blog-image Best Medicine Specialist Doctor in Rajshahi

ডাঃ এস. এম. মাহবুবুর রহমান (লেমন) | মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রাজশাহী

রাজশাহীর অভিজ্ঞ মেডিসিন ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ এস এম মাহবুবুর রহমান (লেমন)। ১৭ বছরের অভিজ্ঞতায় ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, বাত, রক্তশূন্যতা, হাঁপানি ও জ্বরের চিকিৎসা।ডাঃ এস এম মাহবুবুর রহমান (লেমন)এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)এমডি (ইন্টারনাল মেডিসিন)বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা (সাবেক পিজি হাসপাতাল)মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন)রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ডাঃ এস এম মাহবুবুর রহমান (লেমন) — মেডিসিন ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীদীর্ঘদিনের জ্বর, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, বাতের ব্যথা, রক্তশূন্যতা, হাঁপানি বা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন? এ ধরনের সমস্যায় সঠিক কারণ নির্ণয় ও পরিকল্পিত চিকিৎসা খুবই জরুরি। তাই সঠিক সময়ে একজন অভিজ্ঞ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এর কাছে পরামর্শ নেওয়া উচিত। ডাঃ এস এম মাহবুবুর রহমান (লেমন) রাজশাহীর একজন সুনামধন্য, অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত মেডিসিন ডাক্তার রাজশাহী। তিনি প্রায় ১৭ বছরের চিকিৎসা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন মেডিসিন ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক।ডাঃ এস এম মাহবুবুর রহমান (লেমন) এর পরিচিতি ও যোগ্যতাডাঃ এস এম মাহবুবুর রহমান (লেমন) ইন্টারনাল মেডিসিনে উচ্চতর ডিগ্রিধারী একজন বিশেষজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা (সাবেক পিজি হাসপাতাল) থেকে এমডি (ইন্টারনাল মেডিসিন) সম্পন্ন করেছেন এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক।তাঁর শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা:এমবিবিএস (MBBS)বিসিএস (স্বাস্থ্য)এমডি (ইন্টারনাল মেডিসিন), বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা (সাবেক পিজি হাসপাতাল)মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহীপ্রায় ১৭ বছরের চিকিৎসা অভিজ্ঞতাদীর্ঘদিনের সরকারি হাসপাতালভিত্তিক অভিজ্ঞতা এবং ইন্টারনাল মেডিসিনে উচ্চতর প্রশিক্ষণ তাঁকে রাজশাহীতে একজন নির্ভরযোগ্য মেডিসিন ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।ডাঃ এস এম মাহবুবুর রহমান (লেমন) কোন রোগের চিকিৎসা দেন?ডাঃ এস এম মাহবুবুর রহমান (লেমন) মেডিসিন ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিষয়ে বিস্তৃত চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। তাঁর চিকিৎসার প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো:ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া; দীর্ঘমেয়াদে হার্ট, কিডনি, চোখ ও স্নায়ুর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।থাইরয়েড ও অন্যান্য হরমোনজনিত রোগ: থাইরয়েডের অতিরিক্ত বা কম কাজ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও মেটাবলিক সমস্যা।বাত-ব্যথা ও রিউমাটোলজি: জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা, শরীর ম্যাজম্যাজ লাগা, গেঁটে বাত বা অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা।রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া: রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া; দুর্বলতা, ক্লান্তি ও মাথা ঘোরা হয়।থ্যালাসেমিয়া ও অন্যান্য রক্তের রোগ: জন্মগত রক্তের রোগ বা রক্তের অন্যান্য সমস্যার পরামর্শ ও চিকিৎসা।জ্বর ও ইনফেকশন: সাধারণ জ্বর, ভাইরাল জ্বর, টাইফয়েড, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া বা অন্যান্য সংক্রমণের চিকিৎসা।অ্যাজমা বা হাঁপানি: শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও বুকে চাপ লাগা।যক্ষ্মা বা টিবি: যক্ষ্মা ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া সংক্রমণ; দীর্ঘদিন কাশি, রাতে ঘাম, ওজন কমা ও জ্বর হতে পারে।অন্যান্য বক্ষব্যাধি: নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস বা ফুসফুসের অন্যান্য সমস্যা।গ্যাস্ট্রো-লিভার রোগ: গ্যাস্ট্রিক, আলসার, লিভারের সমস্যা বা হজমের জটিলতা।নার্ভ-ব্রেন-প্যারালাইসিস-স্ট্রোক: মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, হাত-পায়ে অবশতা বা স্ট্রোক-পরবর্তী চিকিৎসা।উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ: রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হার্টের ঝুঁকি কমানোর পরামর্শ ও চিকিৎসা।কখন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাবেন?সাময়িক সর্দি-কাশি বা সামান্য ক্লান্তি সাধারণ কারণে হতে পারে। তবে নিচের উপসর্গগুলো থাকলে দেরি না করে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রাজশাহী-র কাছে যাওয়া উচিত:৭ দিনের বেশি জ্বর থাকা বা বারবার জ্বর ফিরে আসারক্তে শর্করা বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকাথাইরয়েডজনিত সমস্যা, যেমন ওজন বৃদ্ধি বা কমে যাওয়া, ঘাড় ফুলে যাওয়া, অস্থিরতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তিদীর্ঘদিন দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শরীর ব্যথা বা অজানা কারণে ওজন কমে যাওয়াজোড়ায় জোড়ায় ব্যথা, শরীর ম্যাজম্যাজ লাগা বা সকালে শরীর শক্ত লাগাদীর্ঘদিন কাশি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বা বারবার ঠান্ডা-জ্বরপেটে ব্যথা, বুক জ্বালা, বমিভাব বা হজমের সমস্যারক্তশূন্যতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়াহাত-পায়ে ঝিনঝিন ভাব, অবশতা বা শক্তি কমে যাওয়াউচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ঝুঁকি থাকাএকাধিক রোগ একসঙ্গে থাকা বা বহু পরীক্ষার পরও সঠিক কারণ না পাওয়াজরুরি অবস্থায়—যেমন হঠাৎ স্ট্রোকের লক্ষণ, তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে তীব্র ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা খিঁচুনি—দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি সেবা নিন।কেন ডাঃ এস এম মাহবুবুর রহমান (লেমন)-কে দেখাবেন?রাজশাহীতে মেডিসিন ও বাতের চিকিৎসার জন্য ডাঃ এস এম মাহবুবুর রহমান (লেমন)-কে বেছে নেওয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:প্রায় ১৭ বছরের চিকিৎসা অভিজ্ঞতা: দীর্ঘদিনের হাসপাতালভিত্তিক অভিজ্ঞতা তাঁকে বিভিন্ন জটিল রোগীর চিকিৎসায় দক্ষ করে তুলেছে।উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ: তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমডি (ইন্টারনাল মেডিসিন) ডিগ্রিধারী।সরকারি হাসপাতালের অভিজ্ঞতা: তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক।বহুমুখী চিকিৎসা সেবা: ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, বাত, রক্তশূন্যতা, হাঁপানি, জ্বর ও উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ।রোগীবান্ধব পরামর্শ: রোগের কারণ, পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা, ওষুধ ব্যবহার এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন সহজভাবে বোঝান।রাজশাহীতে সহজলভ্য চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ ভবন-২, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহীতে নিয়মিত রোগী দেখেন।ডাঃ এস এম মাহবুবুর রহমান (লেমন) চেম্বারের তথ্যচেম্বারঃ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ, ভবন নং-২, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহীরুম নং: ১০২ (নিচতলা)ঠিকানা: চৌধুরী টাওয়ার, বি-৪৭৪, শেরশাহ রোড, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী।রোগী দেখার সময়: বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা (শুক্রবার বন্ধ)চেম্বারে যাওয়ার আগে সিরিয়াল বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করে নিন।ডাঃ এস এম মাহবুবুর রহমান (লেমন) সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ১. ডাঃ এস এম মাহবুবুর রহমান (লেমন) কোন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ?তিনি মেডিসিন ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। তিনি ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, বাত, রক্তশূন্যতা, হাঁপানি, জ্বর ও উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।২. ডাঃ মাহবুবুর রহমানের কত বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে?তাঁর প্রায় ২৮ বছরের চিকিৎসা অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক।৩. থাইরয়েডের সমস্যা কখন ডাক্তার দেখাব?ওজন বৃদ্ধি বা কমে যাওয়া, ঘাড় ফুলে যাওয়া, অস্থিরতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, চুল পড়া বা মাসিক অনিয়ম থাকলে থাইরয়েড পরীক্ষা ও পরামর্শের জন্য ডাক্তারকে দেখান।৪. বাতের ব্যথা কখন বিশেষজ্ঞকে দেখাব?জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা, সকালে শরীর শক্ত লাগা, গেঁটে বাতের তীব্র ব্যথা বা শরীর ম্যাজম্যাজ লাগা দীর্ঘদিন থাকলে মেডিসিন ও বাত ব্যথা বিশেষজ্ঞকে দেখান।৫. রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া কী এবং কীভাবে বোঝা যায়?রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়াকে রক্তশূন্যতা বলে। এতে দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, মুখ ফ্যাকাশে হওয়া বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। সিবিসি পরীক্ষা করে সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরি।৬. হাঁপানি বা অ্যাজমা কি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে?হ্যাঁ, সঠিক ওষুধ, ট্রিগার এড়ানো এবং নিয়মিত ফলোআপে অনেক রোগীর হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না।৭. ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ একসঙ্গে থাকলে কী করব?ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ একসঙ্গে থাকলে হার্ট, কিডনি ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত পরীক্ষা, ওষুধ ব্যবহার, খাবার নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন জরুরি।৮. ডাঃ মাহবুবুর রহমানের চেম্বার কোথায়?তাঁর চেম্বার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ, ভবন-২, রুম ১০২ (নিচতলা), লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী।৯. চেম্বারে দেখার সময় কী?তিনি বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রোগী দেখেন (শুক্রবার বন্ধ)।আপনি যদি রাজশাহীতে অভিজ্ঞ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রাজশাহী ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী খুঁজছেন তাহলে ডাঃ এস এম মাহবুবুর রহমান (লেমন) একজন নির্ভরযোগ্য পছন্দ হতে পারেন। তাঁর প্রায় ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা, উচ্চতর যোগ্যতা এবং ইন্টারনাল মেডিসিনে বিশেষজ্ঞতা রোগীদের জন্য আশ্বস্ত ও পরিকল্পিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে।রাজশাহীতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor Service BD এর মাধ্যমে।হটলাইন নম্বরঃ ০১৭২৩-০২৫৫১৪

24 Oct,2026

blog-image চর্ম ও যৌান রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ মুহাঃ আলমগীর রেজা | চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ রাজশাহী

রাজশাহীর অভিজ্ঞ চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মুহাঃ আলমগীর রেজা। একজিমা, সোরিয়াসিস, অ্যালার্জি, দাদ, চুল পড়া, সিফিলিস ও যৌনবাহিত রোগের চিকিৎসার জন্য পরামর্শ নিন।ডাঃ মুহাঃ আলমগীর রেজাএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),ডিডিভি (চর্ম ও যৌন রোগ),এমএসিপি (আমেরিকা)ফেলো ইন ডার্মাটো সার্জারীএ্যাডভান্স ট্রেনিং ইন সেক্সুয়াল মেডিসিন (SAASM)মেম্বার সোরিয়াসিস এওয়ারনেস ক্লাবসহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌন বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালডাঃ মুহাঃ আলমগীর রেজা — চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ রাজশাহীত্বকে দীর্ঘদিনের চুলকানি, ব্রণ, দাগ, দাদ, অ্যালার্জি বা অতিরিক্ত চুল পড়ায় ভুগছেন? অথবা যৌনাঙ্গে ঘা, র‍্যাশ, চুলকানি বা অস্বাভাবিক স্রাবের সমস্যা হচ্ছে? এ ধরনের সমস্যায় লজ্জা বা দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ রাজশাহী-র কাছে পরামর্শ নেওয়া জরুরি।ডাঃ মুহাঃ আলমগীর রেজা রাজশাহীর একজন সুনামধন্য, অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী। তিনি চর্মরোগ, অ্যালার্জি, যৌনরোগ এবং ডার্মাটো সার্জারিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক।ডাঃ মুহাঃ আলমগীর রেজার পরিচিতি ও যোগ্যতাডাঃ মুহাঃ আলমগীর রেজা চর্মরোগ, অ্যালার্জি ও যৌনরোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ একজন বিশেষজ্ঞ। তিনি চর্ম ও যৌন রোগে ডিডিভি ডিগ্রিধারী, ডার্মাটো সার্জারিতে ফেলো এবং সেক্সুয়াল মেডিসিনে অ্যাডভান্স ট্রেনিংপ্রাপ্ত। তিনি সোরিয়াসিস অ্যাওয়ারনেস ক্লাবের সদস্যও।তাঁর শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা:এমবিবিএস (MBBS)বিসিএস (স্বাস্থ্য)ডিডিভি (চর্ম ও যৌন রোগ)এমএসিপি (আমেরিকা)ফেলো ইন ডার্মাটো সার্জারিঅ্যাডভান্স ট্রেনিং ইন সেক্সুয়াল মেডিসিন (SAASM)মেম্বার, সোরিয়াসিস অ্যাওয়ারনেস ক্লাবসহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌন বিভাগ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসরকারি হাসপাতালে চর্ম ও যৌন বিভাগে কর্মরত থাকা, ডার্মাটো সার্জারিতে দক্ষতা এবং যৌন স্বাস্থ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ তাঁকে রাজশাহীতে একজন নির্ভরযোগ্য যৌনরোগ ডাক্তার রাজশাহী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।ডাঃ মুহাঃ আলমগীর রেজা কোন রোগের চিকিৎসা দেন?ডাঃ মুহাঃ আলমগীর রেজা চর্ম, অ্যালার্জি ও যৌনরোগ বিষয়ে বিস্তৃত চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। তাঁর চিকিৎসার প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো:একজিমা বা একজিমাটাস ডার্মাটাইটিস: ত্বক শুকিয়ে যাওয়া, লাল হওয়া, চুলকানি ও র‍্যাশ; অ্যালার্জি বা ত্বকের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমস্যায় হতে পারে।সোরিয়াসিস: ত্বকে শক্ত, লালচে ও সাদা আঁশযুক্ত দাগ হওয়া; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত ত্বকের রোগ।অ্যালার্জি ও চুলকানি: ধুলা, খাবার, ওষুধ, পোকা বা অন্য কোনো অ্যালার্জেনের কারণে ত্বকে র‍্যাশ, চুলকানি বা ফোলা।ফাঙ্গাল ইনফেকশন: দাদ, ছুলি বা নখের ফাঙ্গাস; এতে ত্বক লাল হয়, চুলকানি হয় এবং নখ ভাঙতে বা মোটা হতে পারে।স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া: মাইট সংক্রমণের কারণে তীব্র চুলকানি, বিশেষ করে রাতে বেশি হয় এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে।ভাইরাসজনিত ত্বকের রোগ: ওয়ার্ট, হারপিস বা অন্যান্য ভাইরাসজনিত সংক্রমণ; এতে ত্বকে ছোট উঁচু দানা, ঘা বা পানি ভরা র‍্যাশ হতে পারে।অ্যালোপেসিয়া বা চুল পড়া: বিভিন্ন কারণে মাথার চুল বা শরীরের চুল পড়ে যাওয়া; হরমোন, অ্যালার্জি, পুষ্টি ঘাটতি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যায় হতে পারে।অতিরিক্ত চুল পড়া: মানসিক চাপ, পুষ্টি ঘাটতি, থাইরয়েড, হরমোনজনিত সমস্যা বা অন্য কারণে চুল পড়া।সিফিলিস: যৌনবাহিত একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ; প্রাথমিক পর্যায়ে যৌনাঙ্গে ব্যথাহীন ঘা হতে পারে এবং চিকিৎসা না করলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।গনোরিয়া: যৌনবাহিত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ; প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, স্রাব বা যৌনাঙ্গে প্রদাহ হতে পারে।যৌনবাহিত অন্যান্য সংক্রমণ (STIs/STDs): ক্ল্যামাইডিয়া, হারপিস, ওয়ার্ট, ট্রাইকোমোনিয়াসিস বা অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণের নির্ণয় ও চিকিৎসা।মেছতা ও ত্বকের কালো দাগ: সূর্যের আলো, হরমোনজনিত পরিবর্তন, ব্রণ বা প্রদাহের কারণে ত্বকে কালচে দাগ বা অসমান রঙ হওয়া।কখন চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হবেন?সাময়িক ব্রণ বা সামান্য চুলকানি সাধারণ কারণে হতে পারে। তবে নিচের সমস্যাগুলো থাকলে দেরি না করে একজন চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ রাজশাহী-র কাছে যাওয়া উচিত:৭ দিনের বেশি চুলকানি, র‍্যাশ বা ত্বকের সমস্যা থাকাব্রণ বা ত্বকের দাগ বারবার হওয়াত্বকে লালচে দাগ, আঁশ, ফোসকা বা ক্ষত সৃষ্টি হওয়াদাদ, ছুলি বা নখের ফাঙ্গাস বারবার হওয়াঅতিরিক্ত চুল পড়া বা মাথায় টুপির মতো ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়ামেছতা বা ত্বকের কালো দাগ বেড়ে যাওয়াযৌনাঙ্গে ঘা, চুলকানি, র‍্যাশ, ফোসকা বা অস্বাভাবিক স্রাব হওয়াপ্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, যৌনাঙ্গে ব্যথা বা প্রদাহযৌনবাহিত রোগের সন্দেহ হওয়া বা ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সংস্পর্শের পরপারিবারিক ইতিহাসে সোরিয়াসিস, একজিমা বা অন্য ত্বকের রোগ থাকাত্বকের কোনো ক্ষত বা দাগ দীর্ঘদিন না শুকানো বা বাড়তে থাকাজরুরি অবস্থায়—যেমন মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, তীব্র অ্যালার্জি বা দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ক্ষত—দ্রুত হাসপাতালের ইমার্জেন্সি সেবা নিন।কেন ডাঃ মুহাঃ আলমগীর রেজা-কে দেখাবেন?রাজশাহীতে চর্ম ও যৌনরোগের চিকিৎসার জন্য ডাঃ মুহাঃ আলমগীর রেজা-কে বেছে নেওয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ: তিনি ডিডিভি (চর্ম ও যৌন রোগ), এমএসিপি (আমেরিকা) এবং ডার্মাটো সার্জারিতে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন।যৌন স্বাস্থ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ: তিনি সেক্সুয়াল মেডিসিনে অ্যাডভান্স ট্রেনিংপ্রাপ্ত, যা যৌনরোগ ও যৌন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যায় বিশেষ সুবিধা দেয়।সরকারি হাসপাতালের অভিজ্ঞতা: তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক।চর্মরোগ ও অ্যালার্জির সমন্বিত চিকিৎসা: একজিমা, সোরিয়াসিস, অ্যালার্জি, ফাঙ্গাল ইনফেকশন ও চুল পড়ার চিকিৎসায় অভিজ্ঞ।যৌনরোগে গোপনীয় ও সংবেদনশীল পরামর্শ: রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করে সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেন।রোগীবান্ধব পরামর্শ: রোগের কারণ, পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা, ওষুধ ব্যবহার এবং ত্বকের যত্ন সহজভাবে বোঝান।রাজশাহীতে সহজলভ্য চেম্বার: রাজশাহী জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখেন।চেম্বারের তথ্যচেম্বার: রাজশাহী জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারঠিকানা: শেরশাহ রোড, লক্ষ্মীপুর, রাজপাড়া, রাজশাহী।দেখার সময়: প্রতিদিন বিকাল ৩:৩০টা থেকে রাত ৯টাচেম্বারে যাওয়ার আগে সিরিয়াল বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো, কারণ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বারে রোগীর সংখ্যা বেশি হতে পারে।চেম্বারে যাওয়ার আগে প্রস্তুতিভালো পরামর্শ পেতে চেম্বারে যাওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো প্রস্তুত রাখুন:পূর্বের প্রেসক্রিপশন ও সব মেডিকেল রিপোর্টত্বকের সমস্যার ছবি বা পূর্বের পরীক্ষার রিপোর্টবর্তমানে খাচ্ছেন এমন সব ওষুধ বা ক্রিমের তালিকাঅ্যালার্জি, খাবার, ওষুধ বা পরিবেশগত কারণের তথ্যযৌনাঙ্গের সমস্যা হলে কখন শুরু, কোন উপসর্গ এবং যৌন সংস্পর্শের ইতিহাসচুল পড়া বা ত্বকের দাগের ক্ষেত্রে কতদিন ধরে সমস্যা এবং পূর্বের চিকিৎসার তথ্যসঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় রিপোর্ট সঙ্গে নিয়ে গেলে ডাক্তার দ্রুত ও নির্ভুলভাবে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে পারেন।সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নঃ ১. ডাঃ মুহাঃ আলমগীর রেজা কোন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ?তিনি চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি একজিমা, সোরিয়াসিস, অ্যালার্জি, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, চুল পড়া, সিফিলিস, গনোরিয়া ও অন্যান্য যৌনবাহিত রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।২. ব্রণ বা ত্বকের দাগ বারবার হলে কী করব?ব্রণ বা দাগ বারবার হলে নিজে থেকে ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার না করে চর্ম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সঠিক কারণ নির্ণয় করে ওষুধ, ত্বকের যত্ন ও প্রয়োজনে ডার্মাটো সার্জারির পরামর্শ দেওয়া হয়।৩. একজিমা ও সোরিয়াসিস কি একই রোগ?না। একজিমা সাধারণত অ্যালার্জি বা ত্বকের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমস্যায় হয় এবং ত্বক শুকিয়ে চুলকানি করে। সোরিয়াসিস একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ, যাতে ত্বকে শক্ত, লালচে ও সাদা আঁশযুক্ত দাগ হয়।৪. দাদ বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন কি ছড়ায়?হ্যাঁ, দাদ বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন স্পর্শ, পোশাক, তোয়ালে বা ব্যক্তিগত জিনিস ব্যবহারের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। তাই ব্যক্তিগত জিনিস আলাদা রাখা এবং সঠিক চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।৫. যৌনাঙ্গে ঘা বা র‍্যাশ হলে কী করব?যৌনাঙ্গে ঘা, চুলকানি, র‍্যাশ বা অস্বাভাবিক স্রাব হলে লজ্জা বা দেরি না করে একজন যৌনরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান। সঠিক পরীক্ষা ছাড়া নিজে থেকে ওষুধ ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।৬. যৌনবাহিত রোগ কি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য?অনেক যৌনবাহিত রোগ, যেমন সিফিলিস বা গনোরিয়া, সঠিক ও সময়মতো চিকিৎসায় নিরাময়যোগ্য। তবে কিছু ভাইরাসজনিত সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হতে পারে। তাই সঠিক নির্ণয় ও চিকিৎসা জরুরি।৭. চুল পড়ার কারণ কী এবং কখন ডাক্তার দেখাব?চাপ, পুষ্টি ঘাটতি, হরমোনের সমস্যা, থাইরয়েড, অ্যালার্জি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যায় চুল পড়তে পারে। ৩ মাসের বেশি চুল পড়া বা মাথায় ফাঁকা জায়গা তৈরি হলে চর্ম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।৮. মেছতা বা ত্বকের কালো দাগ কি চিকিৎসায় কমানো যায়?হ্যাঁ, সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষা, সঠিক স্কিন কেয়ার এবং চর্ম বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ওষুধ বা প্রসাধনী চিকিৎসায় মেছতা ও কালো দাগ কমানো সম্ভব। তবে সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরি।৯. ডাঃ মুহাঃ আলমগীর রেজার চেম্বার কোথায়?তাঁর চেম্বার রাজশাহী জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শেরশাহ রোড, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী।১০. চেম্বারে দেখার সময় কী?তিনি প্রতিদিন বিকাল ৩:৩০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রোগী দেখেন।রাজশাহীতে অভিজ্ঞ চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ রাজশাহী খুঁজছেন হলে ডাঃ মুহাঃ আলমগীর রেজা একজন নির্ভরযোগ্য পছন্দ হতে পারেন। তাঁর উচ্চতর যোগ্যতা, ডার্মাটো সার্জারিতে দক্ষতা এবং যৌন স্বাস্থ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ রোগীদের জন্য আশ্বস্ত ও পরিকল্পিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে।রাজশাহীতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor Service BD এর মাধ্যমে।হটলাইন নম্বরঃ ০১৭২৩-০২৫৫১৪

20 Oct,2026

blog-image সার্জারী বিশেষজ্ঞ রাজশাহী

ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম | সার্জারি বিশেষজ্ঞ রাজশাহী

রাজশাহীতে জেনারেল সার্জারি, হার্নিয়া ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলামের যোগ্যতা, চিকিৎসাসেবা, অভিজ্ঞতা ও চেম্বারের ঠিকানা জানুন।ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলামএমবিবিএস (আরএমসিএইচ), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (সার্জারি)জেনারেল, হার্নিয়া ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি বিশেষজ্ঞজেনারেল সার্জারি বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপক, সার্জারিরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর : এ-৪২০০৯ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম - জেনারেল, হার্নিয়া ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীশরীরের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে এমন কিছু রোগ রয়েছে, যেগুলোর চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। হার্নিয়া, পিত্তথলির পাথর, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, পেটের বিভিন্ন জটিলতা এবং শরীরের কিছু অংশে অস্বাভাবিক গাঁট বা পিণ্ডের মতো সমস্যায় কখনো সার্জনের পরামর্শ নিতে হয়। এসব ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।রাজশাহীতে জেনারেল সার্জারি, হার্নিয়া ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য যেসব চিকিৎসকের তথ্য রোগীদের কাছে আসে, তাঁদের মধ্যে ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম অভিজ্ঞ ও দক্ষ একজন। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।এই ব্লগে ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত পরিচয়, জেনারেল সার্জারি ও হার্নিয়া সংক্রান্ত চিকিৎসাসেবা এবং রাজশাহীতে তাঁর চেম্বারের তথ্য তুলে ধরা হলো।ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলামের পরিচিতি ও শিক্ষাগত যোগ্যতাডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম জেনারেল সার্জারি, হার্নিয়া এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারিতে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে এমবিবিএস (রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল), বিসিএস (স্বাস্থ্য) এবং এফসিপিএস (সার্জারি)।তিনি ২০২০ সালে এফসিপিএস (সার্জারি) ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন । তাঁর পেশাগত জীবনে ২০০৬ সাল থেকে সার্জারি বিষয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে সার্জারি পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একাডেমিক দায়িত্বের পাশাপাশি রোগীদের সার্জারিসংক্রান্ত সমস্যা মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ এবং চিকিৎসার উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলামের বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর এ-৪২০০৯।ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম কোন কোন রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন?ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম নিচে বর্নিত রোগের সু-চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।১. হার্নিয়া বা অঙ্গের অংশবিশেষ বাইরে বেরিয়ে আসাহার্নিয়া এমন একটি সমস্যা, যেখানে পেটের দেয়ালের দুর্বল অংশ দিয়ে ভেতরের চর্বি বা অন্ত্রের কোনো অংশ বাইরে দিকে বেরিয়ে আসতে পারে। সাধারণত পেট, কুঁচকি বা নাভির আশপাশে ফোলা দেখা যায়। দাঁড়ালে, কাশলে বা ভারী কিছু তুললে ফোলাটি বেশি স্পষ্ট হতে পারে।অনেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রথম দিকে ব্যথা কম থাকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ফোলা বাড়তে পারে অথবা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। কিছু হার্নিয়ার ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।বিশেষ করে ফোলা অংশ হঠাৎ তীব্র ব্যথাযুক্ত হয়ে গেলে, শক্ত হয়ে গেলে, ভেতরে প্রবেশ না করলে, সঙ্গে বমি বা পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। এগুলো অন্ত্র আটকে যাওয়া বা রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।২. ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারিল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি হলো আধুনিক অস্ত্রোপচার পদ্ধতির একটি ধরন। এতে সাধারণত পেটে কয়েকটি ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে ক্যামেরা ও বিশেষ যন্ত্র প্রবেশ করিয়ে অপারেশন করা হয়।রোগ ও অস্ত্রোপচারের ধরন অনুযায়ী এই পদ্ধতিতে বড় কাটার প্রয়োজন কম হতে পারে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে অপারেশনের পর ব্যথা তুলনামূলক কম হয়, ক্ষত ছোট থাকে এবং স্বাভাবিক কাজে ফিরতে কম সময় লাগতে পারে। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতি উপযুক্ত নয়।কোন পদ্ধতিতে অপারেশন করা হবে, তা নির্ভর করে রোগের জটিলতা, পূর্ববর্তী অস্ত্রোপচারের ইতিহাস, রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং সার্জনের মূল্যায়নের ওপর।৩. পিত্তথলির পাথরপিত্তথলিতে পাথর হলে অনেকের কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। আবার কারও ডান দিকের ওপরের পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব কিংবা খাবার খাওয়ার পর অস্বস্তি হতে পারে।পাথর পিত্তনালিতে বাধা সৃষ্টি করলে জন্ডিস, জ্বর বা তীব্র ব্যথার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। উপসর্গযুক্ত পিত্তথলির পাথরের ক্ষেত্রে অনেক সময় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে পিত্তথলি অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।তবে পেটব্যথা হলেই যে পিত্তথলিতে পাথর রয়েছে, তা নয়। সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা জরুরি।৪. অ্যাপেন্ডিসাইটিসঅ্যাপেন্ডিক্সে প্রদাহ হলে তাকে অ্যাপেন্ডিসাইটিস বলা হয়। সাধারণত নাভির আশপাশে ব্যথা শুরু হয়ে পরে পেটের ডানদিকের নিচের অংশে অনুভূত হতে পারে। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা বা জ্বর থাকতে পারে।অ্যাপেন্ডিসাইটিস সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চিকিৎসায় দেরি হলে অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে গিয়ে পেটের ভেতরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।রোগীর শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ভিত্তিতে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন অস্ত্রোপচার প্রয়োজন কি না এবং কোন পদ্ধতিতে তা করা হবে।৫. পেটের বিভিন্ন সার্জারিসংক্রান্ত সমস্যাপেটের বিভিন্ন অংশে ব্যথা, ফোলা, অস্বাভাবিক গাঁট বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে তার কারণ নির্ণয় করা জরুরি। এসব সমস্যার পেছনে সাধারণ হজমজনিত অসুবিধা থেকে শুরু করে সার্জারিসংক্রান্ত রোগও থাকতে পারে।চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম, রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষা বিবেচনা করতে পারেন। রোগ শনাক্ত হওয়ার পরই উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতি নির্বাচন করা সম্ভব।৬. শরীরের অস্বাভাবিক গাঁট বা পিণ্ডশরীরের বিভিন্ন স্থানে গাঁট বা পিণ্ড তৈরি হলে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েন। এগুলোর কিছু নিরীহ হতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে বিস্তারিত পরীক্ষা প্রয়োজন হয়।গাঁট দ্রুত বড় হলে, ব্যথা হলে, শক্ত হয়ে গেলে বা দীর্ঘদিন ধরে থেকে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী সার্জন পরীক্ষা করে পর্যবেক্ষণ, ওষুধ, বায়োপসি বা অস্ত্রোপচারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।কখন জেনারেল সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন?শরীরে এমন কোনো সমস্যা দেখা দিলে, যার জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে বলে সন্দেহ হয়, তখন জেনারেল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া যুক্তিযুক্ত। তবে সব ক্ষেত্রে অপারেশন করাতে হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। অনেক সময় পর্যবেক্ষণ, ওষুধ বা অন্য চিকিৎসার মাধ্যমেও সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।নিচের পরিস্থিতিগুলোতে সার্জনের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে:পেট, নাভি বা কুঁচকিতে ফোলা দেখা দিলেহার্নিয়ার মতো ফোলা বা ভারী অনুভূতি হলেপেটের কোনো অংশে বারবার ব্যথা হলেপিত্তথলির পাথর শনাক্ত হলেঅ্যাপেন্ডিসাইটিসের সন্দেহ হলেশরীরে অস্বাভাবিক গাঁট বা পিণ্ড তৈরি হলেচিকিৎসক অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেআগের অপারেশনের ক্ষত বা সংশ্লিষ্ট স্থানে সমস্যা দেখা দিলেজরুরি সতর্কতা: হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, পেট শক্ত হয়ে যাওয়া, বারবার বমি, মল বা গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, অথবা হার্নিয়ার ফোলা অংশে তীব্র ব্যথা ও রং পরিবর্তন হলে দ্রুত জরুরি বিভাগে যেতে হবে। নিয়মিত চেম্বারের সময়ের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়।ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলামের চেম্বার ও রোগী দেখার সময়রাজশাহীতে ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলামের পরামর্শ নিতে চাইলে নিচের চেম্বারের তথ্য অনুসরণ করতে পারেন।চেম্বারঃ-১দী অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, রাজশাহীরোগী দেখার সময়: দুপুর ২টা–৩টাকক্ষ নম্বর ২০২চেম্বারঃ-২রাজশাহী রয়্যাল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারলক্ষ্মীপুর মোড়, রাজশাহীরোগী দেখার সময়: বিকেল ৩টা–রাত ৮টাকক্ষ নম্বর ১০৩ডাক্তারের ডিগ্রি: এমবিবিএস (আরএমসিএইচ), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (সার্জারি)বিশেষজ্ঞতা: জেনারেল, হার্নিয়া ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারিপদবি: সহকারী অধ্যাপক, সার্জারিপ্রতিষ্ঠান: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালবিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন: এ-৪২০০৯ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ১. ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম কোন রোগের বিশেষজ্ঞ?তিনি জেনারেল সার্জারি, হার্নিয়া ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ। তাঁর কাছে সার্জারিসংক্রান্ত সমস্যার মূল্যায়ন ও পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।২. ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম কোথায় কর্মরত?তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।৩. ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?তাঁর যোগ্যতা হলো এমবিবিএস (আরএমসিএইচ), বিসিএস (স্বাস্থ্য) এবং এফসিপিএস (সার্জারি)।৪. রাজশাহীতে হার্নিয়ার চিকিৎসার জন্য তাঁর পরামর্শ নেওয়া যাবে কি?তিনি হার্নিয়া সার্জারি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। হার্নিয়ার ধরন ও অবস্থা মূল্যায়নের জন্য তাঁর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।৫. ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি কী?এটি ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে ক্যামেরা ও বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে অস্ত্রোপচারের একটি পদ্ধতি। সব রোগীর জন্য এটি উপযুক্ত নয়; সার্জন রোগীর অবস্থা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন।৬. ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম কোথায় রোগী দেখেন?প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি দ্য অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার এবং রাজশাহী রয়্যাল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন।৭. রাজশাহী রয়্যাল হাসপাতালে তাঁর চেম্বারের সময় কখন?প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। তবে যাওয়ার আগে সময়সূচি নিশ্চিত করা উচিত।৮. ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলামের বিএমডিসি নম্বর কত?প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর এ-৪২০০৯।৯. হার্নিয়া হলে কি সবসময় অপারেশন করতে হয়?না। হার্নিয়ার ধরন, উপসর্গ এবং জটিলতার ঝুঁকির ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। তবে অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।১০. পেটব্যথা হলেই কি সার্জন দেখাতে হবে?সব পেটব্যথার কারণ সার্জারিসংক্রান্ত নয়। তবে ব্যথা তীব্র হলে, বারবার হলে বা সঙ্গে জ্বর, বমি, পেট ফুলে যাওয়া কিংবা মল-গ্যাস বন্ধ হওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।রাজশাহীতে জেনারেল সার্জারি বিশেষজ্ঞ খুঁজছেন? ডাঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম হতে পরে আপনার জন্য সঠিক ডাক্তার নির্বাচনরাজশাহীতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor Service BD এর মাধ্যমে।হটলাইন নম্বরঃ ০১৭২৩-০২৫৫১৪

11 Oct,2026

blog-image স্ত্রীরোগ, প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন রাজশাহী

সাদা স্রাবের সাথে হালকা রক্ত যায় কেন

 সাদা স্রাবের সাথে হালকা রক্ত যায় কেন? মাসিকের পরিবর্তন, ডিম্বস্ফোটন, সংক্রমণ, জরায়ুমুখের সমস্যা ও গর্ভাবস্থাসহ সম্ভাব্য কারণগুলো এবং কখন গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে তা বিস্তারিত জানুন।সাদা স্রাবের সাথে হালকা রক্ত যায় কেননারীদের অনেকেরই কোনো কোনো সময় সাদা স্রাবের সঙ্গে সামান্য রক্ত বা রক্তের দাগ দেখা যায়। বিষয়টি প্রথমবার হলে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা হতে পারে। বিশেষ করে মাসিকের সময় না থাকা অবস্থায় সাদা স্রাবের সঙ্গে গোলাপি, লালচে বা বাদামি রঙের কিছু দেখা গেলে অনেকেই বুঝতে পারেন না এর কারণ কী।আসলে সাদা স্রাবের সাথে হালকা রক্ত যাওয়ার একাধিক কারণ থাকতে পারে। কখনো এটি মাসিকের আগে-পরে স্বাভাবিক হরমোন পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। আবার কখনো যোনিপথ বা জরায়ুমুখের সংক্রমণ, প্রদাহ, পলিপ, হরমোনের সমস্যা কিংবা গর্ভাবস্থার মতো বিষয়ও এর পেছনে থাকতে পারে।তাই শুধু স্রাবের সঙ্গে অল্প রক্ত দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে বিষয়টিকে একেবারে উপেক্ষাও করা ঠিক নয়। রক্ত কখন যাচ্ছে, কতটা যাচ্ছে, স্রাবের ধরন কেমন এবং সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে কি না—এসব তথ্য কারণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।স্বাভাবিক সাদা স্রাব কেমননারীদের যোনিপথ থেকে কিছু পরিমাণ সাদা বা স্বচ্ছ স্রাব বের হওয়া স্বাভাবিক। এটি যোনিপথকে আর্দ্র ও পরিষ্কার রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাসিক চক্রের বিভিন্ন সময়ে এই স্রাবের পরিমাণ, ঘনত্ব ও রং কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।সাধারণত স্বাভাবিক স্রাব খুব বেশি দুর্গন্ধযুক্ত হয় না এবং এর সঙ্গে তীব্র চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা থাকার কথা নয়।তবে স্রাবের সঙ্গে রক্ত মিশে গেলে বিষয়টি একটু ভিন্নভাবে দেখতে হয়। বিশেষ করে এটি যদি বারবার হয় বা মাসিকের সময়ের বাইরে ঘটে, তাহলে কারণটি খুঁজে দেখা প্রয়োজন।সাদা স্রাবের সাথে হালকা রক্ত যাওয়ার কারণ১. মাসিকের আগে বা পরে পুরোনো রক্ত বের হওয়াসাদা স্রাবের সঙ্গে হালকা রক্ত যাওয়ার একটি সাধারণ কারণ হলো মাসিকের সময়ের কাছাকাছি হওয়া। মাসিক শুরু হওয়ার আগে সামান্য রক্তপাত হতে পারে এবং সেই রক্ত সাদা স্রাবের সঙ্গে মিশে গোলাপি বা হালকা লালচে স্রাবের মতো দেখা যায়।আবার মাসিক শেষ হওয়ার পর জরায়ু থেকে অল্প পরিমাণ পুরোনো রক্ত বের হতে পারে। তখন সাদা স্রাবের সঙ্গে বাদামি বা লালচে দাগ দেখা যেতে পারে।এ ধরনের রক্তপাত সাধারণত অল্প পরিমাণে হয় এবং কয়েকদিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।২. ডিম্বস্ফোটনের সময় হালকা রক্তপাতমাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময়ে ডিম্বস্ফোটন বা ovulation হয়। এই সময় হরমোনের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে কিছু নারীর সামান্য spotting হতে পারে।তখন সাধারণত স্বচ্ছ বা সাদা স্রাবের পরিমাণও কিছুটা বাড়তে পারে। এর সঙ্গে সামান্য রক্ত মিশে গেলে স্রাব গোলাপি বা হালকা লালচে দেখাতে পারে।যদি এটি মাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময়ে অল্প পরিমাণে হয় এবং অন্য কোনো সমস্যা না থাকে, তাহলে সবসময় গুরুতর রোগের কারণে এমন হচ্ছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।৩. যোনিপথে সংক্রমণসাদা স্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে যোনিপথের সংক্রমণ। বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের কারণে যোনিপথের টিস্যুতে প্রদাহ বা জ্বালা তৈরি হতে পারে। এতে কখনো কখনো সামান্য রক্তপাত হতে পারে।সংক্রমণ থাকলে শুধু রক্ত নয়, আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—স্রাবের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়াদুর্গন্ধযুক্ত স্রাবস্রাবের রং হলুদ, সবুজ বা ধূসর হওয়াযোনিপথে চুলকানিজ্বালাপোড়াপ্রস্রাবের সময় জ্বালাতলপেটে অস্বস্তি বা ব্যথাএসব লক্ষণ থাকলে নিজে থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।৪. জরায়ুমুখে প্রদাহ বা সংক্রমণজরায়ুর নিচের অংশকে জরায়ুমুখ বা cervix বলা হয়। সেখানে প্রদাহ বা সংক্রমণ হলে অস্বাভাবিক স্রাবের পাশাপাশি হালকা রক্তপাত হতে পারে।বিশেষ করে সহবাসের পর সাদা স্রাবের সঙ্গে রক্ত বা রক্তের দাগ দেখা গেলে জরায়ুমুখের সমস্যা আছে কি না তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে।এ ধরনের সমস্যার সঙ্গে তলপেটে ব্যথা, অস্বাভাবিক স্রাব বা সহবাসের সময় অস্বস্তিও থাকতে পারে।৫. সহবাসের পর সামান্য রক্তপাতসহবাসের পর সাদা স্রাবের সঙ্গে অল্প রক্ত দেখা গেলে এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। যোনিপথে শুষ্কতা বা ঘর্ষণের কারণে সামান্য ক্ষত তৈরি হলেও অল্প রক্তপাত হতে পারে।তবে এটি যদি বারবার ঘটে, তাহলে শুধু ঘর্ষণকে কারণ ধরে নেওয়া উচিত নয়। জরায়ুমুখের প্রদাহ, পলিপ বা অন্যান্য গাইনোকোলজিক্যাল কারণও থাকতে পারে।তাই বারবার সহবাসের পর রক্তপাত হলে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।৬. হরমোনের ভারসাম্যহীনতানারীর মাসিক চক্র মূলত বিভিন্ন হরমোনের সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে। হরমোনের ওঠানামা হলে মাসিকের সময় পরিবর্তিত হতে পারে এবং মাঝখানে spotting বা অল্প রক্তপাত হতে পারে।যাদের মাসিক নিয়মিত নয়, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত মাসিক হচ্ছে বা হঠাৎ মাসিকের ধরনে পরিবর্তন এসেছে, তাদের ক্ষেত্রে হরমোনজনিত কারণও বিবেচনা করা হয়।PCOS, থাইরয়েডের কিছু সমস্যা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ওজনের বড় পরিবর্তন কিংবা কিছু হরমোনাল ওষুধের কারণেও মাসিক চক্রে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাবের সাথে হালকা রক্ত গেলে কী করবেন?গর্ভাবস্থায় যেকোনো ধরনের রক্তপাতকে একটু বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। গর্ভাবস্থার শুরুতে অল্প spotting বিভিন্ন কারণে হতে পারে, কিন্তু শুধুমাত্র সাদা স্রাবের সঙ্গে রক্ত দেখা গেছে বলেই এর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।বিশেষ করে গর্ভাবস্থার সঙ্গে যদি—তলপেটে বা একপাশে ব্যথা,কোমরে ব্যথা,বেশি রক্তপাত,মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা,কাঁধে ব্যথা,জ্বর,ইত্যাদি থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।গর্ভবতী অবস্থায় রক্তপাত হলে নিজের মতো করে ওষুধ খাওয়া বা অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই নিরাপদ।সাদা স্রাবের সাথে বাদামি রক্ত গেলে কী বোঝায়অনেক সময় সাদা স্রাবের সঙ্গে বাদামি বা কালচে রক্ত দেখা যায়। বাদামি রং সাধারণত পুরোনো রক্তের কারণে হতে পারে। জরায়ু থেকে রক্ত বের হতে কিছুটা সময় লাগলে রক্তের রং পরিবর্তিত হয়ে বাদামি দেখাতে পারে।মাসিকের আগে বা পরে এমনটা দেখা যেতে পারে। তবে যদি মাসিকের সময়ের বাইরে নিয়মিত বাদামি স্রাব হতে থাকে, তাহলে এর কারণ চিকিৎসকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।সাদা স্রাবের সাথে রক্ত এবং তলপেটে ব্যথা হলে কী করবেনসাদা স্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়ার পাশাপাশি তলপেটে ব্যথা থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। সংক্রমণ, জরায়ুমুখের প্রদাহ, জরায়ু বা ডিম্বাশয়সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা কিংবা গর্ভাবস্থার কিছু জটিলতার সঙ্গে এ ধরনের লক্ষণ দেখা যেতে পারে।ব্যথা যদি তীব্র হয়, হঠাৎ শুরু হয়, একপাশে বেশি থাকে অথবা রক্তপাত বাড়তে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।সাদা স্রাবের সাথে হালকা রক্ত গেলে কী কী পরীক্ষা করা হতে পারেপ্রতিটি রোগীর জন্য একই পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসক প্রথমে মাসিকের ইতিহাস, রক্তপাত কখন হচ্ছে, স্রাবের ধরন, সহবাসের সঙ্গে সম্পর্ক আছে কি না এবং অন্যান্য উপসর্গ সম্পর্কে জানতে পারেন।প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু পরীক্ষা করা হতে পারে। যেমন—Pelvic examination: যোনিপথ ও জরায়ুমুখে কোনো প্রদাহ, ক্ষত বা অস্বাভাবিকতা আছে কি না দেখতে করা হতে পারে।Pregnancy test: গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।Vaginal/cervical swab: সংক্রমণের সন্দেহ থাকলে কারণ শনাক্ত করতে নমুনা পরীক্ষা করা হতে পারে।Ultrasonography: জরায়ু, ডিম্বাশয় বা পেলভিক অঞ্চলের কিছু সমস্যা দেখতে আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রয়োজন হতে পারে।Pap test বা HPV-related evaluation: বয়স, পূর্ববর্তী স্ক্রিনিং এবং উপসর্গ অনুযায়ী জরায়ুমুখের অস্বাভাবিকতা মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।কোন পরীক্ষা লাগবে তা রোগীর বয়স, উপসর্গ ও চিকিৎসকের পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে।কখন সাদা স্রাবের সাথে রক্ত যাওয়াকে গুরুত্ব দিবেনএকবার সামান্য রক্ত দেখা গেলেই যে গুরুতর সমস্যা হয়েছে, তা নয়। কিন্তু নিচের পরিস্থিতিগুলো থাকলে গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত—বারবার রক্ত গেলেমাসিকের সময়ের বাইরে বারবার সাদা স্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে কারণটি পরীক্ষা করা দরকার।সহবাসের পর রক্ত গেলেপ্রতিবার বা বারবার সহবাসের পর রক্তপাত হলে জরায়ুমুখসহ অন্যান্য কারণ পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে।দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব হলেদুর্গন্ধ, চুলকানি, জ্বালাপোড়া ও রক্তপাত একসঙ্গে থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকতে পারে।তলপেটে ব্যথা থাকলেস্রাব ও রক্তপাতের সঙ্গে তলপেটে ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।গর্ভাবস্থায় রক্ত গেলেগর্ভাবস্থায় রক্তপাত হলে কারণ জানার জন্য চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ।মেনোপজের পর রক্ত গেলেমাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যেকোনো ধরনের যোনিপথের রক্তপাতকে চিকিৎসকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা উচিত।সাদা স্রাবের সমস্যা হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন?সাদা স্রাবের সঙ্গে বারবার রক্ত গেলে গাইনি ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ (Gynecologist/Obstetrician) দেখানো সবচেয়ে উপযুক্ত।চিকিৎসক আপনার মাসিকের ইতিহাস, স্রাবের ধরন, রক্তপাতের সময় ও অন্যান্য উপসর্গ মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দিতে পারেন। কারণ অনুযায়ী সংক্রমণ, হরমোনজনিত সমস্যা, জরায়ুমুখের সমস্যা বা অন্য কোনো গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যার চিকিৎসা করা হবে।বিশেষ করে গর্ভাবস্থা, তীব্র ব্যথা, বেশি রক্তপাত বা মেনোপজের পর রক্তপাত থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।রাজশাহীতে গাইনি ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারডাঃ রাখি দেবীএমবিবিএস (ডিএমসি), এফসিপিএস (ওবজিওয়াইএন), বন্ধ্যাত্ব বিষয়ে প্রশিক্ষিতস্ত্রীরোগ, প্রসূতি, বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জনকনসালটেন্ট, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যারাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালডাঃ নাহিদ সুলতানাএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সার্জনসহকারী অধ্যাপক, স্ত্রীরোগ বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালডাঃ আরজুমান আরা (এলমিস)এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) এম এস ( অবস্ এন্ড গাইনী) বিএসএমএমইউজরায়ু ক্যান্সার স্তন রোগ ও বন্ধ্যাত্ব অভিজ্ঞ,ল্যাপোরোস্কপি এন্ড হিস্ট্রারোস্কপিক সার্জনপ্রসূতিবিদ্যা ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপকরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালডাঃ খন্দকার সেহেলী নাসরিন লিনাএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এম এস(গাইনি এন্ড অবস)স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞসহযোগী অধ্যাপক (গাইনি এন্ড অবস বিভাগ)রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহীডাঃ মিসেস মোসফিকা কাউসারী লিসাএমবিবিএস, এফসিপিএস (ওবজিওয়াইএন)স্ত্রীরোগ, প্রসূতি, বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জনসহকারী অধ্যাপকরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহীডাঃ মৌসুমী সরকারএমবিবিএস, এমএস (ওবজিওয়াইএন)স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপকরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালডাঃ শারমিন সুলতানা সাথীএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)এমএস (গাইনী এন্ড অবস্), বিএমইউস্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালFrequently Asked Questions (FAQ)সাদা স্রাবের সাথে হালকা রক্ত যায় কেন?মাসিকের আগে-পরে হরমোনের পরিবর্তন, ডিম্বস্ফোটন, যোনিপথ বা জরায়ুমুখের সংক্রমণ, প্রদাহ, সহবাসের কারণে সামান্য আঘাত, হরমোনের সমস্যা বা গর্ভাবস্থাসহ বিভিন্ন কারণে এমন হতে পারে।সাদা স্রাবের সাথে একবার সামান্য রক্ত গেলে কি চিন্তার কারণ?একবার অল্প রক্ত যাওয়াই গুরুতর রোগের প্রমাণ নয়। মাসিকের আশেপাশে বা ডিম্বস্ফোটনের সময় এমন হতে পারে। তবে পুনরায় হলে বা অন্য উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।সাদা স্রাবের সাথে রক্ত ও দুর্গন্ধ থাকলে কী হতে পারে?দুর্গন্ধযুক্ত স্রাবের সঙ্গে রক্ত থাকলে যোনিপথ বা জরায়ুমুখের সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।সহবাসের পর সাদা স্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে কী করা উচিত?একবার সামান্য রক্তপাত ঘর্ষণ বা শুষ্কতার কারণে হতে পারে। কিন্তু বারবার হলে জরায়ুমুখের প্রদাহ, পলিপ বা অন্যান্য কারণ পরীক্ষা করার জন্য গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাবের সাথে রক্ত গেলে কী করবেন?গর্ভাবস্থায় যেকোনো রক্তপাত চিকিৎসককে জানানো উচিত। বিশেষ করে পেটব্যথা, বেশি রক্তপাত, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার মতো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।সাদা স্রাবের সাথে বাদামি রক্ত কেন যায়?বাদামি রক্ত অনেক সময় পুরোনো রক্তের কারণে হয়। মাসিকের আগে বা পরে এমন দেখা যেতে পারে। তবে নিয়মিত বা অস্বাভাবিক সময়ে হলে কারণটি পরীক্ষা করা দরকার।সাদা স্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে কি বন্ধ্যাত্ব হতে পারে?সাদা স্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া নিজে থেকে বন্ধ্যাত্বের প্রমাণ নয়। তবে এর পেছনে যদি কোনো সংক্রমণ বা প্রজনন অঙ্গের সমস্যা থাকে এবং তা চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে প্রজননস্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে।সাদা স্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে কি নিজে থেকে ওষুধ খাওয়া যাবে?না। কারণ একই উপসর্গের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। কারণ না জেনে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।

03 Oct,2026

blog-image গ্যাস্ট্রোলিভার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী

ডাঃ মোঃ খালেকুজ্জামান সরকার (কাজল)

ডাঃ মোঃ খালেকুজ্জামান সরকার (কাজল) রাজশাহীর একজন পরিপাকতন্ত্র, লিভার, প্যানক্রিয়াস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং ইন্টারভেনশনাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও হেপাটোলজিস্ট। তাঁর যোগ্যতা, চিকিৎসাসেবা, চেম্বার ও ভিজিট ফি সম্পর্কে জানুন।ডাঃ মোঃ খালেকুজ্জামান সরকার (কাজল)এমবিবিএস(ঢাকা মেডিকেল কলেজ), এমডি(গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী),বিএসএমএমইউ(ঢাকা), এমএসিপি(আমেরিকা),এমএসিজি(আমেরিকা), পিএইচডি(ফেলো)পরিপাকতন্ত্র, লিভার, প্যানক্রিয়াস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞইন্টারভেনশনাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিষ্ট এন্ড হেপাটোলজিষ্টসহযোগী অধ্যাপক (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী বিভাগ)রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহীডাঃ মোঃ খালেকুজ্জামান সরকার (কাজল) — গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও লিভার বিশেষজ্ঞ রাজশাহীপেটের সমস্যা, গ্যাস, অম্বল বা বদহজমকে অনেকেই খুব সাধারণ বিষয় মনে করে দীর্ঘদিন অবহেলা করেন। কিন্তু বারবার পেটব্যথা, দীর্ঘদিনের অম্বল, খাবার গিলতে সমস্যা, জন্ডিস, লিভারের সমস্যা, প্যানক্রিয়াসের রোগ, পেটে পানি জমা কিংবা মলত্যাগের পরিবর্তনের পেছনে কখনো কখনো এমন রোগ থাকতে পারে যার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।ডাঃ মোঃ খালেকুজ্জামান সরকার (কাজল) একজন পরিপাকতন্ত্র, লিভার, প্যানক্রিয়াস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। তিনি একই সঙ্গে ইন্টারভেনশনাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও হেপাটোলজিস্ট হিসেবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। বর্তমানে তিনি সহযোগী অধ্যাপক, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহী-এ কর্মরত। চিকিৎসা সেবায় তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার জন্য তিনি রাজশাহীতে সু-পরিচিত। ডাঃ মোঃ খালেকুজ্জামান সরকার (কাজল)-এর শিক্ষাগত যোগ্যতাডাঃ মোঃ খালেকুজ্জামান সরকার (কাজল)-এর শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে—এমবিবিএস — ঢাকা মেডিকেল কলেজএমডি (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী) — বিএসএমএমইউ, ঢাকাএমএসিপি — আমেরিকাএমএসিজি — আমেরিকাপিএইচডি (ফেলো)তিনি বর্তমানে সহযোগী অধ্যাপক (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী বিভাগ), রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইন্টারভেনশনাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও হেপাটোলজির সঙ্গে তাঁর পেশাগত সম্পৃক্ততা রয়েছে।ডাঃ মোঃ খালেকুজ্জামান সরকার (কাজল) কোন কোন রোগের চিকিৎসা করেন?একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞের চিকিৎসার ক্ষেত্র বেশ বিস্তৃত। পরিপাকতন্ত্র, লিভার ও প্যানক্রিয়াসের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি কিছু মেডিসিন-সংক্রান্ত সমস্যার মূল্যায়ন ও চিকিৎসাও এই বিভাগের আওতায় পড়ে।১. গ্যাস্ট্রিক ও অম্বলখাবারের পর বুক জ্বালা, টক ঢেঁকুর, পেটে অস্বস্তি বা বারবার অম্বল হলে অনেকে নিজের মতো করে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেতে থাকেন। মাঝে মাঝে এমন সমস্যা হতে পারে, তবে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে এর কারণ খুঁজে দেখা দরকার।গ্যাস্ট্রিক বা অম্বলের পেছনে Gastroesophageal Reflux Disease (GERD), গ্যাস্ট্রাইটিস, আলসারসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।২. পাকস্থলীর আলসারপাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশে আলসার হলে পেটে ব্যথা, জ্বালাপোড়া, বমি বমি ভাব বা খাবারের সঙ্গে ব্যথার সম্পর্ক দেখা দিতে পারে।কখনো আলসার থেকে রক্তপাতও হতে পারে। কালো পায়খানা বা রক্তবমির মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।৩. লিভারের বিভিন্ন রোগলিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। হেপাটাইটিস, ফ্যাটি লিভার, লিভার সিরোসিসসহ বিভিন্ন রোগ লিভারের কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।চোখ ও শরীর হলুদ হওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা বা দীর্ঘদিনের লিভার পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।৪. ফ্যাটি লিভারবর্তমানে অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের সম্পর্ক দেখা যায়।ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লেই সব রোগীর অবস্থা একই রকম নয়। কারও ক্ষেত্রে শুধু জীবনযাত্রার পরিবর্তন যথেষ্ট হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে লিভারে প্রদাহ বা ক্ষতির ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।৫. হেপাটাইটিসভাইরাসজনিত হেপাটাইটিস লিভারের প্রদাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি ও সি দীর্ঘদিন শরীরে থাকলে লিভারের জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।তাই হেপাটাইটিস শনাক্ত হলে নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ফলোআপ গুরুত্বপূর্ণ।৬. লিভার সিরোসিসদীর্ঘদিনের বিভিন্ন লিভার রোগের ফলে লিভারে স্থায়ী ক্ষত বা দাগ তৈরি হয়ে সিরোসিস হতে পারে।সিরোসিসের ক্ষেত্রে পেটে পানি জমা, পা ফুলে যাওয়া, জন্ডিস, রক্তপাত, বিভ্রান্তি বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এ ধরনের রোগীদের নিয়মিত বিশেষজ্ঞ ফলোআপ প্রয়োজন।৭. প্যানক্রিয়াসের রোগপ্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় হজম প্রক্রিয়া এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্যানক্রিয়াসে প্রদাহ, পাথরি-সম্পর্কিত সমস্যা বা অন্যান্য রোগের কারণে তীব্র পেটব্যথা, বমি ও হজমের সমস্যা হতে পারে।প্যানক্রিয়াসের রোগ সন্দেহ হলে চিকিৎসকের মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও ইমেজিং করা হয়।৮. আইবিএস বা Irritable Bowel Syndromeবারবার পেটে ব্যথা, পেট ফাঁপা, কখনো ডায়রিয়া আবার কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য—এ ধরনের উপসর্গ অনেকের মধ্যে দেখা যায়।কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এটি IBS-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে একই ধরনের উপসর্গ অন্যান্য রোগেও হতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের সমস্যা হলে সঠিক মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।৯. দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যঅনেকদিন ধরে পায়খানা শক্ত হওয়া, পায়খানা করতে অতিরিক্ত চাপ দিতে হওয়া বা নিয়মিত মলত্যাগ না হলে কারণটি খুঁজে দেখা দরকার।খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পাশাপাশি কিছু ওষুধ বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে।১০. দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়াবারবার বা দীর্ঘদিন পাতলা পায়খানা হলে শরীরে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণের ঘাটতি হতে পারে। সংক্রমণ, খাদ্য অসহিষ্ণুতা, অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া হতে পারে।এ ধরনের সমস্যায় কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রয়োজন।কখন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন?পেটের সমস্যা হলেই সবসময় গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু কোনো উপসর্গ বারবার হলে বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।বিশেষ করে—দীর্ঘদিন ধরে অম্বল বা বুক জ্বালাপোড়া হলেবারবার পেটব্যথা হলেখাবার গিলতে সমস্যা হলেবারবার বমি হলেদীর্ঘদিনের ডায়রিয়া হলেদীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য হলেপায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলেকালো পায়খানা হলেঅকারণে ওজন কমে গেলেচোখ বা শরীর হলুদ হলেপেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলেলিভার পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতা পাওয়া গেলেপ্যানক্রিয়াস-সংক্রান্ত সমস্যা সন্দেহ হলেগ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।পেটের ব্যথা হলে কখন দ্রুত চিকিৎসা নেবেন?সব পেটব্যথা গুরুতর নয়। তবে কিছু লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।যেমন—হঠাৎ অত্যন্ত তীব্র পেটব্যথা,রক্তবমি,কালো পায়খানা বা পায়খানায় বেশি রক্ত,তীব্র পেটব্যথার সঙ্গে বারবার বমি,জন্ডিসের সঙ্গে শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়া,পেট ফুলে যাওয়ার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট,অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো দুর্বলতা,ইত্যাদি থাকলে দ্রুত হাসপাতাল বা জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে হবে।লিভারের সমস্যা হলে কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?লিভারের অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো লক্ষণ তৈরি করে না। রোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষের মধ্যে—চোখ ও শরীর হলুদ হওয়াপ্রস্রাব গাঢ় হওয়াক্ষুধা কমে যাওয়াদুর্বলতাবমি বমি ভাবপেট ফুলে যাওয়াপা ফুলে যাওয়াসহজে রক্তপাত বা কালশিটে পড়াওজন কমে যাওয়াইত্যাদি দেখা দিতে পারে।তবে এসব লক্ষণ অন্য রোগেও হতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে লিভারের রোগ নিশ্চিত করা যায় না।ইন্টারভেনশনাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি কী?গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির একটি বিশেষায়িত ক্ষেত্র হলো ইন্টারভেনশনাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি। এতে নির্দিষ্ট কিছু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য এন্ডোস্কোপি-ভিত্তিক বা অন্যান্য বিশেষায়িত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।যেমন, প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টের ভেতরের অংশ পরীক্ষা, বায়োপসি নেওয়া বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চিকিৎসামূলক এন্ডোস্কোপিক প্রক্রিয়া করা হতে পারে।কোন রোগীর কোন প্রক্রিয়া প্রয়োজন হবে, তা তাঁর রোগের ধরন ও চিকিৎসকের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে।ডাঃ মোঃ খালেকুজ্জামান সরকার (কাজল) লিভার ও পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ -এর চেম্বারপপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি: রাজশাহীসময়: বিকাল ৩টা – ৬টাসরাসরি সিরিয়ালের জন্য কল করুন: 8809666787811ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল রাজশাহী, ভবন – ২সময়: বিকাল ৬টা – রাত ৯টাভিজিট ফিনতুন রোগী: ১,০০০ টাকাপুরাতন রোগী: ৮০০ টাকা (দুই মাসের মধ্যে)ডাঃ মোঃ খালেকুজ্জামান সরকার (কাজল) — Frequently Asked Questions১. ডাঃ মোঃ খালেকুজ্জামান সরকার (কাজল) কোন বিষয়ের ডাক্তার?তিনি পরিপাকতন্ত্র, লিভার, প্যানক্রিয়াস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। পাশাপাশি তিনি ইন্টারভেনশনাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও হেপাটোলজিস্ট হিসেবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন।২. তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?তিনি এমবিবিএস (ঢাকা মেডিকেল কলেজ), এমডি (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী), এমএসিপি (আমেরিকা), এমএসিজি (আমেরিকা) এবং পিএইচডি (ফেলো) ডিগ্রি/যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তাঁর MD Gastroenterology শিক্ষা বিএসএমএমইউ, ঢাকা-এর সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।৩. তিনি কোথায় কর্মরত?তিনি সহযোগী অধ্যাপক, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী বিভাগ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহী।৪. লিভারের সমস্যার জন্য কি তাঁর পরামর্শ নেওয়া যায়?হ্যাঁ। তিনি লিভার বিশেষজ্ঞ ও হেপাটোলজিস্ট হিসেবে লিভারের বিভিন্ন রোগের মূল্যায়ন ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন।৫. প্যানক্রিয়াসের সমস্যার জন্য কি গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট দেখানো উচিত?প্যানক্রিয়াস পরিপাকতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। প্যানক্রিয়াসের বিভিন্ন রোগ ও জটিলতার ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।৬. দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিক বা অম্বল হলে কখন ডাক্তার দেখাব?বারবার অম্বল, বুক জ্বালাপোড়া, টক ঢেঁকুর বা পেটের অস্বস্তি দীর্ঘদিন থাকলে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে ওজন কমে যাওয়া, গিলতে সমস্যা বা রক্তপাতের লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।৭. ডাঃ খালেকুজ্জামান সরকার (কাজল) কোথায় রোগী দেখেন?তিনি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি: রাজশাহী এবং ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল রাজশাহী, ভবন–২-এ রোগী দেখেন।৮. পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাঁর চেম্বারের সময় কখন?প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী বিকাল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত। সরাসরি সিরিয়ালের জন্য 8809666787811 নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।৯. ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে কখন রোগী দেখেন?প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী বিকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।১০. ডাঃ মোঃ খালেকুজ্জামান সরকার (কাজল) এর ভিজিট ফি কত?প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী নতুন রোগীর ভিজিট ফি ১,০০০ টাকা এবং দুই মাসের মধ্যে পুরাতন রোগীর ভিজিট ফি ৮০০ টাকা।রাজশাহীতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor Service BD এর মাধ্যমে।হটলাইন নম্বরঃ ০১৭২৩-০২৫৫১৪

22 Sep,2026

blog-image শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী

ডাঃ এম. এ. হাই

ডাঃ এম. এ. হাই রাজশাহীর একজন অভিজ্ঞ নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে সেবার ক্ষেত্র এবং কখন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন—জানুন বিস্তারিত।ডাঃ এম. এ. হাইএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি পেডিয়াট্রিক্স, ফেলো চাইল্ড নিউট্রিশন (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞঅধ্যাপক (শিশুরোগ)রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালডাঃ এম. এ. হাই — নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ রাজশাহীশিশুর অসুস্থতা নিয়ে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, পুষ্টি, সংক্রমণ, নবজাতকের বিভিন্ন সমস্যা এবং বয়সভেদে দেখা দেওয়া সাধারণ ও জটিল রোগের সঠিক মূল্যায়নের জন্য একজন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ বা পেডিয়াট্রিশিয়ানের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।ডাঃ এম. এ. হাই একজন নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ এবং অধ্যাপক (শিশুরোগ), রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। তিনি শিশুদের রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, পুষ্টি ও বয়সভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন।ডাঃ এম. এ. হাই-এর শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতানাম: ডাঃ এম. এ. হাইডিগ্রি: এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি পেডিয়াট্রিক্সঅতিরিক্ত ফেলোশিপ: ফেলো চাইল্ড নিউট্রিশন (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)বিশেষত্ব: নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞপদবি: অধ্যাপক (শিশুরোগ)প্রতিষ্ঠান: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালচেম্বারঃরাজশাহী রয়েল হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডসময়ঃবিকাল ৩টা - রাত ৮ টাশিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে পেডিয়াট্রিক্স একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা শাখা। নবজাতক থেকে শুরু করে শিশু ও কিশোর বয়স পর্যন্ত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা, সংক্রমণ, পুষ্টি ও বিকাশ-সংক্রান্ত বিষয় এই বিভাগের আওতায় আসে।ডাঃ এম. এ. হাই-এর MD in Pediatrics ডিগ্রি এবং Child Nutrition বিষয়ে ফেলোশিপ থাকায় শিশুর রোগের পাশাপাশি তাদের পুষ্টি ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার বিষয়টিরও চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন।ডাঃ এম. এ. হাই কোন কোন বিষয়ে শিশুদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন?শিশুদের রোগের ধরন বয়স অনুযায়ী অনেকটাই পরিবর্তিত হয়। নবজাতকের সমস্যা যেমন আলাদা, তেমনি স্কুলগামী শিশুর রোগের ধরনও আলাদা হতে পারে। তাই শিশুর বয়স, শারীরিক অবস্থা, উপসর্গ ও পূর্বের চিকিৎসার ইতিহাস বিবেচনা করে চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন।নবজাতকের বিভিন্ন সমস্যাজন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে শিশুর দুধ খাওয়ার সমস্যা, জন্ডিস, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘুম বা নিস্তেজভাব, জন্মের পর ওজন ঠিকমতো না বাড়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।নবজাতকের কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে নিজের মতো করে ওষুধ না দিয়ে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।শিশুর জ্বরশিশুদের জ্বর খুব সাধারণ একটি সমস্যা হলেও এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনসহ বিভিন্ন কারণে জ্বর হতে পারে।বিশেষ করে খুব ছোট শিশুর জ্বর হলে বয়স ও অন্যান্য উপসর্গ বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।সর্দি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাশিশুদের সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ও বিভিন্ন ধরনের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ প্রায়ই দেখা যায়। কোনো কোনো শিশুর ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, বুকে শব্দ হওয়া বা বারবার শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণও হতে পারে।শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা ঠোঁট নীলচে হয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টশিশুদের নিউমোনিয়া দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে। জ্বর, কাশি, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট, খেতে না পারা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা থাকলে শিশুকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত।ডায়রিয়া ও বমিশিশুদের ডায়রিয়া ও বমির অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা। বারবার পাতলা পায়খানা বা বমির কারণে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে যেতে পারে।শিশু স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রস্রাব করলে, মুখ শুকিয়ে গেলে, চোখ বসে গেলে বা অতিরিক্ত নিস্তেজ হয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।শিশুর পুষ্টি ও অপুষ্টিএকটি শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য সুষম পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর বয়স অনুযায়ী সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলের প্রয়োজন রয়েছে।শিশুর ওজন বয়স অনুযায়ী না বাড়লে, খেতে না চাইলে, অতিরিক্ত রোগাক্রান্ত হলে বা শারীরিক বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।Child Nutrition বিষয়ে তাঁর অতিরিক্ত ফেলোশিপ থাকায় শিশুর পুষ্টি ও খাদ্যাভ্যাস-সংক্রান্ত বিষয়ও তাঁর চিকিৎসা-সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে।কখন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত?অনেক বাবা-মা মনে করেন, শিশু খুব বেশি অসুস্থ হলেই শুধু ডাক্তার দেখানো দরকার। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে রোগ শুরু হওয়ার আগেই নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা শিশুর সুস্থ বেড়ে ওঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।নিচের পরিস্থিতিতে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে—নবজাতক ঠিকমতো দুধ না খেলেশিশুর ওজন বয়স অনুযায়ী না বাড়লেবারবার জ্বর হলেঘন ঘন সর্দি-কাশি হলেশ্বাস নিতে কষ্ট হলেবারবার বমি বা ডায়রিয়া হলেশিশুর খাওয়ার আগ্রহ কমে গেলেঅতিরিক্ত দুর্বল বা নিস্তেজ মনে হলেশিশুর বৃদ্ধি বা বিকাশ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেশিশুর ঘুম বা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলেদীর্ঘদিন ধরে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলেশিশুর পুষ্টি ও খাবার নিয়ে পরামর্শ প্রয়োজন হলেশিশুর ক্ষেত্রে কোন লক্ষণগুলো জরুরি?কিছু লক্ষণ দেখা দিলে নিয়মিত চেম্বারে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।যেমন—শিশু শ্বাস নিতে খুব কষ্ট করলে,ঠোঁট বা মুখ নীলচে হয়ে গেলে,শিশু অস্বাভাবিকভাবে নিস্তেজ হয়ে গেলে,খিঁচুনি হলে,নবজাতক দুধ খেতে না চাইলে বা একেবারেই না খেলে,বারবার বমি করে পানি ধরে রাখতে না পারলে,গুরুতর পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে,অচেতন বা সাড়া কম পাওয়া গেলে।এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া উচিত।শিশুর জন্য সঠিক পুষ্টি কেনো জরুরিশিশুর জীবনের প্রথম কয়েক বছর বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও সামগ্রিক বিকাশে প্রভাব পড়তে পারে।তবে শিশুর খাবারের প্রয়োজন বয়স অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। নবজাতক, ছয় মাসের শিশু এবং দুই-তিন বছরের শিশুর খাবারের প্রয়োজন এক নয়।তাই শিশুর বয়স, ওজন, বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে খাবারের পরিকল্পনা করা উচিত। কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা সাপ্লিমেন্ট নিজের মতো করে শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।রাজশাহীতে নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরাজশাহীতে নবজাতক ও শিশু রোগের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ খুঁজছেন তাদের জন্য ডাঃ এম. এ. হাই একটি বিশ্বস্ত নাম।তিনি এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি পেডিয়াট্রিক্স ডিগ্রিধারী এবং Child Nutrition (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) বিষয়ে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি অধ্যাপক (শিশুরোগ), রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।নবজাতক ও শিশুদের বিভিন্ন রোগ, শারীরিক বৃদ্ধি, পুষ্টি এবং শিশুরোগ-সংক্রান্ত সমস্যায় প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁর পরামর্শ নিন ।কিছু  প্রশ্ন ও উত্তর১. ডাঃ এম. এ. হাই কোন বিষয়ের ডাক্তার?ডাঃ এম. এ. হাই একজন নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি পেডিয়াট্রিক্স বিষয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রদান করেন।২. ডাঃ এম. এ. হাই-এর শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?তিনি এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি পেডিয়াট্রিক্স ডিগ্রিধারী। এছাড়া চাইল্ড নিউট্রিশন বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেলোশিপ করেছেন।৩. তিনি বর্তমানে কোথায় কর্মরত?তিনি অধ্যাপক (শিশুরোগ), রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।৪. শিশুর বারবার জ্বর হলে কি শিশু বিশেষজ্ঞ দেখানো উচিত?বারবার জ্বরের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। জ্বরের পুনরাবৃত্তি হলে কারণ নির্ণয়ের জন্য শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।৫. শিশুর ওজন বয়স অনুযায়ী না বাড়লে কী করবেন?শিশুর খাবার, বৃদ্ধি, শারীরিক সমস্যা ও পুষ্টিগত প্রয়োজন মূল্যায়নের জন্য শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।৬. নবজাতক দুধ কম খেলে কি চিন্তার বিষয়?নবজাতকের দুধ খাওয়ার পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। বিশেষ করে শিশু একেবারেই দুধ না খেলে, অতিরিক্ত নিস্তেজ থাকলে বা অন্য কোনো অসুস্থতার লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।৭. শিশুর ডায়রিয়া হলে কখন ডাক্তার দেখাব?বারবার পাতলা পায়খানা, বমি, কম প্রস্রাব, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা পানিশূন্যতার লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।৮. শিশুর পুষ্টির জন্য কি আলাদা চিকিৎসকের প্রয়োজন হয়?শিশুর বয়স, ওজন, বৃদ্ধি এবং পুষ্টিগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে শিশু বিশেষজ্ঞ পুষ্টি বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারেন।রাজশাহীতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor Service BD এর মাধ্যমে।হটলাইন নম্বরঃ ০১৭২৩-০২৫৫১৪

21 Sep,2026

blog-image স্ত্রীরোগ, প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন রাজশাহী

ডাঃ রেহানা পারভীন । গাইনোকোলজিস্ট রাজশাহী

স্ত্রীরোগ,বন্ধ্যাত্ব, প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন রাজশাহীডাঃ রেহানা পারভীনএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি), বিএমইউগাইনি, বন্ধ্যাত্ব, প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন সহকারী অধ্যাপক (গাইনি বিভাগ)রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহীডাঃ রেহানা পারভীন – স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সার্জনডাঃ রেহানা পারভীন  রাজশাহীর সু-পরিচিত, অভিজ্ঞ ও দক্ষ  স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন । তিনি  এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) এবং এমএস (স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি), বিএমইউ ডিগ্রিধারী একজন গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন। তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, মাসিকের বিভিন্ন সমস্যা, গর্ভাবস্থার পরিচর্যা, প্রসবকালীন জটিলতা এবং বিভিন্ন স্ত্রীরোগের চিকিৎসায় তিনি পরামর্শ ও চিকিৎসা প্রদান করেন।তিনি রাজশাহীতে গর্ভধারণের আগে থেকে শুরু করে গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়, প্রসব এবং প্রসব-পরবর্তী সময় পর্যন্ত নারীর স্বাস্থ্যসেবায় নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে আসছেন । ডাঃ রেহানা পারভীন রাজশাহীর রোগীদের কাছে এক বিশ্বস্ত নাম । ।যেসব রোগ ও সমস্যার চিকিৎসা প্রদান করেনঅনিয়মিত মাসিকমাসিক অনিয়মিত হওয়া, অতিরিক্ত বা কম রক্তপাত, দীর্ঘদিন মাসিক না হওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। হরমোনের সমস্যা, PCOS বা জরায়ুর সমস্যাসহ সম্ভাব্য কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।অতিরিক্ত মাসিক রক্তপাতস্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বা দীর্ঘদিন মাসিক চললে রক্তস্বল্পতা তৈরি হতে পারে। জরায়ুর ফাইব্রয়েড, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা অন্যান্য সমস্যার কারণে এটি হতে পারে।পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)PCOS নারীদের একটি সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা, যার ফলে অনিয়মিত মাসিক, ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত লোম এবং গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনযাপন পরিবর্তন, পরীক্ষা ও চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।গর্ভকালীন পরিচর্যাগর্ভধারণের পর মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য নিয়মিত চেকআপ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং পুষ্টি ও জীবনযাপন সংক্রান্ত পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ করা হয়।উচ্চঝুঁকির গর্ভাবস্থাডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, পূর্ববর্তী গর্ভাবস্থায় জটিলতা বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে কিছু গর্ভাবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।প্রসবকালীন সমস্যাস্বাভাবিক প্রসবের প্রস্তুতি, প্রসবের সময় বিভিন্ন জটিলতা এবং প্রসবের পর মায়ের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যায় পরামর্শ দেওয়া হয়।জরায়ুর ফাইব্রয়েডজরায়ুর পেশিতে তৈরি হওয়া একটি সাধারণ ধরনের টিউমারকে ফাইব্রয়েড বলা হয়। এর কারণে অতিরিক্ত মাসিক রক্তপাত, তলপেটে ব্যথা বা গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। আকার ও উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।ডিম্বাশয়ের সিস্টডিম্বাশয়ে তরল বা অন্যান্য উপাদান দিয়ে তৈরি থলি বা সিস্ট হতে পারে। অনেক সিস্ট নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়, তবে বড় সিস্ট বা উপসর্গ থাকলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।জরায়ু ও জরায়ুমুখের বিভিন্ন সমস্যাজরায়ু বা জরায়ুমুখে সংক্রমণ, অস্বাভাবিক রক্তপাত, ব্যথা বা অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। উপসর্গ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।বন্ধ্যত্ব বা গর্ভধারণে সমস্যানিয়মিত চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হলে নারী ও পুরুষ উভয়ের বিভিন্ন কারণ বিবেচনা করা প্রয়োজন। নারীর হরমোন, ডিম্বস্ফোটন, জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের অবস্থা মূল্যায়নের মাধ্যমে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়।যোনিপথের সংক্রমণযোনিপথে অস্বাভাবিক স্রাব, চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা দুর্গন্ধ বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। সংক্রমণের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রয়োজন।তলপেট ও পেলভিক ব্যথাতলপেট বা পেলভিক অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা মাসিকের সমস্যা, সংক্রমণ, সিস্ট, এন্ডোমেট্রিওসিসসহ বিভিন্ন কারণে হতে পারে। কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।এন্ডোমেট্রিওসিসজরায়ুর ভেতরের আস্তরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বৃদ্ধি পেলে এন্ডোমেট্রিওসিস হতে পারে। এতে তীব্র মাসিক ব্যথা, পেলভিক ব্যথা এবং কখনও গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।স্ত্রীরোগের বিভিন্ন সার্জিক্যাল সমস্যাজরায়ু, ডিম্বাশয় বা অন্যান্য গাইনি-সংক্রান্ত সমস্যায় যখন সার্জিক্যাল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তখন রোগীর অবস্থা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সার্জিক্যাল ব্যবস্থাপনা ও পরামর্শ দেওয়া হয়।ডাঃ রেহানা পারভীন এর শিক্ষাগত যোগ্যতাএমবিবিএসবিসিএস (স্বাস্থ্য)এমএস (স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি), বিএমইউবর্তমান পদবি ও কর্মস্থলসহকারী অধ্যাপক, গাইনি বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহীচেম্বারদি এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রাজশাহীরোগী দেখার সময়: বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টানারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, গর্ভাবস্থার পরিচর্যা কিংবা কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে সময়মতো রাজশাহীতে ডাঃ রেহানা পারভীন  গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।রাজশাহীতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor Service BD তেহটলাইন নম্বরঃ ০১৭২৩-০২৫৫১৪

19 Sep,2026

blog-image সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা

কোমর ব্যথা হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন? রাজশাহীতে কোমর ব্যথা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

কোমর ব্যথা হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন, কোমর ব্যথার কারণ, ডিস্কের সমস্যা, সায়াটিকা, পায়ে ব্যথা বা ঝিনঝিনি হলে করণীয় এবং রাজশাহীতে কোমর ব্যথা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর পরামর্শ নিন।কোমর ব্যথা হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন?বর্তমানে সকলের মুখে শোনা যায় আমার কোমরে খুব ব্যথা। কোমরের ব্যথায় চলতে পারছিনা, তখন সকলের মনে একটাই প্রশ্ন জাগে কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাবো ?কোমর ব্যথার চিকিৎসার জন্য প্রথমে একজন অর্থোপেডিক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো উচিত । বিশেষ করে যদি ব্যথাটি মেরুদণ্ড, কোমরের হাড়, ডিস্ক, জয়েন্ট, লিগামেন্ট বা আশপাশের মাংসপেশির সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হয়।তবে সব কোমর ব্যথা হাড়ের সমস্যার কারণে হয় না। যেমন কোমর থেকে পায়ের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে গেলে বা পায়ে ঝিনঝিনি, অবশভাব কিংবা দুর্বলতা দেখা দিলে স্নায়ুতে চাপ পড়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়। এ ক্ষেত্রে নিউরোসার্জন বা নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।আবার দীর্ঘদিনের কোমর ব্যথার সঙ্গে যদি শরীরের অন্যান্য জয়েন্টে ব্যথা, সকালে দীর্ঘসময় শরীর শক্ত হয়ে থাকা বা প্রদাহজনিত উপসর্গ থাকে, তাহলে রিউমাটোলজিস্ট দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে।অর্থাৎ শুধু “কোমর ব্যথা” বলেই একজন নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ সবার জন্য ঠিক করে দেওয়া যায় না। ব্যথার কারণ শনাক্ত করাই প্রথম কাজ।কোন ধরনের কোমর ব্যথায় কোন বিশেষজ্ঞ দেখাবেন?১. অর্থোপেডিক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞকোমরের হাড়, মেরুদণ্ড, ডিস্ক, জয়েন্ট, লিগামেন্ট বা মাংসপেশি-সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে অর্থোপেডিক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।যেমন—দীর্ঘদিনের কোমর ব্যথাকোমরের মেরুদণ্ডের সমস্যাডিস্কের সমস্যাকোমরের হাড় বা জয়েন্টের সমস্যাআঘাতের পর কোমর ব্যথাবয়সজনিত মেরুদণ্ডের পরিবর্তনস্পাইনাল স্টেনোসিসের মতো সমস্যাএসব ক্ষেত্রে অর্থোপেডিক স্পাইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।২. নিউরোসার্জনঅনেকেই মনে করেন নিউরোসার্জন মানেই শুধু ব্রেনের অপারেশনের ডাক্তার। আসলে নিউরোসার্জন মস্তিষ্কের পাশাপাশি মেরুদণ্ড ও স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যারও চিকিৎসা করেন।কোমরের ডিস্কের কারণে কোনো স্নায়ুতে চাপ পড়লে এবং তার ফলে পায়ে তীব্র ব্যথা, অবশভাব, ঝিনঝিনি বা দুর্বলতা দেখা দিলে নিউরোসার্জনের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।তবে নিউরোসার্জনের কাছে গেলেই যে অপারেশন করতে হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। অধিকাংশ কোমর ব্যথার ক্ষেত্রেই প্রথম ধাপে অপারেশন প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসার পদ্ধতি নির্ভর করে রোগের কারণ ও তীব্রতার ওপর।৩. নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞকোমর থেকে পায়ের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশভাব, স্নায়ুর দুর্বলতা ইত্যাদি থাকলে নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞও রোগীকে মূল্যায়ন করতে পারেন।বিশেষ করে যখন ব্যথার সঙ্গে স্নায়বিক উপসর্গ বেশি থাকে, তখন চিকিৎসক পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন সমস্যাটি কোন স্নায়ু বা মেরুদণ্ডের কোন অংশের সঙ্গে সম্পর্কিত।৪. ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞঅনেক কোমর ব্যথার ক্ষেত্রে শুধু ওষুধ নয়, বরং সঠিক ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি, শরীরের ভঙ্গি সংশোধন এবং দৈনন্দিন কাজের ধরন পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।এ ধরনের ক্ষেত্রে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপিও দেওয়া হতে পারে।রাজশাহীতে কোমর ও মাংসপেশি-স্নায়ুজনিত সমস্যার জন্য বিভিন্ন ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারও রয়েছে, যেমন Best physiotherapy and Pain Relief Center, Ideal Physiotherapy centre এবং RIPR -BD ( রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন )। তবে ফিজিওথেরাপি শুরু করার আগে রোগের কারণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিকল্পনা একজন যোগ্য চিকিৎসকের মাধ্যমে নির্ধারণ করা ভালো।৫. রিউমাটোলজিস্টযদি কোমর ব্যথার সঙ্গে অন্যান্য জয়েন্টে ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, সকালে শরীর বা কোমর শক্ত হয়ে থাকা কিংবা প্রদাহজনিত কোনো রোগের সন্দেহ থাকে, তাহলে রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।কোমর ব্যথা কেন হয়?কোমর ব্যথার কারণ একাধিক। অনেক সময় মানুষ ধরে নেন যে কোমর ব্যথা মানেই “ডিস্ক নষ্ট” বা “হাড় ক্ষয় হয়েছে”। বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়।সাধারণ কোমর ব্যথার একটি বড় কারণ হলো মাংসপেশি বা লিগামেন্টে টান পড়া। ভুলভাবে ভারী জিনিস তোলা, হঠাৎ বাঁকানো, দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে এ ধরনের ব্যথা হতে পারে।এ ছাড়া—কোমরের ডিস্কে সমস্যাসায়াটিকামেরুদণ্ডের বয়সজনিত পরিবর্তনস্পাইনাল স্টেনোসিসমেরুদণ্ডে আঘাতঅস্টিওআর্থ্রাইটিসঅস্টিওপোরোসিসপ্রদাহজনিত রোগঅতিরিক্ত ওজনদীর্ঘসময় ভুল ভঙ্গিতে বসানিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের অভাবইত্যাদিও কোমর ব্যথার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কিডনির সমস্যা বা অন্য শারীরিক সমস্যাও কোমরের আশপাশে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।কোমরের ডিস্কের সমস্যা কী ?আমাদের মেরুদণ্ডের প্রতিটি কশেরুকার মাঝখানে বিশেষ ধরনের ডিস্ক থাকে, যা চাপ শোষণ করতে সাহায্য করে। কোনো ডিস্ক ফুলে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আশপাশের স্নায়ুর ওপর চাপ তৈরি করলে কোমর ব্যথার পাশাপাশি পায়ে ব্যথা বা অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।এ ধরনের ব্যথাকে অনেক সময় সাধারণভাবে সায়াটিকা বলা হয়, বিশেষ করে যখন কোমর বা নিতম্ব থেকে ব্যথা পায়ের দিকে ছড়িয়ে যায়।তবে শুধু পায়ে ব্যথা হলেই যে ডিস্কের সমস্যা হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের শারীরিক পরীক্ষা প্রয়োজন।কোমর থেকে পায়ে ব্যথা হলে কী বুঝবেন?কোমর ব্যথার সঙ্গে যদি নিতম্ব থেকে পায়ের দিকে ব্যথা নামে, বিশেষ করে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত যায়, তাহলে স্নায়ুতে চাপ বা সায়াটিকার মতো সমস্যার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়। এর সঙ্গে পায়ে ঝিনঝিনি, অবশভাব বা দুর্বলতাও থাকতে পারে।এ ধরনের উপসর্গ থাকলে শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে দীর্ঘদিন অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।কোমর ব্যথার সঙ্গে কোন লক্ষণগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন?সব কোমর ব্যথা জরুরি সমস্যা নয়। অনেক সাধারণ কোমর ব্যথা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। কিন্তু কিছু লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।বিশেষ করে—কোমর ব্যথার সঙ্গে পায়ে দুর্বলতা বা অবশভাব,দুই পায়ে একসঙ্গে ঝিনঝিনি বা দুর্বলতা,প্রস্রাব বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে নতুন সমস্যা,যৌনাঙ্গ বা পায়ুপথের আশপাশে অনুভূতি কমে যাওয়া,জ্বরের সঙ্গে তীব্র কোমর ব্যথা,পড়ে যাওয়া বা দুর্ঘটনার পর কোমর ব্যথা,রাতে বা বিশ্রামের সময় তীব্র ব্যথা,অকারণে ওজন কমে যাওয়া,ইত্যাদি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। কিছু লক্ষণ জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করতে পারে।কোমর ব্যথা হলে কি MRI করতে হবে?এটি একটি খুব সাধারণ প্রশ্ন। কোমর ব্যথা হলেই নিজের ইচ্ছায় MRI করানো প্রয়োজন হয় না।কারণ কোমর ব্যথার অনেক সাধারণ কারণ চিকিৎসকের ইতিহাস নেওয়া ও শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রাথমিকভাবে বোঝা যায়। আবার MRI-তে কোনো পরিবর্তন দেখা গেলেই সেটিই যে ব্যথার কারণ—এমনটিও নয়।কোনো রোগীর ক্ষেত্রে MRI, X-ray, CT scan বা অন্য পরীক্ষা প্রয়োজন হবে কি না, তা নির্ভর করে উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা, ব্যথার স্থায়িত্ব এবং গুরুতর কোনো সমস্যার সন্দেহ আছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর।তাই “কোমর ব্যথা = MRI” এই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে আগে একজন উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।কোমর ব্যথার চিকিৎসা কীভাবে হয়?কোমর ব্যথার চিকিৎসা সবার জন্য একই নয়। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা পরিবর্তিত হয়।সাধারণ ও তুলনামূলক কম গুরুতর কোমর ব্যথার ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যথা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, দৈনন্দিন কাজের পরিবর্তন, শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা এবং উপযুক্ত ব্যায়ামের পরামর্শ দিতে পারেন।কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন হতে পারে। আবার ডিস্ক বা স্নায়ুর সমস্যার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চিকিৎসা পরিকল্পনা দরকার হতে পারে।গুরুতর সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আরও পরীক্ষা বা বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। অপারেশন সাধারণ কোমর ব্যথার প্রথম চিকিৎসা নয়; প্রয়োজন হলে রোগের নির্দিষ্ট কারণ ও অন্যান্য চিকিৎসার ফল বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।কোমর ব্যথা কমাতে দৈনন্দিন জীবনে করনীয়কোমর ভালো রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো দৈনন্দিন অভ্যাস।দীর্ঘসময় একই অবস্থায় বসে না থেকে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটাচলা করা ভালো। বসার সময় শরীরের ভঙ্গির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভারী জিনিস তুলতে হলে কোমর বাঁকিয়ে না তুলে সঠিক কৌশল ব্যবহার করা উচিত।নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম অনেকের ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে।তবে তীব্র ব্যথা, আঘাত, পায়ে দুর্বলতা বা অন্যান্য সতর্কতামূলক লক্ষণ থাকলে নিজের মতো করে ব্যায়াম বা ম্যানুয়াল থেরাপি শুরু না করে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।রাজশাহীতে কোমর ব্যথা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীতে কোমর ব্যথা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খুঁজতে গিয়ে শুধু “কোমর ব্যথার ডাক্তার” লিখে কাউকে বেছে নেওয়ার পরিবর্তে আপনার সমস্যার ধরন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ নির্বাচন করা ভালো।যদি হাড়, মেরুদণ্ড বা ডিস্কের সমস্যা সন্দেহ হয়, তাহলে অর্থোপেডিক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ খুঁজতে পারেন।যদি কোমর থেকে পায়ে ব্যথা, অবশভাব, ঝিনঝিনি বা দুর্বলতার মতো স্নায়বিক সমস্যা থাকে, তাহলে নিউরোসার্জন বা নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।আর দীর্ঘদিনের ব্যথা নিয়ন্ত্রণ, পুনর্বাসন, ব্যায়াম ও ফিজিওথেরাপি-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হলে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীডাঃ মোহাঃ আলমগীর হোসেনএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমএস (অর্থো-সার্জারী)হাড়-জোড়, বিকলাঙ্গ, এক্সিডেন্ট ও স্পাইন রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জনঅধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অর্থোপেডিক সার্জারী বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালডাঃ মোঃ হাবিবুল হাসানএমবিবিএস, এমসিপিএস(সার্জারী),এফসিপিএস(অর্থো-সার্জারী)মেরুদন্ড, হাড়-জোড়, বাত, ব্যাথা বিশেষজ্ঞ ও সার্জনপঙ্গু হাসপাতাল, শেরে বাংলা নগর, ঢাকা(প্রাক্তন)সহকারী অধ্যাপকরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালডাঃ মোঃ আব্দুল আওয়ালএমবিবিএস (আরএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস-অর্থো সার্জারি (ডিএমসি), এফএসিএস (ইউএসএ), ফেলোশিপ ইন স্পাইন সার্জারি, কোরিয়ামেরুদণ্ড ও অর্থোপেডিক সার্জনঅর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞসহযোগী অধ্যাপক, স্পাইন সার্জারিনওগা মেডিকেল কলেজ, নওগাবিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বরঃ এ-৪১৮৯৫ডাঃ মোঃ মুনজুর রহমান (শিমুল)এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এম.এস (অর্থোপেডিক- সার্জারি) বিএমইউঅর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকসরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালডাঃ মোঃ মাহফুজুর রহমান (মাহফুজ)এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমএস (অর্থো সার্জারী)অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জনহাড়-জোড়, বাতবাথা, মেরুদন্ড রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জনরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালবিএমডিসি রেজিঃ নং-এ-৬৯৭০৯নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীডাঃ মোঃ আমজাদ হোসেন প্রামাণিকনিউরোলজি (মস্তিষ্ক, স্ট্রোক, মাথাব্যথা, মৃগীরোগ, মাইগ্রেন) বিশেষজ্ঞএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (নিউরোলজি) নিউরোলজি (মস্তিষ্ক, স্ট্রোক, মাথাব্যথা, মৃগীরোগ, মাইগ্রেন) বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক, নিউরোলজি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালডাঃ মোঃ এমদাদুল হকএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (নিউরোমেডিসিন) নিউরোমেডিসিন (মস্তিষ্ক, স্ট্রোক, স্নায়ু, মেরুদণ্ড, মাথাব্যথা, মাইগ্রেন) বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক, নিউরোমেডিসিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালডাঃ এবিএম মাহবুবুল হক (লিমন)এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (নিউরোমেডিসিন) নিউরোমেডিসিন (মস্তিষ্ক, স্নায়ু, মেরুদণ্ড, মাথাব্যথা, পিঠের ব্যথা) বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক, নিউরোলজি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালঅধ্যাপক ডাঃ মোঃ পারভেজ আমিনএমবিবিএস, এমডি(নিউরোলজী)ব্রেন,নার্ভ (স্নায়ু রোগ) ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞঅধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (নিউরোলজি বিভাগ)রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল,রাজশাহীডাঃ মোহাঃ আহসান হাবীবএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমডি (নিউরোমেডিসিন), NINS & H. Dhaka.এমএসিপি (আমেরিকা)নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞব্রেন, নার্ভ, স্পাইন, মাথাব্যথা/মাইগ্রেন, মৃগীস্মৃতিশক্তি লোপ, স্ট্রোক ও প্যারালাইসিস বিশেষজ্ঞ স্পেশাল ট্রেনিং ইন এনসিএস, ইএমজি, নার্ভ আল্ট্রাসাউন্ড (নিনস্, ঢাকা)সহকারী অধ্যাপক ( নিউরোমেডিসিন)রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালবিএমডিসি রেজি: নং এ-৬০৫৮৪ডাঃ প্রসাদ কুমার সরকারএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমডি (নিউরোলজী) বিএসএমএমইউনিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপকরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীডাঃ মোঃ  তারিকুল ইসলাম খান (তারেক)এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (ফিজিকাল মেডিসিন)বাত-ব্যাথা, প্যারালাইসিস, নিউরো ও স্পোর্টস ইনজুরি বিশেষজ্ঞসহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহীডাঃ মোঃ আব্দুস সবুরএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (ফিজিক্যাল মেডিসিন)ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপকরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালবিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর: এ-৬৩২৮১কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন?কোমর ব্যথা যদি কয়েকদিনের সাধারণ ব্যথা হয় এবং ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তাহলে সবসময় জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু ব্যথা যদি ক্রমেই বাড়তে থাকে, দীর্ঘদিন থাকে বা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।বিশেষ করে নিচের যেকোনো একটি থাকলে দেরি না করে চিকিৎসা নিন:কোমর থেকে পায়ে তীব্র ব্যথা ছড়িয়ে পড়াপায়ে অবশভাব বা ঝিনঝিনিপায়ে দুর্বলতাদুই পায়ে একসঙ্গে দুর্বলতা বা অনুভূতি কমে যাওয়াপ্রস্রাব বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে নতুন সমস্যাযৌনাঙ্গ/পায়ুপথের আশপাশে অনুভূতি কমে যাওয়াজ্বরের সঙ্গে কোমর ব্যথাদুর্ঘটনা বা পড়ে যাওয়ার পর তীব্র ব্যথারাতে খুব বেশি ব্যথাঅকারণে ওজন কমে যাওয়াএর মধ্যে প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণের নতুন সমস্যা, যৌনাঙ্গ/পায়ুপথের আশপাশে অনুভূতি কমে যাওয়া বা দুই পায়ে গুরুতর দুর্বলতা থাকলে এটি জরুরি অবস্থা হতে পারে এবং দ্রুত হাসপাতালে মূল্যায়ন প্রয়োজন।কোমর ব্যথা নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন১. কোমর ব্যথা হলে কোন ডাক্তার দেখাব?সাধারণভাবে অর্থোপেডিক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ দিয়ে মূল্যায়ন শুরু করা যেতে পারে। তবে উপসর্গ অনুযায়ী নিউরোসার্জন, নিউরোমেডিসিন, রিউমাটোলজি বা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হতে পারে।২. কোমর থেকে পায়ে ব্যথা হলে কোন ডাক্তার দেখাব?কোমর থেকে পায়ে ব্যথা নামার সঙ্গে ঝিনঝিনি, অবশভাব বা দুর্বলতা থাকলে স্নায়ুতে চাপের বিষয়টি মূল্যায়ন করা দরকার। এ ক্ষেত্রে নিউরোসার্জন, নিউরোমেডিসিন বা স্পাইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।৩. কোমর ব্যথা হলে কি সবসময় MRI করতে হয়?না। সব কোমর ব্যথায় MRI প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসক উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষা দেখে প্রয়োজন হলে MRI বা অন্য পরীক্ষা দিতে পারেন।৪. কোমর ব্যথা কি কিডনির সমস্যার কারণে হতে পারে?হ্যাঁ, কিছু কিডনি সমস্যা যেমন কিডনি স্টোন বা কিডনি ইনফেকশনের ক্ষেত্রেও কোমর বা পাশের দিকে ব্যথা হতে পারে। তাই ব্যথার ধরন এবং সঙ্গে থাকা অন্যান্য উপসর্গ বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।৫. কোমর ব্যথায় ফিজিওথেরাপি কি উপকারী?কিছু ধরনের কোমর ব্যথায় ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনমূলক চিকিৎসা উপকারী হতে পারে। তবে ব্যথার কারণ বুঝে উপযুক্ত থেরাপি নির্বাচন করা উচিত।৬. কোমর ব্যথা কতদিন থাকলে ডাক্তার দেখাব?ব্যথা যদি কয়েক সপ্তাহেও না কমে, বারবার ফিরে আসে বা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।৭. কোমর ব্যথার সঙ্গে পা অবশ হলে কি চিন্তার বিষয়?হ্যাঁ। বিশেষ করে অবশভাবের সঙ্গে পায়ের শক্তি কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।৮. কোমর ব্যথা হলে কি ব্যায়াম করা যাবে?সব ব্যথায় একই ব্যায়াম উপযুক্ত নয়। সাধারণ ব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সক্রিয় থাকা উপকারী হতে পারে, কিন্তু তীব্র ব্যথা বা স্নায়বিক উপসর্গ থাকলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।৯. কোমর ব্যথার জন্য রাজশাহীতে কোন বিশেষজ্ঞ খুঁজব?আপনার সমস্যার ধরন অনুযায়ী অর্থোপেডিক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ, নিউরোসার্জন, নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ অথবা ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ খুঁজতে পারেন।১০. কোমর ব্যথার চিকিৎসায় কি সবসময় অপারেশন লাগে?না। সাধারণ কোমর ব্যথার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপারেশন প্রথম চিকিৎসা নয়। নির্দিষ্ট কিছু গুরুতর সমস্যা বা অন্যান্য চিকিৎসায় যথেষ্ট উপকার না হলে অপারেশন বিবেচনা করা হতে পারে।কোমর ব্যথা হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন—এই প্রশ্নের উত্তর আসলে ব্যথার কারণের ওপর নির্ভর করে। হাড়, মেরুদণ্ড ও ডিস্কের সমস্যায় অর্থোপেডিক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ, স্নায়ু-সম্পর্কিত উপসর্গে নিউরোসার্জন বা নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও ব্যায়ামভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হতে পারে।রাজশাহীতে কোমর ব্যথা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খুঁজতে হলে প্রথমে আপনার উপসর্গের ধরন অনুযায়ী সঠিক বিভাগের বিশেষজ্ঞ নির্বাচন করুন। সঠিক রোগ নির্ণয়ের পর কারণভিত্তিক চিকিৎসাই দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল পাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অথবা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন Doctor Service BD তে।

18 Sep,2026

blog-image হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ রাজশাহী

ডাঃ সাইফুল ইসলাম

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীডাঃ সাইফুল ইসলাম এমবিবিএস, বিসিএস, এমডি(কার্ডিওলজী), সিসিডি (বারডেম) মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক (কার্ডিওলজী বিভাগ) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী ডাঃ সাইফুল ইসলাম / হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীডাঃ সাইফুল ইসলাম একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার । তিনি এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (কার্ডিওলজি) এবং সিসিডি (বারডেম) ডিগ্রিধারী একজন অভিজ্ঞ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। হৃদরোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও বিভিন্ন মেডিসিন-সংক্রান্ত রোগের সঠিক রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, বুকব্যথা, হৃদস্পন্দনের অনিয়ম এবং ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগে রোগীর শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন।ডাঃ সাইফুল ইসলাম যেসব রোগ ও সমস্যার চিকিৎসা প্রদান করেনডাঃ সাইফুল ইসলাম রাজশাহীতে নিয়মিত রোগী দেখছেন ও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তিনি যেসকল রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন তা নিচে দেওয়া হলো-হৃদরোগ ও হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা Heart Disease & Cardiovascular Problemsবুকব্যথা ও শ্বাসকষ্ট Chest Pain & Shortness of Breathউচ্চ রক্তচাপ Hypertension (High Blood Pressure)হৃদস্পন্দনের অনিয়ম Heart Rhythm Disorders (Arrhythmia)করোনারি আর্টারি ডিজিজ Coronary Artery Disease (CAD)হার্ট অ্যাটাক-পরবর্তী চিকিৎসা ও ফলোআপ Post-Heart Attack Care & Follow-upডায়াবেটিস ও এর বিভিন্ন জটিলতা Diabetes & Its Complicationsরক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি High Blood Cholesterol (Hypercholesterolemia)বিভিন্ন মেডিসিন-সংক্রান্ত জটিলতা Internal Medicine Problems & Medical Conditionsদীর্ঘমেয়াদি রোগের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা Regular Monitoring & Management of Chronic Diseasesডাঃ সাইফুল ইসলাম এর শিক্ষাগত যোগ্যতাএমবিবিএসবিসিএস (স্বাস্থ্য)এমডি (কার্ডিওলজি)সিসিডি (বারডেম)বর্তমান পদবি ও কর্মস্থলসহকারী অধ্যাপক, কার্ডিওলজি বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহীহৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য মেডিসিন-সংক্রান্ত সমস্যার চিকিৎসায় রাজশাহীবাসীদের কাছে ডাঃ সাইফুল ইসলাম একটি বিশ্বস্ত নাম । চেম্বারঃদি এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার রাজশাহীসময়ঃ বিকাল ৩টা থেকে ৫ টাচেম্বারঃ পপুলার ডায়াগনস্টিক লিঃ রাজশাহীসময়ঃ বিকাল ৫ টা থেকে রাত ৯ টারাজশাহীতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor Service BD এর মাধ্যমেহটলাইন নম্বরঃ ০১৭২৩-০২৫৫১৪

16 Sep,2026

blog-image রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ রাজশাহী

বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কী ও রাজশাহীতে চিকিৎসা

বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কী, কোন রোগে এটি প্রয়োজন হয়, ট্রান্সপ্লান্টের ধাপ, ডোনার নির্বাচন, ঝুঁকি, সুস্থ হতে কত সময় লাগে এবং রাজশাহীতে বোনম্যারো চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কী?বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কথাটি শুনলে অনেকের মনে হয় হাড়ের ভেতরের কোনো অংশ কেটে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। আসলে বিষয়টি এমন নয়। বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট হলো এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে অসুস্থ বা ক্ষতিগ্রস্ত রক্ত তৈরির ব্যবস্থা প্রতিস্থাপনের জন্য সুস্থ রক্ত-গঠনকারী স্টেম সেল (hematopoietic stem cells) রোগীর শরীরে দেওয়া হয়।বোনম্যারো বা অস্থিমজ্জা আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এখানেই রক্তের লোহিত কণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং প্লেটলেট তৈরি হয়। তাই বোনম্যারো ঠিকমতো কাজ না করলে রক্ত তৈরিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং বিভিন্ন গুরুতর রোগের সৃষ্টি হতে পারে।অনেক ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার কেমোথেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসার মাধ্যমে রোগাক্রান্ত কোষ ধ্বংস করার পর নতুন রক্ত-গঠনকারী স্টেম সেল শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এই স্টেম সেলগুলো পরে বোনম্যারোতে গিয়ে নতুন রক্তকণিকা তৈরির কাজ শুরু করতে পারে।বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে “Stem Cell Transplant” শব্দটিও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় বোনম্যারো থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয় না; রক্ত থেকেও সংগ্রহ করা সম্ভব। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে hematopoietic stem cell transplantation শব্দটি আরও নির্ভুল।বোনম্যারো শরীরে কী কাজ করে?বোনম্যারোর কাজ বুঝলে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কেন প্রয়োজন হতে পারে, সেটিও সহজে বোঝা যায়।আমাদের হাড়ের ভেতরে থাকা নরম টিস্যুর একটি অংশ হলো বোনম্যারো। এখানে hematopoietic stem cell থেকে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধরনের রক্তকণিকা তৈরি হয়।লোহিত রক্তকণিকা (RBC) শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।শ্বেত রক্তকণিকা (WBC) শরীরকে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।আর প্লেটলেট রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।বোনম্যারোতে গুরুতর সমস্যা হলে এই তিন ধরনের রক্তকণিকার এক বা একাধিকটির উৎপাদন কমে যেতে পারে। তখন রোগীর রক্তস্বল্পতা, সংক্রমণের ঝুঁকি বা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।কোন কোন রোগে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন হয়সব রক্তের রোগের জন্য বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন হয় না। রোগের ধরন, রোগের পর্যায়, চিকিৎসায় সাড়া, রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য অনেক বিষয় বিবেচনা করে ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।কিছু ক্ষেত্রে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। যেমন—লিউকেমিয়ালিউকেমিয়া হলো রক্ত ও রক্ত তৈরির টিস্যুর ক্যান্সার। কিছু ধরনের লিউকেমিয়ায় কেমোথেরাপির পর রোগের পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি বেশি থাকলে বা রোগ নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত হলে স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট বিবেচনা করা হতে পারে।লিম্ফোমাকিছু ধরনের Hodgkin বা non-Hodgkin lymphoma-তে রোগ বারবার ফিরে এলে বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উচ্চমাত্রার চিকিৎসার পর autologous stem cell transplant করা হতে পারে।মাল্টিপল মাইলোমামাল্টিপল মাইলোমার চিকিৎসায় নির্বাচিত রোগীদের ক্ষেত্রে autologous stem cell transplant একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি হতে পারে।অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়াঅ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় বোনম্যারো পর্যাপ্ত রক্তকণিকা তৈরি করতে পারে না। উপযুক্ত ডোনার পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে allogeneic stem cell transplant চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে।থ্যালাসেমিয়ানির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে উপযুক্ত ডোনার থাকলে, hematopoietic stem cell transplant থ্যালাসেমিয়ার একটি সম্ভাব্য নিরাময়মূলক চিকিৎসা হতে পারে।মাইলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমকিছু MDS রোগীর ক্ষেত্রে রোগের ঝুঁকি ও সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে allogeneic transplant করা হতে পারে।এ ছাড়া কিছু বংশগত রক্তের রোগ এবং ইমিউন সিস্টেমের নির্দিষ্ট গুরুতর রোগেও স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট বিবেচনা করা হয়।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের প্রধান দুই ধরনবোনম্যারো বা স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট মূলত দুই ধরনের।১. Autologous Stem Cell Transplantএক্ষেত্রে রোগীর নিজের স্টেম সেল আগে সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় উচ্চমাত্রার চিকিৎসা দেওয়ার পর সেই স্টেম সেল আবার রোগীর শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।এ পদ্ধতিতে ডোনারের প্রয়োজন হয় না।মাল্টিপল মাইলোমা এবং কিছু ধরনের লিম্ফোমায় এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হতে পারে।২. Allogeneic Stem Cell Transplantএক্ষেত্রে অন্য একজন উপযুক্ত ডোনারের কাছ থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করে রোগীর শরীরে দেওয়া হয়।ডোনার হিসেবে ভাই-বোন বা পরিবারের অন্য সদস্য হতে পারেন। আবার পরিবারের মধ্যে উপযুক্ত ম্যাচ না পাওয়া গেলে অন্য উপযুক্ত ডোনারও খোঁজা হতে পারে।এই পদ্ধতিতে HLA matching অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রোগীর শরীর এবং ডোনারের স্টেম সেলের মধ্যে সামঞ্জস্য যত ভালো হবে, কিছু জটিলতার ঝুঁকি তত কমতে পারে।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের ডোনার কীভাবে নির্বাচন করা হয়?ডোনার নির্বাচন বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।এখানে শুধু রক্তের গ্রুপ মিললেই হবে না। রোগী ও সম্ভাব্য ডোনারের Human Leukocyte Antigen বা HLA পরীক্ষা করা হয়।HLA হলো শরীরের ইমিউন সিস্টেমের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের বৈশিষ্ট্য। রোগী ও ডোনারের HLA যত বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, অনেক ক্ষেত্রে ট্রান্সপ্লান্টের ফলাফল তত ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।তাই একই পরিবারের ভাই-বোনের মধ্যে উপযুক্ত ম্যাচ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সব ভাই-বোনই যে উপযুক্ত ডোনার হবেন, তা নয়।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের আগে কী কী পরীক্ষা করা হয়ট্রান্সপ্লান্টের আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হয়। কারণ এটি একটি বড় ধরনের চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং রোগীর শরীর উচ্চমাত্রার চিকিৎসা সহ্য করতে পারবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।রোগ অনুযায়ী চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন। যেমন—CBC বা Complete Blood Countবোনম্যারো পরীক্ষাকিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষাভাইরাল সংক্রমণের পরীক্ষাহৃদযন্ত্রের পরীক্ষাফুসফুসের কার্যকারিতা পরীক্ষাপ্রয়োজন অনুযায়ী CT/MRI/PET scanHLA typingরক্তের গ্রুপ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষারোগীর দাঁত ও মুখের সংক্রমণ, কোনো সক্রিয় সংক্রমণ বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলেও সেগুলো আগে মূল্যায়ন করা হতে পারে।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কীভাবে করা হয়বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টকে সাধারণভাবে কয়েকটি ধাপে বোঝানো যায়।প্রথম ধাপ: রোগীর মূল্যায়নপ্রথমে চিকিৎসক দেখেন রোগীর জন্য ট্রান্সপ্লান্ট আদৌ প্রয়োজন কি না এবং তিনি এই চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত কি না।একই রোগে আক্রান্ত দুইজন মানুষের চিকিৎসা পরিকল্পনা এক হতে পারে না। তাই সিদ্ধান্তটি ব্যক্তিভেদে নেওয়া হয়।দ্বিতীয় ধাপ: স্টেম সেল সংগ্রহAutologous transplant-এর ক্ষেত্রে রোগীর নিজের স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয়।Allogeneic transplant-এর ক্ষেত্রে উপযুক্ত ডোনারের কাছ থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয়।বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে peripheral blood থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে বোনম্যারো থেকে সরাসরি সংগ্রহ করা হতে পারে।তৃতীয় ধাপ: Conditioning Treatmentএরপর রোগীকে নির্দিষ্ট ধরনের উচ্চমাত্রার কেমোথেরাপি এবং কিছু ক্ষেত্রে রেডিওথেরাপি দেওয়া হতে পারে।এই চিকিৎসার উদ্দেশ্য রোগাক্রান্ত কোষ ধ্বংস করা এবং শরীরকে নতুন স্টেম সেল গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা।চতুর্থ ধাপ: স্টেম সেল দেওয়াএরপর সংগৃহীত স্টেম সেল একটি IV লাইনের মাধ্যমে রোগীর শরীরে দেওয়া হয়।বিষয়টি অনেকটা রক্ত দেওয়ার মতো মনে হতে পারে। তবে এখানে দেওয়া কোষগুলো পরবর্তীতে বোনম্যারোতে গিয়ে নতুন রক্তকণিকা তৈরির কাজ শুরু করার লক্ষ্যেই দেওয়া হয়।পঞ্চম ধাপ: Engraftmentট্রান্সপ্লান্টের পর নতুন স্টেম সেল বোনম্যারোতে গিয়ে বসতি স্থাপন করে এবং ধীরে ধীরে নতুন রক্তকণিকা তৈরি শুরু করে। এই প্রক্রিয়াকে engraftment বলা হয়।এই সময় রোগীর সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে। তাই চিকিৎসক ও হাসপাতালের টিম খুব কাছ থেকে রোগীকে পর্যবেক্ষণ করেন।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের জন্য কোন ডাক্তার দেখাবেনবোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন আছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সাধারণত হেমাটোলজিস্ট বা ক্লিনিক্যাল হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন হয়।যদি রোগী ট্রান্সপ্লান্টের জন্য উপযুক্ত হন, তাহলে হেমাটোলজি ও ট্রান্সপ্লান্ট টিম রোগীর জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা তৈরি করেন।বিশেষ করে লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা, মাল্টিপল মাইলোমা, থ্যালাসেমিয়া, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া বা অন্য কোনো গুরুতর রক্তের রোগ থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে জানতে হবে—ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন, নাকি অন্য কোনো চিকিৎসাই যথেষ্ট।রাজশাহীতে  বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের চিকিৎসাবর্তমানে রাজশাহীতে বোনম্যারোর অনেক উন্নত চিকিৎসা পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা নিয়মিত সরকারী ও বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালে রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।রাজশাহীতে বোনম্যারোর চিকিৎসা করেন এমন কয়েকজন ডাক্তারের নাম দেওয়া হলো।ডাঃ এম. মুরশেদ জামান মিয়াএমবিবিএস, এমসিপিএস, এফসিপিএস (হেমাটোলজি),রক্ত রোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ,সহযোগী অধ্যাপক, হেমাটোলজি বিভাগ,রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহী।ডাঃ রোমেনা আলমএমবিবিএস: এফসিপিএস (হেমাটোলজি)এমফিল (ইমিউনোলজি-বারডেম)রক্ত রোগ ও ব্লাড ক্যান্সার বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপক, হেমাটোলজি বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালবিএমডিসি নং: এ- ৩৩৬৪৫ডাঃ মোঃ মারুফ আল হাসানএমবিবিএস(রামেক), বিসিএস(স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (রক্তরোগ মেডিসিন),সিসিডি(বারডেম), এমএসিপি (আমেরিকা), পিএইচডি গবেষক (থ্যালাসেমিয়া)রক্তরোগ মেডিসিন, থ্যালাসমিয়া ও ব্লাড ক্যানসার বিশেষজ্ঞরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালডাঃ মোহিত কুমার প্রামানিক এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) এমডি (হেমাটোলজি) রক্তরোগ মেডিসিন, থ্যালাসেমিয়া এবং ব্লাড ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালবোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের পর কী ধরনের সমস্যা হতে পারেবোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট একটি জটিল চিকিৎসা। তাই এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে।সংক্রমণট্রান্সপ্লান্টের সময় এবং তার পরবর্তী পর্যায়ে রোগীর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।রক্তস্বল্পতা ও প্লেটলেট কমে যাওয়ানতুন বোনম্যারো কার্যকরভাবে কাজ শুরু করার আগ পর্যন্ত রক্তের লোহিত কণিকা ও প্লেটলেটের মাত্রা কম থাকতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত বা প্লেটলেট দেওয়া হতে পারে।বমি, দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দাConditioning therapy-এর কারণে বমি বমি ভাব, বমি, ক্ষুধামন্দা, দুর্বলতা এবং মুখের ভেতরে ঘা হতে পারে।চুল পড়ে যাওয়াকিছু কেমোথেরাপির কারণে সাময়িকভাবে চুল পড়ে যেতে পারে।Graft-versus-host diseaseAllogeneic transplant-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ জটিলতা হলো Graft-versus-host disease বা GVHD।এক্ষেত্রে ডোনারের immune cells রোগীর শরীরের কিছু টিস্যুকে বিদেশি হিসেবে চিনে আক্রমণ করতে পারে। ত্বক, লিভার ও পরিপাকতন্ত্রসহ বিভিন্ন অঙ্গ এতে আক্রান্ত হতে পারে।তবে GVHD প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয় এবং রোগীকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।ট্রান্সপ্লান্টের পর রোগীকে কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের পর শুধু হাসপাতালের চিকিৎসাই নয়, রোগীর নিজের সতর্কতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।চিকিৎসক যে ওষুধ দিয়েছেন, সেগুলো নির্ধারিত নিয়মে গ্রহণ করতে হবে। নিজের ইচ্ছায় কোনো ওষুধ বন্ধ বা শুরু করা ঠিক নয়।জ্বর, কাঁপুনি, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্বাভাবিক রক্তপাত, তীব্র ডায়রিয়া, ত্বকে নতুন র‍্যাশ বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসককে জানাতে হবে।খাবারের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় খাবার ভালোভাবে পরিষ্কার ও নিরাপদভাবে প্রস্তুত করা গুরুত্বপূর্ণ।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কি খুব ঝুঁকিপূর্ণএটি একটি গুরুতর চিকিৎসা পদ্ধতি এবং এর কিছু উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি আছে। তবে কারও ক্ষেত্রে ঝুঁকি কতটা হবে, তা রোগী ও চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়।একজন তরুণ ও অন্যথায় সুস্থ রোগীর ঝুঁকি এবং একই রোগে আক্রান্ত বয়স্ক বা অন্যান্য জটিলতায় ভোগা রোগীর ঝুঁকি এক নয়।এ কারণে “বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের ঝুঁকি কত শতাংশ”—এমন একটি সংখ্যা দিয়ে সবার জন্য উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।চিকিৎসক ট্রান্সপ্লান্টের আগে সম্ভাব্য benefit, risk এবং alternative treatment রোগী ও পরিবারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর১. বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কী?এটি এমন একটি চিকিৎসা যেখানে রক্ত তৈরির স্টেম সেল রোগীর শরীরে দেওয়া হয়, যাতে নতুন রক্তকণিকা তৈরির ব্যবস্থা পুনর্গঠিত হতে পারে।২. সব লিউকেমিয়া রোগীর কি ট্রান্সপ্লান্ট লাগে?না। লিউকেমিয়ার ধরন, ঝুঁকি, চিকিৎসায় সাড়া এবং রোগীর সামগ্রিক অবস্থার ওপর সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।৩. বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টে কি ডোনার লাগবেই?না। Autologous transplant-এ রোগীর নিজের স্টেম সেল ব্যবহার করা হয়।৪. ডোনারের রক্তের গ্রুপ কি একই হতে হবে?সবসময় একই রক্তের গ্রুপ হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ডোনার নির্বাচনে HLA matching-সহ আরও অনেক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।৫. ট্রান্সপ্লান্টের পর কি রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়?হ্যাঁ, বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। তাই সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।৬. ট্রান্সপ্লান্টের পর কি আবার ক্যান্সার হতে পারে?কিছু রোগীর ক্ষেত্রে রোগ পুনরায় ফিরে আসতে পারে। এজন্য নিয়মিত ফলোআপ প্রয়োজন।৭. বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের পর কতদিন হাসপাতালে থাকতে হয়?হাসপাতালে থাকার সময় রোগের ধরন, ট্রান্সপ্লান্টের ধরন, রক্তের অবস্থা এবং জটিলতার ওপর নির্ভর করে।৮. ট্রান্সপ্লান্টের পর রোগী কি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন?অনেক রোগী সময়ের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে পারেন। তবে immune system পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হতে সময় লাগতে পারে।৯. বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট কি সবসময় সফল হয়?না। চিকিৎসার ফলাফল রোগী ও রোগের বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে। তবে উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা হতে পারে।১০. বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন হলে কী করা উচিত?প্রথমে একজন অভিজ্ঞ হেমাটোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। রোগের ধরন ও পর্যায় মূল্যায়ন করে ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন কি না এবং করলে কোন পদ্ধতি উপযুক্ত হবে তা নির্ধারণ করা হয়।বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট গুরুতর রক্তের রোগের চিকিৎসায় আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। তবে এটি এমন কোনো চিকিৎসা নয় যা প্রতিটি রক্তের রোগীর প্রয়োজন হয়। কারও জন্য এটি জীবনরক্ষাকারী বা নিরাময়ের সম্ভাবনাময় চিকিৎসা হতে পারে, আবার অন্য কারও ক্ষেত্রে ওষুধ, কেমোথেরাপি বা অন্য চিকিৎসাই বেশি উপযুক্ত হতে পারে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত রোগীর রিপোর্ট, রোগের ঝুঁকি, শারীরিক সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি বিবেচনা করেই নিতে হয়। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা অনেক রোগীর জন্য বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

13 Sep,2026

blog-image ইউরোলজি সমস্যা

প্রোস্টেট ক্যান্সার: লক্ষণ, কারণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা

প্রোস্টেট ক্যান্সার কী, এর প্রাথমিক ও গুরুতর লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ, PSA পরীক্ষা, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সহজ ভাষায় বিস্তারিত জানুন।প্রোস্টেট ক্যান্সার পুরুষের মূত্রথলির ঠিক নিচে একটি ছোট গ্রন্থি থাকে, যার নাম প্রোস্টেট। এটি পুরুষ প্রজনন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ এবং বীর্যের তরল অংশ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রোস্টেটে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুতর সমস্যাগুলোর একটি হলো প্রোস্টেট ক্যান্সার।প্রোস্টেটের কোষ যখন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন প্রোস্টেট ক্যান্সার তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই ক্যান্সার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘ সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। আবার কিছু ধরনের প্রোস্টেট ক্যান্সার তুলনামূলকভাবে দ্রুত বাড়তে পারে এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।এ কারণেই শুধু প্রস্রাবের সমস্যা হচ্ছে কি না, সেটি দেখে প্রোস্টেট ক্যান্সার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, PSA-এর মাত্রা, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।প্রোস্টেট ক্যান্সার কেন গুরুত্বপূর্ণপ্রোস্টেট ক্যান্সারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক রোগীর কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। অর্থাৎ একজন মানুষ নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে করলেও পরীক্ষার মাধ্যমে প্রোস্টেটের অস্বাভাবিকতা ধরা পড়তে পারে।অন্যদিকে, প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হওয়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা বা রাতে কয়েকবার প্রস্রাব করার মতো উপসর্গ হলেই যে প্রোস্টেট ক্যান্সার হয়েছে, এমনটিও নয়। এসব সমস্যা Benign Prostatic Hyperplasia (BPH) বা বয়সজনিত প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়ার কারণেও হতে পারে।তাই প্রোস্টেটের যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী বা নতুন সমস্যা হলে নিজে থেকে ধরে নেওয়ার পরিবর্তে একজন ইউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।প্রোস্টেট ক্যান্সারের লক্ষণ কী কী?প্রাথমিক পর্যায়ে প্রোস্টেট ক্যান্সারের কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। যখন টিউমার বড় হতে শুরু করে বা মূত্রনালির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তখন কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে।১. বারবার প্রস্রাবের বেগ আসাবিশেষ করে রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম থেকে উঠতে হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তবে এটি শুধু ক্যান্সারের লক্ষণ নয়; প্রোস্টেট বড় হওয়া, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য কারণেও এমন হতে পারে।২. প্রস্রাব শুরু করতে সমস্যা হওয়াপ্রস্রাবের বেগ থাকা সত্ত্বেও প্রস্রাব শুরু হতে সময় লাগা বা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হওয়া প্রোস্টেটের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।৩. প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়াআগের তুলনায় প্রস্রাবের গতি বা ধারা কমে গেলে সেটিও প্রোস্টেটের সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ।৪. প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা অস্বস্তিপ্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে। মূত্রনালির সংক্রমণ থেকে শুরু করে প্রোস্টেটের বিভিন্ন সমস্যার কারণেও এটি হতে পারে।৫. প্রস্রাবে রক্ত দেখাপ্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে বিষয়টি কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। এর পেছনে সংক্রমণ, পাথর, প্রোস্টেট বা মূত্রনালির বিভিন্ন সমস্যা থাকতে পারে।৬. বীর্যে রক্তকিছু ক্ষেত্রে বীর্যে রক্ত দেখা যেতে পারে। অনেক সময় এটি গুরুতর কারণ ছাড়াও হতে পারে, তবে বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।৭. যৌন সক্ষমতায় পরিবর্তনপ্রোস্টেটের রোগ বা ক্যান্সারের পাশাপাশি অন্যান্য অনেক কারণেও ইরেকশন বা যৌন সক্ষমতার সমস্যা হতে পারে। তাই এই উপসর্গ থাকলেই প্রোস্টেট ক্যান্সার হয়েছে ধরে নেওয়া যাবে না।৮. কোমর, পিঠ বা হাড়ে ব্যথাপ্রোস্টেট ক্যান্সার যদি উন্নত পর্যায়ে গিয়ে শরীরের অন্যান্য অংশে, বিশেষ করে হাড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তখন কোমর, পিঠ, নিতম্ব বা হাড়ে ব্যথা হতে পারে।৯. পা ফুলে যাওয়া বা দুর্বলতাউন্নত পর্যায়ের রোগে লিম্ফ নোড বা অন্যান্য অঙ্গ আক্রান্ত হলে পা ফুলে যাওয়া, দুর্বলতা বা অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।মনে রাখতে হবে: এসব লক্ষণের বেশিরভাগই কেবল প্রোস্টেট ক্যান্সারের জন্য নির্দিষ্ট নয়। তাই উপসর্গ দেখে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।প্রোস্টেট ক্যান্সারের কারণ কী?প্রোস্টেট ক্যান্সারের একটি নির্দিষ্ট কারণ সবসময় চিহ্নিত করা যায় না। তবে কিছু বিষয় এই রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।বয়সপ্রোস্টেট ক্যান্সারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ হলো বয়স। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেটের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।পারিবারিক ইতিহাসপরিবারের ঘনিষ্ঠ কোনো পুরুষ সদস্যের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে নিজের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। বিশেষ করে বাবা বা ভাইয়ের এই রোগ থাকলে বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো উচিত।জেনেটিক পরিবর্তনকিছু বংশগত জেনেটিক পরিবর্তন নির্দিষ্ট কিছু মানুষের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পারিবারিকভাবে প্রোস্টেট বা নির্দিষ্ট অন্যান্য ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী জেনেটিক মূল্যায়নের কথা বিবেচনা করতে পারেন।জীবনযাপন ও ওজনঅতিরিক্ত ওজন, শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কিছু গবেষণায় এসব বিষয়কে বিশেষ করে আক্রমণাত্মক প্রোস্টেট ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত পাওয়া গেছে।তবে শুধু কোনো একটি খাবার খাওয়া বা কোনো একটি অভ্যাসের কারণেই প্রোস্টেট ক্যান্সার হয়—এমন সরল ব্যাখ্যা বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক নয়।প্রোস্টেট বড় হওয়া আর প্রোস্টেট ক্যান্সার কি একই?না, প্রোস্টেট বড় হওয়া আর প্রোস্টেট ক্যান্সার এক জিনিস নয়।বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেক পুরুষের Benign Prostatic Hyperplasia (BPH) বা প্রোস্টেটের অ-ক্যান্সারজনিত বৃদ্ধি হতে পারে। এতে প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হওয়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা, রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব করা বা প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।অন্যদিকে প্রোস্টেট ক্যান্সার হলো প্রোস্টেটের কোষের অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি।দুই রোগের কিছু উপসর্গ একই রকম হতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে কোনটি BPH আর কোনটি ক্যান্সার—তা নিশ্চিত করা যায় না।প্রোস্টেট ক্যান্সার কীভাবে শনাক্ত করা হয়প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্ত করার জন্য চিকিৎসক রোগীর বয়স, উপসর্গ, পারিবারিক ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক পরীক্ষা করতে পারেন।PSA পরীক্ষা কী?PSA বা Prostate-Specific Antigen হলো প্রোস্টেট থেকে তৈরি একটি প্রোটিন। রক্তে PSA-এর মাত্রা পরীক্ষা করে প্রোস্টেট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়।তবে একটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ—PSA বেশি হলেই প্রোস্টেট ক্যান্সার হয়েছে, এমন নয়।প্রোস্টেট বড় হওয়া, প্রোস্টেটের প্রদাহ বা সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণেও PSA বাড়তে পারে। আবার কিছু প্রোস্টেট ক্যান্সারে PSA খুব বেশি নাও হতে পারে।তাই PSA রিপোর্টকে রোগীর বয়স, অন্যান্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হয়।Digital Rectal Examination বা DREকিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক Digital Rectal Examination (DRE) করতে পারেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে মলদ্বারের মাধ্যমে প্রোস্টেটের আকার, গঠন বা অস্বাভাবিক শক্ত অংশ আছে কি না তা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।এটি শুনতে অনেকের অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু প্রয়োজন হলে এই পরীক্ষা প্রোস্টেটের অস্বাভাবিকতা মূল্যায়নে সহায়ক হতে পারে।MRI কি প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্ত করতে সাহায্য করেহ্যাঁ। প্রয়োজন অনুযায়ী Multiparametric MRI (mpMRI) করা হতে পারে। এটি প্রোস্টেটের ভেতরের অস্বাভাবিক অঞ্চল শনাক্ত করতে এবং সন্দেহজনক অংশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে সে সম্পর্কে ধারণা দিতে সাহায্য করে।অনেক ক্ষেত্রে MRI-এর ফলাফল দেখে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বায়োপসি প্রয়োজন কি না এবং প্রয়োজন হলে কোন অংশ থেকে নমুনা নেওয়া উচিত।প্রোস্টেট বায়োপসি কী?বায়োপসি হলো প্রোস্টেটের টিস্যুর ছোট নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করা।প্রোস্টেট ক্যান্সারের নিশ্চিত রোগ নির্ণয়ের জন্য অনেক ক্ষেত্রে বায়োপসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।বায়োপসি রিপোর্টের মাধ্যমে শুধু ক্যান্সার আছে কি না তা নয়, ক্যান্সারের কোষ কতটা অস্বাভাবিক এবং রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।Gleason Score কীপ্রোস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে Gleason grading ক্যান্সার কোষের বৈশিষ্ট্য এবং আক্রমণাত্মকতার মাত্রা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।বর্তমানে রোগের ঝুঁকি বোঝাতে Gleason Score-এর পাশাপাশি Grade Group ব্যবহার করা হয়। রিপোর্টে এসব বিষয় দেখে চিকিৎসক বুঝতে পারেন ক্যান্সার তুলনামূলকভাবে ধীরে বাড়ার সম্ভাবনা বেশি, নাকি দ্রুত বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।তাই শুধু “ক্যান্সার ধরা পড়েছে” শুনে ভয় পাওয়ার বদলে রিপোর্টের Grade Group, PSA, tumour stage এবং অন্যান্য তথ্য চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।প্রোস্টেট ক্যান্সারের স্টেজ বলতে কী বোঝায়ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো রোগটি কতটা ছড়িয়েছে তা জানা।সাধারণভাবে প্রোস্টেট ক্যান্সারকে স্থানীয় বা localized, আশপাশের অঞ্চলে ছড়ানো locally advanced, এবং শরীরের দূরের অংশে ছড়িয়ে পড়া metastatic রোগ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়।রোগের স্টেজ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী MRI, CT, bone scan, PET-based imaging বা অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে।স্টেজ জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চিকিৎসার ধরন রোগের স্টেজের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে।প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা কী?প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা সবার জন্য একরকম নয়। রোগীর বয়স, সামগ্রিক স্বাস্থ্য, PSA, Gleason/Grade Group, ক্যান্সারের স্টেজ এবং রোগীর নিজের পছন্দ—সবকিছু বিবেচনা করে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়।Active Surveillanceকম ঝুঁকির এবং ধীরে বাড়তে পারে এমন কিছু প্রোস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপি না করে Active Surveillance করা যেতে পারে।এর অর্থ রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং নির্দিষ্ট সময় পরপর PSA, শারীরিক পরীক্ষা, MRI বা প্রয়োজনীয় অন্যান্য মূল্যায়নের মাধ্যমে রোগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়।রোগের বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন দেখা দিলে তখন সক্রিয় চিকিৎসা শুরু করা হতে পারে।সার্জারিকিছু রোগীর ক্ষেত্রে ক্যান্সার যদি প্রোস্টেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং রোগীর জন্য উপযুক্ত হয়, তাহলে Radical Prostatectomy করা যেতে পারে।এতে ক্যান্সার আক্রান্ত প্রোস্টেট অপসারণ করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে আশপাশের লিম্ফ নোডও পরীক্ষা বা অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে।অস্ত্রোপচারের ধরন রোগীর অবস্থা ও হাসপাতালের সুবিধা অনুযায়ী ওপেন, ল্যাপারোস্কোপিক বা রোবোটিক পদ্ধতিতে হতে পারে।রেডিওথেরাপিরেডিওথেরাপির মাধ্যমে উচ্চশক্তির রশ্মি ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়।প্রোস্টেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে রেডিওথেরাপির সঙ্গে হরমোন থেরাপিও যুক্ত হতে পারে।হরমোন থেরাপিপ্রোস্টেট ক্যান্সারের অনেক কোষ androgen বা পুরুষ হরমোনের ওপর নির্ভর করে বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই কিছু ক্ষেত্রে শরীরে testosterone-এর প্রভাব কমানোর জন্য Androgen Deprivation Therapy (ADT) দেওয়া হয়।বিশেষ করে উন্নত বা নির্দিষ্ট উচ্চঝুঁকির প্রোস্টেট ক্যান্সারে হরমোন থেরাপি চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।কেমোথেরাপিসব প্রোস্টেট ক্যান্সারে কেমোথেরাপি প্রয়োজন হয় না। তবে উন্নত বা নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সারে অন্যান্য চিকিৎসার সঙ্গে কেমোথেরাপি ব্যবহার করা যেতে পারে।অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসারোগের ধরন ও পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে androgen receptor pathway inhibitors, targeted treatment, radiopharmaceutical therapy বা অন্যান্য আধুনিক পদ্ধতি বিবেচনা করা হতে পারে।কোন চিকিৎসা সবচেয়ে উপযুক্ত হবে তা কেবল ইন্টারনেটে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। রোগীর রিপোর্ট দেখে ইউরোলজিস্ট ও প্রয়োজন অনুযায়ী অনকোলজি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরিকল্পনা করেন।প্রোস্টেট ক্যান্সার কি ভালো হয়?অনেক ক্ষেত্রেই প্রোস্টেট ক্যান্সার চিকিৎসাযোগ্য, বিশেষ করে রোগটি যদি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হয় এবং প্রোস্টেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।তবে সব প্রোস্টেট ক্যান্সারের আচরণ একরকম নয়। কিছু ক্যান্সার খুব ধীরে বাড়ে, আবার কিছু ক্যান্সার দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।তাই “প্রোস্টেট ক্যান্সার মানেই মৃত্যু”—এই ধারণা যেমন ভুল, তেমনি “প্রোস্টেট ক্যান্সার হলে কোনো সমস্যা নেই”—এটিও ভুল।রোগটি কোন পর্যায়ে ধরা পড়েছে এবং ক্যান্সারের বৈশিষ্ট্য কেমন—এই দুটি বিষয় চিকিৎসার ফলাফলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায় কিপ্রোস্টেট ক্যান্সার শতভাগ প্রতিরোধ করার কোনো নিশ্চিত উপায় নেই। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং কিছু ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, শাকসবজি ও ফলসহ সুষম খাবার খাওয়া এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা ভালো অভ্যাস।তবে শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলেই প্রোস্টেট ক্যান্সার পুরোপুরি প্রতিরোধ করা যাবে—এমন দাবি করা ঠিক নয়।কখন ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত?নিচের যেকোনো সমস্যা থাকলে একজন ইউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো—প্রস্রাবের ধারা ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাওয়াপ্রস্রাব শুরু করতে বারবার সমস্যা হওয়ারাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের জন্য উঠতে হওয়াপ্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত দেখাপ্রস্রাবের সঙ্গে ব্যথা বা জ্বালাপোড়াপ্রস্রাব পুরোপুরি আটকে যাওয়াPSA পরীক্ষায় অস্বাভাবিক ফল পাওয়াপরিবারে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস থাকাকোমর বা হাড়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সঙ্গে প্রোস্টেটের সমস্যা থাকাবিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে এসব সমস্যাকে “বয়সের স্বাভাবিক ব্যাপার” বলে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা ঠিক নয়।প্রোস্টেট ক্যান্সার সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন১. প্রোস্টেট ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ কী?প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। পরে প্রস্রাবের বিভিন্ন সমস্যা, প্রস্রাবে রক্ত ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।২. প্রোস্টেট ক্যান্সার কি শুধু বয়স্ক পুরুষদের হয়?বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ে, তবে কম বয়সেও হতে পারে। বিশেষ করে পারিবারিক বা জেনেটিক ঝুঁকি থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।৩. PSA কত হলে প্রোস্টেট ক্যান্সার হয়?PSA-এর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে একা প্রোস্টেট ক্যান্সার নিশ্চিত করা যায় না। বয়স, PSA-এর পরিবর্তন, prostate volume, DRE, MRI ও অন্যান্য তথ্যও বিবেচনা করা হয়।৪. প্রোস্টেট বড় হলেই কি ক্যান্সার?না। BPH একটি ক্যান্সারবিহীন সমস্যা এবং এটি প্রোস্টেট ক্যান্সার থেকে আলাদা।৫. প্রোস্টেট ক্যান্সার কি চিকিৎসায় ভালো হয়?প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়া অনেক প্রোস্টেট ক্যান্সার কার্যকরভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে ফলাফল রোগের ধরন ও স্টেজের ওপর নির্ভর করে।৬. প্রোস্টেট ক্যান্সারের জন্য কোন ডাক্তার দেখাবেন?প্রাথমিক মূল্যায়নের জন্য ইউরোলজিস্ট উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ। প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেল বা রেডিয়েশন অনকোলজিস্টসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।৭. প্রোস্টেট ক্যান্সার কি হাড়ে ছড়াতে পারে?হ্যাঁ। উন্নত পর্যায়ের প্রোস্টেট ক্যান্সার হাড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।৮. প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় কি সবসময় অপারেশন করতে হয়?না। রোগের ঝুঁকি ও স্টেজ অনুযায়ী Active Surveillance, রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি, সার্জারি বা অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবহার করা হতে পারে।৯. প্রোস্টেট ক্যান্সার কি বংশগত?সব ক্ষেত্রে নয়। তবে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যান্সার বা নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।১০. প্রোস্টেটের সমস্যা হলে কি দেরি করা উচিত?না। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাব আটকে যাওয়া, অস্বাভাবিক PSA বা দীর্ঘস্থায়ী নতুন উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।শেষ কথাপ্রোস্টেট ক্যান্সার এমন একটি রোগ, যেটি নিয়ে ভয় পাওয়ার চেয়ে সচেতন হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। আবার প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিলেও সেটি সবসময় ক্যান্সার নয়।তাই বয়স, পারিবারিক ইতিহাস বা উপসর্গ অনুযায়ী ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা এবং রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

12 Sep,2026

blog-image রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ রাজশাহী

থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া: কারণ, লক্ষণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা

থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া কী, কেন রক্তে প্লেটলেট কমে যায়, এর লক্ষণ কী, কত প্লেটলেট হলে ঝুঁকি বাড়ে, কী পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রয়োজন—সহজ ভাষায় বিস্তারিত জানুন।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া কী?মানবদেহের রক্তে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং প্লেটলেট এই তিন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রক্তকণিকা থাকে। এর মধ্যে প্লেটলেট রক্তপাত বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের কোথাও ছোটখাটো আঘাত লাগলে রক্তনালির ক্ষতস্থানে প্লেটলেট জমা হয়ে রক্তপাত বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করে।স্বাভাবিকের তুলনায় রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা কমে গেলে তাকে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (Thrombocytopenia) বলা হয়।সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তে প্রতি মাইক্রোলিটারে প্লেটলেটের সংখ্যা প্রায় ১.৫ লাখ থেকে ৪.৫ লাখ পর্যন্ত থাকতে পারে। সাধারণত ১.৫ লাখের নিচে নেমে গেলে তাকে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা কম—এটুকু দেখেই রোগ কতটা গুরুতর তা বলা যায় না। কেন প্লেটলেট কমেছে, কতটা কমেছে এবং রোগীর কোনো রক্তপাত হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।অনেক সময় রক্ত পরীক্ষায় হঠাৎ প্লেটলেট কম পাওয়া যায়, কিন্তু রোগীর কোনো উপসর্গ থাকে না। আবার কারও ক্ষেত্রে প্লেটলেট অনেক কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তপাতের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।প্লেটলেট কিপ্লেটলেটকে সহজভাবে শরীরের রক্তপাত বন্ধ করার প্রাকৃতিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলা যায়।ধরা যাক, রান্না করতে গিয়ে হাতে সামান্য কেটে গেল। ক্ষত থেকে রক্ত বের হতে শুরু করবে। কিছু সময় পর স্বাভাবিকভাবেই রক্তপাত কমে আসে এবং সেখানে জমাট বাঁধতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় প্লেটলেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তাই প্লেটলেটের সংখ্যা খুব কমে গেলে শরীরের স্বাভাবিক রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তবে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, প্লেটলেট কম মানেই শরীরে রক্তপাত হবেই, এমন নয়। প্লেটলেটের মাত্রা, অন্যান্য রক্ত পরীক্ষার ফলাফল এবং রোগীর সামগ্রিক অবস্থার ওপর ঝুঁকি নির্ভর করে।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়ার প্রধান কারণপ্লেটলেট কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। মূলত তিনভাবে বিষয়টি বোঝা যায়—শরীরে পর্যাপ্ত প্লেটলেট তৈরি না হওয়াশরীরে তৈরি হওয়া প্লেটলেট দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়াপ্লেটলেট শরীরের কোথাও বেশি জমে গিয়ে রক্তে কম পাওয়া যাওয়াএখন প্রতিটি কারণ একটু বিস্তারিতভাবে দেখা যাক।১. অস্থিমজ্জায় প্লেটলেট কম তৈরি হলেপ্লেটলেট তৈরি হয় অস্থিমজ্জায়। অস্থিমজ্জার কোনো সমস্যা হলে শরীর প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্লেটলেট তৈরি করতে পারে না।যেমন—কিছু ভাইরাল সংক্রমণভিটামিন বি১২ বা ফোলেটের ঘাটতিকিছু রক্তের রোগলিউকেমিয়াঅস্থিমজ্জার অন্যান্য রোগকিছু ক্যান্সারের চিকিৎসা বা কেমোথেরাপিকিছু ওষুধের প্রভাবএসব কারণে প্লেটলেট উৎপাদন কমে যেতে পারে।২. শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা প্লেটলেট নষ্ট করলেকিছু ক্ষেত্রে শরীরের ইমিউন সিস্টেম ভুল করে নিজের প্লেটলেটকে ক্ষতিকর মনে করে আক্রমণ করে।এ ধরনের একটি পরিচিত রোগ হলো Immune Thrombocytopenia বা ITP।ITP-তে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা প্লেটলেট ধ্বংস করতে পারে। ফলে রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যায়।এটি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক—দুই ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে।৩. সংক্রমণের কারণে প্লেটলেট কমে যেতে পারেবিভিন্ন সংক্রমণের সময়ও প্লেটলেট কমতে পারে।বাংলাদেশে বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে প্লেটলেট কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ডেঙ্গুতে প্লেটলেট কমেছে বলেই রোগী গুরুতর অবস্থায় আছেন, এমন সরল হিসাব করা ঠিক নয়। ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় প্লেটলেটের সংখ্যা ছাড়াও রক্তচাপ, পালস, হেমাটোক্রিট, রক্তপাতের লক্ষণ, শরীরে পানি কমে যাওয়ার লক্ষণ এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা হয়।এ ছাড়া কিছু অন্যান্য ভাইরাল ও সংক্রামক রোগেও প্লেটলেট কমতে পারে।৪. লিভারের রোগে প্লেটলেট কমতে পারেদীর্ঘদিনের লিভার রোগ বা লিভার সিরোসিসের সঙ্গে প্লেটলেট কমে যাওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে।সিরোসিসের কারণে পোর্টাল হাইপারটেনশন হলে প্লীহা বড় হয়ে যেতে পারে। তখন প্লেটলেটসহ কিছু রক্তকণিকা প্লীহায় বেশি আটকে থাকতে পারে।ফলে রক্ত পরীক্ষায় প্লেটলেটের সংখ্যা কম দেখা যেতে পারে।তাই কারও দীর্ঘদিনের লিভার রোগের সঙ্গে প্লেটলেট কম থাকলে শুধু প্লেটলেট বাড়ানোর দিকে না তাকিয়ে লিভারের মূল সমস্যাটিও খুঁজে দেখা জরুরি।৫. কিছু ওষুধের কারণে প্লেটলেট কমে যেতে পারেকিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও প্লেটলেট কমতে পারে।তাই রক্ত পরীক্ষায় হঠাৎ প্লেটলেট কমে গেলে রোগী বর্তমানে কী কী ওষুধ খাচ্ছেন, সেটিও চিকিৎসককে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো ওষুধ নিজের সিদ্ধান্তে বন্ধ করা উচিত নয়। চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়ার লক্ষণ কী?থ্রম্বোসাইটোপেনিয়ার লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে একই রকম হয় না।প্লেটলেট সামান্য কম থাকলে অনেক সময় কোনো উপসর্গই দেখা যায় না। রুটিন রক্ত পরীক্ষার সময় ঘটনাটি ধরা পড়ে।অন্যদিকে প্লেটলেট অনেক কমে গেলে বা রক্তপাতের প্রবণতা তৈরি হলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে।ত্বকে ছোট ছোট লাল দাগপায়ের নিচের অংশ বা শরীরের অন্যান্য জায়গায় ছোট ছোট লাল বা বেগুনি দাগ দেখা দিতে পারে। এগুলোকে Petechiae বলা হয়।অনেক সময় এগুলো দেখতে ছোট ছোট ফুসকুড়ির মতো মনে হয়, কিন্তু চাপ দিলে সাধারণত ফ্যাকাশে হয়ে যায় না।সহজে কালশিটে দাগ হওয়াসামান্য আঘাতেই যদি শরীরে বড় কালশিটে দাগ তৈরি হয় বা কোনো কারণ ছাড়াই শরীরে বারবার নীলচে দাগ দেখা যায়, তাহলে বিষয়টি চিকিৎসকের কাছে জানানো উচিত।নাক দিয়ে রক্ত পড়াবারবার বা অস্বাভাবিকভাবে নাক দিয়ে রক্ত পড়া প্লেটলেট কমে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে।তবে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার আরও অনেক কারণ রয়েছে। তাই শুধু এই লক্ষণ দেখে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া ধরে নেওয়া ঠিক নয়।মাড়ি থেকে রক্ত পড়াদাঁত ব্রাশ করার সময় বারবার মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বা অল্প কারণেই মাড়ি থেকে রক্তপাত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাতনারীদের ক্ষেত্রে প্লেটলেট কমে গেলে মাসিকের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বা দীর্ঘসময় রক্তপাত হতে পারে।যদি মাসিকের রক্তপাত হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, বড় বড় রক্তের দলা বের হয় বা খুব দ্রুত প্যাড ভিজে যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।প্রস্রাব বা পায়খানায় রক্তপ্লেটলেট খুব কমে গেলে বা রক্তপাতের প্রবণতা থাকলে প্রস্রাব বা পায়খানায় রক্ত দেখা যেতে পারে।তবে এ ধরনের লক্ষণের আরও অনেক কারণ রয়েছে। তাই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া কতটা বিপজ্জনক?এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।প্লেটলেট কত কমেছে, কেন কমেছে এবং রোগীর কোনো রক্তপাত হচ্ছে কি না—এসবের ওপর ঝুঁকি নির্ভর করে।প্লেটলেট ১ লাখের নিচে নামলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন হতে পারে।৫০ হাজারের নিচে নেমে গেলে কিছু পরিস্থিতিতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে, বিশেষ করে আঘাত বা কিছু চিকিৎসা/প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে।আর ২০ হাজারের নিচে নেমে গেলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গুরুতর রক্তপাতের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।তবে সংখ্যাকে একা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। একজন রোগীর ৩০ হাজার প্লেটলেট হলেও যদি কোনো রক্তপাত না থাকে, তার চিকিৎসা পরিকল্পনা অন্য রোগীর তুলনায় ভিন্ন হতে পারে।আবার কারও প্লেটলেট দ্রুত কমছে বা সক্রিয় রক্তপাত রয়েছে—তাহলে তুলনামূলক বেশি জরুরি ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে।রক্ত পরীক্ষায় প্লেটলেট কম পেলেই কি থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া হয়?সবসময় নয়।কখনো কখনো রক্তের নমুনায় প্লেটলেট একসঙ্গে জমাট বেঁধে গেলে মেশিনে প্লেটলেটের সংখ্যা ভুলভাবে কম দেখাতে পারে। একে Pseudothrombocytopenia বলা হয়।তাই রিপোর্টে প্লেটলেট কম পাওয়া গেলে চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে আবার CBC করতে পারেন বা রক্তের স্মিয়ার পরীক্ষা করতে পারেন।এ কারণেই শুধু একটি রিপোর্ট দেখে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া কীভাবে নির্ণয় করা হয়?প্রথমে সাধারণত Complete Blood Count বা CBC পরীক্ষা করা হয়।CBC-এর মাধ্যমে শুধু প্লেটলেট নয়, হিমোগ্লোবিন, লোহিত রক্তকণিকা ও শ্বেত রক্তকণিকার অবস্থাও জানা যায়।এরপর চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কিছু পরীক্ষা করতে পারেন।যেমন—Peripheral Blood Film/Smearলিভার ফাংশন টেস্টকিডনি ফাংশন টেস্টভাইরাল সংক্রমণের পরীক্ষাভিটামিন বি১২ ও ফোলেটপ্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য ইমিউনোলজিক্যাল পরীক্ষাঅস্থিমজ্জা পরীক্ষা, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেসব রোগীর জন্য সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না।চিকিৎসক রোগীর বয়স, উপসর্গ, অন্যান্য রক্তকণিকার অবস্থা এবং পূর্বের রোগের ইতিহাস দেখে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্বাচন করেন।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়ার চিকিৎসা কী?এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্লেটলেট কমার কারণের চিকিৎসা করা।শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়ানোই সবসময় মূল চিকিৎসা নয়।উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো সংক্রমণের কারণে সাময়িকভাবে প্লেটলেট কমে গেলে সংক্রমণের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।আবার কোনো ওষুধের কারণে প্লেটলেট কমলে চিকিৎসকের পরামর্শে সেই ওষুধ পরিবর্তন করা হতে পারে।ITP-এর মতো রোগে পরিস্থিতি অনুযায়ী স্টেরয়েড বা অন্যান্য ইমিউন-নিয়ন্ত্রণকারী চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।অন্যদিকে গুরুতর রক্তপাত বা নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত পরিস্থিতিতে প্লেটলেট ট্রান্সফিউশনের প্রয়োজন হতে পারে।প্লেটলেট কমলেই কি প্লেটলেট দিতে হয়?না।এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা।প্লেটলেট ট্রান্সফিউশনের সিদ্ধান্ত শুধু প্লেটলেটের একটি সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না।রোগীর—সক্রিয় রক্তপাত আছে কি নাপ্লেটলেটের মাত্রাপ্লেটলেট কেন কমেছেকোনো সার্জারি বা চিকিৎসা প্রক্রিয়া সামনে আছে কি নাসামগ্রিক শারীরিক অবস্থাএসব বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।বিশেষ করে ডেঙ্গুতে শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা কমেছে বলে নিজের ইচ্ছায় প্লেটলেট দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া হলে কী খাবেন?খাবার দিয়ে সব ধরনের থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া সরাসরি চিকিৎসা করা যায় না।তবে রোগীর যদি পুষ্টির ঘাটতি থাকে, বিশেষ করে ভিটামিন বি১২ বা ফোলেটের ঘাটতি থাকে, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য ও সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা চিকিৎসার অংশ হতে পারে।সাধারণভাবে সুষম খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।খাবারের মধ্যে রাখতে পারেন—মাছডিমদুধ ও দুগ্ধজাত খাবারডালশাকসবজিফলমূলবাদাম ও বীজপ্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারতবে কোনো নির্দিষ্ট খাবার খেলে দ্রুত প্লেটলেট বেড়ে যাবে—এমন দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সব ক্ষেত্রে নেই।প্লেটলেট কম থাকলে কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকবেন?প্লেটলেট কম থাকলে আঘাত ও অপ্রয়োজনীয় রক্তপাতের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা উচিত।বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এমন ওষুধ খাবেন না যেগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।ব্যথার ওষুধ বা অন্য কোনো ওষুধ নেওয়ার আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানানো ভালো যে আপনার প্লেটলেট কম।দাঁত ব্রাশ করার সময় নরম ব্রাশ ব্যবহার করা এবং আঘাত লাগতে পারে এমন কাজ থেকে সতর্ক থাকা উপকারী হতে পারে।কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?থ্রম্বোসাইটোপেনিয়ার সঙ্গে নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত—রক্তপাত বন্ধ না হওয়ানাক দিয়ে দীর্ঘসময় রক্ত পড়ামাড়ি থেকে অতিরিক্ত রক্তপাতবমিতে রক্তপায়খানা কালো বা রক্তযুক্ত হওয়াপ্রস্রাবে রক্তঅস্বাভাবিকভাবে বেশি মাসিক রক্তপাতশরীরে দ্রুত অনেক লাল/বেগুনি দাগ ছড়িয়ে পড়ামাথায় আঘাত লাগাপ্রচণ্ড মাথাব্যথা, দুর্বলতা, বিভ্রান্তি বা অন্য কোনো স্নায়বিক উপসর্গবিশেষ করে প্লেটলেট খুব কম থাকার সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, অজ্ঞান হওয়া বা স্নায়বিক পরিবর্তন দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন?প্লেটলেট কমে যাওয়ার কারণ অনেক ধরনের হতে পারে। তাই হেমাটোলজি বা রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।বিশেষ করে যদি—প্লেটলেট বারবার কমে যায়কারণ বোঝা না যায়দীর্ঘদিন ধরে প্লেটলেট কম থাকেশরীরে রক্তপাতের লক্ষণ থাকেঅন্য রক্তকণিকার সংখ্যাও অস্বাভাবিক হয়তাহলে হেমাটোলজিস্টের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।রাজশাহীতে হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারডাঃ রোমেনা আলমএমবিবিএস, এফসিপিএস (হেমাটোলজি)এমফিল (ইমিউনোলজি-বারডেম)রক্ত রোগ ও ব্লাড ক্যান্সার বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপক, হেমাটোলজি বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালবিএমডিসি নং: এ- ৩৩৬৪৫ চেম্বারঃলিভ-হেমাটোলজি সেন্টারলক্ষীপুর, গ্রেটার রোড (জিপিও এর উত্তর পার্শ্বে, ২য় তলা), রাজশাহী। ডাঃ রোমেনা আলম রাজশাহীতে নিয়মিত থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া সহ হেমাটোলজি বিষেয়ে সকল রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেনশিশুদের থ্রম্বোসাইটোপেনিয়াশিশুদেরও থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া হতে পারে। ভাইরাল সংক্রমণের পর অনেক শিশুর সাময়িকভাবে প্লেটলেট কমে যেতে পারে।আবার কিছু শিশুর ITP-এর মতো রোগও হতে পারে।শিশুর শরীরে হঠাৎ ছোট ছোট লাল দাগ, সহজে কালশিটে পড়া, নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত দেখা দিলে রক্ত পরীক্ষা করে কারণ জানা প্রয়োজন।শিশুর প্লেটলেট কম পাওয়া গেলে অভিভাবকদের নিজের সিদ্ধান্তে কোনো ওষুধ না দিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ বা প্রয়োজন হলে শিশু হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।গর্ভাবস্থায় থ্রম্বোসাইটোপেনিয়াগর্ভাবস্থায় কিছু নারীর প্লেটলেট সামান্য কমে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি গর্ভাবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি তুলনামূলক সাধারণ পরিবর্তন হতে পারে।তবে সব প্লেটলেট কমে যাওয়াকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া যাবে না।বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, পেটের ওপরের দিকে ব্যথা বা অন্যান্য অস্বাভাবিক লক্ষণের সঙ্গে প্লেটলেট কম থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া কি প্রতিরোধ করা যায়?সব ধরনের থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কারণ কিছু কারণ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকতে পারে।তবে কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।যেমন—চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করাঅপ্রয়োজনীয় ওষুধ এড়িয়ে চলাভাইরাল সংক্রমণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখাদীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগের চিকিৎসা করাপুষ্টিকর খাবার খাওয়ানিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাসবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, রক্ত পরীক্ষায় বারবার প্লেটলেট কম পাওয়া গেলে বিষয়টি অবহেলা না করা।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্নপ্লেটলেট কত হলে বিপদ?একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে সবার ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায় না। তবে প্লেটলেট যত কমে, বিশেষ করে ২০ হাজারের নিচে গেলে স্বতঃস্ফূর্ত রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সক্রিয় রক্তপাত থাকলে যেকোনো মাত্রাতেই দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।প্লেটলেট কম হলে কি সবসময় রক্তপাত হয়?না। অনেক রোগীর প্লেটলেট কম থাকলেও কোনো রক্তপাত থাকে না।ডেঙ্গু হলে প্লেটলেট কমা কি স্বাভাবিক?ডেঙ্গুতে প্লেটলেট কমতে পারে। তবে শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা দিয়ে ডেঙ্গুর তীব্রতা নির্ধারণ করা যায় না। রোগীর সামগ্রিক অবস্থা ও অন্যান্য পরীক্ষার ফলও গুরুত্বপূর্ণ।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া কি ক্যান্সারের লক্ষণ?সবসময় নয়। সংক্রমণ, ওষুধ, ইমিউন সমস্যা, লিভারের রোগ, পুষ্টির ঘাটতিসহ অনেক কারণেই প্লেটলেট কমতে পারে। তবে কিছু রক্তের ক্যান্সার বা অস্থিমজ্জার রোগেও প্লেটলেট কমতে পারে। তাই কারণ নির্ণয় জরুরি।প্লেটলেট বাড়ানোর জন্য কী খাব?সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ভালো। তবে শুধু কোনো একটি খাবার খেলে দ্রুত প্লেটলেট বেড়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। মূল কারণের চিকিৎসাই গুরুত্বপূর্ণ।প্লেটলেট কম হলে কি ব্যায়াম করা যাবে?প্লেটলেট কত কম এবং রক্তপাতের ঝুঁকি কেমন—তার ওপর নির্ভর করে। প্লেটলেট খুব কম থাকলে আঘাত লাগার সম্ভাবনা বেশি এমন ব্যায়াম এড়িয়ে চলতে হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া শুনলেই ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই, আবার বিষয়টি অবহেলাও করা উচিত নয়। কারণ প্লেটলেট কমে যাওয়ার পেছনে সাধারণ ও সাময়িক কারণ যেমন থাকতে পারে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বা গুরুতর রোগও থাকতে পারে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কেন প্লেটলেট কমেছে, সেটি খুঁজে বের করা।রক্ত পরীক্ষায় প্লেটলেট কম পাওয়া গেলে নিজের মতো করে প্লেটলেট বাড়ানোর ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট বা ঘরোয়া চিকিৎসা শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন হলে হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ রোগীর ইতিহাস, শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করবেন।

08 Sep,2026

blog-image রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ রাজশাহী

ডাঃ রোমেনা আলম

রক্ত রোগ, ব্লাড ক্যান্সার ও থ্যালাসেমিয়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীডাঃ রোমেনা আলমএমবিবিএস, এফসিপিএস (হেমাটোলজি)এমফিল (ইমিউনোলজি-বারডেম)রক্ত রোগ ও ব্লাড ক্যান্সার বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপক, হেমাটোলজি বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালবিএমডিসি নং: এ- ৩৩৬৪৫ডাঃ রোমেনা আলম – রক্ত রোগ ও ব্লাড ক্যান্সার বিশেষজ্ঞডাঃ রোমেনা আলম রাজশাহীর একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ রক্ত রোগ ও ব্লাড ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ। তিনি রক্তের বিভিন্ন জটিল রোগ, রক্তস্বল্পতা এবং ব্লাড ক্যান্সারের আধুনিক পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় অভিজ্ঞ। তিনি এফসিপিএস (হেমাটোলজি) ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি বারডেম থেকে এমফিল (ইমিউনোলজি) সম্পন্ন করেছেন, যা রক্ত ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা-সংক্রান্ত জটিল রোগের চিকিৎসায় তাঁর বিশেষজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।বর্তমানে ডাঃ রোমেনা আলম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগে  সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। রক্তস্বল্পতা থেকে শুরু করে থ্যালাসেমিয়া, প্লাটিলেটের সমস্যা, রক্তক্ষরণজনিত রোগ এবং বিভিন্ন ধরনের ব্লাড ক্যান্সারের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় তিনি বিশেষ পরামর্শ প্রদান করেন। রোগের সঠিক কারণ নির্ণয়, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রদানে তিনি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।শিক্ষাগত যোগ্যতাএমবিবিএসএফসিপিএস (হেমাটোলজি)এমফিল (ইমিউনোলজি – বারডেম)বর্তমান পদবিসহকারী অধ্যাপক, হেমাটোলজি বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালবিশেষজ্ঞতারক্ত রোগ, ব্লাড ক্যান্সার ও থ্যালাসেমিয়া বিশেষজ্ঞবিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বরBMDC Reg. No: A-33645 ডাঃ রোমেনা আলম যেসব রোগ ও সমস্যার চিকিৎসা প্রদান করেন> রক্ত স্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) নির্ণয় ও চিকিৎসা।অ্যানিমিয়া হলে শরীরে রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়।এতে দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।আয়রনের ঘাটতি, ভিটামিনের অভাব বা বিভিন্ন রোগের কারণে অ্যানিমিয়া হয়।সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা করা জরুরি। > থ্যালাসেমিয়া হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তরোগ, যেখানে শরীরে স্বাভাবিকভাবে হিমোগ্লোবিন তৈরি ব্যাহত হয়।হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়ায় লোহিত রক্তকণিকা স্বাভাবিক সময়ের আগেই ভেঙে যায়।এতে দুর্বলতা, ফ্যাকাশে ভাব, জন্ডিস, ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।> লিউকেমিয়া লিউকেমিয়া একটি রক্তের ক্যান্সার, যেখানে অস্বাভাবিক শ্বেত রক্তকণিকা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়।এতে দুর্বলতা, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, ফ্যাকাশে ভাব, বারবার সংক্রমণ ও সহজে রক্তপাত হয়।রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্রয়োজন অনুযায়ী বোন ম্যারো পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়।দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসার জন্য হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। >লিম্ফোমা লিম্ফোমা হলো লিম্ফ সিস্টেমের এক ধরনের ক্যান্সার, যা লিম্ফোসাইট নামের শ্বেত রক্তকণিকায় শুরু হয়।এতে গলা, বগল বা কুঁচকিতে ব্যথাহীন গিঁট, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর ও অকারণে ওজন কমতে পারে।এছাড়া অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা ও বারবার সংক্রমণের মতো উপসর্গও দেখা দেয়। >মাল্টিপল মাইলোমা  মাল্টিপল মাইলোমা হলো বোনম্যারোর প্লাজমা সেল থেকে উৎপন্ন এক ধরনের রক্তের ক্যান্সার।এতে হাড়ে ব্যথা, দুর্বলতা, রক্তস্বল্পতা ও বারবার সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।কিছু রোগীর কিডনির সমস্যা এবং রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো জটিলতাও দেখা দেয়। > প্লেটলেট কমে যাওয়া (থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া) থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া হলো রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়ার একটি অবস্থা।এতে সহজে রক্তপাত, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বা শরীরে লালচে দাগ দেখা দেয় ।বিভিন্ন সংক্রমণ, ওষুধ, বোনম্যারোর সমস্যা বা অন্যান্য রোগের কারণে প্লেটলেট কমে যায়। > হিমোফিলিয়া ও অন্যান্য জন্মগত রক্ত ক্ষরণ রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা।> রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা (Bleedinal/Clotting Disoraders)> গর্ভকালীন রক্তস্বল্পতাগর্ভকালীন রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) হলো গর্ভাবস্থায় রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়া।এতে অতিরিক্ত দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি গর্ভকালীন অ্যানিমিয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।সময়মতো রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য জরুরি।  স্পেশাল সেবা সমূহঃ>ব্যথামুক্ত বোনম্যারো ও ট্রেফাইন পরীক্ষাবোনম্যারো ও ট্রেফাইন পরীক্ষা রক্তের বিভিন্ন রোগ ও ব্লাড ক্যান্সার নির্ণয়ে করা হয়।আধুনিক পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট জায়গায় অবশ করার ওষুধ (অ্যানেস্থেশিয়া) প্রয়োগ করে পরীক্ষা করা হয়, তাই সাধারণত তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় না।পরীক্ষার মাধ্যমে বোনম্যারোর রক্তকণিকা তৈরির অবস্থা ও অস্বাভাবিক কোষের উপস্থিতি নির্ণয় করা যায়।সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পরিকল্পনার জন্য হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞরা এই পরীক্ষা করে থাকেন। >থ্যালাসেমিয়া রোগের কাউন্সিলিং>ব্লাড ক্যান্সার রোগীদের যত্ন সহকারে কেমোথেরাপির সু-ব্যবস্থা।চেম্বার ও রোগী দেখার সময়চেম্বারঃলিভ- হেমাটোলজি সেন্টারঠিকানা: লক্ষ্মীপুর, গ্রেটার রোড (জিপিও-এর উত্তর পার্শ্বে, ২য় তলা), রাজশাহী।রোগী দেখার সময়ঃ শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ২:০০টা থেকে রাত ৮:০০টা পর্যন্তরাজশাহীতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor Service  BD এর মাধ্যমেহটলাইন নম্বঃ ০১৭২৩-০২৫৫১৪

05 Sep,2026

blog-image গ্যাস্ট্রোলিভার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী

লিভার সিরোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ ও রাজশাহীতে চিকিৎসা

লিভার সিরোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ কী, কেন লিভার সিরোসিস হয়, কখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে এবং রাজশাহীতে চিকিৎসার জন্য কী করবেন—জানুন বিস্তারিত।লিভার সিরোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ ও রাজশাহীতে চিকিৎসাআমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো লিভার বা যকৃত। খাবার হজম করা থেকে শুরু করে শরীরের ক্ষতিকর উপাদান প্রক্রিয়াজাত করা, শক্তি সংরক্ষণ করা এবং শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনায় লিভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।কিন্তু বিভিন্ন কারণে লিভার দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলে ধীরে ধীরে লিভারের স্বাভাবিক কোষের জায়গায় ক্ষত বা শক্ত টিস্যু তৈরি হতে পারে। এই দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত ও পরিবর্তনের অবস্থাকেই সাধারণভাবে লিভার সিরোসিস বলা হয়।লিভার সিরোসিসের বড় একটি সমস্যা হলো—শুরুতে অনেক রোগীর তেমন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। কেউ কেউ দীর্ঘদিন শুধু দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা বা হজমের সমস্যাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। অথচ এ সময়েই লিভারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সঠিক কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।এই লেখায় লিভার সিরোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ ও রাজশাহীতে চিকিৎসা বিষয়ে সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা করা হলো, যাতে প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এবং কখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে তা বোঝা সহজ হয়।লিভার সিরোসিস কী?লিভার কোনো কারণে দীর্ঘদিন ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীর সেই ক্ষতি পূরণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু ক্ষতি যদি বারবার বা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে লিভারের স্বাভাবিক টিস্যুর জায়গায় ধীরে ধীরে শক্ত ও ক্ষতযুক্ত টিস্যু তৈরি হতে পারে।এ অবস্থায় লিভারের স্বাভাবিক গঠন ও কাজ ব্যাহত হতে শুরু করে।সহজভাবে বলা যায়, দীর্ঘদিনের লিভার ক্ষতির ফলে লিভার ধীরে ধীরে শক্ত ও ক্ষতযুক্ত হয়ে যাওয়ার অবস্থাকে সিরোসিস বলা হয়।সিরোসিস সাধারণত একদিনে তৈরি হয় না। অনেক বছর ধরে লিভারের ক্ষতি চলার পর এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।লিভার সিরোসিস কেন হয়?লিভার সিরোসিসের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। একজন রোগীর ক্ষেত্রে যে কারণে সিরোসিস হয়েছে, অন্য রোগীর ক্ষেত্রে কারণটি ভিন্ন হতে পারে।দীর্ঘদিনের ভাইরাল হেপাটাইটিসহেপাটাইটিস বি বা হেপাটাইটিস সি ভাইরাস দীর্ঘদিন লিভারে সংক্রমণ ও প্রদাহ সৃষ্টি করলে লিভার ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।সব হেপাটাইটিস আক্রান্ত ব্যক্তির সিরোসিস হবে এমন নয়। তবে দীর্ঘদিন সংক্রমণ থাকলে নিয়মিত চিকিৎসা ও ফলোআপ গুরুত্বপূর্ণ।ফ্যাটি লিভার রোগবর্তমানে ফ্যাটি লিভার একটি খুব পরিচিত সমস্যা। শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার পাশাপাশি লিভারেও চর্বি জমতে পারে।কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভার ধীরে ধীরে প্রদাহ ও লিভারের ক্ষতির দিকে যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে লিভারের প্রদাহ চলতে থাকলে কিছু রোগীর সিরোসিস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের সম্পর্ক থাকতে পারে।দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণদীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ লিভারের ক্ষতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।অ্যালকোহলজনিত লিভার রোগ ধীরে ধীরে গুরুতর পর্যায়ে যেতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে সিরোসিস তৈরি হতে পারে।অটোইমিউন ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগকিছু মানুষের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা লিভার বা পিত্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়াও কিছু বংশগত ও বিপাকীয় রোগ দীর্ঘদিন ধরে লিভারের ক্ষতি করতে পারে।এ কারণে সিরোসিসের কারণ নির্ণয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রোগের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভিন্ন হতে পারে।লিভার সিরোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ কী?সিরোসিসের শুরুতে অনেক রোগীর কোনো লক্ষণই নাও থাকতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা দেয়, যেগুলো অন্য অনেক রোগেও হতে পারে।এ কারণেই শুধু একটি লক্ষণ দেখে সিরোসিস নির্ণয় করা সম্ভব নয়। তবে নিচের সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।১. সহজেই ক্লান্ত হয়ে যাওয়াআগে যে কাজ সহজে করতে পারতেন, এখন অল্প কাজেই ক্লান্ত লাগছে—এমন সমস্যা অনেক রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে।সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও শরীর ভারী লাগা বা সারাদিন দুর্বল অনুভব করা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে লিভারের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাও একটি সম্ভাব্য কারণ।তবে শুধু দুর্বলতা মানেই লিভার সিরোসিস নয়। রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েড সমস্যা, ঘুমের অভাবসহ বিভিন্ন কারণেও এমন হতে পারে।২. ক্ষুধা কমে যাওয়ালিভারের সমস্যা হলে অনেকের খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।অল্প খাবার খেয়েই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি হতে পারে। খাবার দেখলে ভালো না লাগা বা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুধা কমে যাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।বিশেষ করে ক্ষুধা কমার সঙ্গে দুর্বলতা ও ওজন কমে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।৩. অকারণে ওজন কমে যাওয়াখাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামে বড় কোনো পরিবর্তন না করেও যদি শরীরের ওজন কমতে থাকে, তাহলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।লিভারের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে ওজন কমতে পারে।৪. বমি বমি ভাব বা হজমের সমস্যালিভারের সমস্যায় কিছু মানুষের বমি বমি ভাব, খাবারে অরুচি বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।তবে এসব সমস্যা গ্যাস্ট্রিক, পাকস্থলী বা অন্যান্য রোগের কারণেও হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে পরীক্ষা ছাড়া শুধু গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে থাকা উচিত নয়।৫. পেটের ডান দিকে অস্বস্তিলিভার পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে অবস্থিত।কিছু লিভার রোগে এই অংশে ভারী লাগা, চাপ চাপ অনুভূতি বা অস্বস্তি হতে পারে। তবে সিরোসিসের সব রোগীর ক্ষেত্রে ব্যথা থাকবে এমন নয়।লিভার সিরোসিসের গুরুতর লক্ষণ সিরোসিস অগ্রসর হলে শরীরে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে।এগুলো দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়াচোখের সাদা অংশ বা ত্বক হলুদ হয়ে গেলে সেটিকে জন্ডিসের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত হলে রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে গিয়ে এমন হতে পারে।তবে সব জন্ডিসের কারণ সিরোসিস নয়। ভাইরাল সংক্রমণ, পিত্তনালির বাধা এবং অন্যান্য কারণেও জন্ডিস হতে পারে।পেট ফুলে যাওয়াসিরোসিসের কারণে কিছু রোগীর পেটের ভেতরে পানি জমতে পারে। এই অবস্থাকে Ascites বলা হয়।পেট অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে পারে এবং সঙ্গে পা ফুলে যাওয়ার সমস্যাও থাকতে পারে।এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়ালিভারের গুরুতর সমস্যার কারণে শরীরে তরল জমে পা, গোড়ালি বা শরীরের অন্য অংশ ফুলে যেতে পারে।তবে হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা এবং অন্যান্য কারণেও পা ফুলতে পারে। তাই কারণ নির্ণয় করা জরুরি।সহজে রক্তপাত বা শরীরে নীলচে দাগ হওয়ালিভার রক্ত জমাট বাঁধার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরিতে ভূমিকা রাখে।লিভারের কার্যকারিতা গুরুতরভাবে কমে গেলে কারও কারও সহজে রক্তপাত হতে পারে বা শরীরে সহজে নীলচে দাগ দেখা দিতে পারে।মানসিক বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক আচরণসিরোসিসের গুরুতর পর্যায়ে লিভার শরীরের কিছু ক্ষতিকর পদার্থ যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে না পারলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।এ অবস্থায়—ঘুমের ধরন পরিবর্তনঅস্বাভাবিক আচরণমনোযোগ কমে যাওয়াবিভ্রান্তিঅতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাবদেখা দিতে পারে।এ ধরনের লক্ষণকে জরুরি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।লিভার সিরোসিস কীভাবে নির্ণয় করা হয়?শুধু উপসর্গ দেখে লিভার সিরোসিস নিশ্চিত করা যায় না।চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ, পূর্বের রোগের ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করে রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করেন।প্রয়োজনে নিচের পরীক্ষা করা হতে পারে।লিভার ফাংশন টেস্টরক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে লিভারের কার্যকারিতা এবং লিভারের ক্ষতির বিভিন্ন সূচক দেখা হয়।তবে শুধু লিভার ফাংশন টেস্টের ফলাফল দিয়ে সিরোসিসের অবস্থা সবসময় নির্ণয় করা যায় না।আল্ট্রাসনোগ্রামলিভারের আকার, গঠন এবং পেটের ভেতরের অন্যান্য পরিবর্তন দেখার জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হতে পারে।এতে পেটে পানি জমেছে কি না, লিভারের গঠনে পরিবর্তন হয়েছে কি না—এসব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।ফাইব্রোস্ক্যানকিছু রোগীর ক্ষেত্রে লিভারের শক্তভাব বা ফাইব্রোসিসের মাত্রা মূল্যায়নের জন্য FibroScan করা হতে পারে।চিকিৎসক রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী এই পরীক্ষা পরামর্শ দিতে পারেন।ভাইরাল হেপাটাইটিস পরীক্ষাহেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাসের সংক্রমণ আছে কি না, তা জানার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হতে পারে।কারণ সিরোসিসের চিকিৎসায় মূল কারণ চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।অন্যান্য পরীক্ষারোগীর অবস্থা অনুযায়ী আরও বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষা, ইমেজিং পরীক্ষা বা বিশেষ পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।কোন পরীক্ষা প্রয়োজন হবে তা রোগীর উপসর্গ ও চিকিৎসকের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে।লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?অনেকেই জানতে চান—লিভার সিরোসিস কি সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়?এর উত্তর নির্ভর করে রোগের কারণ, সিরোসিসের পর্যায় এবং লিভারের ক্ষতির মাত্রার ওপর।চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য সাধারণত—সিরোসিসের কারণ নিয়ন্ত্রণ করালিভারের আরও ক্ষতি কমানোজটিলতা প্রতিরোধ করারোগীর জীবনমান ভালো রাখারোগের মূল কারণের চিকিৎসাযদি হেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাসের কারণে লিভারের সমস্যা হয়, তাহলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা দিতে পারেন।যদি ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যা থাকে, তাহলে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ।অর্থাৎ, শুধু সিরোসিসের উপসর্গ নয়—এর পেছনের কারণটিও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।পেটে পানি জমলে চিকিৎসাসিরোসিসের কারণে পেটে পানি জমলে চিকিৎসক রোগীর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ওষুধ, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য চিকিৎসার পরিকল্পনা করতে পারেন।নিজে থেকে পানি কমানোর ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনসিরোসিসের রোগীদের খাদ্যাভ্যাস রোগের অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।সব রোগীর জন্য একই ধরনের খাদ্যতালিকা উপযুক্ত নয়।কিছু রোগীর লবণ গ্রহণ সীমিত করতে হতে পারে। আবার অনেকের পর্যাপ্ত পুষ্টি ও প্রোটিন নিশ্চিত করার প্রয়োজন হতে পারে।তাই ইন্টারনেট থেকে পাওয়া যেকোনো ডায়েট অনুসরণ করার পরিবর্তে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।লিভার সিরোসিসের রোগী কি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন?রোগের পর্যায় ও চিকিৎসার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।অনেক রোগী সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়, কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা এবং নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—রোগটি কতটা অগ্রসর হয়েছে এবং লিভারের ক্ষতির কারণ কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে।লিভার সিরোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?যদি দীর্ঘদিন ধরে—দুর্বলতাক্ষুধামন্দাঅকারণে ওজন কমাবমি বমি ভাবপেটের ডান পাশে অস্বস্তিএর মতো সমস্যা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।বিশেষ করে আগে থেকে যদি—হেপাটাইটিস বি বা সি থাকেফ্যাটি লিভার থাকেলিভারের এনজাইম দীর্ঘদিন বেশি থাকেপরিবারের কারও দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগের ইতিহাস থাকেতাহলে নিয়মিত চিকিৎসকের ফলোআপ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।রাজশাহীতে লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা লিভার সিরোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ ও রাজশাহীতে চিকিৎসা নিয়ে চিন্তিত হলে প্রথম কাজ হলো সঠিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।লিভারের দীর্ঘমেয়াদি রোগের জন্য সাধারণত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও হেপাটোলজি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীর মূল্যায়ন ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।রাজশাহীতে লিভার সিরোসিসের চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পরীক্ষা, নিয়মিত ফলোআপ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় আগের—রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টআল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টহেপাটাইটিস পরীক্ষার রিপোর্টফাইব্রোস্ক্যান রিপোর্ট থাকলেব্যবহৃত ওষুধের তালিকাসঙ্গে নিয়ে গেলে চিকিৎসকের জন্য রোগের অবস্থা বুঝতে সুবিধা হয়।রাজশাহীতে লিভার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারডাঃ মাহাফুজ্জামানএমবিবিএস,এমডি গ্যাস্ট্রোএস্টারোলোজী (বিএসএমএমইউ)পরিপাকতন্ত্র, লিভার ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যপক (গ্যাস্ট্রো-এস্টারোলোজী)ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ, রাজশাহীসহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মনজুরুল চৌধুরীএমবিবিএস(ঢাকা), বিসিএস,এফসিপিএস(মেডিসিন)এমডি(গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী)সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী বিভাগ)রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ,রাজশাহীডাঃ মোঃ আব্দুল মুমিত সরকারএমবিবিএস, বিসিএস,এমডি(গ্যাষ্ট্রোএন্টারোলজী), সিসিডি(বারডেম), বিএসএমএমইউলিভার, পরিপাকতন্ত্র, প্যানক্রিয়াস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপকরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলামএমবিবিএস, বিসিএস,সিসিডি, এমডি(গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী)সহাকারী অধ্যাপক, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী বিভাগপরিপাকতন্ত্র, অগ্নাশয় ও লিভার রোগ বিশেষজ্ঞরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালডাঃ মোঃ তানভীর রহমান (রাশেদ)এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমডি (হেপাটোলজি)লিভার ও পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞথেরাপিউটিক এন্ডোসকোপিস্টরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালবিএমডিসি রেজিঃ নং-এ-৬৭৬৬৬ডাঃ মোঃ মামুন-উর রশিদএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমসিপিএস(মেডিসিন),এমএসিপি(আমেরিকা),এমডি (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি)গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপক ( গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি )রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহীকখন জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন?লিভার সিরোসিসের রোগীর নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে—বমির সঙ্গে রক্ত বের হওয়াকালো বা রক্তযুক্ত পায়খানাহঠাৎ বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক আচরণঅতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়াশ্বাসকষ্টপেট হঠাৎ দ্রুত ফুলে যাওয়াজ্বরের সঙ্গে পেট ব্যথাতীব্র দুর্বলতাএ ধরনের লক্ষণ সিরোসিসের জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।লিভার সিরোসিস নিয়ে সাধারণ প্রশ্নলিভার সিরোসিসের প্রথম লক্ষণ কী?শুরুতে অনেকের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নাও থাকতে পারে। কারও কারও দুর্বলতা, ক্ষুধা কমে যাওয়া, ওজন কমা, বমি বমি ভাব বা পেটের ডান দিকে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।লিভার সিরোসিস কি সম্পূর্ণ ভালো হয়?এটি রোগের কারণ ও লিভারের ক্ষতির পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসার মাধ্যমে মূল কারণ নিয়ন্ত্রণ এবং জটিলতা কমানোর চেষ্টা করা হয়।ফ্যাটি লিভার থেকে কি সিরোসিস হতে পারে?কিছু রোগীর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ফ্যাটি লিভার ও প্রদাহ লিভারের ক্ষতির দিকে অগ্রসর হতে পারে। তাই ফ্যাটি লিভারকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাত্রা ও অন্যান্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।সিরোসিস রোগী কি খাবার খেতে পারবেন?হ্যাঁ। বরং পর্যাপ্ত ও সঠিক পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে রোগের অবস্থা অনুযায়ী খাদ্যতালিকা পরিবর্তন করতে হতে পারে।রাজশাহীতে লিভার সিরোসিসের চিকিৎসার জন্য কোন বিশেষজ্ঞ দেখাবেন?লিভারের দীর্ঘমেয়াদি রোগ ও সিরোসিসের জন্য গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বা হেপাটোলজি বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।লিভার সিরোসিস সম্পর্কে সচেতনতা রোগটি দ্রুত শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা বা হজমের সমস্যাকে সবসময় সাধারণ সমস্যা ধরে নেওয়া ঠিক নয়—বিশেষ করে যদি সমস্যা দীর্ঘদিন থাকে বা আগে থেকেই লিভারের কোনো রোগ থাকে।লিভার সিরোসিসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়মতো রোগের কারণ শনাক্ত করা এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা ও ফলোআপ করা।লিভারের সমস্যাকে অবহেলা নয়—প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করুন, কারণ নির্ণয় করুন এবং সময়মতো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

04 Sep,2026

blog-image শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ রাজশাহী

নবজাতকের সার্জারি প্রয়োজন হয় কখন

নবজাতকের সার্জারি প্রয়োজন হয় কখন, কোন জন্মগত সমস্যা ও লক্ষণে অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে, কখন দ্রুত শিশু সার্জনের কাছে যেতে হবে—বিস্তারিত জানুন।নবজাতকের সার্জারি প্রয়োজন হয় কখনসন্তান জন্মের পর প্রতিটি পরিবারই চায় নবজাতক সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকুক। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে জন্মের পর শিশুর শরীরে এমন কিছু সমস্যা দেখা দেয়, যেগুলোর চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন হয়। কিছু সমস্যা ওষুধ বা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও, কিছু জন্মগত ত্রুটি বা জটিল অবস্থায় সার্জারি বা অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।অনেক বাবা-মায়ের মনেই প্রশ্ন থাকে—নবজাতকের সার্জারি প্রয়োজন হয় কখন?সব নবজাতকেরই যে সার্জারি প্রয়োজন হবে, বিষয়টি এমন নয়। নবজাতকের সার্জারি সাধারণত তখন বিবেচনা করা হয়, যখন শরীরের কোনো অঙ্গ স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয়নি, কোনো পথ বন্ধ রয়েছে, খাবার বা মল স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না অথবা জন্মগত কোনো সমস্যার কারণে শিশুর জীবন ও স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রম ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।নবজাতকের ক্ষেত্রে সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জীবনের প্রথম কয়েক দিন ও কয়েক সপ্তাহে শিশুর শরীর খুবই সংবেদনশীল থাকে। কিছু সমস্যায় দেরি হলে জটিলতা বাড়তে পারে। তাই জন্মের পর শিশুর মধ্যে অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞ বা নবজাতক ও শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।নবজাতকের সার্জারি কী?নবজাতক সার্জারি হলো জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহের শিশুর বিভিন্ন সার্জিক্যাল সমস্যার চিকিৎসা।নবজাতক বয়সে কিছু শিশু জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মাতে পারে। আবার কিছু সমস্যা জন্মের আগে শনাক্ত না হলেও জন্মের পর লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে।শিশুর—খাদ্যনালীপাকস্থলীঅন্ত্রমলদ্বারপেটের দেয়ালফুসফুসের আশপাশের গঠনমূত্রনালিযৌনাঙ্গশরীরের অন্যান্য অঙ্গসংক্রান্ত কিছু জন্মগত সমস্যায় সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।তবে মনে রাখা জরুরি, কোনো শিশুর একটি জন্মগত সমস্যা থাকলেই সঙ্গে সঙ্গে অপারেশন করতে হবে—এমন নয়। সমস্যার ধরন, তীব্রতা এবং শিশুর শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন কখন এবং কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন।সার্জারি কখন করতে হয় সাধারণভাবে বলা যায়, নবজাতকের কোনো অঙ্গ বা শরীরের স্বাভাবিক পথ যদি জন্মগত কারণে সঠিকভাবে কাজ না করে এবং সেটি ওষুধ বা সাধারণ চিকিৎসায় ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে।উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—১. জন্মের পর মল না হলেনবজাতকের জন্মের পর পায়খানা হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জন্মের পর দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও যদি শিশুর মল না হয়, পেট ফুলে যায় বা বমি শুরু হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হয়।এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অন্ত্রের জন্মগত বাধা অথবা মলদ্বারের জন্মগত গঠনগত সমস্যার কারণে এমন হতে পারে।যে লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারেজন্মের পর মল না হওয়াপেট ফুলে যাওয়াবমি হওয়াখেতে না চাওয়াঅস্বাভাবিক অস্বস্তিএই ধরনের সমস্যা থাকলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করেন। কিছু ক্ষেত্রে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।২. মলদ্বারের জন্মগত সমস্যাকিছু নবজাতক এমন জন্মগত সমস্যা নিয়ে জন্মাতে পারে, যেখানে মলদ্বার স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয়নি বা মল বের হওয়ার পথ স্বাভাবিক নয়।এ ধরনের সমস্যাকে সাধারণভাবে Anorectal Malformation বলা হয়।জন্মের পর শিশুর মল না হওয়া বা মলদ্বারের গঠন অস্বাভাবিক মনে হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।সমস্যার ধরন অনুযায়ী শিশুর সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসার ধরন এক ধাপে সম্পন্ন হয়, আবার কিছু জটিল সমস্যায় ধাপে ধাপে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।৩. খাদ্যনালীতে জন্মগত সমস্যা থাকলেকিছু নবজাতকের ক্ষেত্রে খাবার মুখ থেকে পাকস্থলীতে যাওয়ার পথ স্বাভাবিকভাবে তৈরি নাও হতে পারে।এ ধরনের সমস্যায় শিশুকে খাওয়ানোর পর—বারবার কাশি হতে পারেদম আটকে আসতে পারেমুখে বা নাকে দুধ উঠে আসতে পারেশ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারেএ ধরনের লক্ষণকে সাধারণ বমি বা দুধ উঠে আসার সমস্যা মনে করে অবহেলা করা উচিত নয়।জন্মগত খাদ্যনালির কিছু সমস্যায় দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসা এবং সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।৪. পাকস্থলী থেকে খাবার বের হওয়ার পথে বাধা থাকলেকিছু শিশুর পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে খাবার যাওয়ার পথে বাধা তৈরি হতে পারে।এর একটি পরিচিত উদাহরণ হলো Pyloric Stenosis।এ ধরনের সমস্যায় শিশুকে দুধ খাওয়ানোর কিছু সময় পর বারবার জোরে বমি হতে পারে। শিশুর ওজন বাড়তে সমস্যা হতে পারে এবং শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।সব বমি সার্জারির কারণে হয় না। কিন্তু নবজাতক বা অল্প বয়সী শিশুর বারবার বমি হলে অবশ্যই কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।৫. অন্ত্রে জন্মগত বাধা থাকলেকিছু শিশুর অন্ত্রের একটি অংশ জন্মগতভাবে সরু, বন্ধ বা সঠিকভাবে তৈরি না হতে পারে।এতে খাবার বা অন্ত্রের ভেতরের পদার্থ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না।সম্ভাব্য লক্ষণপেট ফুলে যাওয়াজন্মের পর মল না হওয়াবারবার বমিসবুজ বা হলুদাভ বমিখেতে না পারাএ ধরনের লক্ষণ থাকলে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।কিছু জন্মগত অন্ত্রের সমস্যায় সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।৬. পেটের দেয়ালের জন্মগত ত্রুটিকিছু নবজাতকের ক্ষেত্রে পেটের দেয়াল স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয় না। ফলে পেটের ভেতরের কোনো অঙ্গ বা অন্ত্র শরীরের বাইরে অবস্থান করতে পারে।এ ধরনের সমস্যা সাধারণত জন্মের সময়ই চোখে পড়ে।এটি গুরুতর একটি অবস্থা হতে পারে এবং দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সমস্যার ধরন ও শিশুর শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সার্জারি করা হতে পারে।৭. ডায়াফ্রামের জন্মগত সমস্যাডায়াফ্রাম হলো বুক ও পেটের মাঝখানে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশি, যা শ্বাস-প্রশ্বাসে ভূমিকা রাখে।কিছু শিশুর ক্ষেত্রে জন্মগতভাবে ডায়াফ্রামে ছিদ্র বা দুর্বলতা থাকতে পারে। ফলে পেটের কিছু অঙ্গ বুকের দিকে চলে যেতে পারে এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।এ ধরনের শিশুর জন্মের পর শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।এই ধরনের সমস্যায় নবজাতকের অবস্থা স্থিতিশীল করার পাশাপাশি বিশেষায়িত চিকিৎসা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সার্জারি করা হতে পারে।৮. নবজাতকের জন্মগত হার্নিয়াশিশুর পেটের দেয়ালের দুর্বল জায়গা দিয়ে কোনো অঙ্গ বেরিয়ে এলে হার্নিয়া হতে পারে।নবজাতক ও ছোট শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের হার্নিয়া দেখা যায়।বিশেষ করে কুঁচকির কাছে বা অণ্ডথলিতে অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দিলে শিশু সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত।সব ধরনের ফোলা হার্নিয়া নয়। তাই পরীক্ষা ছাড়া নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিতে পারেন, আবার কিছু হার্নিয়ায় জটিলতা এড়াতে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে।৯. নবজাতকের প্রস্রাবের পথে গুরুতর সমস্যাকিছু শিশুর মূত্রনালির জন্মগত সমস্যা থাকতে পারে।যদি শিশুর প্রস্রাব করতে অসুবিধা হয়, প্রস্রাব খুব কম হয়, পেট অস্বাভাবিক ফুলে যায় বা যৌনাঙ্গের গঠন স্বাভাবিক মনে না হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।কিছু সমস্যায় শিশু ইউরোলজি বা শিশু সার্জারির বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।১০. জন্মগত হাইড্রোসিল ও অণ্ডকোষের সমস্যাছেলে শিশুর অণ্ডথলি অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকলে সেটি হাইড্রোসিলসহ বিভিন্ন কারণে হতে পারে।আবার কোনো শিশুর একটি বা দুটি অণ্ডকোষ অণ্ডথলিতে না থাকতে পারে।এ ধরনের সমস্যায় সবসময় জন্মের পরপরই অপারেশন করতে হয় না। শিশুর বয়স ও সমস্যার ধরন অনুযায়ী শিশু সার্জন চিকিৎসার পরিকল্পনা করেন।তাই শিশুর অণ্ডথলি বা যৌনাঙ্গের গঠনে অস্বাভাবিকতা মনে হলে চিকিৎসকের কাছে দেখানো উচিত।আরও পড়ুনঃ শিশু সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীনবজাতকের কোন লক্ষণ দেখলে দ্রুত শিশু সার্জনের পরামর্শ নেবেন?নবজাতকের সমস্যা সবসময় মুখে বলে বোঝার সুযোগ নেই। তাই অভিভাবকদের শিশুর আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তনের দিকে খেয়াল রাখতে হয়।নিচের লক্ষণগুলোর কোনোটি থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।বারবার বমিবিশেষ করে শিশুর প্রতিবার খাওয়ার পর বমি হলে বা বমির পরিমাণ বেশি হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।সবুজ রঙের বমি হলে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত এবং দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলেনবজাতকের পেট কিছুটা নরম ও স্বাভাবিক দেখাতে পারে। কিন্তু পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে, শক্ত হয়ে গেলে বা শিশুর অস্বস্তি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।জন্মের পর মল না হলেজন্মের পর শিশুর মল না হওয়া এবং এর সঙ্গে পেট ফুলে যাওয়া বা বমি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।শিশুকে খাওয়াতে সমস্যা হলেশিশু দুধ খেতে না পারা, খাওয়ার সময় বারবার দম আটকে আসা বা খাওয়ার পর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।শ্বাসকষ্ট হলেনবজাতকের শ্বাসকষ্টের অনেক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে কিছু জন্মগত সমস্যাও রয়েছে।শিশুর দ্রুত শ্বাস নেওয়া, বুক দেবে যাওয়া, ঠোঁট নীলচে হওয়া বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি।নবজাতকের সার্জারির আগে কী কী পরীক্ষা করা হতে পারে?সমস্যার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা দিতে পারেন।যেমন—রক্ত পরীক্ষাআল্ট্রাসনোগ্রামএক্স-রেইকোকার্ডিওগ্রামবিশেষ ধরনের ইমেজিং পরীক্ষাসব শিশুর জন্য একই পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না।কোন পরীক্ষা প্রয়োজন হবে তা নির্ভর করে শিশুর কী ধরনের সমস্যা হয়েছে তার ওপর।নবজাতকের সার্জারি কি ঝুঁকিপূর্ণ?নবজাতকের শরীর অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সার্জারি অবশ্যই বিশেষ যত্নের বিষয়।তবে বর্তমানে শিশু সার্জারি, অ্যানেস্থেশিয়া, নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা এবং চিকিৎসা প্রযুক্তির উন্নতির কারণে অনেক জটিল সার্জারিও সফলভাবে করা সম্ভব হচ্ছে।তবুও প্রতিটি অপারেশনের কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকি থাকে। ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে—শিশুর বয়স ও ওজনরোগের ধরনসমস্যার জটিলতাশিশুর অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা আছে কি নাঅপারেশন কতটা জটিলএসব বিষয়ের ওপর।সার্জারির আগে চিকিৎসক অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেন।সার্জারির পর নবযাতকের কিভাবে যত্ন নিবেন?অপারেশনের পর শিশুর যত্নও চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।কিছু নবজাতকের সার্জারির পর কিছুদিন বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখতে হতে পারে। প্রয়োজনে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হয়।সার্জারির পর চিকিৎসক সাধারণত শিশুর—শ্বাস-প্রশ্বাসশরীরের তাপমাত্রাদুধ খাওয়ার ক্ষমতাপেটের কার্যক্রমপ্রস্রাব ও মলত্যাগঅপারেশনের স্থানপর্যবেক্ষণ করেন।বাড়িতে যাওয়ার পর ওষুধ, দুধ খাওয়ানো এবং ফলোআপের বিষয়ে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।নবজাতকের সার্জারি নিয়ে অভিভাবকদের যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিতনবজাতকের কোনো অস্বাভাবিক সমস্যা দেখা দিলে অনেক সময় পরিবার প্রথমে অপেক্ষা করে দেখতে চায়।কিছু ক্ষেত্রে অপেক্ষা করা নিরাপদ হতে পারে, কিন্তু সব সমস্যার ক্ষেত্রে নয়।নিচের ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত—১. গুরুতর লক্ষণকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অপেক্ষা করাবারবার বমি, পেট ফুলে যাওয়া বা মল না হওয়ার মতো সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।২. নিজের ইচ্ছায় ওষুধ দেওয়ানবজাতককে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেওয়া উচিত নয়।৩. লোকজ চিকিৎসার ওপর নির্ভর করাজন্মগত বা সার্জিক্যাল সমস্যা লোকজ চিকিৎসায় ঠিক হওয়ার অপেক্ষায় সময় নষ্ট করা বিপজ্জনক হতে পারে।৪. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে খাওয়ানো বন্ধ করাকিছু সার্জিক্যাল সমস্যায় খাওয়ানোর বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা প্রয়োজন হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন।Frequently Asked Questions ১. নবজাতকের সার্জারি প্রয়োজন হয় কখন?যখন শিশুর কোনো জন্মগত সমস্যা, অঙ্গের গঠনগত ত্রুটি বা শরীরের স্বাভাবিক কোনো পথ বন্ধ থাকার কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং সাধারণ চিকিৎসায় সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তখন সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে।২. জন্মের পর শিশু পায়খানা না করলে কি সার্জারি লাগবে?সবসময় নয়। তবে জন্মের পর দীর্ঘসময় মল না হওয়া, পেট ফুলে যাওয়া বা বমির সঙ্গে এই সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ নির্ণয়ের পর চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেবেন সার্জারি প্রয়োজন কি না।৩. নবজাতকের বারবার বমি কি বিপজ্জনক?সব বমি বিপজ্জনক নয়। তবে বারবার বমি, জোরে বমি, সবুজ বমি, খেতে না পারা বা পেট ফুলে যাওয়ার সঙ্গে বমি থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।৪. নবজাতকের হার্নিয়ায় কি অপারেশন করতে হয়?হার্নিয়ার ধরন ও শিশুর অবস্থার ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। কিছু হার্নিয়ায় সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে। তাই শিশু সার্জনের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।৫. নবজাতকের সার্জারি কি নিরাপদ?নবজাতকের সার্জারি বিশেষায়িত চিকিৎসার বিষয়। আধুনিক চিকিৎসা ও নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যার সুবিধার কারণে অনেক জটিল সার্জারি সফলভাবে করা সম্ভব। তবে ঝুঁকি রোগ ও শিশুর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।৬. নবজাতকের পেট ফুলে গেলে কী করবেন?পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে, সঙ্গে বমি বা মল না হওয়ার সমস্যা থাকলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।৭. কোন ধরনের বমি হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে?নবজাতকের বারবার বমি, জোরে বমি বা বিশেষ করে সবুজ রঙের বমি হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।নবজাতকের জন্মের পর কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে ভয় পাওয়ার পাশাপাশি সচেতন হওয়াটাও জরুরি। সব সমস্যার জন্য সার্জারি প্রয়োজন হয় না, তবে কিছু জন্মগত ও সার্জিক্যাল সমস্যায় সময়মতো চিকিৎসা শিশুর সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।জন্মের পর শিশুর মল না হওয়া, পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া, বারবার বা সবুজ বমি, খেতে সমস্যা হওয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা শরীরের কোনো জন্মগত অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞ বা শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং সঠিক বিশেষজ্ঞের চিকিৎসাই নবজাতকের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

29 Aug,2026

blog-image শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ রাজশাহী

শিশু সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী

শিশু সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। কোন রোগে শিশু সার্জন দেখাবেন, কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি এবং শিশুদের কী কী সার্জারি করা হয়—সহজ ভাষায় জানুন।শিশু সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীশিশু অসুস্থ হলে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। বিশেষ করে যখন কোনো ডাক্তার বলেন, শিশুর সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্ন মনে আসে—শিশুর জন্য কি আলাদা সার্জন আছেন? কোন সমস্যায় শিশু সার্জনের কাছে যেতে হবে? অপারেশন ছাড়া কি চিকিৎসা সম্ভব?আসলে শিশুদের শরীর বড়দের মতো নয়। জন্মের পর থেকে কৈশোর পর্যন্ত শিশুর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ধীরে ধীরে বড় ও পরিণত হয়। তাই শিশুদের যেসব রোগে অস্ত্রোপচার বা সার্জিক্যাল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, সেগুলোর জন্য শিশু সার্জারী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।রাজশাহীতে এ ধরনের চিকিৎসকের খোঁজ করেন অনেক অভিভাবক। তাই “শিশু সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী” নিয়ে এই লেখায় সহজভাবে জানানো হলো।শিশু সার্জারী বিশেষজ্ঞ কী?শিশু সার্জারী বিশেষজ্ঞ বা Pediatric Surgeon হলেন এমন একজন চিকিৎসক, যিনি নবজাতক, শিশু ও কিশোরদের বিভিন্ন সার্জিক্যাল সমস্যার চিকিৎসা করেন।শিশু সার্জনের কাজ শুধু অপারেশন করা নয়। প্রথমে শিশুর সমস্যা কী, সেটি কতটা গুরুতর এবং আদৌ অপারেশন দরকার কি না—এসব বিষয় পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।কিছু সমস্যার ক্ষেত্রে শুধু পর্যবেক্ষণ বা ওষুধেই চিকিৎসা সম্ভব। আবার কিছু রোগে অপারেশন করানোই সবচেয়ে ভালো সমাধান হতে পারে।বিশেষ করে জন্মগত ত্রুটি, হার্নিয়া, অণ্ডকোষের সমস্যা, হাইপোস্প্যাডিয়াস, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, নবজাতকের কিছু জটিলতা এবং শিশুদের বিভিন্ন পেটের সমস্যায় শিশু সার্জনকে দেখানো প্রয়োজন হতে পারে।শিশু সার্জন কোন কোন রোগের চিকিৎসা করেন?শিশুদের সার্জিক্যাল সমস্যার ধরন অনেক রকম। এর মধ্যে কিছু সমস্যা জন্মের সময় থেকেই থাকে, আবার কিছু সমস্যা বয়স বাড়ার সঙ্গে দেখা দেয়।চলুন পরিচিত কিছু সমস্যা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।শিশুদের হার্নিয়াশিশুদের মধ্যে হার্নিয়া বেশ পরিচিত একটি সমস্যা। সাধারণত কুঁচকির কাছে বা অণ্ডথলিতে ছোট ফোলা দেখা যায়। শিশু কান্না করলে বা জোর করলে ফোলাটি বেশি দেখা যায়, আবার শুয়ে থাকলে কমেও যেতে পারে।এ ধরনের ফোলা দেখা দিলে অনেকে ভাবেন, হয়তো এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু শিশুদের কিছু ধরনের হার্নিয়ায় জটিলতার ঝুঁকি থাকে। তাই শিশুকে একজন শিশু সার্জনের কাছে দেখানো উচিত।হাইড্রোসিলশিশুর অণ্ডথলি অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে সেটি হাইড্রোসিলের কারণে হতে পারে। এতে অণ্ডথলির চারপাশে তরল জমে যায়।অনেক শিশুর ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সমস্যা কমে যেতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। তাই শিশুর বয়স ও সমস্যার ধরন দেখে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেবেন পর্যবেক্ষণ করা হবে, নাকি চিকিৎসার প্রয়োজন আছে।অন্ডকোষ অন্ডথলিতে না নামাছেলে শিশুর ক্ষেত্রে জন্মের পর সাধারণত অন্ডকোষ অন্ডথলিতে থাকে। কিন্তু কিছু শিশুর একটি বা দুটি অন্ডকোষই অন্ডথলিতে পাওয়া যায় না।এটিকে Undescended Testis বলা হয়।এমন সমস্যা থাকলে বিষয়টি ফেলে রাখা ঠিক নয়। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্ডকোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। এক্ষেত্রে একজন শিশু সার্জন প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যাবস্থা করেন।হাইপোস্প্যাডিয়াসছেলে শিশুর প্রস্রাবের ছিদ্র যদি লিঙ্গের স্বাভাবিক অগ্রভাগের পরিবর্তে নিচের দিকে থাকে, তাকে হাইপোস্প্যাডিয়াস বলা হয়।কখনো এর সঙ্গে লিঙ্গ কিছুটা বাঁকাও থাকতে পারে।এটি জন্মগত সমস্যা এবং অনেক ক্ষেত্রে সার্জিক্যাল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এ ধরনের সমস্যায় শিশু সার্জারি বা শিশু ইউরোলজিতে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।নবজাতকের সার্জিক্যাল সমস্যাকিছু শিশু জন্মের সময়ই এমন কিছু সমস্যা নিয়ে জন্মায়, যেগুলোর দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।যেমন—অন্ত্রে জন্মগত বাধামলদ্বারের জন্মগত সমস্যাখাদ্যনালীর কিছু জন্মগত ত্রুটিপেটের দেয়ালের জন্মগত সমস্যাঅন্ত্রের কিছু গঠনগত ত্রুটিএসব সমস্যার কোনো কোনোটি জন্মের পরপরই বোঝা যায়। আবার কিছু সমস্যা কয়েক ঘণ্টা বা কয়েকদিন পর লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে।নবজাতকের পেট ফুলে যাওয়া, বারবার বমি হওয়া বা জন্মের পর দীর্ঘসময় পায়খানা না হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।রাজশাহীতে শিশু সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররাজশাহীতে শিশুদের বিভিন্ন সার্জিক্যাল সমস্যার চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েকজন বিশেষায়িত চিকিৎসক রয়েছেন। অভিভাবকদের সুবিধার জন্য আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কয়েকজন চিকিৎসকের পরিচিতি নিচে তুলে ধরা হলো।অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নওশাদ আলীযোগ্যতা: এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমএস উচ্চতর ল্যাপারোস্কপিক ট্রেনিং (ইন্ডিয়া) বার্ন এন্ড প্লাষ্টিক সার্জারী প্রশিক্ষন (থাইল্যান্ড) ফেলো হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট (ফিলিপাইন) ফেলো জাইকা (জাপান)পদবি: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান শিশু সার্জারী বিভাগঅতিরিক্ত পরিচয়: প্রাক্তন অধ্যক্ষ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী।শিশু সার্জারির পাশাপাশি ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারিতে তিনি উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত।ডাঃ মোঃ জামিল হোসেনযোগ্যতা: এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (শিশু সার্জারী)পদবি: সহকারী অধ্যাপক শিশু সার্জারী বিভাগ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী।শিশুদের বিভিন্ন সার্জিক্যাল সমস্যা, জন্মগত ত্রুটি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সার্জিক্যাল চিকিৎসার জন্য তাঁর পরামর্শ নিন।ডাঃ আব্দুল্লাহ আল-মামুনযোগ্যতা: এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (পেডিয়াট্রিক সার্জারি) এমআরসিএস (পার্ট-বি), ইংল্যান্ডবিশেষজ্ঞতা: নবজাতক, শিশু সার্জারি ও শিশু ইউরোলজি বিশেষজ্ঞকর্মস্থল: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী।নবজাতকের সার্জিক্যাল সমস্যা, শিশুদের বিভিন্ন সার্জারি এবং শিশু ইউরোলজির সমস্যায় বিশেষায়িত চিকিৎসকের প্রয়োজন হলে তাঁর পরামর্শ নিন।ডাঃ এস এম আহসান শহীদযোগ্যতা: এমবিবিএস, এফসিপিএস (সার্জারী), এমএস (শিশু সার্জারী) পিএইচডি (হাইপোস্প্যাডিয়াস সার্জারী/পেডিয়াট্রিক ইউরোলজী)উচ্চতর প্রশিক্ষণ: অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক সার্জারী এন্ড স্ট্যাপলিং, ইন্ডিয়া নিওন্যাটলজি সার্জারী পেডিয়াট্রিক প্লাস্টিক ল্যাপারোস্কপিক সার্জারী এন্ড ইউরোলজী ওসাকা চিলড্রেন হসপিটাল, জাপানপদবি: সহযোগী অধ্যাপক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী।বিশেষ করে শিশু ইউরোলজি, হাইপোস্প্যাডিয়াস সার্জারি, নবজাতকের সার্জারি এবং ল্যাপারোস্কপিক সার্জারিতে তাঁর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ রয়েছে।কখন শিশু সার্জারী বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন?এ প্রশ্নটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সব সমস্যার জন্য শিশুকে সার্জনের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না।তবে নিচের কোনো সমস্যা থাকলে শিশু সার্জনের পরামর্শ নেওয়া ভালো—জন্মের সময় কোনো অঙ্গের গঠন অস্বাভাবিক মনে হলেশিশুর যৌনাঙ্গ, মলদ্বার, পেটের দেয়াল বা অন্য কোনো অঙ্গের গঠন স্বাভাবিক মনে না হলে বিষয়টি নিয়ে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।কুঁচকি বা অন্ডথলিতে ফোলা দেখা গেলেবিশেষ করে কান্না করলে ফোলা বাড়ে এবং পরে কমে যায়—এমন হলে হার্নিয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।অন্ডকোষ অন্ডথলিতে না থাকলেছেলে শিশুর একটি বা দুটি অণ্ডকোষ অণ্ডথলিতে পাওয়া না গেলে শিশু সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত।প্রস্রাবের সমস্যা থাকলেপ্রস্রাবের ছিদ্র স্বাভাবিক জায়গায় না থাকা, প্রস্রাবের ধারা অস্বাভাবিক হওয়া বা প্রস্রাব করতে কষ্ট হলে শিশু ইউরোলজি বা শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ দেখানো প্রয়োজন হতে পারে।বারবার বমি হলেবিশেষ করে নবজাতক বা ছোট শিশুর বারবার বমি হলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। বমির সঙ্গে পেট ফুলে গেলে বা শিশু খেতে না চাইলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।পেট ফুলে গেলে বা তীব্র পেট ব্যথা হলেহঠাৎ পেট ফুলে যাওয়া, তীব্র ব্যথা, বমি বা পায়খানা বন্ধ হয়ে যাওয়া হলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।শিশুর কোন লক্ষণ দেখলে জরুরি চিকিৎসা নেবেন?কিছু পরিস্থিতিতে চেম্বারে সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত।যেমন—হঠাৎ প্রচণ্ড পেট ব্যথাপেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়াবারবার বমিবমিতে রক্তপায়খানায় রক্তপায়খানা ও গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়াঅণ্ডথলিতে হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথা ও ফোলাগুরুতর আঘাতগভীরভাবে পুড়ে যাওয়াশিশুর অস্বাভাবিক নিস্তেজ হয়ে পড়াবিশেষ করে অণ্ডথলিতে হঠাৎ তীব্র ব্যথা ও ফোলা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। কারণ কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা না করলে অণ্ডকোষের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।শিশু সার্জারি নিয়ে অভিভাবকদের কিছু সাধারণ প্রশ্নশিশু সার্জন কি শুধু অপারেশন করেন?না। রোগ নির্ণয়, চিকিৎসার পরিকল্পনা, অপারেশনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ এবং অপারেশনের পর ফলোআপ—সবই শিশু সার্জনের কাজের অংশ।শিশুর হার্নিয়া কি নিজে নিজে ভালো হয়ে যায়?কিছু নির্দিষ্ট সমস্যায় সময়ের সঙ্গে উন্নতি হতে পারে। তবে শিশুদের ইনগুইনাল হার্নিয়ায় জটিলতার ঝুঁকি থাকায় চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।শিশুর অণ্ডকোষ না নামলে কি অপেক্ষা করা যায়?কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। তবে দীর্ঘদিন অপেক্ষা না করে শিশুর বয়স অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।হাইপোস্প্যাডিয়াস কি চিকিৎসা করা যায়?হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে সার্জিক্যাল পদ্ধতিতে হাইপোস্প্যাডিয়াসের চিকিৎসা করা সম্ভব। শিশুর বয়স ও সমস্যার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসার সময় নির্ধারণ করা হয়।শিশুদের কি ল্যাপারোস্কপিক অপারেশন করা হয়?হ্যাঁ, কিছু নির্দিষ্ট রোগে শিশুদের ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি করা যায়। তবে সব শিশুর জন্য একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় না।রাজশাহীতে শিশু সার্জারী বিশেষজ্ঞ কোথায় পাওয়া যাবে?রাজশাহীতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেবা দিয়ে থাকেন। চিকিৎসকের চেম্বার, সিরিয়াল ও ভিজিটিং সময় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা চেম্বার থেকে সময়সূচি নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।শিশুর শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দুশ্চিন্তা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে ভয় না পেয়ে সমস্যাটি দ্রুত শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।তাই শিশু সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী খুঁজতে গিয়ে শুধু পরিচিতি নয়—শিশুর নির্দিষ্ট সমস্যার সঙ্গে চিকিৎসকের বিশেষায়িত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিন। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা শিশুর সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

24 Aug,2026

blog-image রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী / Rheumatology Specialist Rajshahi

হাঁটু ও কোমরের ব্যথা: রিউমাটোলজিস্ট কখন দেখাবেন?

হাঁটু ও কোমরের ব্যথা কেন হয়, কখন রিউমাটোলজিস্ট দেখাবেন, কী কী পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রয়োজন ও কী কী নিয়ম মেনে চলবেন এবং রাজশাহীতে রিউমাটোলজিস্ট দেখানোর সঠিক সময় ও বিস্তারিত জেনে নিন।হাঁটু ও কোমরের ব্যথা: রিউমাটোলজিস্ট কখন দেখাবেন?হাঁটু ও কোমরের ব্যথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খুব পরিচিত একটি সমস্যা। দীর্ঘসময় বসে থাকা, অতিরিক্ত পরিশ্রম, ভারী জিনিস তোলা, বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড় ও জয়েন্টের পরিবর্তন, আঘাত পাওয়া, ওজন বৃদ্ধি কিংবা ভুল ভঙ্গিতে কাজ করার কারণে অনেকেরই হাঁটু বা কোমরে ব্যথা হতে পারে।তবে সব হাঁটু বা কোমরের ব্যথা সাধারণ ব্যথা নয়। কখনো কখনো দীর্ঘস্থায়ী হাঁটু ও কোমরের ব্যথা শরীরের ভেতরে থাকা প্রদাহজনিত রোগ, অটোইমিউন রোগ, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিস, গাউট বা অন্য কোনো রিউম্যাটিক রোগের লক্ষণ হতে পারে।এ কারণে অনেকেই আমাদের প্রশ্ন করেন—হাঁটু ও কোমরের ব্যথা হলে কোন ডাক্তার দেখাবো? রিউমাটোলজিস্ট কখন দেখাবো?এই লেখায় হাঁটু ও কোমরের ব্যথার সম্ভাব্য কারণ, কোন লক্ষণে রিউমাটোলজিস্ট দেখাবেন, কী পরীক্ষা করা হতে পারে এবং চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।রিউমাটোলজিস্ট কে?রিউমাটোলজিস্ট (Rheumatologist) হলেন এমন একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যিনি জয়েন্ট, পেশি, হাড়, লিগামেন্ট ও শরীরের সংযোগকারী টিস্যুর বিভিন্ন রোগ এবং বিশেষ করে প্রদাহজনিত ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা করেন।রিউমাটোলজিস্ট শুধু বাতের চিকিৎসাই করেন—এমন ধারণা সঠিক নয়। বিভিন্ন ধরনের জয়েন্টের ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী পেশির ব্যথা, প্রদাহজনিত কোমর ব্যথা, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গাউট, লুপাস, স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিসসহ অনেক জটিল রোগ নির্ণয় ও তার চিকিৎসা করেন ।হাঁটু ও কোমরে ব্যথা হয় কী কী কারণে?হাঁটু ও কোমরের ব্যথার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সবার ক্ষেত্রে ব্যথার কারণ একই থাকে না।১. অস্টিওআর্থ্রাইটিসবয়স বাড়ার সঙ্গে হাঁটুর জয়েন্টের কার্টিলেজ ক্ষয় হতে থাকলে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হতে পারে। এটি বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের হাঁটু ব্যথার একটি সাধারণ কারণ।সাধারণ লক্ষণ হলো—হাঁটলে হাঁটুতে ব্যথা হয়সিঁড়ি ওঠানামার সময় ব্যথা হয়দীর্ঘসময় বসে থাকার পর হাঁটু শক্ত লাগেহাঁটুতে শব্দ হওয়াহাঁটু সহজে নড়াচড়া করতে না পারাধীরে ধীরে ব্যথা বেড়ে যাওয়া ২. রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসরিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটি অটোইমিউন রোগ। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলভাবে নিজের জয়েন্টের আবরণে আক্রমণ করে প্রদাহ সৃষ্টি করে।এটি হাঁটু ছাড়াও হাত, কবজি, কনুই, গোড়ালি ও পায়ের জয়েন্টে হতে পারে।যেসব লক্ষণ দেখা যায়—একাধিক জয়েন্টে ব্যথা হওয়াজয়েন্ট ফুলে যাওয়াসকালে জয়েন্ট শক্ত হয়ে থাকাদুই পাশের একই ধরনের জয়েন্টে ব্যথাদীর্ঘদিন ধরে ব্যথা থাকাদুর্বলতা বা ক্লান্তিএ ধরনের লক্ষণ থাকলে রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।৩. গাউট বা ইউরিক অ্যাসিডজনিত সমস্যারক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে জয়েন্টে ইউরিক অ্যাসিডের ক্রিস্টাল জমা হয়ে গাউট হতে পারে।সাধারণত হঠাৎ করে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয় এবং আক্রান্ত জয়েন্ট—ফুলে যায়লাল হয়ে যায়গরম লাগেস্পর্শ করলে প্রচণ্ড ব্যথা হয়অনেক ক্ষেত্রে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল আক্রান্ত হলেও হাঁটুতেও গাউট হতে পারে।শুধু রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা দেখে গাউট নিশ্চিত করা যায় না। রোগীর উপসর্গ ও অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফলও বিবেচনা করতে হয়।৪. স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিসকোমরের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রদাহজনিত কারণ হলো স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিস।বিশেষ করে অল্প বয়সে কোমরের ব্যথা শুরু হলে এবং ব্যথা বিশ্রামে না কমে বরং দীর্ঘসময় বসে বা শুয়ে থাকার পর ব্যথা বেশি অনুভূত হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।প্রদাহজনিত কোমর ব্যথায় অনেক সময়—সকালে কোমর শক্ত লাগেঘুম থেকে ওঠার পর ব্যথা বেশি হয়চলাফেরা করলে কিছুটা ব্যথা কমে ও আরাম পাওয়া যায়দীর্ঘসময় বসে থাকলে ব্যথা বাড়েনিতম্বের এক বা দুই পাশে ব্যথা হয়৫. কোমরের মাংসপেশির সমস্যাঅনেক সময় ভারী জিনিস তোলা, দীর্ঘসময় ভুল ভঙ্গিতে বসা, হঠাৎ অতিরিক্ত ব্যায়াম অথবা শারীরিক পরিশ্রমের কারণে কোমরের পেশিতে টান লাগে।সাধারণত এ ধরনের ব্যথা কিছুদিনের মধ্যে কমে যায়। তবে ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে ও বারবার ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।৬. ডিস্কের সমস্যা বা সায়াটিকামেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝখানে থাকা ডিস্কে ক্ষতি হলে আশপাশের স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে। এর ফলে কোমর থেকে নিতম্ব হয়ে পায়ের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে যায়। একে অনেক সময় সায়াটিকা বলা হয়।ডিস্কের সমস্যা বা সায়াটিকা হলে সাধারনত—পায়ে ঝিনঝিন করেঅবশ লাগা ভঅব হয়জ্বালাপোড়া করেপায়ে দুর্বলতা দেখা দেয়কোমর থেকে পায়ের দিকে বিদ্যুৎ শকের মতো ব্যথা অনুভব হয়এ ধরনের সমস্যায় রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী রিউমাটোলজিস্ট, নিউরোসার্জন, অর্থোপেডিক বা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।হাঁটু ও কোমরের ব্যথায় রিউমাটোলজিস্ট কখন দেখাবেন?এটাই আমাদের সকলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। যে কখন রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ নিবো।১. ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকলেসাময়িক ব্যথা সাধারণত বিশ্রাম, জীবনযাত্রার পরিবর্তন বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় কমে যেতে পারে। কিন্তু হাঁটু বা কোমরের ব্যথা যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে অথবা বারবার ফিরে আসে, তাহলে কারণ নির্ণয় করা জরুরি।২. সকালে জয়েন্ট শক্ত হয়ে থাকলেঘুম থেকে ওঠার পর হাঁটু, কোমর বা অন্যান্য জয়েন্ট অনেকক্ষণ শক্ত হয়ে থাকে এবং নড়াচড়া করতে সমস্যা হয়—এটি প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ । বিশেষ করে সকালের শক্তভাব দীর্ঘসময় স্থায়ী হলে রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।৩. জয়েন্ট ফুলে গেলেহাঁটু বা অন্য কোনো জয়েন্ট হঠাৎ বা ধীরে ধীরে ফুলে গেলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়।জয়েন্টে প্রদাহ, গাউট, সংক্রমণ, আঘাত বা অন্যান্য রোগের কারণে ফুলে যেতে পারে।৪. একাধিক জয়েন্টে ব্যথা হলেশুধু একটি জয়েন্টে ব্যথার পরিবর্তে যদি একই সময়ে—হাঁটুকবজিআঙুলগোড়ালিকনুইকাঁধইত্যাদি একাধিক জয়েন্টে ব্যথা বা ফোলা থাকে, তাহলে রিউমাটিক রোগের সম্ভাবনা হতে পারে।৫. দুই পাশের জয়েন্টে একই ধরনের সমস্যা হলেউভয় হাঁটু, উভয় কবজি বা শরীরের দুই পাশের একই ধরনের জয়েন্টে ব্যথা ও ফোলা থাকলে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ কিছু প্রদাহজনিত রোগের সম্ভাবনা থাকতে পারে।৬. অল্প বয়সে দীর্ঘদিন কোমর ব্যথা হলেঅল্প বয়সে দীর্ঘদিন ধরে কোমর ব্যথা হওয়া এবং ব্যথা বিশ্রামের পর বেশি অনুভূত হওয়া প্রদাহজনিত মেরুদণ্ডের রোগের লক্ষণ হতে পারে।বিশেষ করে সকালে কোমর শক্ত থাকা এবং নড়াচড়া করলে ব্যথা কিছুটা কমে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।ব্যথার সঙ্গে কোন লক্ষণগুলো থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?কিছু লক্ষণকে সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।যেমন—জয়েন্ট হঠাৎ ফুলে যাওয়, জয়েন্ট লাল ও গরম হয়ে যাওয়া, জয়েন্টে প্রচণ্ড ব্যথা, জ্বরের সঙ্গে জয়েন্টে ব্যথা , অনেক জয়েন্টে একসঙ্গে ব্যথা করা, সকালে অনেকক্ষন শক্তভাব থাকা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, বারবার ব্যথা ফিরে আসা, কোমর ব্যথার সঙ্গে পায়ে অবশভাব বা দুর্বলতা দেখা দিলে।এ ধরনের লক্ষণ থাকলে নিজে থেকে শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে সমস্যাটি দীর্ঘায়িত না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।হাঁটুর ব্যথা হলেই কি রিউমাটোলজিস্ট দেখাতে হবে?না। সব হাঁটুর ব্যথার জন্য রিউমাটোলজিস্ট প্রয়োজন হয় না।হাঁটুর ব্যথার কারণের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হতে পারে।যেমন ধরুন—আঘাত, লিগামেন্ট বা মেনিস্কাসের সমস্যা: অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হতে পারে।প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গাউট: এর জন্য রিউমাটোলজিস্ট উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ।দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও চলাফেরার সমস্যা: ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।তাই রোগের প্রকৃতি অনুযায়ী সঠিক বিশেষজ্ঞ নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।রিউমাটোলজিস্ট কী কী পরীক্ষা দিতে পারেন?রোগীর ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা ও উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা দিয়ে থাকেন।রক্ত পরীক্ষাযদি প্রয়োজন হয় তবে ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করতে দেন —CBC, ESR, CRP, Rheumatoid Factor (RF), Anti-CCP, Serum Uric Acid, ANAঅন্যান্য নির্দিষ্ট অটোইমিউন পরীক্ষাতবে সব রোগীর জন্য সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না।X-rayহাঁটু বা মেরুদণ্ডের হাড় ও জয়েন্টের অবস্থা বোঝার জন্য X-ray করা হয়।অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন X-ray-তে দেখা যায়।MRIকোমর বা হাঁটুর কিছু সমস্যা আরও বিস্তারিতভাবে দেখতে MRI প্রয়োজন হয়।বিশেষ করে—ডিস্কের সমস্যা, স্নায়ুর ওপর চাপ, লিগামেন্টের সমস্যা, কিছু প্রদাহজনিত পরিবর্তনইত্যাদি মূল্যায়নে MRI ব্যবহৃত হয়।চিকিৎসায় কী কী পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়?রোগের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা সম্পূর্ণ আলাদা হয়।ওষুধরোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক ব্যথানাশক, প্রদাহ কমানোর ওষুধ, ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের ওষুধ বা অটোইমিউন রোগের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ওষুধ দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো রোগে শুধু ব্যথা কমানো যথেষ্ট নয়। রোগের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়ামকিছু কিছু হাঁটু ও কোমরের সমস্যায় সঠিক ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তবে ব্যথা থাকা অবস্থায় নিজের ইচ্ছামতো ভারী ব্যায়াম শুরু করা ঠিক নয়। রোগের কারণ ও শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্ট উপযুক্ত ব্যায়াম নির্ধারণ করে দেন।ওজন নিয়ন্ত্রণ করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে হাঁটুর জয়েন্টের ওপর চাপ বাড়ে এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিসের উপসর্গ আরও খারাপ হতে পারে। তাই অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা হাঁটুর স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।হাঁটু ও কোমরের ব্যথা কমাতে দৈনন্দিন জীবনে কী করবেন?কিছু সাধারণ অভ্যাস যা ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়—দীর্ঘসময় একই অবস্থায় বসে থাকবেন না।কাজের সময় সঠিক অঙ্গভঙ্গি বজায় রাখুন।অতিরিক্ত ভারী জিনিস তোলা এড়িয়ে চলুন।ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম করুন।দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকা বা অতিরিক্ত চাপের কাজ কমান।পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন।ব্যথা বারবার হলে কারণ নির্ণয় করুন।নিজে থেকে দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না।রাজশাহীতে রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞআপনি যদি রাজশাহীতে থাকেন এবং দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু, কোমর বা অন্যান্য জয়েন্টের সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাহলে রোগের ধরন অনুযায়ী রাজশাহীতে রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিন আজই ।ডাঃ মোছাঃ রূপালী ইয়াসমিনএমবিবিএস, বিসিএস, এমডি-রিউম্যাটোলজি (বিএসএমএমইউ) ইসিআরডি (সুইজারল্যান্ড)রিউম্যাটোলজি (বাত ও ব্যথা রোগ) বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপক ( রিউম্যাটোলজি )রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহীডাঃ মোঃ আসাদুল ইসলামএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (রিউমাটোলজি), ইসিআরডিরিউমাটোলজি (রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গেঁটে বাত, লুপাস, ব্যথা) বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপক, রিউমাটোলজিরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালডাঃ মোঃ ইসমাইল হোসেনএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমডি (রিউমাটোলজি)-বিএসএমএমইউইউলার সার্টিফাইড মাস্কিউলোস্কেলেটাল সনোলজিস্টবাত-ব্যথা, কোমর-ব্যথা, শিরা-প্রদাহ, হাড় ক্ষয় বিশেষজ্ঞরিউমাটোলজিস্টরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালডাঃ এস এম জোবাইর হোসাইনএমবিবিএস (ঢাকা),বিসিএস (স্বাস্থ্য) এমডি (রিউমাটোলজি),বিএমইউ/পিজিফেলো এসিআর(আমেরিকা)রিউমাটোলজি (রিউমাটোলজি, এসএলই, অস্টিওপোরোসিস, পিঠে ব্যথা) বিশেষজ্ঞকনসালটেন্ট (রিউমাটোলজি)রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালরাজশাহীতে রিউমাটোলজিস্ট সাধারণত বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিস, গাউট, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, প্রদাহজনিত জয়েন্টের রোগ, কিছু অটোইমিউন রোগ এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত পেশি-জয়েন্টের সমস্যার মূল্যায়ন ও চিকিৎসা করেন।কিছু প্রশ্ন ও উত্তর১. হাঁটুর ব্যথার জন্য কোন ডাক্তার দেখাব?হাঁটুর ব্যথার কারণের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক নির্বাচন করতে হয়। প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা গাউটের সন্দেহ থাকলে রিউমাটোলজিস্ট দেখানো উপযুক্ত। আঘাত বা লিগামেন্টের সমস্যায় অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হতে পারে।২. কোমরের ব্যথার জন্য কি রিউমাটোলজিস্ট দেখানো যায়?হ্যাঁ। বিশেষ করে কোমরের ব্যথা দীর্ঘদিন থাকলে, সকালে শক্তভাব থাকলে, বিশ্রামে ব্যথা না কমলে এবং অন্যান্য জয়েন্টেও সমস্যা থাকলে রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।৩. ইউরিক অ্যাসিড বেশি হলে কি রিউমাটোলজিস্ট দেখাব?ইউরিক অ্যাসিড বেশি হলেই যে গাউট হয়েছে এমন নয়। তবে জয়েন্টে হঠাৎ ব্যথা, ফোলা, লালভাব ও গরম অনুভূতি থাকলে রিউমাটোলজিস্ট রোগটি মূল্যায়ন করতে পারেন।৪. সকালে হাঁটু ও কোমর শক্ত লাগে কেন?বিভিন্ন কারণে সকালে জয়েন্ট শক্ত লাগতে পারে। তবে দীর্ঘসময় ধরে সকালের শক্তভাব থাকা প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।৫. রিউমাটোলজিস্ট কি শুধু বাতের চিকিৎসা করেন?না। রিউমাটোলজিস্ট বিভিন্ন ধরনের জয়েন্ট, পেশি, হাড় ও সংযোগকারী টিস্যুর রোগের পাশাপাশি অটোইমিউন ও প্রদাহজনিত রোগের চিকিৎসা করেন।৬. হাঁটুর ব্যথা কি সবসময় আর্থ্রাইটিসের কারণে হয়?না। আঘাত, লিগামেন্ট বা মেনিস্কাসের সমস্যা, পেশির সমস্যা, সংক্রমণ, গাউট এবং অন্যান্য কারণেও হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে।৭. কোমরের ব্যথা কি শুধু ডিস্কের কারণে হয়?না। পেশির টান, মেরুদণ্ডের ক্ষয়, ডিস্কের সমস্যা, স্নায়ুর চাপ এবং প্রদাহজনিত বিভিন্ন রোগসহ অনেক কারণেই কোমর ব্যথা হতে পারে।৮. হাঁটু ফুলে গেলে কী করব?হাঁটু ফুলে যাওয়ার কারণ জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফোলার সঙ্গে প্রচণ্ড ব্যথা, লালভাব, গরম অনুভূতি বা জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।৯. হাঁটু ও কোমরের ব্যথায় ব্যায়াম করা যাবে?ব্যথার কারণের ওপর নির্ভর করে ব্যায়ামের ধরন ঠিক করতে হয়। সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া অতিরিক্ত বা ভুল ব্যায়াম না করাই ভালো।১০. রাজশাহীতে রিউমাটোলজিস্ট কী ধরনের রোগ দেখেন?হাঁটু ও কোমরের ব্যথা খুব সাধারণ সমস্যা হলেও এর পেছনের কারণ সবসময় সাধারণ নয়। বয়সজনিত জয়েন্টের ক্ষয় থেকে শুরু করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গাউট, স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিস কিংবা অন্যান্য প্রদাহজনিত রোগ—বিভিন্ন কারণে একই ধরনের ব্যথা হতে পারে।তাই “হাঁটু ও কোমরের ব্যথা: রিউমাটোলজিস্ট কখন দেখাবেন”—এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো: ব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, বারবার ফিরে আসে, জয়েন্ট ফুলে যায়, সকালে দীর্ঘসময় শক্ত থাকে, একাধিক জয়েন্ট আক্রান্ত হয় অথবা অল্প বয়সে দীর্ঘস্থায়ী কোমর ব্যথা দেখা দেয়, তাহলে রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।বিশেষ করে রাজশাহীতে রিউমাটোলজিস্ট খুঁজছেন এমন রোগীদের উচিত রোগের ধরন অনুযায়ী অভিজ্ঞ ও উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ নির্বাচন করা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যথার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা। সময়মতো রোগ শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা শুরু করলে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং জয়েন্টের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কমানো সম্ভব।

21 Aug,2026

blog-image শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী

ডাঃ মোসাম্মাত নূর-এ-জান্নাত

নবজাতক, কিশোর ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহীডাঃ মোসাম্মাত নূর-এ-জান্নাতএমবিবিএস (আরএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য), ডিসিএইচ (বিএসএমএমইউ), এমফিল পিএইচডি (পেডিয়াট্রিক নিউট্রিশন), আইবিএসসি, (আরইউ)নবজাতক, কিশোর ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞসহকারী অধ্যাপক (পেডিয়াট্রিক্স)রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহীবিএমডিসি রেজি নংঃ  A-50093ডাঃ মোসাম্মাত নূর-এ-জান্নাত - নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞডাঃ মোসাম্মাত নূর-এ-জান্নাত একজন অভিজ্ঞ নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ । তিনি শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি, পুষ্টি, রোগ প্রতিরোধ ও বিভিন্ন জটিল রোগের আধুনিক চিকিৎসায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (আরএমসি) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে যোগদান করেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে ডিসিএইচ (DCH) এবং পেডিয়াট্রিক নিউট্রিশন বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি আইবিএসসি (IBSC), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (আরইউ) সম্পন্ন করেছেন।বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক্স বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। দীর্ঘ একাডেমিক ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি শিশুদের জন্য মানসম্মত, নিরাপদ ও রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছেন।ডাঃ মোসাম্মাত নূর-এ-জান্নাত যেসব রোগ ও সমস্যার চিকিৎসা প্রদান করেননবজাতকের বিভিন্ন রোগ ও জটিলতাশিশুদের জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টনিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণডায়রিয়া, বমি ও পানিশূন্যতাশিশুর অপুষ্টি ও পুষ্টিজনিত সমস্যাবয়স অনুযায়ী শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সমস্যাশিশুর কম ওজন ও অতিরিক্ত ওজনঅ্যালার্জি ও অ্যাজমাশিশুদের রক্তস্বল্পতাবারবার সংক্রমণ ও জ্বরশিশুদের হজম ও পেটের সমস্যানবজাতকের পুষ্টি ও পরিচর্যাকিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যাশিক্ষাগত যোগ্যতাএমবিবিএস (আরএমসি)বিসিএস (স্বাস্থ্য)ডিসিএইচ (বিএসএমএমইউ)এমফিল ও পিএইচডি (পেডিয়াট্রিক নিউট্রিশন)আইবিএসসি (আরইউ)বর্তমান পদবিসহকারী অধ্যাপক (পেডিয়াট্রিক্স) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহীবিশেষজ্ঞতানবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ শিশু পুষ্টি ও পেডিয়াট্রিক নিউট্রিশনে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও উচ্চতর একাডেমিক যোগ্যতাসম্পন্ন।বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশনBMDC Reg. No: A-50093চেম্বার ও রোগী দেখার সময়জমজম ইসলামী হাসপাতালঠিকানা: কাজিহাটা, লক্ষ্মীপুর মোড়, জিপিও-৬০০০, রাজশাহী রোগী দেখার সময়: প্রতিদিন (শুক্রবার ব্যতীত) বিকাল ৪:০০টা – রাত ৮:০০টাল্যাবএইড ডায়াগনস্টিকস, রাজশাহীঠিকানা: বাড়ি #৬২১, শেরশাহ রোড, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী-৬০০০ রোগী দেখার সময়: প্রতিদিন (শুক্রবার ব্যতীত) বিকাল ৩:০০টা – বিকাল ৪:০০টারাজশাহীর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ও সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন Doctor Service BD তেহটলাইন নম্বরঃ ০১৭২৩-০২৫৫১৪

07 Aug,2026

blog-image সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা

TSH পরীক্ষা: কী, কেন ও কখন করা হয়

TSH পরীক্ষা কী, কেন করা হয়, TSH রিপোর্ট কীভাবে বুঝবেন, TSH স্বাভাবিক মাত্রা কত, কখন এই পরীক্ষা করতে হয় —এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানুন।TSH পরীক্ষা কী?TSH (Thyroid Stimulating Hormone) পরীক্ষা হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ত পরীক্ষা, যার মাধ্যমে থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid Gland) সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা জানা যায়।TSH হরমোনটি মস্তিষ্কের নিচে অবস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary Gland) থেকে নিঃসৃত হয়। এর কাজ হলো থাইরয়েড গ্রন্থিকে T3 (Triiodothyronine) এবং T4 (Thyroxine) হরমোন তৈরি করার জন্য উদ্দীপিত করা।যখন শরীরে T3 ও T4 হরমোন কমে যায়, তখন পিটুইটারি গ্রন্থি বেশি TSH তৈরি করে। আবার T3 ও T4 বেশি হয়ে গেলে TSH-এর উৎপাদন কমে যায়। এই কারণেই TSH পরীক্ষা থাইরয়েডের কার্যকারিতা মূল্যায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পরীক্ষাগুলোর একটি।TSH পরীক্ষা কেন করা হয়?TSH পরীক্ষা মূলত থাইরয়েডের কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য করা হয়। চিকিৎসক বিভিন্ন উপসর্গ বা রোগের সন্দেহ হলে এই পরীক্ষা করতে বলেন। নিচে TSH পরীক্ষা কেনো করা হয় তা উল্লেখ করা হলোঃহাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism) শনাক্ত করতেথাইরয়েড হরমোন কম উৎপন্ন হলে সাধারণত TSH বেড়ে যায়।যেসব রোগীর—অতিরিক্ত ক্লান্তিওজন বেড়ে যাওয়াঠান্ডা বেশি লাগাকোষ্ঠকাঠিন্যশুষ্ক ত্বকচুল পড়ামুখ ফুলে যাওয়াএরকম লক্ষণ থাকে, তাদের ক্ষেত্রে TSH পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।হাইপারথাইরয়েডিজম (Hyperthyroidism) শনাক্ত করতেযখন থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করে, তখন সাধারণত TSH কমে যায়।লক্ষণগুলো হতে পারে—ওজন দ্রুত কমে যাওয়াবুক ধড়ফড় করাঅতিরিক্ত ঘাম হওয়াহাত কাঁপাঅতিরিক্ত উদ্বেগঘুম কম হওয়াগরম সহ্য না হওয়াথাইরয়েডের ওষুধের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতেযারা দীর্ঘদিন থাইরয়েডের ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের ওষুধের ডোজ সঠিক আছে কিনা তা মূল্যায়নের জন্য নিয়মিত TSH পরীক্ষা করা হয়।গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড মূল্যায়নের জন্যগর্ভাবস্থায় থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তাই চিকিৎসক প্রয়োজনে TSH পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন, বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই থাইরয়েডের সমস্যা আছে বা ঝুঁকি রয়েছে।বন্ধ্যাত্ব ও মাসিকের সমস্যার মূল্যায়নেঅনিয়মিত মাসিক, বন্ধ্যাত্ব বা বারবার গর্ভপাতের কিছু ক্ষেত্রে থাইরয়েডের সমস্যা ভূমিকা রাখতে পারে। তাই TSH পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।নবজাতকের থাইরয়েড স্ক্রিনিংঅনেক দেশে নবজাতকের জন্মের পর জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজম শনাক্ত করার জন্য থাইরয়েড স্ক্রিনিং করা হয়, যাতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়।কখন TSH পরীক্ষা করা উচিত?নিচের পরিস্থিতিতে চিকিৎসক TSH পরীক্ষা করতে বলতে পারেন—দীর্ঘদিন ক্লান্তিওজন হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়াগলায় থাইরয়েড ফুলে যাওয়া (গয়টার)হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়াঅতিরিক্ত চুল পড়ামাসিক অনিয়মবন্ধ্যাত্বের মূল্যায়নগর্ভধারণের পরিকল্পনা বা গর্ভাবস্থাপরিবারে থাইরয়েড রোগের ইতিহাসথাইরয়েডের ওষুধ গ্রহণের ফলো-আপTSH পরীক্ষা কীভাবে করা হয়?TSH পরীক্ষা একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা।ল্যাবরেটরিতে হাতে বা বাহুর শিরা থেকে অল্প পরিমাণ রক্ত সংগ্রহ করা হয় এবং পরীক্ষার মাধ্যমে TSH-এর মাত্রা নির্ণয় করা হয়।পরীক্ষাটি সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হয়।TSH পরীক্ষার আগে কী প্রস্তুতি নিতে হয়?বেশিরভাগ ক্ষেত্রে TSH পরীক্ষার জন্য বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না।তবে—আপনি যদি থাইরয়েডের ওষুধ খান, তাহলে কখন ওষুধ খাবেন সে বিষয়ে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।আপনি যে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট (বিশেষ করে Biotin) গ্রহণ করছেন, তা চিকিৎসককে জানান। Biotin কিছু পরীক্ষার ফলকে প্রভাবিত করতে পারে।একই ল্যাবরেটরিতে নিয়মিত পরীক্ষা করলে ফলাফল তুলনা করা সহজ হয়।TSH স্বাভাবিক মাত্রা কত?প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অনেক ল্যাবরেটরিতে প্রায় ০.৪–৪.০ mIU/L (বা কাছাকাছি রেফারেন্স রেঞ্জ) স্বাভাবিক ধরা হয়। তবে রেফারেন্স রেঞ্জ ল্যাবভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, তাই রিপোর্টে দেওয়া রেঞ্জ অনুসরণ করা উচিত।গর্ভাবস্থা, বয়স এবং কিছু শারীরিক অবস্থায় স্বাভাবিক মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।TSH রিপোর্ট কীভাবে বুঝবেন?TSH রিপোর্ট সবসময় T3, Free T4, রোগীর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়।TSH বেশি হলে কী বোঝায়?TSH বেশি থাকলে সাধারণত থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারছে না। একে হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism) বলা হয়।সম্ভাব্য লক্ষণ—অতিরিক্ত ক্লান্তিওজন বৃদ্ধিঠান্ডা বেশি লাগাকোষ্ঠকাঠিন্যমুখ ও শরীর ফুলে যাওয়াশুষ্ক ত্বকচুল পড়ামনোযোগ কমে যাওয়াবিষণ্নতাধীর হৃদস্পন্দনTSH কম হলে কী বোঝায়?TSH কম থাকলে সাধারণত থাইরয়েড অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করছে। একে হাইপারথাইরয়েডিজম (Hyperthyroidism) বলা হয়।সম্ভাব্য লক্ষণ—ওজন কমে যাওয়াবুক ধড়ফড় করাঅতিরিক্ত ঘামহাত কাঁপাউদ্বেগগরম সহ্য না হওয়াঅনিদ্রাঘন ঘন মলত্যাগশুধু TSH বেশি বা কম হলেই কি রোগ নিশ্চিত?না।শুধু TSH দেখে চূড়ান্ত রোগ নির্ণয় করা যায় না।অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক নিচের পরীক্ষাগুলোও করতে পারেন—Free T4Free T3Anti-TPO AntibodyThyroglobulin AntibodyThyroid Ultrasoundঅন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাTSH অস্বাভাবিক হলে কী চিকিৎসা করা হয়?চিকিৎসা সম্পূর্ণ নির্ভর করে কারণের ওপর।হাইপোথাইরয়েডিজমেচিকিৎসক সাধারণত Levothyroxine-জাতীয় থাইরয়েড হরমোন প্রতিস্থাপন ওষুধ দেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর TSH পুনরায় পরীক্ষা করে ডোজ সমন্বয় করেন।হাইপারথাইরয়েডিজমেকারণের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসায় থাকতে পারে—Anti-thyroid ওষুধRadioactive Iodine Therapyঅস্ত্রোপচার (নির্বাচিত ক্ষেত্রে)জিঙ্গাসীত প্রশ্ন ও উত্তর ১. TSH পরীক্ষা কি খালি পেটে করতে হয়?সাধারণত খালি পেটে করার প্রয়োজন হয় না। তবে আপনার চিকিৎসক বা ল্যাব যদি বিশেষ নির্দেশনা দেয়, তা অনুসরণ করুন।২. TSH বেশি হলে কি সবসময় ওষুধ খেতে হয়?সবসময় নয়। TSH-এর মাত্রা, Free T4, রোগীর উপসর্গ, বয়স, গর্ভাবস্থা এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।৩. TSH কম হলে কি এটি বিপজ্জনক?TSH কম থাকলে হাইপারথাইরয়েডিজমের সম্ভাবনা থাকতে পারে। চিকিৎসা না করলে হৃদস্পন্দনের সমস্যা, হাড় ক্ষয়সহ বিভিন্ন জটিলতা হতে পারে।৪. TSH পরীক্ষা কতদিন পরপর করা উচিত?যদি থাইরয়েডের ওষুধ শুরু বা পরিবর্তন করা হয়, তাহলে চিকিৎসক সাধারণত ৬–৮ সপ্তাহ পর পুনরায় TSH পরীক্ষা করতে বলতে পারেন। এরপর পরিস্থিতি অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করা হয়।৫. TSH স্বাভাবিক থাকলেও কি থাইরয়েডের সমস্যা থাকতে পারে?কিছু ক্ষেত্রে থাকতে পারে। তাই প্রয়োজনে চিকিৎসক Free T4, Free T3 বা অন্যান্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।৬. গর্ভাবস্থায় TSH পরীক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড হরমোন শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ এবং মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বা উপসর্গযুক্ত নারীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী TSH পরীক্ষা করা হয়।৭. TSH পরীক্ষা কি থাইরয়েড ক্যান্সার নির্ণয় করে?না। TSH পরীক্ষা থাইরয়েডের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে, ক্যান্সার নির্ণয় করে না। থাইরয়েড ক্যান্সারের সন্দেহ হলে আল্ট্রাসাউন্ড, ফাইন নিডল অ্যাসপিরেশন (FNAC) এবং অন্যান্য পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।TSH পরীক্ষা থাইরয়েডের কার্যকারিতা মূল্যায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুল ব্যবহৃত রক্ত পরীক্ষাগুলোর একটি। অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, চুল পড়া, মাসিকের অনিয়ম, বুক ধড়ফড় করা বা গলায় থাইরয়েড ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে TSH পরীক্ষা করানো উচিত।

31 Jul,2026

blog-image Best Medicine Specialist Doctor in Rajshahi

রাজশাহী জেলার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

রাজশাহীর স্বনামধন্য মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাদের নাম, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ কোন কোন রোগের চিকিৎসা দেন, কখন একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যাবেন , রাজশাহীতে ডাক্তারের সিরিয়াল কিভাবে নিবেন বিস্তারিত জানুন।মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কে? মেডিসিন বিশেষজ্ঞ (Internal Medicine Specialist) একজন চিকিৎসক, যিনি প্রাপ্তবয়স্কদের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রোগ (Internal Diseases) নির্ণয়, তার চিকিৎসা এবং রোগের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ওষুধ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগের চিকিৎসা করেন। জ্বর থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি, লিভার, ফুসফুস ও হৃদরোগসহ অনেক জটিল রোগের প্রাথমিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসা মেডিসিন বিশেষজ্ঞের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কী করেন?একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রোগীর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে রোগ নির্ণয় করেন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণ, ওষুধের সঠিক ব্যবহার এবং জটিলতা প্রতিরোধে পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে তিনি রোগীকে সংশ্লিষ্ট অন্য স্পেশালিটি চিকিৎসকের কাছেও রেফার করেন।রাজশাহী জেলার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের নামঅধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ হাসান তারিকমেডিসিন, ডায়াবেটিস ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞএমবিবিএস, এফসিপিএস (মেডিসিন) মেডিসিন,ডায়াবেটিস ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞঅধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালঅধ্যাপক ডাঃ খলিলুর রহমানএমবিবিএস, এফসিপিএস(মেডিসিন),এমএসিপি আমেরিকা)মেডিসিন বিশেষজ্ঞএক্স- অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালডাঃ সৈয়দ মাহবুব আলম (লিটন)এমবিবিএস, এমডি (মেডিসিন)মেডিসিন বিশেষজ্ঞঅধ্যাপক, মেডিসিনরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালঅধ্যাপক ডাঃ মোঃ নূরে আলম সিদ্দিকীএমবিবিএস,বিসিএস (স্বাস্থ্য),এফসিপিএস (মেডিসিন)এমডি(ইন্টারনাল মেডিসিন)অধ্যাপক মেডিসিন বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালডাঃ প্রবীর মোহন বসাকএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (মেডিসিন),এমআরসিপি (ইউকে), এমআরসিপি এসসিই (রিউমাটোলজি) ইউকেইউলার ইউরোপিয়ান সার্টিফিকেট অফ রিউমাটোলজিমেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও রউমাটোলজিস্টসহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন বিভাগ)রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহীডাঃ রুহিদ হোসেনএমবিবিএস, বিসিএস, এফসিপিএস (মেডিসিন)মেডিসিন বিশেষজ্ঞমানসিক হাসপাতাল, পাবনাপ্রাক্তন সিনিয়র হাউজ অফিসার (কার্ডিওলজি বিভাগ)ইউনাইটেড হাসপাতাল, ঢাকাসহযোগী অধ্যাপক ডাঃ এসকে মোঃ আফজাল উদ্দিনএমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (ইন্টারনাল মেডিসিন)মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন) ও ইউনিট প্রধান (মেডিসিন ইউনিট - ৩)রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (সাবেক)সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (মেডিসিন) যশোর মেডিকেল কলেজ (সাবেক)অধ্যাপক ডাঃ মোঃ জহিরুল হকএমবিবিএস (ডিএমসি), এফসিপিএস (মেডিসিন)মেডিসিন বিশেষজ্ঞঅধ্যাপক, হেপাটোলজিরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালঅধ্যাপক ডাঃ বলাই চন্দ্র সরকারএমবিবিএস (ডিএমসি), এমসিপিএস (মেডিসিন), এফসিপিএস (মেডিসিন)মেডিসিন বিশেষজ্ঞঅধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালঅধ্যাপক ডাঃ মোঃ মাহবুবুর রহমান খানএমবিবিএস, এমসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (ইন্টারনাল মেডিসিন) বিএসএমএমইউমেডিসিন বিশেষজ্ঞঅধ্যাপক ও প্রধান, মেডিসিন বিভাগরাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালমেডিসিন বিশেষজ্ঞ কোন কোন রোগের চিকিৎসা দেন?একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সাধারণত নিচের রোগগুলোর চিকিৎসা করেন—১. জ্বর ও সংক্রমণজনিত রোগভাইরাল জ্বরডেঙ্গুটাইফয়েডনিউমোনিয়াম্যালেরিয়াইউরিন ইনফেকশনবিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াল ও ভাইরাল সংক্রমণ২. ডায়াবেটিসটাইপ–১ ও টাইপ–২ ডায়াবেটিসঅনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করাডায়াবেটিসের জটিলতা৩. উচ্চ রক্তচাপ (হাই ব্লাড প্রেসার)নতুন বা দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ফলো-আপ৪. হৃদরোগের প্রাথমিক মূল্যায়নবুকে ব্যথাবুক ধড়ফড় করাউচ্চ কোলেস্টেরলহৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন৫. শ্বাসতন্ত্রের রোগঅ্যাজমাCOPDদীর্ঘদিনের কাশিশ্বাসকষ্ট৬. হজম ও লিভারের সমস্যাগ্যাস্ট্রিকআলসারবদহজমকোষ্ঠ্যকাঠিন্যডায়রিয়াজন্ডিসফ্যাটি লিভারহেপাটাইটিস৭. কিডনির সমস্যাপ্রস্রাবে সংক্রমণকিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়াকিডনি রোগের প্রাথমিক মূল্যায়ন৮. থাইরয়েড ও হরমোনজনিত সমস্যাহাইপোথাইরয়েডিজমহাইপারথাইরয়েডিজমঅন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যা৯. রক্তস্বল্পতা ও রক্তের বিভিন্ন সমস্যাঅ্যানিমিয়াভিটামিনের ঘাটতিজনিত সমস্যা১০. বাত ও জয়েন্টের ব্যথাগাউটঅস্টিওআর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক চিকিৎসাশরীরব্যথা ও জয়েন্টে ব্যথাকখন একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যাবেন?নিচের যেকোনো সমস্যা থাকলে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত—৩ দিনের বেশি শরীরে জ্বর থাকলেবারবার জ্বর হলেউচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়লেডায়াবেটিস ধরা পড়লে বা নিয়ন্ত্রণে না থাকলেবুকে ব্যথা বা বুক ধড়ফড় করলেদীর্ঘদিন কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকলেঅতিরিক্ত দুর্বলতা বা ওজন কমে গেলেদীর্ঘদিন গ্যাস্ট্রিক, পেটব্যথা বা কোষ্ঠ্যকাঠিন্য থাকলেপ্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা ঘন ঘন সংক্রমণ হলেশরীর ফুলে গেলেমাথা ঘোরা বা বারবার অজ্ঞান হওয়ার মতো অনুভূতি হলেরক্ত পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লেএকাধিক দীর্ঘমেয়াদি রোগ (যেমন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ) একসঙ্গে থাকলেমেডিসিন বিশেষজ্ঞকে অনেক সময় প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের প্রথম সারির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলা হয়। কারণ অধিকাংশ সাধারণ ও জটিল রোগের প্রাথমিক মূল্যায়ন, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলো-আপ তিনি পরিচালনা করেন। রাজশাহীতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ পেতে যোগাযোগ করুন Doctor Service BD তে

29 Jul,2026

Emergency Contact

Emergency Call +880 1723-025514

Emergency E-mail

24/7 Email Support [email protected]

- OR -