নবজাতকের সার্জারি প্রয়োজন হয় কখন
Md Sabbir Ahmed • 29 Aug,2026 • 👁 100 Views
Category: শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ রাজশাহী
নবজাতকের সার্জারি প্রয়োজন হয় কখন, কোন জন্মগত সমস্যা ও লক্ষণে অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে, কখন দ্রুত শিশু সার্জনের কাছে যেতে হবে—বিস্তারিত জানুন।
নবজাতকের সার্জারি প্রয়োজন হয় কখন
সন্তান জন্মের পর প্রতিটি পরিবারই চায় নবজাতক সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকুক। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে জন্মের পর শিশুর শরীরে এমন কিছু সমস্যা দেখা দেয়, যেগুলোর চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন হয়। কিছু সমস্যা ওষুধ বা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও, কিছু জন্মগত ত্রুটি বা জটিল অবস্থায় সার্জারি বা অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।
অনেক বাবা-মায়ের মনেই প্রশ্ন থাকে—নবজাতকের সার্জারি প্রয়োজন হয় কখন?
সব নবজাতকেরই যে সার্জারি প্রয়োজন হবে, বিষয়টি এমন নয়। নবজাতকের সার্জারি সাধারণত তখন বিবেচনা করা হয়, যখন শরীরের কোনো অঙ্গ স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয়নি, কোনো পথ বন্ধ রয়েছে, খাবার বা মল স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না অথবা জন্মগত কোনো সমস্যার কারণে শিশুর জীবন ও স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রম ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
নবজাতকের ক্ষেত্রে সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জীবনের প্রথম কয়েক দিন ও কয়েক সপ্তাহে শিশুর শরীর খুবই সংবেদনশীল থাকে। কিছু সমস্যায় দেরি হলে জটিলতা বাড়তে পারে। তাই জন্মের পর শিশুর মধ্যে অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞ বা নবজাতক ও শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নবজাতকের সার্জারি কী?
নবজাতক সার্জারি হলো জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহের শিশুর বিভিন্ন সার্জিক্যাল সমস্যার চিকিৎসা।
নবজাতক বয়সে কিছু শিশু জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মাতে পারে। আবার কিছু সমস্যা জন্মের আগে শনাক্ত না হলেও জন্মের পর লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে।
শিশুর—
খাদ্যনালী
পাকস্থলী
অন্ত্র
মলদ্বার
পেটের দেয়াল
ফুসফুসের আশপাশের গঠন
মূত্রনালি
যৌনাঙ্গ
শরীরের অন্যান্য অঙ্গ
সংক্রান্ত কিছু জন্মগত সমস্যায় সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
তবে মনে রাখা জরুরি, কোনো শিশুর একটি জন্মগত সমস্যা থাকলেই সঙ্গে সঙ্গে অপারেশন করতে হবে—এমন নয়। সমস্যার ধরন, তীব্রতা এবং শিশুর শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন কখন এবং কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন।
সার্জারি কখন করতে হয়
সাধারণভাবে বলা যায়, নবজাতকের কোনো অঙ্গ বা শরীরের স্বাভাবিক পথ যদি জন্মগত কারণে সঠিকভাবে কাজ না করে এবং সেটি ওষুধ বা সাধারণ চিকিৎসায় ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—
১. জন্মের পর মল না হলে
নবজাতকের জন্মের পর পায়খানা হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জন্মের পর দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও যদি শিশুর মল না হয়, পেট ফুলে যায় বা বমি শুরু হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হয়।
এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অন্ত্রের জন্মগত বাধা অথবা মলদ্বারের জন্মগত গঠনগত সমস্যার কারণে এমন হতে পারে।
যে লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে
জন্মের পর মল না হওয়া
পেট ফুলে যাওয়া
বমি হওয়া
খেতে না চাওয়া
অস্বাভাবিক অস্বস্তি
এই ধরনের সমস্যা থাকলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করেন। কিছু ক্ষেত্রে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
২. মলদ্বারের জন্মগত সমস্যা
কিছু নবজাতক এমন জন্মগত সমস্যা নিয়ে জন্মাতে পারে, যেখানে মলদ্বার স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয়নি বা মল বের হওয়ার পথ স্বাভাবিক নয়।
এ ধরনের সমস্যাকে সাধারণভাবে Anorectal Malformation বলা হয়।
জন্মের পর শিশুর মল না হওয়া বা মলদ্বারের গঠন অস্বাভাবিক মনে হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সমস্যার ধরন অনুযায়ী শিশুর সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসার ধরন এক ধাপে সম্পন্ন হয়, আবার কিছু জটিল সমস্যায় ধাপে ধাপে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
৩. খাদ্যনালীতে জন্মগত সমস্যা থাকলে
কিছু নবজাতকের ক্ষেত্রে খাবার মুখ থেকে পাকস্থলীতে যাওয়ার পথ স্বাভাবিকভাবে তৈরি নাও হতে পারে।
এ ধরনের সমস্যায় শিশুকে খাওয়ানোর পর—
বারবার কাশি হতে পারে
দম আটকে আসতে পারে
মুখে বা নাকে দুধ উঠে আসতে পারে
শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে
এ ধরনের লক্ষণকে সাধারণ বমি বা দুধ উঠে আসার সমস্যা মনে করে অবহেলা করা উচিত নয়।
জন্মগত খাদ্যনালির কিছু সমস্যায় দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসা এবং সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
৪. পাকস্থলী থেকে খাবার বের হওয়ার পথে বাধা থাকলে
কিছু শিশুর পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে খাবার যাওয়ার পথে বাধা তৈরি হতে পারে।
এর একটি পরিচিত উদাহরণ হলো Pyloric Stenosis।
এ ধরনের সমস্যায় শিশুকে দুধ খাওয়ানোর কিছু সময় পর বারবার জোরে বমি হতে পারে। শিশুর ওজন বাড়তে সমস্যা হতে পারে এবং শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
সব বমি সার্জারির কারণে হয় না। কিন্তু নবজাতক বা অল্প বয়সী শিশুর বারবার বমি হলে অবশ্যই কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
৫. অন্ত্রে জন্মগত বাধা থাকলে
কিছু শিশুর অন্ত্রের একটি অংশ জন্মগতভাবে সরু, বন্ধ বা সঠিকভাবে তৈরি না হতে পারে।
এতে খাবার বা অন্ত্রের ভেতরের পদার্থ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না।
সম্ভাব্য লক্ষণ
পেট ফুলে যাওয়া
জন্মের পর মল না হওয়া
বারবার বমি
সবুজ বা হলুদাভ বমি
খেতে না পারা
এ ধরনের লক্ষণ থাকলে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কিছু জন্মগত অন্ত্রের সমস্যায় সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
৬. পেটের দেয়ালের জন্মগত ত্রুটি
কিছু নবজাতকের ক্ষেত্রে পেটের দেয়াল স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয় না। ফলে পেটের ভেতরের কোনো অঙ্গ বা অন্ত্র শরীরের বাইরে অবস্থান করতে পারে।
এ ধরনের সমস্যা সাধারণত জন্মের সময়ই চোখে পড়ে।
এটি গুরুতর একটি অবস্থা হতে পারে এবং দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সমস্যার ধরন ও শিশুর শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সার্জারি করা হতে পারে।
৭. ডায়াফ্রামের জন্মগত সমস্যা
ডায়াফ্রাম হলো বুক ও পেটের মাঝখানে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশি, যা শ্বাস-প্রশ্বাসে ভূমিকা রাখে।
কিছু শিশুর ক্ষেত্রে জন্মগতভাবে ডায়াফ্রামে ছিদ্র বা দুর্বলতা থাকতে পারে। ফলে পেটের কিছু অঙ্গ বুকের দিকে চলে যেতে পারে এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এ ধরনের শিশুর জন্মের পর শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
এই ধরনের সমস্যায় নবজাতকের অবস্থা স্থিতিশীল করার পাশাপাশি বিশেষায়িত চিকিৎসা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সার্জারি করা হতে পারে।
৮. নবজাতকের জন্মগত হার্নিয়া
শিশুর পেটের দেয়ালের দুর্বল জায়গা দিয়ে কোনো অঙ্গ বেরিয়ে এলে হার্নিয়া হতে পারে।
নবজাতক ও ছোট শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের হার্নিয়া দেখা যায়।
বিশেষ করে কুঁচকির কাছে বা অণ্ডথলিতে অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দিলে শিশু সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সব ধরনের ফোলা হার্নিয়া নয়। তাই পরীক্ষা ছাড়া নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিতে পারেন, আবার কিছু হার্নিয়ায় জটিলতা এড়াতে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে।
৯. নবজাতকের প্রস্রাবের পথে গুরুতর সমস্যা
কিছু শিশুর মূত্রনালির জন্মগত সমস্যা থাকতে পারে।
যদি শিশুর প্রস্রাব করতে অসুবিধা হয়, প্রস্রাব খুব কম হয়, পেট অস্বাভাবিক ফুলে যায় বা যৌনাঙ্গের গঠন স্বাভাবিক মনে না হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কিছু সমস্যায় শিশু ইউরোলজি বা শিশু সার্জারির বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
১০. জন্মগত হাইড্রোসিল ও অণ্ডকোষের সমস্যা
ছেলে শিশুর অণ্ডথলি অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকলে সেটি হাইড্রোসিলসহ বিভিন্ন কারণে হতে পারে।
আবার কোনো শিশুর একটি বা দুটি অণ্ডকোষ অণ্ডথলিতে না থাকতে পারে।
এ ধরনের সমস্যায় সবসময় জন্মের পরপরই অপারেশন করতে হয় না। শিশুর বয়স ও সমস্যার ধরন অনুযায়ী শিশু সার্জন চিকিৎসার পরিকল্পনা করেন।
তাই শিশুর অণ্ডথলি বা যৌনাঙ্গের গঠনে অস্বাভাবিকতা মনে হলে চিকিৎসকের কাছে দেখানো উচিত।
আরও পড়ুনঃ শিশু সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী
নবজাতকের কোন লক্ষণ দেখলে দ্রুত শিশু সার্জনের পরামর্শ নেবেন?
নবজাতকের সমস্যা সবসময় মুখে বলে বোঝার সুযোগ নেই। তাই অভিভাবকদের শিশুর আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তনের দিকে খেয়াল রাখতে হয়।
নিচের লক্ষণগুলোর কোনোটি থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বারবার বমি
বিশেষ করে শিশুর প্রতিবার খাওয়ার পর বমি হলে বা বমির পরিমাণ বেশি হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সবুজ রঙের বমি হলে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত এবং দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে
নবজাতকের পেট কিছুটা নরম ও স্বাভাবিক দেখাতে পারে। কিন্তু পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে, শক্ত হয়ে গেলে বা শিশুর অস্বস্তি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
জন্মের পর মল না হলে
জন্মের পর শিশুর মল না হওয়া এবং এর সঙ্গে পেট ফুলে যাওয়া বা বমি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
শিশুকে খাওয়াতে সমস্যা হলে
শিশু দুধ খেতে না পারা, খাওয়ার সময় বারবার দম আটকে আসা বা খাওয়ার পর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
শ্বাসকষ্ট হলে
নবজাতকের শ্বাসকষ্টের অনেক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে কিছু জন্মগত সমস্যাও রয়েছে।
শিশুর দ্রুত শ্বাস নেওয়া, বুক দেবে যাওয়া, ঠোঁট নীলচে হওয়া বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি।
নবজাতকের সার্জারির আগে কী কী পরীক্ষা করা হতে পারে?
সমস্যার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা দিতে পারেন।
যেমন—
রক্ত পরীক্ষা
আল্ট্রাসনোগ্রাম
এক্স-রে
ইকোকার্ডিওগ্রাম
বিশেষ ধরনের ইমেজিং পরীক্ষা
সব শিশুর জন্য একই পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না।
কোন পরীক্ষা প্রয়োজন হবে তা নির্ভর করে শিশুর কী ধরনের সমস্যা হয়েছে তার ওপর।
নবজাতকের সার্জারি কি ঝুঁকিপূর্ণ?
নবজাতকের শরীর অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সার্জারি অবশ্যই বিশেষ যত্নের বিষয়।
তবে বর্তমানে শিশু সার্জারি, অ্যানেস্থেশিয়া, নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা এবং চিকিৎসা প্রযুক্তির উন্নতির কারণে অনেক জটিল সার্জারিও সফলভাবে করা সম্ভব হচ্ছে।
তবুও প্রতিটি অপারেশনের কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকি থাকে। ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে—
শিশুর বয়স ও ওজন
রোগের ধরন
সমস্যার জটিলতা
শিশুর অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা আছে কি না
অপারেশন কতটা জটিল
এসব বিষয়ের ওপর।
সার্জারির আগে চিকিৎসক অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেন।
সার্জারির পর নবযাতকের কিভাবে যত্ন নিবেন?
অপারেশনের পর শিশুর যত্নও চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কিছু নবজাতকের সার্জারির পর কিছুদিন বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখতে হতে পারে। প্রয়োজনে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সার্জারির পর চিকিৎসক সাধারণত শিশুর—
শ্বাস-প্রশ্বাস
শরীরের তাপমাত্রা
দুধ খাওয়ার ক্ষমতা
পেটের কার্যক্রম
প্রস্রাব ও মলত্যাগ
অপারেশনের স্থান
পর্যবেক্ষণ করেন।
বাড়িতে যাওয়ার পর ওষুধ, দুধ খাওয়ানো এবং ফলোআপের বিষয়ে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
নবজাতকের সার্জারি নিয়ে অভিভাবকদের যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত
নবজাতকের কোনো অস্বাভাবিক সমস্যা দেখা দিলে অনেক সময় পরিবার প্রথমে অপেক্ষা করে দেখতে চায়।
কিছু ক্ষেত্রে অপেক্ষা করা নিরাপদ হতে পারে, কিন্তু সব সমস্যার ক্ষেত্রে নয়।
নিচের ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত—
১. গুরুতর লক্ষণকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অপেক্ষা করা
বারবার বমি, পেট ফুলে যাওয়া বা মল না হওয়ার মতো সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২. নিজের ইচ্ছায় ওষুধ দেওয়া
নবজাতককে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেওয়া উচিত নয়।
৩. লোকজ চিকিৎসার ওপর নির্ভর করা
জন্মগত বা সার্জিক্যাল সমস্যা লোকজ চিকিৎসায় ঠিক হওয়ার অপেক্ষায় সময় নষ্ট করা বিপজ্জনক হতে পারে।
৪. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে খাওয়ানো বন্ধ করা
কিছু সার্জিক্যাল সমস্যায় খাওয়ানোর বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা প্রয়োজন হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন।
Frequently Asked Questions
১. নবজাতকের সার্জারি প্রয়োজন হয় কখন?
যখন শিশুর কোনো জন্মগত সমস্যা, অঙ্গের গঠনগত ত্রুটি বা শরীরের স্বাভাবিক কোনো পথ বন্ধ থাকার কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং সাধারণ চিকিৎসায় সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তখন সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে।
২. জন্মের পর শিশু পায়খানা না করলে কি সার্জারি লাগবে?
সবসময় নয়। তবে জন্মের পর দীর্ঘসময় মল না হওয়া, পেট ফুলে যাওয়া বা বমির সঙ্গে এই সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ নির্ণয়ের পর চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেবেন সার্জারি প্রয়োজন কি না।
৩. নবজাতকের বারবার বমি কি বিপজ্জনক?
সব বমি বিপজ্জনক নয়। তবে বারবার বমি, জোরে বমি, সবুজ বমি, খেতে না পারা বা পেট ফুলে যাওয়ার সঙ্গে বমি থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৪. নবজাতকের হার্নিয়ায় কি অপারেশন করতে হয়?
হার্নিয়ার ধরন ও শিশুর অবস্থার ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। কিছু হার্নিয়ায় সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে। তাই শিশু সার্জনের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
৫. নবজাতকের সার্জারি কি নিরাপদ?
নবজাতকের সার্জারি বিশেষায়িত চিকিৎসার বিষয়। আধুনিক চিকিৎসা ও নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যার সুবিধার কারণে অনেক জটিল সার্জারি সফলভাবে করা সম্ভব। তবে ঝুঁকি রোগ ও শিশুর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
৬. নবজাতকের পেট ফুলে গেলে কী করবেন?
পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে, সঙ্গে বমি বা মল না হওয়ার সমস্যা থাকলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
৭. কোন ধরনের বমি হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে?
নবজাতকের বারবার বমি, জোরে বমি বা বিশেষ করে সবুজ রঙের বমি হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
নবজাতকের জন্মের পর কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে ভয় পাওয়ার পাশাপাশি সচেতন হওয়াটাও জরুরি। সব সমস্যার জন্য সার্জারি প্রয়োজন হয় না, তবে কিছু জন্মগত ও সার্জিক্যাল সমস্যায় সময়মতো চিকিৎসা শিশুর সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জন্মের পর শিশুর মল না হওয়া, পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া, বারবার বা সবুজ বমি, খেতে সমস্যা হওয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা শরীরের কোনো জন্মগত অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞ বা শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং সঠিক বিশেষজ্ঞের চিকিৎসাই নবজাতকের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
Related Articles
Continue reading in শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ রাজশাহী
শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ রাজশাহী
শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ রাজশাহী
শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ রাজশাহী
কিডনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী