হাঁটু ও কোমরের ব্যথা: রিউমাটোলজিস্ট কখন দেখাবেন?
Md Sabbir Ahmed • 21 Aug,2026 • 👁 243 Views
Category: রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী / Rheumatology Specialist Rajshahi
হাঁটু ও কোমরের ব্যথা কেন হয়, কখন রিউমাটোলজিস্ট দেখাবেন, কী কী পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রয়োজন ও কী কী নিয়ম মেনে চলবেন এবং রাজশাহীতে রিউমাটোলজিস্ট দেখানোর সঠিক সময় ও বিস্তারিত জেনে নিন।
হাঁটু ও কোমরের ব্যথা: রিউমাটোলজিস্ট কখন দেখাবেন?
হাঁটু ও কোমরের ব্যথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খুব পরিচিত একটি সমস্যা। দীর্ঘসময় বসে থাকা, অতিরিক্ত পরিশ্রম, ভারী জিনিস তোলা, বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড় ও জয়েন্টের পরিবর্তন, আঘাত পাওয়া, ওজন বৃদ্ধি কিংবা ভুল ভঙ্গিতে কাজ করার কারণে অনেকেরই হাঁটু বা কোমরে ব্যথা হতে পারে।
তবে সব হাঁটু বা কোমরের ব্যথা সাধারণ ব্যথা নয়। কখনো কখনো দীর্ঘস্থায়ী হাঁটু ও কোমরের ব্যথা শরীরের ভেতরে থাকা প্রদাহজনিত রোগ, অটোইমিউন রোগ, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিস, গাউট বা অন্য কোনো রিউম্যাটিক রোগের লক্ষণ হতে পারে।
এ কারণে অনেকেই আমাদের প্রশ্ন করেন—হাঁটু ও কোমরের ব্যথা হলে কোন ডাক্তার দেখাবো? রিউমাটোলজিস্ট কখন দেখাবো?
এই লেখায় হাঁটু ও কোমরের ব্যথার সম্ভাব্য কারণ, কোন লক্ষণে রিউমাটোলজিস্ট দেখাবেন, কী পরীক্ষা করা হতে পারে এবং চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
রিউমাটোলজিস্ট কে?
রিউমাটোলজিস্ট (Rheumatologist) হলেন এমন একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যিনি জয়েন্ট, পেশি, হাড়, লিগামেন্ট ও শরীরের সংযোগকারী টিস্যুর বিভিন্ন রোগ এবং বিশেষ করে প্রদাহজনিত ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা করেন।
রিউমাটোলজিস্ট শুধু বাতের চিকিৎসাই করেন—এমন ধারণা সঠিক নয়। বিভিন্ন ধরনের জয়েন্টের ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী পেশির ব্যথা, প্রদাহজনিত কোমর ব্যথা, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গাউট, লুপাস, স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিসসহ অনেক জটিল রোগ নির্ণয় ও তার চিকিৎসা করেন ।
হাঁটু ও কোমরে ব্যথা হয় কী কী কারণে?
হাঁটু ও কোমরের ব্যথার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সবার ক্ষেত্রে ব্যথার কারণ একই থাকে না।
১. অস্টিওআর্থ্রাইটিস
বয়স বাড়ার সঙ্গে হাঁটুর জয়েন্টের কার্টিলেজ ক্ষয় হতে থাকলে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হতে পারে। এটি বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের হাঁটু ব্যথার একটি সাধারণ কারণ।
সাধারণ লক্ষণ হলো—
হাঁটলে হাঁটুতে ব্যথা হয়
সিঁড়ি ওঠানামার সময় ব্যথা হয়
দীর্ঘসময় বসে থাকার পর হাঁটু শক্ত লাগে
হাঁটুতে শব্দ হওয়া
হাঁটু সহজে নড়াচড়া করতে না পারা
ধীরে ধীরে ব্যথা বেড়ে যাওয়া
২. রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটি অটোইমিউন রোগ। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলভাবে নিজের জয়েন্টের আবরণে আক্রমণ করে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
এটি হাঁটু ছাড়াও হাত, কবজি, কনুই, গোড়ালি ও পায়ের জয়েন্টে হতে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখা যায়—
একাধিক জয়েন্টে ব্যথা হওয়া
জয়েন্ট ফুলে যাওয়া
সকালে জয়েন্ট শক্ত হয়ে থাকা
দুই পাশের একই ধরনের জয়েন্টে ব্যথা
দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা থাকা
দুর্বলতা বা ক্লান্তি
এ ধরনের লক্ষণ থাকলে রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৩. গাউট বা ইউরিক অ্যাসিডজনিত সমস্যা
রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে জয়েন্টে ইউরিক অ্যাসিডের ক্রিস্টাল জমা হয়ে গাউট হতে পারে।
সাধারণত হঠাৎ করে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয় এবং আক্রান্ত জয়েন্ট—
ফুলে যায়
লাল হয়ে যায়
গরম লাগে
স্পর্শ করলে প্রচণ্ড ব্যথা হয়
অনেক ক্ষেত্রে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল আক্রান্ত হলেও হাঁটুতেও গাউট হতে পারে।
শুধু রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা দেখে গাউট নিশ্চিত করা যায় না। রোগীর উপসর্গ ও অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফলও বিবেচনা করতে হয়।
৪. স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিস
কোমরের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রদাহজনিত কারণ হলো স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিস।
বিশেষ করে অল্প বয়সে কোমরের ব্যথা শুরু হলে এবং ব্যথা বিশ্রামে না কমে বরং দীর্ঘসময় বসে বা শুয়ে থাকার পর ব্যথা বেশি অনুভূত হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রদাহজনিত কোমর ব্যথায় অনেক সময়—
সকালে কোমর শক্ত লাগে
ঘুম থেকে ওঠার পর ব্যথা বেশি হয়
চলাফেরা করলে কিছুটা ব্যথা কমে ও আরাম পাওয়া যায়
দীর্ঘসময় বসে থাকলে ব্যথা বাড়ে
নিতম্বের এক বা দুই পাশে ব্যথা হয়
৫. কোমরের মাংসপেশির সমস্যা
অনেক সময় ভারী জিনিস তোলা, দীর্ঘসময় ভুল ভঙ্গিতে বসা, হঠাৎ অতিরিক্ত ব্যায়াম অথবা শারীরিক পরিশ্রমের কারণে কোমরের পেশিতে টান লাগে।
সাধারণত এ ধরনের ব্যথা কিছুদিনের মধ্যে কমে যায়। তবে ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে ও বারবার ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৬. ডিস্কের সমস্যা বা সায়াটিকা
মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝখানে থাকা ডিস্কে ক্ষতি হলে আশপাশের স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে। এর ফলে কোমর থেকে নিতম্ব হয়ে পায়ের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে যায়। একে অনেক সময় সায়াটিকা বলা হয়।
ডিস্কের সমস্যা বা সায়াটিকা হলে সাধারনত—
পায়ে ঝিনঝিন করে
অবশ লাগা ভঅব হয়
জ্বালাপোড়া করে
পায়ে দুর্বলতা দেখা দেয়
কোমর থেকে পায়ের দিকে বিদ্যুৎ শকের মতো ব্যথা অনুভব হয়
এ ধরনের সমস্যায় রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী রিউমাটোলজিস্ট, নিউরোসার্জন, অর্থোপেডিক বা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।
হাঁটু ও কোমরের ব্যথায় রিউমাটোলজিস্ট কখন দেখাবেন?
এটাই আমাদের সকলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। যে কখন রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ নিবো।
১. ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে
সাময়িক ব্যথা সাধারণত বিশ্রাম, জীবনযাত্রার পরিবর্তন বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় কমে যেতে পারে। কিন্তু হাঁটু বা কোমরের ব্যথা যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে অথবা বারবার ফিরে আসে, তাহলে কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
২. সকালে জয়েন্ট শক্ত হয়ে থাকলে
ঘুম থেকে ওঠার পর হাঁটু, কোমর বা অন্যান্য জয়েন্ট অনেকক্ষণ শক্ত হয়ে থাকে এবং নড়াচড়া করতে সমস্যা হয়—এটি প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ । বিশেষ করে সকালের শক্তভাব দীর্ঘসময় স্থায়ী হলে রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৩. জয়েন্ট ফুলে গেলে
হাঁটু বা অন্য কোনো জয়েন্ট হঠাৎ বা ধীরে ধীরে ফুলে গেলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়।
জয়েন্টে প্রদাহ, গাউট, সংক্রমণ, আঘাত বা অন্যান্য রোগের কারণে ফুলে যেতে পারে।
৪. একাধিক জয়েন্টে ব্যথা হলে
শুধু একটি জয়েন্টে ব্যথার পরিবর্তে যদি একই সময়ে—
হাঁটু
কবজি
আঙুল
গোড়ালি
কনুই
কাঁধ
ইত্যাদি একাধিক জয়েন্টে ব্যথা বা ফোলা থাকে, তাহলে রিউমাটিক রোগের সম্ভাবনা হতে পারে।
৫. দুই পাশের জয়েন্টে একই ধরনের সমস্যা হলে
উভয় হাঁটু, উভয় কবজি বা শরীরের দুই পাশের একই ধরনের জয়েন্টে ব্যথা ও ফোলা থাকলে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ কিছু প্রদাহজনিত রোগের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
৬. অল্প বয়সে দীর্ঘদিন কোমর ব্যথা হলে
অল্প বয়সে দীর্ঘদিন ধরে কোমর ব্যথা হওয়া এবং ব্যথা বিশ্রামের পর বেশি অনুভূত হওয়া প্রদাহজনিত মেরুদণ্ডের রোগের লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষ করে সকালে কোমর শক্ত থাকা এবং নড়াচড়া করলে ব্যথা কিছুটা কমে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।
ব্যথার সঙ্গে কোন লক্ষণগুলো থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
কিছু লক্ষণকে সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।
যেমন—
জয়েন্ট হঠাৎ ফুলে যাওয়, জয়েন্ট লাল ও গরম হয়ে যাওয়া, জয়েন্টে প্রচণ্ড ব্যথা, জ্বরের সঙ্গে জয়েন্টে ব্যথা , অনেক জয়েন্টে একসঙ্গে ব্যথা করা, সকালে অনেকক্ষন শক্তভাব থাকা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, বারবার ব্যথা ফিরে আসা, কোমর ব্যথার সঙ্গে পায়ে অবশভাব বা দুর্বলতা দেখা দিলে।
এ ধরনের লক্ষণ থাকলে নিজে থেকে শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে সমস্যাটি দীর্ঘায়িত না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হাঁটুর ব্যথা হলেই কি রিউমাটোলজিস্ট দেখাতে হবে?
না। সব হাঁটুর ব্যথার জন্য রিউমাটোলজিস্ট প্রয়োজন হয় না।
হাঁটুর ব্যথার কারণের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হতে পারে।
যেমন ধরুন—
আঘাত, লিগামেন্ট বা মেনিস্কাসের সমস্যা: অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হতে পারে।
প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গাউট: এর জন্য রিউমাটোলজিস্ট উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ।
দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও চলাফেরার সমস্যা: ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।
তাই রোগের প্রকৃতি অনুযায়ী সঠিক বিশেষজ্ঞ নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।
রিউমাটোলজিস্ট কী কী পরীক্ষা দিতে পারেন?
রোগীর ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা ও উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা দিয়ে থাকেন।
রক্ত পরীক্ষা
যদি প্রয়োজন হয় তবে ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করতে দেন —
CBC, ESR, CRP, Rheumatoid Factor (RF), Anti-CCP, Serum Uric Acid, ANA
অন্যান্য নির্দিষ্ট অটোইমিউন পরীক্ষা
তবে সব রোগীর জন্য সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না।
X-ray
হাঁটু বা মেরুদণ্ডের হাড় ও জয়েন্টের অবস্থা বোঝার জন্য X-ray করা হয়।
অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন X-ray-তে দেখা যায়।
MRI
কোমর বা হাঁটুর কিছু সমস্যা আরও বিস্তারিতভাবে দেখতে MRI প্রয়োজন হয়।
বিশেষ করে—
ডিস্কের সমস্যা, স্নায়ুর ওপর চাপ, লিগামেন্টের সমস্যা, কিছু প্রদাহজনিত পরিবর্তন
ইত্যাদি মূল্যায়নে MRI ব্যবহৃত হয়।
চিকিৎসায় কী কী পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়?
রোগের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা সম্পূর্ণ আলাদা হয়।
ওষুধ
রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক ব্যথানাশক, প্রদাহ কমানোর ওষুধ, ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের ওষুধ বা অটোইমিউন রোগের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ওষুধ দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো রোগে শুধু ব্যথা কমানো যথেষ্ট নয়। রোগের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়াম
কিছু কিছু হাঁটু ও কোমরের সমস্যায় সঠিক ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে ব্যথা থাকা অবস্থায় নিজের ইচ্ছামতো ভারী ব্যায়াম শুরু করা ঠিক নয়। রোগের কারণ ও শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্ট উপযুক্ত ব্যায়াম নির্ধারণ করে দেন।
ওজন নিয়ন্ত্রণ করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে হাঁটুর জয়েন্টের ওপর চাপ বাড়ে এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিসের উপসর্গ আরও খারাপ হতে পারে। তাই অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা হাঁটুর স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
হাঁটু ও কোমরের ব্যথা কমাতে দৈনন্দিন জীবনে কী করবেন?
কিছু সাধারণ অভ্যাস যা ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়—
দীর্ঘসময় একই অবস্থায় বসে থাকবেন না।
কাজের সময় সঠিক অঙ্গভঙ্গি বজায় রাখুন।
অতিরিক্ত ভারী জিনিস তোলা এড়িয়ে চলুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকা বা অতিরিক্ত চাপের কাজ কমান।
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন।
ব্যথা বারবার হলে কারণ নির্ণয় করুন।
নিজে থেকে দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না।
রাজশাহীতে রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ
আপনি যদি রাজশাহীতে থাকেন এবং দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু, কোমর বা অন্যান্য জয়েন্টের সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাহলে রোগের ধরন অনুযায়ী রাজশাহীতে রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিন আজই ।
এমবিবিএস, বিসিএস, এমডি-রিউম্যাটোলজি (বিএসএমএমইউ) ইসিআরডি (সুইজারল্যান্ড)
রিউম্যাটোলজি (বাত ও ব্যথা রোগ) বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক ( রিউম্যাটোলজি )
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহী
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (রিউমাটোলজি), ইসিআরডি
রিউমাটোলজি (রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গেঁটে বাত, লুপাস, ব্যথা) বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক, রিউমাটোলজি
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমডি (রিউমাটোলজি)-বিএসএমএমইউ
ইউলার সার্টিফাইড মাস্কিউলোস্কেলেটাল সনোলজিস্ট
বাত-ব্যথা, কোমর-ব্যথা, শিরা-প্রদাহ, হাড় ক্ষয় বিশেষজ্ঞ
রিউমাটোলজিস্ট
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
ডাঃ এস এম জোবাইর হোসাইন
এমবিবিএস (ঢাকা),বিসিএস (স্বাস্থ্য) এমডি (রিউমাটোলজি),বিএমইউ/পিজি
ফেলো এসিআর(আমেরিকা)
রিউমাটোলজি (রিউমাটোলজি, এসএলই, অস্টিওপোরোসিস, পিঠে ব্যথা) বিশেষজ্ঞ
কনসালটেন্ট (রিউমাটোলজি)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
রাজশাহীতে রিউমাটোলজিস্ট সাধারণত বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিস, গাউট, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, প্রদাহজনিত জয়েন্টের রোগ, কিছু অটোইমিউন রোগ এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত পেশি-জয়েন্টের সমস্যার মূল্যায়ন ও চিকিৎসা করেন।
কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
১. হাঁটুর ব্যথার জন্য কোন ডাক্তার দেখাব?
হাঁটুর ব্যথার কারণের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক নির্বাচন করতে হয়। প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা গাউটের সন্দেহ থাকলে রিউমাটোলজিস্ট দেখানো উপযুক্ত। আঘাত বা লিগামেন্টের সমস্যায় অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হতে পারে।
২. কোমরের ব্যথার জন্য কি রিউমাটোলজিস্ট দেখানো যায়?
হ্যাঁ। বিশেষ করে কোমরের ব্যথা দীর্ঘদিন থাকলে, সকালে শক্তভাব থাকলে, বিশ্রামে ব্যথা না কমলে এবং অন্যান্য জয়েন্টেও সমস্যা থাকলে রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।
৩. ইউরিক অ্যাসিড বেশি হলে কি রিউমাটোলজিস্ট দেখাব?
ইউরিক অ্যাসিড বেশি হলেই যে গাউট হয়েছে এমন নয়। তবে জয়েন্টে হঠাৎ ব্যথা, ফোলা, লালভাব ও গরম অনুভূতি থাকলে রিউমাটোলজিস্ট রোগটি মূল্যায়ন করতে পারেন।
৪. সকালে হাঁটু ও কোমর শক্ত লাগে কেন?
বিভিন্ন কারণে সকালে জয়েন্ট শক্ত লাগতে পারে। তবে দীর্ঘসময় ধরে সকালের শক্তভাব থাকা প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।
৫. রিউমাটোলজিস্ট কি শুধু বাতের চিকিৎসা করেন?
না। রিউমাটোলজিস্ট বিভিন্ন ধরনের জয়েন্ট, পেশি, হাড় ও সংযোগকারী টিস্যুর রোগের পাশাপাশি অটোইমিউন ও প্রদাহজনিত রোগের চিকিৎসা করেন।
৬. হাঁটুর ব্যথা কি সবসময় আর্থ্রাইটিসের কারণে হয়?
না। আঘাত, লিগামেন্ট বা মেনিস্কাসের সমস্যা, পেশির সমস্যা, সংক্রমণ, গাউট এবং অন্যান্য কারণেও হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে।
৭. কোমরের ব্যথা কি শুধু ডিস্কের কারণে হয়?
না। পেশির টান, মেরুদণ্ডের ক্ষয়, ডিস্কের সমস্যা, স্নায়ুর চাপ এবং প্রদাহজনিত বিভিন্ন রোগসহ অনেক কারণেই কোমর ব্যথা হতে পারে।
৮. হাঁটু ফুলে গেলে কী করব?
হাঁটু ফুলে যাওয়ার কারণ জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফোলার সঙ্গে প্রচণ্ড ব্যথা, লালভাব, গরম অনুভূতি বা জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৯. হাঁটু ও কোমরের ব্যথায় ব্যায়াম করা যাবে?
ব্যথার কারণের ওপর নির্ভর করে ব্যায়ামের ধরন ঠিক করতে হয়। সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া অতিরিক্ত বা ভুল ব্যায়াম না করাই ভালো।
১০. রাজশাহীতে রিউমাটোলজিস্ট কী ধরনের রোগ দেখেন?
হাঁটু ও কোমরের ব্যথা খুব সাধারণ সমস্যা হলেও এর পেছনের কারণ সবসময় সাধারণ নয়। বয়সজনিত জয়েন্টের ক্ষয় থেকে শুরু করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গাউট, স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিস কিংবা অন্যান্য প্রদাহজনিত রোগ—বিভিন্ন কারণে একই ধরনের ব্যথা হতে পারে।
তাই “হাঁটু ও কোমরের ব্যথা: রিউমাটোলজিস্ট কখন দেখাবেন”—এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো: ব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, বারবার ফিরে আসে, জয়েন্ট ফুলে যায়, সকালে দীর্ঘসময় শক্ত থাকে, একাধিক জয়েন্ট আক্রান্ত হয় অথবা অল্প বয়সে দীর্ঘস্থায়ী কোমর ব্যথা দেখা দেয়, তাহলে রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে রাজশাহীতে রিউমাটোলজিস্ট খুঁজছেন এমন রোগীদের উচিত রোগের ধরন অনুযায়ী অভিজ্ঞ ও উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ নির্বাচন করা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যথার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা। সময়মতো রোগ শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা শুরু করলে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং জয়েন্টের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কমানো সম্ভব।
Related Articles
Continue reading in রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী / Rheumatology Specialist Rajshahi
রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী / Rheumatology Specialist Rajshahi
রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী / Rheumatology Specialist Rajshahi
রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী / Rheumatology Specialist Rajshahi
রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী / Rheumatology Specialist Rajshahi