার্জিক্যাল ব্যবস্থাপনা ও পরামর্শ দেওয়া হয়।ডাঃ রেহানা পারভীন এর শিক্ষাগত যোগ্যতাএমবিবিএসবিসিএস (স্বাস্থ্য)এমএস (স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি), বিএমইউবর্তমান পদবি ও কর্মস্থলসহকারী অধ্যাপক, গাইনি বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহীচেম্বারদি এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রাজশাহীরোগী দেখার সময়: বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টানারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, গর্ভাবস্থার পরিচর্যা কিংবা কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে সময়মতো রাজশাহীতে ডাঃ রেহানা পারভীন  গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।রাজশাহীতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor Service BD তেহটলাইন নম্বরঃ ০১৭২৩-০২৫৫১৪

blog-image

কোমর ব্যথা হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন? রাজশাহীতে কোমর ব্যথা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

কোমর ব্যথা হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন, কোমর ব্যথার কারণ, ডিস্কের সমস্যা, সায়াটিকা, পায়ে ব্যথা বা ঝিনঝিনি হলে করণীয় এবং রাজশাহীতে কোমর ব্যথা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর পরামর্শ নিন।কোমর ব্যথা হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন?বর্তমানে সকলের মুখে শোনা যায় আমার কোমরে খুব ব্যথা। কোমরের ব্যথায় চলতে পারছিনা, তখন সকলের মনে একটাই প্রশ্ন জাগে কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাবো ?কোমর ব্যথার চিকিৎসার জন্য প্রথমে একজন অর্থোপেডিক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো উচিত । বিশেষ করে যদি ব্যথাটি মেরুদণ্ড, কোমরের হাড়, ডিস্ক, জয়েন্ট, লিগামেন্ট বা আশপাশের মাংসপেশির সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হয়।তবে সব কোমর ব্যথা হাড়ের সমস্যার কারণে হয় না। যেমন কোমর থেকে পায়ের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে গেলে বা পায়ে ঝিনঝিনি, অবশভাব কিংবা দুর্বলতা দেখা দিলে স্নায়ুতে চাপ পড়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়। এ ক্ষেত্রে নিউরোসার্জন বা নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।আবার দীর্ঘদিনের কোমর ব্যথার সঙ্গে যদি শরীরের অন্যান্য জয়েন্টে ব্যথা, সকালে দীর্ঘসময় শরীর শক্ত হয়ে থাকা বা প্রদাহজনিত উপসর্গ থাকে, তাহলে রিউমাটোলজিস্ট দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে।অর্থাৎ শুধু “কোমর ব্যথা” বলেই একজন নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ সবার জন্য ঠিক করে দেওয়া যায় না। ব্যথার কারণ শনাক্ত করাই প্রথম কাজ।কোন ধরনের কোমর ব্যথায় কোন বিশেষজ্ঞ দেখাবেন?১. অর্থোপেডিক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞকোমরের হাড়, মেরুদণ্ড, ডিস্ক, জয়েন্ট, লিগামেন্ট বা মাংসপেশি-সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে অর্থোপেডিক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।যেমন—দীর্ঘদিনের কোমর ব্যথাকোমরের মেরুদণ্ডের সমস্যাডিস্কের সমস্যাকোমরের হাড় বা জয়েন্টের সমস্যাআঘাতের পর কোমর ব্যথাবয়সজনিত মেরুদণ্ডের পরিবর্তনস্পাইনাল স্টেনোসিসের মতো সমস্যাএসব ক্ষেত্রে অর্থোপেডিক স্পাইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।২. নিউরোসার্জনঅনেকেই মনে করেন নিউরোসার্জন মানেই শুধু ব্রেনের অপারেশনের ডাক্তার। আসলে নিউরোসার্জন মস্তিষ্কের পাশাপাশি মেরুদণ্ড ও স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যারও চিকিৎসা করেন।কোমরের ডিস্কের কারণে কোনো স্নায়ুতে চাপ পড়লে এবং তার ফলে পায়ে তীব্র ব্যথা, অবশভাব, ঝিনঝিনি বা দুর্বলতা দেখা দিলে নিউরোসার্জনের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।তবে নিউরোসার্জনের কাছে গেলেই যে অপারেশন করতে হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। অধিকাংশ কোমর ব্যথার ক্ষেত্রেই প্রথম ধাপে অপারেশন প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসার পদ্ধতি নির্ভর করে রোগের কারণ ও তীব্রতার ওপর।৩. নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞকোমর থেকে পায়ের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশভাব, স্নায়ুর দুর্বলতা ইত্যাদি থাকলে নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞও রোগীকে মূল্যায়ন করতে পারেন।বিশেষ করে যখন ব্যথার সঙ্গে স্নায়বিক উপসর্গ বেশি থাকে, তখন চিকিৎসক পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন সমস্যাটি কোন স্নায়ু বা মেরুদণ্ডের কোন অংশের সঙ্গে সম্পর্কিত।৪. ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞঅনেক কোমর ব্যথার ক্ষেত্রে শুধু ওষুধ নয়, বরং সঠিক ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি, শরীরের ভঙ্গি সংশোধন এবং দৈনন্দিন কাজের ধরন পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।এ ধরনের ক্ষেত্রে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপিও দেওয়া হতে পারে।রাজশাহীতে কোমর ও মাংসপেশি-স্নায়ুজনিত সমস্যার জন্য বিভিন্ন ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারও রয়েছে, যেমন Best physiotherapy and Pain Relief Center, Ideal Physiotherapy centre এবং RIPR -BD ( রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন )। তবে ফিজিওথেরাপি শুরু করার আগে রোগের কারণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিকল্পনা একজন যোগ্য চিকিৎসকের মাধ্যমে নির্ধারণ করা ভালো।৫. রিউমাটোলজিস্টযদি কোমর ব্যথার সঙ্গে অন্যান্য জয়েন্টে ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, সকালে শরীর বা কোমর শক্ত হয়ে থাকা কিংবা প্রদাহজনিত কোনো রোগের সন্দেহ থাকে, তাহলে রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।কোমর ব্যথা কেন হয়?কোমর ব্যথার কারণ একাধিক। অনেক সময় মানুষ ধরে নেন যে কোমর ব্যথা মানেই “ডিস্ক নষ্ট” বা “হাড় ক্ষয় হয়েছে”। বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়।সাধারণ কোমর ব্যথার একটি বড় কারণ হলো মাংসপেশি বা লিগামেন্টে টান পড়া। ভুলভাবে ভারী জিনিস তোলা, হঠাৎ বাঁকানো, দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে এ ধরনের ব্যথা হতে পারে।এ ছাড়া—কোমরের ডিস্কে সমস্যাসায়াটিকামেরুদণ্ডের বয়সজনিত পরিবর্তনস্পাইনাল স্টেনোসিসমেরুদণ্ডে আঘাতঅস্টিওআর্থ্রাইটিসঅস্টিওপোরোসিসপ্রদাহজনিত রোগঅতিরিক্ত ওজনদীর্ঘসময় ভুল ভঙ্গিতে বসানিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের অভাবইত্যাদিও কোমর ব্যথার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কিডনির সমস্যা বা অন্য শারীরিক সমস্যাও কোমরের আশপাশে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।কোমরের ডিস্কের সমস্যা কী ?আমাদের মেরুদণ্ডের প্রতিটি কশেরুকার মাঝখানে বিশেষ ধরনের ডিস্ক থাকে, যা চাপ শোষণ করতে সাহায্য করে। কোনো ডিস্ক ফুলে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আশপাশের স্নায়ুর ওপর চাপ তৈরি করলে কোমর ব্যথার পাশাপাশি পায়ে ব্যথা বা অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।এ ধরনের ব্যথাকে অনেক সময় সাধারণভাবে সায়াটিকা বলা হয়, বিশেষ করে যখন কোমর বা নিতম্ব থেকে ব্যথা পায়ের দিকে ছড়িয়ে যায়।তবে শুধু পায়ে ব্যথা হলেই যে ডিস্কের সমস্যা হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের শারীরিক পরীক্ষা প্রয়োজন।কোমর থেকে পায়ে ব্যথা হলে কী বুঝবেন?কোমর ব্যথার সঙ্গে যদি নিতম্ব থেকে পায়ের দিকে ব্যথা নামে, বিশেষ করে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত যায়, তাহলে স্নায়ুতে চাপ বা সায়াটিকার মতো সমস্যার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়। এর সঙ্গে পায়ে ঝিনঝিনি, অবশভাব বা দুর্বলতাও থাকতে পারে।এ ধরনের উপসর্গ থাকলে শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে দীর্ঘদিন অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।কোমর ব্যথার সঙ্গে কোন লক্ষণগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন?সব কোমর ব্যথা জরুরি সমস্যা নয়। অনেক সাধারণ কোমর ব্যথা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। কিন্তু কিছু লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।বিশেষ করে—কোমর ব্যথার সঙ্গে পায়ে দুর্বলতা বা অবশভাব,দুই পায়ে একসঙ্গে ঝিনঝিনি বা দুর্বলতা,প্রস্রাব বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে নতুন সমস্যা,যৌনাঙ্গ বা পায়ুপথের আশপাশে অনুভূতি কমে যাওয়া,জ্বরের সঙ্গে তীব্র কোমর ব্যথা,পড়ে যাওয়া বা দুর্ঘটনার পর কোমর ব্যথা,রাতে বা বিশ্রামের সময় তীব্র ব্যথা,অকারণে ওজন কমে যাওয়া,ইত্যাদি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। কিছু লক্ষণ জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করতে পারে।কোমর ব্যথা হলে কি MRI করতে হবে?এটি একটি খুব সাধারণ প্রশ্ন। কোমর ব্যথা হলেই নিজের ইচ্ছায় MRI করানো প্রয়োজন হয় না।কারণ কোমর ব্যথার অনেক সাধারণ কারণ চিকিৎসকের ইতিহাস নেওয়া ও শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রাথমিকভাবে বোঝা যায়। আবার MRI-তে কোনো পরিবর্তন দেখা গেলেই সেটিই যে ব্যথার কারণ—এমনটিও নয়।কোনো রোগীর ক্ষেত্রে MRI, X-ray, CT scan বা অন্য পরীক্ষা প্রয়োজন হবে কি না, তা নির্ভর করে উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা, ব্যথার স্থায়িত্ব এবং গুরুতর কোনো সমস্যার সন্দেহ আছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর।তাই “কোমর ব্যথা = MRI” এই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে আগে একজন উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।কোমর ব্যথার চিকিৎসা কীভাবে হয়?কোমর ব্যথার চিকিৎসা সবার জন্য একই নয়। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা পরিবর্তিত হয়।সাধারণ ও তুলনামূলক কম গুরুতর কোমর ব্যথার ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যথা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, দৈনন্দিন কাজের পরিবর্তন, শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা এবং উপযুক্ত ব্যায়ামের পরামর্শ দিতে পারেন।কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন হতে পারে। আবার ডিস্ক বা স্নায়ুর সমস্যার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চিকিৎসা পরিকল্পনা দরকার হতে পারে।গুরুতর সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আরও পরীক্ষা বা বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। অপারেশন সাধারণ কোমর ব্যথার প্রথম চিকিৎসা নয়; প্রয়োজন হলে রোগের নির্দিষ্ট কারণ ও অন্যান্য চিকিৎসার ফল বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।কোমর ব্যথা কমাতে দৈনন্দিন জীবনে করনীয়কোমর ভালো রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো দৈনন্দিন অভ্যাস।দীর্ঘসময় একই অবস্থায় বসে না থেকে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটাচলা করা ভালো। বসার সময় শরীরের ভঙ্গির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভারী জিনিস তুলতে হলে কোমর বাঁকিয়ে না তুলে সঠিক কৌশল ব্যবহার করা উচিত।নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম অনেকের ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে।তবে তীব্র ব্যথা, আঘাত, পায়ে দুর্বলতা বা অন্যান্য সতর্কতামূলক লক্ষণ থাকলে নিজের মতো করে ব্যায়াম বা ম্যানুয়াল থেরাপি শুরু না করে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।রাজশাহীতে কোমর ব্যথা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীতে কোমর ব্যথা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খুঁজতে গিয়ে শুধু “কোমর ব্যথার ডাক্তার” লিখে কাউকে বেছে নেওয়ার পরিবর্তে আপনার সমস্যার ধরন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ নির্বাচন করা ভালো।যদি হাড়, মেরুদণ্ড বা ডিস্কের সমস্যা সন্দেহ হয়, তাহলে অর্থোপেডিক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ খুঁজতে পারেন।যদি কোমর থেকে পায়ে ব্যথা, অবশভাব, ঝিনঝিনি বা দুর্বলতার মতো স্নায়বিক সমস্যা থাকে, তাহলে নিউরোসার্জন বা নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।আর দীর্ঘদিনের ব্যথা নিয়ন্ত্রণ, পুনর্বাসন, ব্যায়াম ও ফিজিওথেরাপি-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হলে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীডাঃ মোহাঃ আলমগীর হোসেনএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমএস (অর্থো-সার্জারী)হাড়-জোড়, বিকলাঙ্গ, এক্সিডেন্ট ও স্পাইন রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জনঅধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অর্থোপেডিক সার্জারী বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালডাঃ মোঃ হাবিবুল হাসানএমবিবিএস, এমসিপিএস(সার্জারী),এফসিপিএস(অর্থো-সার্জারী)মেরুদন্ড, হাড়-জোড়, বাত, ব্যাথা বিশেষজ্ঞ ও সার্জনপঙ্গু হাসপাতাল, শেরে বাংলা নগর, ঢাকা(প্রাক্তন)সহকারী অধ্যাপকরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালডাঃ মোঃ আব্দুল আওয়ালএমবিবিএস (আরএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস-অর্থো সার্জারি (ডিএমসি), এফএসিএস (ইউএসএ), ফেলোশিপ ইন স্পাইন সার্জারি, কোরিয়ামেরুদণ্ড ও অর্থোপেডিক সার্জনঅর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞসহযোগী অধ্যাপক, স্পাইন সার্জারিনওগা মেডিকেল কলেজ, নওগাবিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বরঃ এ-৪১৮৯৫ডাঃ মোঃ মুনজুর রহমান (শিমুল)এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এম.এস (অর্থোপেডিক- সার্জারি) বিএমইউঅর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকসরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালডাঃ মোঃ মাহফুজুর রহমান (মাহফুজ)এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমএস (অর্থো সার্জারী)অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জনহাড়-জোড়, বাতবাথা, মেরুদন্ড রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জনরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালবিএমডিসি রেজিঃ নং-এ-৬৯৭০৯নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীডাঃ মোঃ আমজাদ হোসেন প্রামাণিকনিউরোলজি (মস্তিষ্ক, স্ট্রোক, মাথাব্যথা, মৃগীরোগ, মাইগ্রেন) বিশেষজ্ঞএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (নিউরোলজি) নিউরোলজি (মস্তিষ্ক, স্ট্রোক, মাথাব্যথা, মৃগীরোগ, মাইগ্রেন) বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক, নিউরোলজি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালডাঃ মোঃ এমদাদুল হকএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (নিউরোমেডিসিন) নিউরোমেডিসিন (মস্তিষ্ক, স্ট্রোক, স্নায়ু, মেরুদণ্ড, মাথাব্যথা, মাইগ্রেন) বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক, নিউরোমেডিসিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালডাঃ এবিএম মাহবুবুল হক (লিমন)এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (নিউরোমেডিসিন) নিউরোমেডিসিন (মস্তিষ্ক, স্নায়ু, মেরুদণ্ড, মাথাব্যথা, পিঠের ব্যথা) বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক, নিউরোলজি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালঅধ্যাপক ডাঃ মোঃ পারভেজ আমিনএমবিবিএস, এমডি(নিউরোলজী)ব্রেন,নার্ভ (স্নায়ু রোগ) ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞঅধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (নিউরোলজি বিভাগ)রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল,রাজশাহীডাঃ মোহাঃ আহসান হাবীবএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমডি (নিউরোমেডিসিন), NINS & H. Dhaka.এমএসিপি (আমেরিকা)নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞব্রেন, নার্ভ, স্পাইন, মাথাব্যথা/মাইগ্রেন, মৃগীস্মৃতিশক্তি লোপ, স্ট্রোক ও প্যারালাইসিস বিশেষজ্ঞ স্পেশাল ট্রেনিং ইন এনসিএস, ইএমজি, নার্ভ আল্ট্রাসাউন্ড (নিনস্, ঢাকা)সহকারী অধ্যাপক ( নিউরোমেডিসিন)রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালবিএমডিসি রেজি: নং এ-৬০৫৮৪ডাঃ প্রসাদ কুমার সরকারএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমডি (নিউরোলজী) বিএসএমএমইউনিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপকরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীডাঃ মোঃ  তারিকুল ইসলাম খান (তারেক)এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (ফিজিকাল মেডিসিন)বাত-ব্যাথা, প্যারালাইসিস, নিউরো ও স্পোর্টস ইনজুরি বিশেষজ্ঞসহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহীডাঃ মোঃ আব্দুস সবুরএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (ফিজিক্যাল মেডিসিন)ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপকরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালবিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর: এ-৬৩২৮১কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন?কোমর ব্যথা যদি কয়েকদিনের সাধারণ ব্যথা হয় এবং ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তাহলে সবসময় জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু ব্যথা যদি ক্রমেই বাড়তে থাকে, দীর্ঘদিন থাকে বা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।বিশেষ করে নিচের যেকোনো একটি থাকলে দেরি না করে চিকিৎসা নিন:কোমর থেকে পায়ে তীব্র ব্যথা ছড়িয়ে পড়াপায়ে অবশভাব বা ঝিনঝিনিপায়ে দুর্বলতাদুই পায়ে একসঙ্গে দুর্বলতা বা অনুভূতি কমে যাওয়াপ্রস্রাব বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে নতুন সমস্যাযৌনাঙ্গ/পায়ুপথের আশপাশে অনুভূতি কমে যাওয়াজ্বরের সঙ্গে কোমর ব্যথাদুর্ঘটনা বা পড়ে যাওয়ার পর তীব্র ব্যথারাতে খুব বেশি ব্যথাঅকারণে ওজন কমে যাওয়াএর মধ্যে প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণের নতুন সমস্যা, যৌনাঙ্গ/পায়ুপথের আশপাশে অনুভূতি কমে যাওয়া বা দুই পায়ে গুরুতর দুর্বলতা থাকলে এটি জরুরি অবস্থা হতে পারে এবং দ্রুত হাসপাতালে মূল্যায়ন প্রয়োজন।কোমর ব্যথা নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন১. কোমর ব্যথা হলে কোন ডাক্তার দেখাব?সাধারণভাবে অর্থোপেডিক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ দিয়ে মূল্যায়ন শুরু করা যেতে পারে। তবে উপসর্গ অনুযায়ী নিউরোসার্জন, নিউরোমেডিসিন, রিউমাটোলজি বা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হতে পারে।২. কোমর থেকে পায়ে ব্যথা হলে কোন ডাক্তার দেখাব?কোমর থেকে পায়ে ব্যথা নামার সঙ্গে ঝিনঝিনি, অবশভাব বা দুর্বলতা থাকলে স্নায়ুতে চাপের বিষয়টি মূল্যায়ন করা দরকার। এ ক্ষেত্রে নিউরোসার্জন, নিউরোমেডিসিন বা স্পাইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।৩. কোমর ব্যথা হলে কি সবসময় MRI করতে হয়?না। সব কোমর ব্যথায় MRI প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসক উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষা দেখে প্রয়োজন হলে MRI বা অন্য পরীক্ষা দিতে পারেন।৪. কোমর ব্যথা কি কিডনির সমস্যার কারণে হতে পারে?হ্যাঁ, কিছু কিডনি সমস্যা যেমন কিডনি স্টোন বা কিডনি ইনফেকশনের ক্ষেত্রেও কোমর বা পাশের দিকে ব্যথা হতে পারে। তাই ব্যথার ধরন এবং সঙ্গে থাকা অন্যান্য উপসর্গ বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।৫. কোমর ব্যথায় ফিজিওথেরাপি কি উপকারী?কিছু ধরনের কোমর ব্যথায় ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনমূলক চিকিৎসা উপকারী হতে পারে। তবে ব্যথার কারণ বুঝে উপযুক্ত থেরাপি নির্বাচন করা উচিত।৬. কোমর ব্যথা কতদিন থাকলে ডাক্তার দেখাব?ব্যথা যদি কয়েক সপ্তাহেও না কমে, বারবার ফিরে আসে বা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।৭. কোমর ব্যথার সঙ্গে পা অবশ হলে কি চিন্তার বিষয়?হ্যাঁ। বিশেষ করে অবশভাবের সঙ্গে পায়ের শক্তি কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।৮. কোমর ব্যথা হলে কি ব্যায়াম করা যাবে?সব ব্যথায় একই ব্যায়াম উপযুক্ত নয়। সাধারণ ব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সক্রিয় থাকা উপকারী হতে পারে, কিন্তু তীব্র ব্যথা বা স্নায়বিক উপসর্গ থাকলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।৯. কোমর ব্যথার জন্য রাজশাহীতে কোন বিশেষজ্ঞ খুঁজব?আপনার সমস্যার ধরন অনুযায়ী অর্থোপেডিক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ, নিউরোসার্জন, নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ অথবা ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ খুঁজতে পারেন।১০. কোমর ব্যথার চিকিৎসায় কি সবসময় অপারেশন লাগে?না। সাধারণ কোমর ব্যথার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপারেশন প্রথম চিকিৎসা নয়। নির্দিষ্ট কিছু গুরুতর সমস্যা বা অন্যান্য চিকিৎসায় যথেষ্ট উপকার না হলে অপারেশন বিবেচনা করা হতে পারে।কোমর ব্যথা হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন—এই প্রশ্নের উত্তর আসলে ব্যথার কারণের ওপর নির্ভর করে। হাড়, মেরুদণ্ড ও ডিস্কের সমস্যায় অর্থোপেডিক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ, স্নায়ু-সম্পর্কিত উপসর্গে নিউরোসার্জন বা নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও ব্যায়ামভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হতে পারে।রাজশাহীতে কোমর ব্যথা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খুঁজতে হলে প্রথমে আপনার উপসর্গের ধরন অনুযায়ী সঠিক বিভাগের বিশেষজ্ঞ নির্বাচন করুন। সঠিক রোগ নির্ণয়ের পর কারণভিত্তিক চিকিৎসাই দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল পাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অথবা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন Doctor Service BD তে।

blog-image

ডাঃ সাইফুল ইসলাম

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীডাঃ সাইফুল ইসলাম এমবিবিএস, বিসিএস, এমডি(কার্ডিওলজী), সিসিডি (বারডেম) মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক (কার্ডিওলজী বিভাগ) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী ডাঃ সাইফুল ইসলাম / হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীডাঃ সাইফুল ইসলাম একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার । তিনি এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (কার্ডিওলজি) এবং সিসিডি (বারডেম) ডিগ্রিধারী একজন অভিজ্ঞ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। হৃদরোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও বিভিন্ন মেডিসিন-সংক্রান্ত রোগের সঠিক রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, বুকব্যথা, হৃদস্পন্দনের অনিয়ম এবং ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগে রোগীর শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন।ডাঃ সাইফুল ইসলাম যেসব রোগ ও সমস্যার চিকিৎসা প্রদান করেনডাঃ সাইফুল ইসলাম রাজশাহীতে নিয়মিত রোগী দেখছেন ও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তিনি যেসকল রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন তা নিচে দেওয়া হলো-হৃদরোগ ও হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা Heart Disease & Cardiovascular Problemsবুকব্যথা ও শ্বাসকষ্ট Chest Pain & Shortness of Breathউচ্চ রক্তচাপ Hypertension (High Blood Pressure)হৃদস্পন্দনের অনিয়ম Heart Rhythm Disorders (Arrhythmia)করোনারি আর্টারি ডিজিজ Coronary Artery Disease (CAD)হার্ট অ্যাটাক-পরবর্তী চিকিৎসা ও ফলোআপ Post-Heart Attack Care & Follow-upডায়াবেটিস ও এর বিভিন্ন জটিলতা Diabetes & Its Complicationsরক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি High Blood Cholesterol (Hypercholesterolemia)বিভিন্ন মেডিসিন-সংক্রান্ত জটিলতা Internal Medicine Problems & Medical Conditionsদীর্ঘমেয়াদি রোগের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা Regular Monitoring & Management of Chronic Diseasesডাঃ সাইফুল ইসলাম এর শিক্ষাগত যোগ্যতাএমবিবিএসবিসিএস (স্বাস্থ্য)এমডি (কার্ডিওলজি)সিসিডি (বারডেম)বর্তমান পদবি ও কর্মস্থলসহকারী অধ্যাপক, কার্ডিওলজি বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহীহৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য মেডিসিন-সংক্রান্ত সমস্যার চিকিৎসায় রাজশাহীবাসীদের কাছে ডাঃ সাইফুল ইসলাম একটি বিশ্বস্ত নাম । চেম্বারঃদি এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার রাজশাহীসময়ঃ বিকাল ৩টা থেকে ৫ টাচেম্বারঃ পপুলার ডায়াগনস্টিক লিঃ রাজশাহীসময়ঃ বিকাল ৫ টা থেকে রাত ৯ টারাজশাহীতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor Service BD এর মাধ্যমেহটলাইন নম্বরঃ ০১৭২৩-০২৫৫১৪

blog-image

বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কী ও রাজশাহীতে চিকিৎসা

বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কী, কোন রোগে এটি প্রয়োজন হয়, ট্রান্সপ্লান্টের ধাপ, ডোনার নির্বাচন, ঝুঁকি, সুস্থ হতে কত সময় লাগে এবং রাজশাহীতে বোনম্যারো চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কী?বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কথাটি শুনলে অনেকের মনে হয় হাড়ের ভেতরের কোনো অংশ কেটে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। আসলে বিষয়টি এমন নয়। বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট হলো এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে অসুস্থ বা ক্ষতিগ্রস্ত রক্ত তৈরির ব্যবস্থা প্রতিস্থাপনের জন্য সুস্থ রক্ত-গঠনকারী স্টেম সেল (hematopoietic stem cells) রোগীর শরীরে দেওয়া হয়।বোনম্যারো বা অস্থিমজ্জা আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এখানেই রক্তের লোহিত কণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং প্লেটলেট তৈরি হয়। তাই বোনম্যারো ঠিকমতো কাজ না করলে রক্ত তৈরিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং বিভিন্ন গুরুতর রোগের সৃষ্টি হতে পারে।অনেক ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার কেমোথেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসার মাধ্যমে রোগাক্রান্ত কোষ ধ্বংস করার পর নতুন রক্ত-গঠনকারী স্টেম সেল শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এই স্টেম সেলগুলো পরে বোনম্যারোতে গিয়ে নতুন রক্তকণিকা তৈরির কাজ শুরু করতে পারে।বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে “Stem Cell Transplant” শব্দটিও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় বোনম্যারো থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয় না; রক্ত থেকেও সংগ্রহ করা সম্ভব। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে hematopoietic stem cell transplantation শব্দটি আরও নির্ভুল।বোনম্যারো শরীরে কী কাজ করে?বোনম্যারোর কাজ বুঝলে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কেন প্রয়োজন হতে পারে, সেটিও সহজে বোঝা যায়।আমাদের হাড়ের ভেতরে থাকা নরম টিস্যুর একটি অংশ হলো বোনম্যারো। এখানে hematopoietic stem cell থেকে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধরনের রক্তকণিকা তৈরি হয়।লোহিত রক্তকণিকা (RBC) শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।শ্বেত রক্তকণিকা (WBC) শরীরকে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।আর প্লেটলেট রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।বোনম্যারোতে গুরুতর সমস্যা হলে এই তিন ধরনের রক্তকণিকার এক বা একাধিকটির উৎপাদন কমে যেতে পারে। তখন রোগীর রক্তস্বল্পতা, সংক্রমণের ঝুঁকি বা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।কোন কোন রোগে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন হয়সব রক্তের রোগের জন্য বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন হয় না। রোগের ধরন, রোগের পর্যায়, চিকিৎসায় সাড়া, রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য অনেক বিষয় বিবেচনা করে ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।কিছু ক্ষেত্রে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। যেমন—লিউকেমিয়ালিউকেমিয়া হলো রক্ত ও রক্ত তৈরির টিস্যুর ক্যান্সার। কিছু ধরনের লিউকেমিয়ায় কেমোথেরাপির পর রোগের পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি বেশি থাকলে বা রোগ নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত হলে স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট বিবেচনা করা হতে পারে।লিম্ফোমাকিছু ধরনের Hodgkin বা non-Hodgkin lymphoma-তে রোগ বারবার ফিরে এলে বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উচ্চমাত্রার চিকিৎসার পর autologous stem cell transplant করা হতে পারে।মাল্টিপল মাইলোমামাল্টিপল মাইলোমার চিকিৎসায় নির্বাচিত রোগীদের ক্ষেত্রে autologous stem cell transplant একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি হতে পারে।অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়াঅ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় বোনম্যারো পর্যাপ্ত রক্তকণিকা তৈরি করতে পারে না। উপযুক্ত ডোনার পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে allogeneic stem cell transplant চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে।থ্যালাসেমিয়ানির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে উপযুক্ত ডোনার থাকলে, hematopoietic stem cell transplant থ্যালাসেমিয়ার একটি সম্ভাব্য নিরাময়মূলক চিকিৎসা হতে পারে।মাইলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমকিছু MDS রোগীর ক্ষেত্রে রোগের ঝুঁকি ও সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে allogeneic transplant করা হতে পারে।এ ছাড়া কিছু বংশগত রক্তের রোগ এবং ইমিউন সিস্টেমের নির্দিষ্ট গুরুতর রোগেও স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট বিবেচনা করা হয়।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের প্রধান দুই ধরনবোনম্যারো বা স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট মূলত দুই ধরনের।১. Autologous Stem Cell Transplantএক্ষেত্রে রোগীর নিজের স্টেম সেল আগে সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় উচ্চমাত্রার চিকিৎসা দেওয়ার পর সেই স্টেম সেল আবার রোগীর শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।এ পদ্ধতিতে ডোনারের প্রয়োজন হয় না।মাল্টিপল মাইলোমা এবং কিছু ধরনের লিম্ফোমায় এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হতে পারে।২. Allogeneic Stem Cell Transplantএক্ষেত্রে অন্য একজন উপযুক্ত ডোনারের কাছ থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করে রোগীর শরীরে দেওয়া হয়।ডোনার হিসেবে ভাই-বোন বা পরিবারের অন্য সদস্য হতে পারেন। আবার পরিবারের মধ্যে উপযুক্ত ম্যাচ না পাওয়া গেলে অন্য উপযুক্ত ডোনারও খোঁজা হতে পারে।এই পদ্ধতিতে HLA matching অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রোগীর শরীর এবং ডোনারের স্টেম সেলের মধ্যে সামঞ্জস্য যত ভালো হবে, কিছু জটিলতার ঝুঁকি তত কমতে পারে।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের ডোনার কীভাবে নির্বাচন করা হয়?ডোনার নির্বাচন বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।এখানে শুধু রক্তের গ্রুপ মিললেই হবে না। রোগী ও সম্ভাব্য ডোনারের Human Leukocyte Antigen বা HLA পরীক্ষা করা হয়।HLA হলো শরীরের ইমিউন সিস্টেমের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের বৈশিষ্ট্য। রোগী ও ডোনারের HLA যত বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, অনেক ক্ষেত্রে ট্রান্সপ্লান্টের ফলাফল তত ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।তাই একই পরিবারের ভাই-বোনের মধ্যে উপযুক্ত ম্যাচ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সব ভাই-বোনই যে উপযুক্ত ডোনার হবেন, তা নয়।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের আগে কী কী পরীক্ষা করা হয়ট্রান্সপ্লান্টের আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হয়। কারণ এটি একটি বড় ধরনের চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং রোগীর শরীর উচ্চমাত্রার চিকিৎসা সহ্য করতে পারবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।রোগ অনুযায়ী চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন। যেমন—CBC বা Complete Blood Countবোনম্যারো পরীক্ষাকিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষাভাইরাল সংক্রমণের পরীক্ষাহৃদযন্ত্রের পরীক্ষাফুসফুসের কার্যকারিতা পরীক্ষাপ্রয়োজন অনুযায়ী CT/MRI/PET scanHLA typingরক্তের গ্রুপ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষারোগীর দাঁত ও মুখের সংক্রমণ, কোনো সক্রিয় সংক্রমণ বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলেও সেগুলো আগে মূল্যায়ন করা হতে পারে।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কীভাবে করা হয়বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টকে সাধারণভাবে কয়েকটি ধাপে বোঝানো যায়।প্রথম ধাপ: রোগীর মূল্যায়নপ্রথমে চিকিৎসক দেখেন রোগীর জন্য ট্রান্সপ্লান্ট আদৌ প্রয়োজন কি না এবং তিনি এই চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত কি না।একই রোগে আক্রান্ত দুইজন মানুষের চিকিৎসা পরিকল্পনা এক হতে পারে না। তাই সিদ্ধান্তটি ব্যক্তিভেদে নেওয়া হয়।দ্বিতীয় ধাপ: স্টেম সেল সংগ্রহAutologous transplant-এর ক্ষেত্রে রোগীর নিজের স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয়।Allogeneic transplant-এর ক্ষেত্রে উপযুক্ত ডোনারের কাছ থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয়।বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে peripheral blood থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে বোনম্যারো থেকে সরাসরি সংগ্রহ করা হতে পারে।তৃতীয় ধাপ: Conditioning Treatmentএরপর রোগীকে নির্দিষ্ট ধরনের উচ্চমাত্রার কেমোথেরাপি এবং কিছু ক্ষেত্রে রেডিওথেরাপি দেওয়া হতে পারে।এই চিকিৎসার উদ্দেশ্য রোগাক্রান্ত কোষ ধ্বংস করা এবং শরীরকে নতুন স্টেম সেল গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা।চতুর্থ ধাপ: স্টেম সেল দেওয়াএরপর সংগৃহীত স্টেম সেল একটি IV লাইনের মাধ্যমে রোগীর শরীরে দেওয়া হয়।বিষয়টি অনেকটা রক্ত দেওয়ার মতো মনে হতে পারে। তবে এখানে দেওয়া কোষগুলো পরবর্তীতে বোনম্যারোতে গিয়ে নতুন রক্তকণিকা তৈরির কাজ শুরু করার লক্ষ্যেই দেওয়া হয়।পঞ্চম ধাপ: Engraftmentট্রান্সপ্লান্টের পর নতুন স্টেম সেল বোনম্যারোতে গিয়ে বসতি স্থাপন করে এবং ধীরে ধীরে নতুন রক্তকণিকা তৈরি শুরু করে। এই প্রক্রিয়াকে engraftment বলা হয়।এই সময় রোগীর সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে। তাই চিকিৎসক ও হাসপাতালের টিম খুব কাছ থেকে রোগীকে পর্যবেক্ষণ করেন।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের জন্য কোন ডাক্তার দেখাবেনবোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন আছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সাধারণত হেমাটোলজিস্ট বা ক্লিনিক্যাল হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন হয়।যদি রোগী ট্রান্সপ্লান্টের জন্য উপযুক্ত হন, তাহলে হেমাটোলজি ও ট্রান্সপ্লান্ট টিম রোগীর জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা তৈরি করেন।বিশেষ করে লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা, মাল্টিপল মাইলোমা, থ্যালাসেমিয়া, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া বা অন্য কোনো গুরুতর রক্তের রোগ থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে জানতে হবে—ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন, নাকি অন্য কোনো চিকিৎসাই যথেষ্ট।রাজশাহীতে  বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের চিকিৎসাবর্তমানে রাজশাহীতে বোনম্যারোর অনেক উন্নত চিকিৎসা পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা নিয়মিত সরকারী ও বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালে রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।রাজশাহীতে বোনম্যারোর চিকিৎসা করেন এমন কয়েকজন ডাক্তারের নাম দেওয়া হলো।ডাঃ এম. মুরশেদ জামান মিয়াএমবিবিএস, এমসিপিএস, এফসিপিএস (হেমাটোলজি),রক্ত রোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ,সহযোগী অধ্যাপক, হেমাটোলজি বিভাগ,রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহী।ডাঃ রোমেনা আলমএমবিবিএস: এফসিপিএস (হেমাটোলজি)এমফিল (ইমিউনোলজি-বারডেম)রক্ত রোগ ও ব্লাড ক্যান্সার বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপক, হেমাটোলজি বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালবিএমডিসি নং: এ- ৩৩৬৪৫ডাঃ মোঃ মারুফ আল হাসানএমবিবিএস(রামেক), বিসিএস(স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (রক্তরোগ মেডিসিন),সিসিডি(বারডেম), এমএসিপি (আমেরিকা), পিএইচডি গবেষক (থ্যালাসেমিয়া)রক্তরোগ মেডিসিন, থ্যালাসমিয়া ও ব্লাড ক্যানসার বিশেষজ্ঞরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালডাঃ মোহিত কুমার প্রামানিক এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) এমডি (হেমাটোলজি) রক্তরোগ মেডিসিন, থ্যালাসেমিয়া এবং ব্লাড ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালবোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের পর কী ধরনের সমস্যা হতে পারেবোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট একটি জটিল চিকিৎসা। তাই এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে।সংক্রমণট্রান্সপ্লান্টের সময় এবং তার পরবর্তী পর্যায়ে রোগীর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।রক্তস্বল্পতা ও প্লেটলেট কমে যাওয়ানতুন বোনম্যারো কার্যকরভাবে কাজ শুরু করার আগ পর্যন্ত রক্তের লোহিত কণিকা ও প্লেটলেটের মাত্রা কম থাকতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত বা প্লেটলেট দেওয়া হতে পারে।বমি, দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দাConditioning therapy-এর কারণে বমি বমি ভাব, বমি, ক্ষুধামন্দা, দুর্বলতা এবং মুখের ভেতরে ঘা হতে পারে।চুল পড়ে যাওয়াকিছু কেমোথেরাপির কারণে সাময়িকভাবে চুল পড়ে যেতে পারে।Graft-versus-host diseaseAllogeneic transplant-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ জটিলতা হলো Graft-versus-host disease বা GVHD।এক্ষেত্রে ডোনারের immune cells রোগীর শরীরের কিছু টিস্যুকে বিদেশি হিসেবে চিনে আক্রমণ করতে পারে। ত্বক, লিভার ও পরিপাকতন্ত্রসহ বিভিন্ন অঙ্গ এতে আক্রান্ত হতে পারে।তবে GVHD প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয় এবং রোগীকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।ট্রান্সপ্লান্টের পর রোগীকে কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের পর শুধু হাসপাতালের চিকিৎসাই নয়, রোগীর নিজের সতর্কতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।চিকিৎসক যে ওষুধ দিয়েছেন, সেগুলো নির্ধারিত নিয়মে গ্রহণ করতে হবে। নিজের ইচ্ছায় কোনো ওষুধ বন্ধ বা শুরু করা ঠিক নয়।জ্বর, কাঁপুনি, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্বাভাবিক রক্তপাত, তীব্র ডায়রিয়া, ত্বকে নতুন র‍্যাশ বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসককে জানাতে হবে।খাবারের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় খাবার ভালোভাবে পরিষ্কার ও নিরাপদভাবে প্রস্তুত করা গুরুত্বপূর্ণ।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কি খুব ঝুঁকিপূর্ণএটি একটি গুরুতর চিকিৎসা পদ্ধতি এবং এর কিছু উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি আছে। তবে কারও ক্ষেত্রে ঝুঁকি কতটা হবে, তা রোগী ও চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়।একজন তরুণ ও অন্যথায় সুস্থ রোগীর ঝুঁকি এবং একই রোগে আক্রান্ত বয়স্ক বা অন্যান্য জটিলতায় ভোগা রোগীর ঝুঁকি এক নয়।এ কারণে “বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের ঝুঁকি কত শতাংশ”—এমন একটি সংখ্যা দিয়ে সবার জন্য উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।চিকিৎসক ট্রান্সপ্লান্টের আগে সম্ভাব্য benefit, risk এবং alternative treatment রোগী ও পরিবারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর১. বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কী?এটি এমন একটি চিকিৎসা যেখানে রক্ত তৈরির স্টেম সেল রোগীর শরীরে দেওয়া হয়, যাতে নতুন রক্তকণিকা তৈরির ব্যবস্থা পুনর্গঠিত হতে পারে।২. সব লিউকেমিয়া রোগীর কি ট্রান্সপ্লান্ট লাগে?না। লিউকেমিয়ার ধরন, ঝুঁকি, চিকিৎসায় সাড়া এবং রোগীর সামগ্রিক অবস্থার ওপর সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।৩. বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টে কি ডোনার লাগবেই?না। Autologous transplant-এ রোগীর নিজের স্টেম সেল ব্যবহার করা হয়।৪. ডোনারের রক্তের গ্রুপ কি একই হতে হবে?সবসময় একই রক্তের গ্রুপ হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ডোনার নির্বাচনে HLA matching-সহ আরও অনেক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।৫. ট্রান্সপ্লান্টের পর কি রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়?হ্যাঁ, বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। তাই সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।৬. ট্রান্সপ্লান্টের পর কি আবার ক্যান্সার হতে পারে?কিছু রোগীর ক্ষেত্রে রোগ পুনরায় ফিরে আসতে পারে। এজন্য নিয়মিত ফলোআপ প্রয়োজন।৭. বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের পর কতদিন হাসপাতালে থাকতে হয়?হাসপাতালে থাকার সময় রোগের ধরন, ট্রান্সপ্লান্টের ধরন, রক্তের অবস্থা এবং জটিলতার ওপর নির্ভর করে।৮. ট্রান্সপ্লান্টের পর রোগী কি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন?অনেক রোগী সময়ের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে পারেন। তবে immune system পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হতে সময় লাগতে পারে।৯. বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কি সবসময় সফল হয়?না। চিকিৎসার ফলাফল রোগী ও রোগের বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে। তবে উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা হতে পারে।১০. বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন হলে কী করা উচিত?প্রথমে একজন অভিজ্ঞ হেমাটোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। রোগের ধরন ও পর্যায় মূল্যায়ন করে ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন কি না এবং করলে কোন পদ্ধতি উপযুক্ত হবে তা নির্ধারণ করা হয়।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট গুরুতর রক্তের রোগের চিকিৎসায় আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। তবে এটি এমন কোনো চিকিৎসা নয় যা প্রতিটি রক্তের রোগীর প্রয়োজন হয়। কারও জন্য এটি জীবনরক্ষাকারী বা নিরাময়ের সম্ভাবনাময় চিকিৎসা হতে পারে, আবার অন্য কারও ক্ষেত্রে ওষুধ, কেমোথেরাপি বা অন্য চিকিৎসাই বেশি উপযুক্ত হতে পারে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত রোগীর রিপোর্ট, রোগের ঝুঁকি, শারীরিক সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি বিবেচনা করেই নিতে হয়। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা অনেক রোগীর জন্য বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

blog-image

প্রোস্টেট ক্যান্সার: লক্ষণ, কারণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা

প্রোস্টেট ক্যান্সার কী, এর প্রাথমিক ও গুরুতর লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ, PSA পরীক্ষা, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সহজ ভাষায় বিস্তারিত জানুন।প্রোস্টেট ক্যান্সার পুরুষের মূত্রথলির ঠিক নিচে একটি ছোট গ্রন্থি থাকে, যার নাম প্রোস্টেট। এটি পুরুষ প্রজনন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ এবং বীর্যের তরল অংশ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রোস্টেটে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুতর সমস্যাগুলোর একটি হলো প্রোস্টেট ক্যান্সার।প্রোস্টেটের কোষ যখন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন প্রোস্টেট ক্যান্সার তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই ক্যান্সার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘ সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। আবার কিছু ধরনের প্রোস্টেট ক্যান্সার তুলনামূলকভাবে দ্রুত বাড়তে পারে এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।এ কারণেই শুধু প্রস্রাবের সমস্যা হচ্ছে কি না, সেটি দেখে প্রোস্টেট ক্যান্সার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, PSA-এর মাত্রা, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।প্রোস্টেট ক্যান্সার কেন গুরুত্বপূর্ণপ্রোস্টেট ক্যান্সারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক রোগীর কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। অর্থাৎ একজন মানুষ নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে করলেও পরীক্ষার মাধ্যমে প্রোস্টেটের অস্বাভাবিকতা ধরা পড়তে পারে।অন্যদিকে, প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হওয়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা বা রাতে কয়েকবার প্রস্রাব করার মতো উপসর্গ হলেই যে প্রোস্টেট ক্যান্সার হয়েছে, এমনটিও নয়। এসব সমস্যা Benign Prostatic Hyperplasia (BPH) বা বয়সজনিত প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়ার কারণেও হতে পারে।তাই প্রোস্টেটের যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী বা নতুন সমস্যা হলে নিজে থেকে ধরে নেওয়ার পরিবর্তে একজন ইউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।প্রোস্টেট ক্যান্সারের লক্ষণ কী কী?প্রাথমিক পর্যায়ে প্রোস্টেট ক্যান্সারের কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। যখন টিউমার বড় হতে শুরু করে বা মূত্রনালির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তখন কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে।১. বারবার প্রস্রাবের বেগ আসাবিশেষ করে রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম থেকে উঠতে হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তবে এটি শুধু ক্যান্সারের লক্ষণ নয়; প্রোস্টেট বড় হওয়া, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য কারণেও এমন হতে পারে।২. প্রস্রাব শুরু করতে সমস্যা হওয়াপ্রস্রাবের বেগ থাকা সত্ত্বেও প্রস্রাব শুরু হতে সময় লাগা বা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হওয়া প্রোস্টেটের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।৩. প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়াআগের তুলনায় প্রস্রাবের গতি বা ধারা কমে গেলে সেটিও প্রোস্টেটের সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ।৪. প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা অস্বস্তিপ্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে। মূত্রনালির সংক্রমণ থেকে শুরু করে প্রোস্টেটের বিভিন্ন সমস্যার কারণেও এটি হতে পারে।৫. প্রস্রাবে রক্ত দেখাপ্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে বিষয়টি কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। এর পেছনে সংক্রমণ, পাথর, প্রোস্টেট বা মূত্রনালির বিভিন্ন সমস্যা থাকতে পারে।৬. বীর্যে রক্তকিছু ক্ষেত্রে বীর্যে রক্ত দেখা যেতে পারে। অনেক সময় এটি গুরুতর কারণ ছাড়াও হতে পারে, তবে বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।৭. যৌন সক্ষমতায় পরিবর্তনপ্রোস্টেটের রোগ বা ক্যান্সারের পাশাপাশি অন্যান্য অনেক কারণেও ইরেকশন বা যৌন সক্ষমতার সমস্যা হতে পারে। তাই এই উপসর্গ থাকলেই প্রোস্টেট ক্যান্সার হয়েছে ধরে নেওয়া যাবে না।৮. কোমর, পিঠ বা হাড়ে ব্যথাপ্রোস্টেট ক্যান্সার যদি উন্নত পর্যায়ে গিয়ে শরীরের অন্যান্য অংশে, বিশেষ করে হাড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তখন কোমর, পিঠ, নিতম্ব বা হাড়ে ব্যথা হতে পারে।৯. পা ফুলে যাওয়া বা দুর্বলতাউন্নত পর্যায়ের রোগে লিম্ফ নোড বা অন্যান্য অঙ্গ আক্রান্ত হলে পা ফুলে যাওয়া, দুর্বলতা বা অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।মনে রাখতে হবে: এসব লক্ষণের বেশিরভাগই কেবল প্রোস্টেট ক্যান্সারের জন্য নির্দিষ্ট নয়। তাই উপসর্গ দেখে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।প্রোস্টেট ক্যান্সারের কারণ কী?প্রোস্টেট ক্যান্সারের একটি নির্দিষ্ট কারণ সবসময় চিহ্নিত করা যায় না। তবে কিছু বিষয় এই রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।বয়সপ্রোস্টেট ক্যান্সারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ হলো বয়স। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেটের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।পারিবারিক ইতিহাসপরিবারের ঘনিষ্ঠ কোনো পুরুষ সদস্যের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে নিজের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। বিশেষ করে বাবা বা ভাইয়ের এই রোগ থাকলে বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো উচিত।জেনেটিক পরিবর্তনকিছু বংশগত জেনেটিক পরিবর্তন নির্দিষ্ট কিছু মানুষের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পারিবারিকভাবে প্রোস্টেট বা নির্দিষ্ট অন্যান্য ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী জেনেটিক মূল্যায়নের কথা বিবেচনা করতে পারেন।জীবনযাপন ও ওজনঅতিরিক্ত ওজন, শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কিছু গবেষণায় এসব বিষয়কে বিশেষ করে আক্রমণাত্মক প্রোস্টেট ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত পাওয়া গেছে।তবে শুধু কোনো একটি খাবার খাওয়া বা কোনো একটি অভ্যাসের কারণেই প্রোস্টেট ক্যান্সার হয়—এমন সরল ব্যাখ্যা বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক নয়।প্রোস্টেট বড় হওয়া আর প্রোস্টেট ক্যান্সার কি একই?না, প্রোস্টেট বড় হওয়া আর প্রোস্টেট ক্যান্সার এক জিনিস নয়।বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেক পুরুষের Benign Prostatic Hyperplasia (BPH) বা প্রোস্টেটের অ-ক্যান্সারজনিত বৃদ্ধি হতে পারে। এতে প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হওয়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা, রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব করা বা প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।অন্যদিকে প্রোস্টেট ক্যান্সার হলো প্রোস্টেটের কোষের অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি।দুই রোগের কিছু উপসর্গ একই রকম হতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে কোনটি BPH আর কোনটি ক্যান্সার—তা নিশ্চিত করা যায় না।প্রোস্টেট ক্যান্সার কীভাবে শনাক্ত করা হয়প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্ত করার জন্য চিকিৎসক রোগীর বয়স, উপসর্গ, পারিবারিক ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক পরীক্ষা করতে পারেন।PSA পরীক্ষা কী?PSA বা Prostate-Specific Antigen হলো প্রোস্টেট থেকে তৈরি একটি প্রোটিন। রক্তে PSA-এর মাত্রা পরীক্ষা করে প্রোস্টেট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়।তবে একটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ—PSA বেশি হলেই প্রোস্টেট ক্যান্সার হয়েছে, এমন নয়।প্রোস্টেট বড় হওয়া, প্রোস্টেটের প্রদাহ বা সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণেও PSA বাড়তে পারে। আবার কিছু প্রোস্টেট ক্যান্সারে PSA খুব বেশি নাও হতে পারে।তাই PSA রিপোর্টকে রোগীর বয়স, অন্যান্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হয়।Digital Rectal Examination বা DREকিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক Digital Rectal Examination (DRE) করতে পারেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে মলদ্বারের মাধ্যমে প্রোস্টেটের আকার, গঠন বা অস্বাভাবিক শক্ত অংশ আছে কি না তা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।এটি শুনতে অনেকের অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু প্রয়োজন হলে এই পরীক্ষা প্রোস্টেটের অস্বাভাবিকতা মূল্যায়নে সহায়ক হতে পারে।MRI কি প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্ত করতে সাহায্য করেহ্যাঁ। প্রয়োজন অনুযায়ী Multiparametric MRI (mpMRI) করা হতে পারে। এটি প্রোস্টেটের ভেতরের অস্বাভাবিক অঞ্চল শনাক্ত করতে এবং সন্দেহজনক অংশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে সে সম্পর্কে ধারণা দিতে সাহায্য করে।অনেক ক্ষেত্রে MRI-এর ফলাফল দেখে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বায়োপসি প্রয়োজন কি না এবং প্রয়োজন হলে কোন অংশ থেকে নমুনা নেওয়া উচিত।প্রোস্টেট বায়োপসি কী?বায়োপসি হলো প্রোস্টেটের টিস্যুর ছোট নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করা।প্রোস্টেট ক্যান্সারের নিশ্চিত রোগ নির্ণয়ের জন্য অনেক ক্ষেত্রে বায়োপসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।বায়োপসি রিপোর্টের মাধ্যমে শুধু ক্যান্সার আছে কি না তা নয়, ক্যান্সারের কোষ কতটা অস্বাভাবিক এবং রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।Gleason Score কীপ্রোস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে Gleason grading ক্যান্সার কোষের বৈশিষ্ট্য এবং আক্রমণাত্মকতার মাত্রা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।বর্তমানে রোগের ঝুঁকি বোঝাতে Gleason Score-এর পাশাপাশি Grade Group ব্যবহার করা হয়। রিপোর্টে এসব বিষয় দেখে চিকিৎসক বুঝতে পারেন ক্যান্সার তুলনামূলকভাবে ধীরে বাড়ার সম্ভাবনা বেশি, নাকি দ্রুত বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।তাই শুধু “ক্যান্সার ধরা পড়েছে” শুনে ভয় পাওয়ার বদলে রিপোর্টের Grade Group, PSA, tumour stage এবং অন্যান্য তথ্য চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।প্রোস্টেট ক্যান্সারের স্টেজ বলতে কী বোঝায়ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো রোগটি কতটা ছড়িয়েছে তা জানা।সাধারণভাবে প্রোস্টেট ক্যান্সারকে স্থানীয় বা localized, আশপাশের অঞ্চলে ছড়ানো locally advanced, এবং শরীরের দূরের অংশে ছড়িয়ে পড়া metastatic রোগ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়।রোগের স্টেজ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী MRI, CT, bone scan, PET-based imaging বা অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে।স্টেজ জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চিকিৎসার ধরন রোগের স্টেজের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে।প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা কী?প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা সবার জন্য একরকম নয়। রোগীর বয়স, সামগ্রিক স্বাস্থ্য, PSA, Gleason/Grade Group, ক্যান্সারের স্টেজ এবং রোগীর নিজের পছন্দ—সবকিছু বিবেচনা করে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়।Active Surveillanceকম ঝুঁকির এবং ধীরে বাড়তে পারে এমন কিছু প্রোস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপি না করে Active Surveillance করা যেতে পারে।এর অর্থ রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং নির্দিষ্ট সময় পরপর PSA, শারীরিক পরীক্ষা, MRI বা প্রয়োজনীয় অন্যান্য মূল্যায়নের মাধ্যমে রোগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়।রোগের বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন দেখা দিলে তখন সক্রিয় চিকিৎসা শুরু করা হতে পারে।সার্জারিকিছু রোগীর ক্ষেত্রে ক্যান্সার যদি প্রোস্টেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং রোগীর জন্য উপযুক্ত হয়, তাহলে Radical Prostatectomy করা যেতে পারে।এতে ক্যান্সার আক্রান্ত প্রোস্টেট অপসারণ করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে আশপাশের লিম্ফ নোডও পরীক্ষা বা অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে।অস্ত্রোপচারের ধরন রোগীর অবস্থা ও হাসপাতালের সুবিধা অনুযায়ী ওপেন, ল্যাপারোস্কোপিক বা রোবোটিক পদ্ধতিতে হতে পারে।রেডিওথেরাপিরেডিওথেরাপির মাধ্যমে উচ্চশক্তির রশ্মি ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়।প্রোস্টেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে রেডিওথেরাপির সঙ্গে হরমোন থেরাপিও যুক্ত হতে পারে।হরমোন থেরাপিপ্রোস্টেট ক্যান্সারের অনেক কোষ androgen বা পুরুষ হরমোনের ওপর নির্ভর করে বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই কিছু ক্ষেত্রে শরীরে testosterone-এর প্রভাব কমানোর জন্য Androgen Deprivation Therapy (ADT) দেওয়া হয়।বিশেষ করে উন্নত বা নির্দিষ্ট উচ্চঝুঁকির প্রোস্টেট ক্যান্সারে হরমোন থেরাপি চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।কেমোথেরাপিসব প্রোস্টেট ক্যান্সারে কেমোথেরাপি প্রয়োজন হয় না। তবে উন্নত বা নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সারে অন্যান্য চিকিৎসার সঙ্গে কেমোথেরাপি ব্যবহার করা যেতে পারে।অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসারোগের ধরন ও পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে androgen receptor pathway inhibitors, targeted treatment, radiopharmaceutical therapy বা অন্যান্য আধুনিক পদ্ধতি বিবেচনা করা হতে পারে।কোন চিকিৎসা সবচেয়ে উপযুক্ত হবে তা কেবল ইন্টারনেটে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। রোগীর রিপোর্ট দেখে ইউরোলজিস্ট ও প্রয়োজন অনুযায়ী অনকোলজি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরিকল্পনা করেন।প্রোস্টেট ক্যান্সার কি ভালো হয়?অনেক ক্ষেত্রেই প্রোস্টেট ক্যান্সার চিকিৎসাযোগ্য, বিশেষ করে রোগটি যদি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হয় এবং প্রোস্টেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।তবে সব প্রোস্টেট ক্যান্সারের আচরণ একরকম নয়। কিছু ক্যান্সার খুব ধীরে বাড়ে, আবার কিছু ক্যান্সার দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।তাই “প্রোস্টেট ক্যান্সার মানেই মৃত্যু”—এই ধারণা যেমন ভুল, তেমনি “প্রোস্টেট ক্যান্সার হলে কোনো সমস্যা নেই”—এটিও ভুল।রোগটি কোন পর্যায়ে ধরা পড়েছে এবং ক্যান্সারের বৈশিষ্ট্য কেমন—এই দুটি বিষয় চিকিৎসার ফলাফলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায় কিপ্রোস্টেট ক্যান্সার শতভাগ প্রতিরোধ করার কোনো নিশ্চিত উপায় নেই। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং কিছু ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, শাকসবজি ও ফলসহ সুষম খাবার খাওয়া এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা ভালো অভ্যাস।তবে শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলেই প্রোস্টেট ক্যান্সার পুরোপুরি প্রতিরোধ করা যাবে—এমন দাবি করা ঠিক নয়।কখন ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত?নিচের যেকোনো সমস্যা থাকলে একজন ইউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো—প্রস্রাবের ধারা ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাওয়াপ্রস্রাব শুরু করতে বারবার সমস্যা হওয়ারাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের জন্য উঠতে হওয়াপ্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত দেখাপ্রস্রাবের সঙ্গে ব্যথা বা জ্বালাপোড়াপ্রস্রাব পুরোপুরি আটকে যাওয়াPSA পরীক্ষায় অস্বাভাবিক ফল পাওয়াপরিবারে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস থাকাকোমর বা হাড়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সঙ্গে প্রোস্টেটের সমস্যা থাকাবিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে এসব সমস্যাকে “বয়সের স্বাভাবিক ব্যাপার” বলে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা ঠিক নয়।প্রোস্টেট ক্যান্সার সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন১. প্রোস্টেট ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ কী?প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। পরে প্রস্রাবের বিভিন্ন সমস্যা, প্রস্রাবে রক্ত ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।২. প্রোস্টেট ক্যান্সার কি শুধু বয়স্ক পুরুষদের হয়?বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ে, তবে কম বয়সেও হতে পারে। বিশেষ করে পারিবারিক বা জেনেটিক ঝুঁকি থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।৩. PSA কত হলে প্রোস্টেট ক্যান্সার হয়?PSA-এর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে একা প্রোস্টেট ক্যান্সার নিশ্চিত করা যায় না। বয়স, PSA-এর পরিবর্তন, prostate volume, DRE, MRI ও অন্যান্য তথ্যও বিবেচনা করা হয়।৪. প্রোস্টেট বড় হলেই কি ক্যান্সার?না। BPH একটি ক্যান্সারবিহীন সমস্যা এবং এটি প্রোস্টেট ক্যান্সার থেকে আলাদা।৫. প্রোস্টেট ক্যান্সার কি চিকিৎসায় ভালো হয়?প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়া অনেক প্রোস্টেট ক্যান্সার কার্যকরভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে ফলাফল রোগের ধরন ও স্টেজের ওপর নির্ভর করে।৬. প্রোস্টেট ক্যান্সারের জন্য কোন ডাক্তার দেখাবেন?প্রাথমিক মূল্যায়নের জন্য ইউরোলজিস্ট উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ। প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেল বা রেডিয়েশন অনকোলজিস্টসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।৭. প্রোস্টেট ক্যান্সার কি হাড়ে ছড়াতে পারে?হ্যাঁ। উন্নত পর্যায়ের প্রোস্টেট ক্যান্সার হাড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।৮. প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় কি সবসময় অপারেশন করতে হয়?না। রোগের ঝুঁকি ও স্টেজ অনুযায়ী Active Surveillance, রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি, সার্জারি বা অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবহার করা হতে পারে।৯. প্রোস্টেট ক্যান্সার কি বংশগত?সব ক্ষেত্রে নয়। তবে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যান্সার বা নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।১০. প্রোস্টেটের সমস্যা হলে কি দেরি করা উচিত?না। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাব আটকে যাওয়া, অস্বাভাবিক PSA বা দীর্ঘস্থায়ী নতুন উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।শেষ কথাপ্রোস্টেট ক্যান্সার এমন একটি রোগ, যেটি নিয়ে ভয় পাওয়ার চেয়ে সচেতন হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। আবার প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিলেও সেটি সবসময় ক্যান্সার নয়।তাই বয়স, পারিবারিক ইতিহাস বা উপসর্গ অনুযায়ী ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা এবং রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

blog-image

থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া: কারণ, লক্ষণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা

থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া কী, কেন রক্তে প্লেটলেট কমে যায়, এর লক্ষণ কী, কত প্লেটলেট হলে ঝুঁকি বাড়ে, কী পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রয়োজন—সহজ ভাষায় বিস্তারিত জানুন।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া কী?মানবদেহের রক্তে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং প্লেটলেট এই তিন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রক্তকণিকা থাকে। এর মধ্যে প্লেটলেট রক্তপাত বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের কোথাও ছোটখাটো আঘাত লাগলে রক্তনালির ক্ষতস্থানে প্লেটলেট জমা হয়ে রক্তপাত বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করে।স্বাভাবিকের তুলনায় রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা কমে গেলে তাকে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (Thrombocytopenia) বলা হয়।সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তে প্রতি মাইক্রোলিটারে প্লেটলেটের সংখ্যা প্রায় ১.৫ লাখ থেকে ৪.৫ লাখ পর্যন্ত থাকতে পারে। সাধারণত ১.৫ লাখের নিচে নেমে গেলে তাকে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা কম—এটুকু দেখেই রোগ কতটা গুরুতর তা বলা যায় না। কেন প্লেটলেট কমেছে, কতটা কমেছে এবং রোগীর কোনো রক্তপাত হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।অনেক সময় রক্ত পরীক্ষায় হঠাৎ প্লেটলেট কম পাওয়া যায়, কিন্তু রোগীর কোনো উপসর্গ থাকে না। আবার কারও ক্ষেত্রে প্লেটলেট অনেক কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তপাতের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।প্লেটলেট কিপ্লেটলেটকে সহজভাবে শরীরের রক্তপাত বন্ধ করার প্রাকৃতিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলা যায়।ধরা যাক, রান্না করতে গিয়ে হাতে সামান্য কেটে গেল। ক্ষত থেকে রক্ত বের হতে শুরু করবে। কিছু সময় পর স্বাভাবিকভাবেই রক্তপাত কমে আসে এবং সেখানে জমাট বাঁধতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় প্লেটলেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তাই প্লেটলেটের সংখ্যা খুব কমে গেলে শরীরের স্বাভাবিক রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তবে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, প্লেটলেট কম মানেই শরীরে রক্তপাত হবেই, এমন নয়। প্লেটলেটের মাত্রা, অন্যান্য রক্ত পরীক্ষার ফলাফল এবং রোগীর সামগ্রিক অবস্থার ওপর ঝুঁকি নির্ভর করে।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়ার প্রধান কারণপ্লেটলেট কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। মূলত তিনভাবে বিষয়টি বোঝা যায়—শরীরে পর্যাপ্ত প্লেটলেট তৈরি না হওয়াশরীরে তৈরি হওয়া প্লেটলেট দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়াপ্লেটলেট শরীরের কোথাও বেশি জমে গিয়ে রক্তে কম পাওয়া যাওয়াএখন প্রতিটি কারণ একটু বিস্তারিতভাবে দেখা যাক।১. অস্থিমজ্জায় প্লেটলেট কম তৈরি হলেপ্লেটলেট তৈরি হয় অস্থিমজ্জায়। অস্থিমজ্জার কোনো সমস্যা হলে শরীর প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্লেটলেট তৈরি করতে পারে না।যেমন—কিছু ভাইরাল সংক্রমণভিটামিন বি১২ বা ফোলেটের ঘাটতিকিছু রক্তের রোগলিউকেমিয়াঅস্থিমজ্জার অন্যান্য রোগকিছু ক্যান্সারের চিকিৎসা বা কেমোথেরাপিকিছু ওষুধের প্রভাবএসব কারণে প্লেটলেট উৎপাদন কমে যেতে পারে।২. শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা প্লেটলেট নষ্ট করলেকিছু ক্ষেত্রে শরীরের ইমিউন সিস্টেম ভুল করে নিজের প্লেটলেটকে ক্ষতিকর মনে করে আক্রমণ করে।এ ধরনের একটি পরিচিত রোগ হলো Immune Thrombocytopenia বা ITP।ITP-তে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা প্লেটলেট ধ্বংস করতে পারে। ফলে রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যায়।এটি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক—দুই ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে।৩. সংক্রমণের কারণে প্লেটলেট কমে যেতে পারেবিভিন্ন সংক্রমণের সময়ও প্লেটলেট কমতে পারে।বাংলাদেশে বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে প্লেটলেট কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ডেঙ্গুতে প্লেটলেট কমেছে বলেই রোগী গুরুতর অবস্থায় আছেন, এমন সরল হিসাব করা ঠিক নয়। ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় প্লেটলেটের সংখ্যা ছাড়াও রক্তচাপ, পালস, হেমাটোক্রিট, রক্তপাতের লক্ষণ, শরীরে পানি কমে যাওয়ার লক্ষণ এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা হয়।এ ছাড়া কিছু অন্যান্য ভাইরাল ও সংক্রামক রোগেও প্লেটলেট কমতে পারে।৪. লিভারের রোগে প্লেটলেট কমতে পারেদীর্ঘদিনের লিভার রোগ বা লিভার সিরোসিসের সঙ্গে প্লেটলেট কমে যাওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে।সিরোসিসের কারণে পোর্টাল হাইপারটেনশন হলে প্লীহা বড় হয়ে যেতে পারে। তখন প্লেটলেটসহ কিছু রক্তকণিকা প্লীহায় বেশি আটকে থাকতে পারে।ফলে রক্ত পরীক্ষায় প্লেটলেটের সংখ্যা কম দেখা যেতে পারে।তাই কারও দীর্ঘদিনের লিভার রোগের সঙ্গে প্লেটলেট কম থাকলে শুধু প্লেটলেট বাড়ানোর দিকে না তাকিয়ে লিভারের মূল সমস্যাটিও খুঁজে দেখা জরুরি।৫. কিছু ওষুধের কারণে প্লেটলেট কমে যেতে পারেকিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও প্লেটলেট কমতে পারে।তাই রক্ত পরীক্ষায় হঠাৎ প্লেটলেট কমে গেলে রোগী বর্তমানে কী কী ওষুধ খাচ্ছেন, সেটিও চিকিৎসককে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো ওষুধ নিজের সিদ্ধান্তে বন্ধ করা উচিত নয়। চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়ার লক্ষণ কী?থ্রম্বোসাইটোপেনিয়ার লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে একই রকম হয় না।প্লেটলেট সামান্য কম থাকলে অনেক সময় কোনো উপসর্গই দেখা যায় না। রুটিন রক্ত পরীক্ষার সময় ঘটনাটি ধরা পড়ে।অন্যদিকে প্লেটলেট অনেক কমে গেলে বা রক্তপাতের প্রবণতা তৈরি হলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে।ত্বকে ছোট ছোট লাল দাগপায়ের নিচের অংশ বা শরীরের অন্যান্য জায়গায় ছোট ছোট লাল বা বেগুনি দাগ দেখা দিতে পারে। এগুলোকে Petechiae বলা হয়।অনেক সময় এগুলো দেখতে ছোট ছোট ফুসকুড়ির মতো মনে হয়, কিন্তু চাপ দিলে সাধারণত ফ্যাকাশে হয়ে যায় না।সহজে কালশিটে দাগ হওয়াসামান্য আঘাতেই যদি শরীরে বড় কালশিটে দাগ তৈরি হয় বা কোনো কারণ ছাড়াই শরীরে বারবার নীলচে দাগ দেখা যায়, তাহলে বিষয়টি চিকিৎসকের কাছে জানানো উচিত।নাক দিয়ে রক্ত পড়াবারবার বা অস্বাভাবিকভাবে নাক দিয়ে রক্ত পড়া প্লেটলেট কমে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে।তবে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার আরও অনেক কারণ রয়েছে। তাই শুধু এই লক্ষণ দেখে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া ধরে নেওয়া ঠিক নয়।মাড়ি থেকে রক্ত পড়াদাঁত ব্রাশ করার সময় বারবার মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বা অল্প কারণেই মাড়ি থেকে রক্তপাত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাতনারীদের ক্ষেত্রে প্লেটলেট কমে গেলে মাসিকের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বা দীর্ঘসময় রক্তপাত হতে পারে।যদি মাসিকের রক্তপাত হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, বড় বড় রক্তের দলা বের হয় বা খুব দ্রুত প্যাড ভিজে যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।প্রস্রাব বা পায়খানায় রক্তপ্লেটলেট খুব কমে গেলে বা রক্তপাতের প্রবণতা থাকলে প্রস্রাব বা পায়খানায় রক্ত দেখা যেতে পারে।তবে এ ধরনের লক্ষণের আরও অনেক কারণ রয়েছে। তাই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া কতটা বিপজ্জনক?এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।প্লেটলেট কত কমেছে, কেন কমেছে এবং রোগীর কোনো রক্তপাত হচ্ছে কি না—এসবের ওপর ঝুঁকি নির্ভর করে।প্লেটলেট ১ লাখের নিচে নামলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন হতে পারে।৫০ হাজারের নিচে নেমে গেলে কিছু পরিস্থিতিতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে, বিশেষ করে আঘাত বা কিছু চিকিৎসা/প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে।আর ২০ হাজারের নিচে নেমে গেলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গুরুতর রক্তপাতের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।তবে সংখ্যাকে একা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। একজন রোগীর ৩০ হাজার প্লেটলেট হলেও যদি কোনো রক্তপাত না থাকে, তার চিকিৎসা পরিকল্পনা অন্য রোগীর তুলনায় ভিন্ন হতে পারে।আবার কারও প্লেটলেট দ্রুত কমছে বা সক্রিয় রক্তপাত রয়েছে—তাহলে তুলনামূলক বেশি জরুরি ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে।রক্ত পরীক্ষায় প্লেটলেট কম পেলেই কি থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া হয়?সবসময় নয়।কখনো কখনো রক্তের নমুনায় প্লেটলেট একসঙ্গে জমাট বেঁধে গেলে মেশিনে প্লেটলেটের সংখ্যা ভুলভাবে কম দেখাতে পারে। একে Pseudothrombocytopenia বলা হয়।তাই রিপোর্টে প্লেটলেট কম পাওয়া গেলে চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে আবার CBC করতে পারেন বা রক্তের স্মিয়ার পরীক্ষা করতে পারেন।এ কারণেই শুধু একটি রিপোর্ট দেখে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া কীভাবে নির্ণয় করা হয়?প্রথমে সাধারণত Complete Blood Count বা CBC পরীক্ষা করা হয়।CBC-এর মাধ্যমে শুধু প্লেটলেট নয়, হিমোগ্লোবিন, লোহিত রক্তকণিকা ও শ্বেত রক্তকণিকার অবস্থাও জানা যায়।এরপর চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কিছু পরীক্ষা করতে পারেন।যেমন—Peripheral Blood Film/Smearলিভার ফাংশন টেস্টকিডনি ফাংশন টেস্টভাইরাল সংক্রমণের পরীক্ষাভিটামিন বি১২ ও ফোলেটপ্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য ইমিউনোলজিক্যাল পরীক্ষাঅস্থিমজ্জা পরীক্ষা, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেসব রোগীর জন্য সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না।চিকিৎসক রোগীর বয়স, উপসর্গ, অন্যান্য রক্তকণিকার অবস্থা এবং পূর্বের রোগের ইতিহাস দেখে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্বাচন করেন।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়ার চিকিৎসা কী?এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্লেটলেট কমার কারণের চিকিৎসা করা।শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়ানোই সবসময় মূল চিকিৎসা নয়।উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো সংক্রমণের কারণে সাময়িকভাবে প্লেটলেট কমে গেলে সংক্রমণের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।আবার কোনো ওষুধের কারণে প্লেটলেট কমলে চিকিৎসকের পরামর্শে সেই ওষুধ পরিবর্তন করা হতে পারে।ITP-এর মতো রোগে পরিস্থিতি অনুযায়ী স্টেরয়েড বা অন্যান্য ইমিউন-নিয়ন্ত্রণকারী চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।অন্যদিকে গুরুতর রক্তপাত বা নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত পরিস্থিতিতে প্লেটলেট ট্রান্সফিউশনের প্রয়োজন হতে পারে।প্লেটলেট কমলেই কি প্লেটলেট দিতে হয়?না।এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা।প্লেটলেট ট্রান্সফিউশনের সিদ্ধান্ত শুধু প্লেটলেটের একটি সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না।রোগীর—সক্রিয় রক্তপাত আছে কি নাপ্লেটলেটের মাত্রাপ্লেটলেট কেন কমেছেকোনো সার্জারি বা চিকিৎসা প্রক্রিয়া সামনে আছে কি নাসামগ্রিক শারীরিক অবস্থাএসব বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।বিশেষ করে ডেঙ্গুতে শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা কমেছে বলে নিজের ইচ্ছায় প্লেটলেট দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া হলে কী খাবেন?খাবার দিয়ে সব ধরনের থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া সরাসরি চিকিৎসা করা যায় না।তবে রোগীর যদি পুষ্টির ঘাটতি থাকে, বিশেষ করে ভিটামিন বি১২ বা ফোলেটের ঘাটতি থাকে, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য ও সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা চিকিৎসার অংশ হতে পারে।সাধারণভাবে সুষম খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।খাবারের মধ্যে রাখতে পারেন—মাছডিমদুধ ও দুগ্ধজাত খাবারডালশাকসবজিফলমূলবাদাম ও বীজপ্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারতবে কোনো নির্দিষ্ট খাবার খেলে দ্রুত প্লেটলেট বেড়ে যাবে—এমন দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সব ক্ষেত্রে নেই।প্লেটলেট কম থাকলে কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকবেন?প্লেটলেট কম থাকলে আঘাত ও অপ্রয়োজনীয় রক্তপাতের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা উচিত।বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এমন ওষুধ খাবেন না যেগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।ব্যথার ওষুধ বা অন্য কোনো ওষুধ নেওয়ার আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানানো ভালো যে আপনার প্লেটলেট কম।দাঁত ব্রাশ করার সময় নরম ব্রাশ ব্যবহার করা এবং আঘাত লাগতে পারে এমন কাজ থেকে সতর্ক থাকা উপকারী হতে পারে।কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?থ্রম্বোসাইটোপেনিয়ার সঙ্গে নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত—রক্তপাত বন্ধ না হওয়ানাক দিয়ে দীর্ঘসময় রক্ত পড়ামাড়ি থেকে অতিরিক্ত রক্তপাতবমিতে রক্তপায়খানা কালো বা রক্তযুক্ত হওয়াপ্রস্রাবে রক্তঅস্বাভাবিকভাবে বেশি মাসিক রক্তপাতশরীরে দ্রুত অনেক লাল/বেগুনি দাগ ছড়িয়ে পড়ামাথায় আঘাত লাগাপ্রচণ্ড মাথাব্যথা, দুর্বলতা, বিভ্রান্তি বা অন্য কোনো স্নায়বিক উপসর্গবিশেষ করে প্লেটলেট খুব কম থাকার সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, অজ্ঞান হওয়া বা স্নায়বিক পরিবর্তন দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন?প্লেটলেট কমে যাওয়ার কারণ অনেক ধরনের হতে পারে। তাই হেমাটোলজি বা রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।বিশেষ করে যদি—প্লেটলেট বারবার কমে যায়কারণ বোঝা না যায়দীর্ঘদিন ধরে প্লেটলেট কম থাকেশরীরে রক্তপাতের লক্ষণ থাকেঅন্য রক্তকণিকার সংখ্যাও অস্বাভাবিক হয়তাহলে হেমাটোলজিস্টের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।রাজশাহীতে হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারডাঃ রোমেনা আলমএমবিবিএস, এফসিপিএস (হেমাটোলজি)এমফিল (ইমিউনোলজি-বারডেম)রক্ত রোগ ও ব্লাড ক্যান্সার বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপক, হেমাটোলজি বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালবিএমডিসি নং: এ- ৩৩৬৪৫ চেম্বারঃলিভ-হেমাটোলজি সেন্টারলক্ষীপুর, গ্রেটার রোড (জিপিও এর উত্তর পার্শ্বে, ২য় তলা), রাজশাহী। ডাঃ রোমেনা আলম রাজশাহীতে নিয়মিত থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া সহ হেমাটোলজি বিষেয়ে সকল রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেনশিশুদের থ্রম্বোসাইটোপেনিয়াশিশুদেরও থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া হতে পারে। ভাইরাল সংক্রমণের পর অনেক শিশুর সাময়িকভাবে প্লেটলেট কমে যেতে পারে।আবার কিছু শিশুর ITP-এর মতো রোগও হতে পারে।শিশুর শরীরে হঠাৎ ছোট ছোট লাল দাগ, সহজে কালশিটে পড়া, নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত দেখা দিলে রক্ত পরীক্ষা করে কারণ জানা প্রয়োজন।শিশুর প্লেটলেট কম পাওয়া গেলে অভিভাবকদের নিজের সিদ্ধান্তে কোনো ওষুধ না দিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ বা প্রয়োজন হলে শিশু হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।গর্ভাবস্থায় থ্রম্বোসাইটোপেনিয়াগর্ভাবস্থায় কিছু নারীর প্লেটলেট সামান্য কমে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি গর্ভাবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি তুলনামূলক সাধারণ পরিবর্তন হতে পারে।তবে সব প্লেটলেট কমে যাওয়াকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া যাবে না।বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, পেটের ওপরের দিকে ব্যথা বা অন্যান্য অস্বাভাবিক লক্ষণের সঙ্গে প্লেটলেট কম থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া কি প্রতিরোধ করা যায়?সব ধরনের থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কারণ কিছু কারণ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকতে পারে।তবে কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।যেমন—চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করাঅপ্রয়োজনীয় ওষুধ এড়িয়ে চলাভাইরাল সংক্রমণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখাদীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগের চিকিৎসা করাপুষ্টিকর খাবার খাওয়ানিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাসবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, রক্ত পরীক্ষায় বারবার প্লেটলেট কম পাওয়া গেলে বিষয়টি অবহেলা না করা।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্নপ্লেটলেট কত হলে বিপদ?একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে সবার ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায় না। তবে প্লেটলেট যত কমে, বিশেষ করে ২০ হাজারের নিচে গেলে স্বতঃস্ফূর্ত রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সক্রিয় রক্তপাত থাকলে যেকোনো মাত্রাতেই দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।প্লেটলেট কম হলে কি সবসময় রক্তপাত হয়?না। অনেক রোগীর প্লেটলেট কম থাকলেও কোনো রক্তপাত থাকে না।ডেঙ্গু হলে প্লেটলেট কমা কি স্বাভাবিক?ডেঙ্গুতে প্লেটলেট কমতে পারে। তবে শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা দিয়ে ডেঙ্গুর তীব্রতা নির্ধারণ করা যায় না। রোগীর সামগ্রিক অবস্থা ও অন্যান্য পরীক্ষার ফলও গুরুত্বপূর্ণ।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া কি ক্যান্সারের লক্ষণ?সবসময় নয়। সংক্রমণ, ওষুধ, ইমিউন সমস্যা, লিভারের রোগ, পুষ্টির ঘাটতিসহ অনেক কারণেই প্লেটলেট কমতে পারে। তবে কিছু রক্তের ক্যান্সার বা অস্থিমজ্জার রোগেও প্লেটলেট কমতে পারে। তাই কারণ নির্ণয় জরুরি।প্লেটলেট বাড়ানোর জন্য কী খাব?সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ভালো। তবে শুধু কোনো একটি খাবার খেলে দ্রুত প্লেটলেট বেড়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। মূল কারণের চিকিৎসাই গুরুত্বপূর্ণ।প্লেটলেট কম হলে কি ব্যায়াম করা যাবে?প্লেটলেট কত কম এবং রক্তপাতের ঝুঁকি কেমন—তার ওপর নির্ভর করে। প্লেটলেট খুব কম থাকলে আঘাত লাগার সম্ভাবনা বেশি এমন ব্যায়াম এড়িয়ে চলতে হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া শুনলেই ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই, আবার বিষয়টি অবহেলাও করা উচিত নয়। কারণ প্লেটলেট কমে যাওয়ার পেছনে সাধারণ ও সাময়িক কারণ যেমন থাকতে পারে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বা গুরুতর রোগও থাকতে পারে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কেন প্লেটলেট কমেছে, সেটি খুঁজে বের করা।রক্ত পরীক্ষায় প্লেটলেট কম পাওয়া গেলে নিজের মতো করে প্লেটলেট বাড়ানোর ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট বা ঘরোয়া চিকিৎসা শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন হলে হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ রোগীর ইতিহাস, শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করবেন।

Emergency Contact

Emergency Call +880 1723-025514

Emergency E-mail

24/7 Email Support [email protected]

- OR -