রিকেটস রোগ কী? লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
রিকেটস রোগ • 05 Jan,2026 • 👁 257 Views
Category: শিশু স্বাস্থ্য বার্তা
রিকেটস রোগ কী, শিশুদের মধ্যে কেন বেশি দেখা যায়, লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ সম্পর্কে জানুন বিস্তারিত ও সহজ ভাষায়।
রিকেটস রোগ কী? (Rickets)
রিকেটস (Rickets) হলো একটি হাড়ের রোগ, যা প্রধানত শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। এই রোগে শিশুর হাড় নরম, দুর্বল ও বিকৃত হয়ে যায়। ফলে হাড় সঠিকভাবে শক্ত হতে পারে না এবং শিশুর শারীরিক গঠন ও বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
রিকেটস মূলত ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম বা ফসফরাসের ঘাটতির কারণে হয়ে থাকে। এসব উপাদান হাড়ের গঠন ও শক্তির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শিশুর শরীরে যখন এগুলোর অভাব দেখা দেয়, তখন হাড় স্বাভাবিকভাবে খনিজ পদার্থ জমা করতে পারে না এবং রিকেটস রোগের সৃষ্টি হয়।
রিকেটস কেন একটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ?
রিকেটস শুধু হাড় বাঁকা হওয়ার রোগ নয়; এটি শিশুর চলাফেরা, উচ্চতা বৃদ্ধি, পেশির শক্তি ও সামগ্রিক শারীরিক বিকাশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে শিশুর হাড়ে স্থায়ী বিকৃতি থেকে যেতে পারে।
বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রিকেটস এখনো একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
শিশুদের রিকেটস রোগ বেশি হয় কেন?
শিশুদের মধ্যে রিকেটস রোগ বেশি হওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।
প্রথমত, শিশুদের হাড় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই সময় হাড়ের সঠিক বিকাশের জন্য প্রচুর ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস প্রয়োজন হয়। যদি এই চাহিদা পূরণ না হয়, তাহলে ঘাটতি খুব দ্রুত প্রকাশ পায়।
দ্বিতীয়ত, অনেক শিশু পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না। ভিটামিন ডি শরীরে তৈরি হয় মূলত সূর্যের আলো থেকে। শহুরে জীবনযাপন, ঘরের ভেতরে বেশি থাকা, অতিরিক্ত কাপড় পরানো—এসব কারণে শিশুর ত্বকে সূর্যালোক কম পড়ে।
তৃতীয়ত, অপুষ্টি শিশুদের রিকেটসের বড় কারণ। পর্যাপ্ত দুধ, ডিম, মাছ ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে শিশুর শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান ঘাটতি দেখা দেয়।
চতুর্থত, শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রেও রিকেটস হতে পারে, যদি মা নিজেই ভিটামিন ডি ঘাটতিতে ভোগেন। কারণ বুকের দুধে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ তুলনামূলক কম।
পঞ্চমত, কিছু শিশু দীর্ঘমেয়াদি পেটের রোগ, কিডনি বা লিভারের সমস্যায় ভোগে, যার ফলে শরীরে ভিটামিন ডি শোষণে বাধা সৃষ্টি হয়।
এই সব কারণ মিলেই শিশুদের মধ্যে রিকেটস রোগ বেশি দেখা যায়।
রিকেটস রোগের প্রধান কারণসমূহ
রিকেটস রোগের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি। ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে। এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে যায়।
এছাড়া—
ক্যালসিয়ামের ঘাটতি
ফসফরাসের ঘাটতি
সূর্যালোকের অভাব
অপুষ্টি
কিছু জেনেটিক বা বংশগত রোগ
কিডনি ও লিভারের দীর্ঘমেয়াদি রোগ
রিকেটসের কারণ হতে পারে।
রিকেটস রোগের লক্ষণ
রিকেটস রোগের লক্ষণ ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
শিশুর পা বাঁকা হয়ে যাওয়া (O বা X আকৃতির),
হাঁটতে দেরি হওয়া বা হাঁটার সময় ব্যথা,
হাড়ে ও জয়েন্টে ব্যথা,
মাথার খুলি নরম থাকা,
দাঁত উঠতে দেরি হওয়া বা দাঁতের গঠন দুর্বল হওয়া,
উচ্চতা বাড়তে না পারা,
পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া।
কিছু শিশুর ক্ষেত্রে বুকের হাড় সামনের দিকে বেরিয়ে আসতে পারে, যাকে Pigeon Chest বলা হয়।
রিকেটস রোগ কি শুধু শিশুদের হয়?
রিকেটস মূলত শিশুদের রোগ। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে একই ধরনের সমস্যা হলে তাকে অস্টিওম্যালেশিয়া (Osteomalacia) বলা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই মূল সমস্যা হাড়ে খনিজ পদার্থের ঘাটতি।
রিকেটস রোগ কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
রিকেটস নির্ণয়ের জন্য শিশুর শারীরিক পরীক্ষা, এক্স-রে এবং রক্ত পরীক্ষা করা হয়। রক্ত পরীক্ষায় ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রা কম পাওয়া যায়। এক্স-রেতে হাড়ের গঠনগত পরিবর্তন দেখা যায়।
আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor service BD তে
রিকেটস রোগের চিকিৎসা
রিকেটস রোগের চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে সহজ, যদি সময়মতো শুরু করা যায়।
চিকিৎসার মূল অংশ হলো—
ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট
ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট
পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা
গুরুতর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি দেওয়া হয়। হাড়ের স্থায়ী বিকৃতি থাকলে অর্থোপেডিক চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
রিকেটস রোগ প্রতিরোধের উপায়
শিশুকে নিয়মিত সকালের নরম রোদে রাখা,
পর্যাপ্ত দুধ, ডিম, মাছ ও সবুজ শাকসবজি খাওয়ানো,
গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টির দিকে খেয়াল রাখা,
শিশুর জন্য ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দেওয়া (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী)।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
শিশুর পা বাঁকা হতে শুরু করলে,
হাঁটতে দেরি হলে,
উচ্চতা বাড়তে না পারলে,
বা হাড়ে ব্যথার লক্ষণ দেখা দিলে
দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞ (Paediatrician) এর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি পেডিয়াট্রিক্স, ফেলো চাইল্ড নিউট্রিশন (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ
অধ্যাপক (শিশুরোগ)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
ডাঃ মোহতারামা মোস্তারী (মনিকা)
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমসিপিএস (শিশু), এমডি (নবজাতক)
নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ
সহযোগী অধ্যাপক, শিশু বিভাগ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) এমসিপিএস, এফসিপিএস (শিশুরোগ)
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক শিশুরোগ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর: এ-৫৪৫৪৮
রিকেটস রোগ নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
রিকেটস কি জন্মগত রোগ?
সবসময় নয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুষ্টির ঘাটতির কারণে হয়।
শুধু বুকের দুধে কি রিকেটস হতে পারে?
হ্যাঁ, যদি ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট না দেওয়া হয়।
রিকেটস কি স্থায়ীভাবে ভালো হয়?
সময়মতো চিকিৎসা করলে ভালো হয়।
কোন ডাক্তার দেখাতে হবে?
শিশু বিশেষজ্ঞ বা অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ।
রোদে রাখলে কি রিকেটস প্রতিরোধ হয়?
হ্যাঁ, নিয়মিত সূর্যালোক খুবই উপকারী।
রিকেটস একটি প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য রোগ। শিশুদের মধ্যে এই রোগ বেশি হওয়ার মূল কারণ হলো দ্রুত হাড়ের বৃদ্ধি, পুষ্টির ঘাটতি ও সূর্যালোকের অভাব। সচেতনতা, সঠিক পুষ্টি ও সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে রিকেটস থেকে শিশুকে সম্পূর্ণ সুস্থ রাখা সম্ভব।
World Health Organization (WHO)
Vitamin D Deficiency and Rickets
Related Articles
Continue reading in শিশু স্বাস্থ্য বার্তা
শিশু স্বাস্থ্য বার্তা
শিশু স্বাস্থ্য বার্তা
শিশু স্বাস্থ্য বার্তা
শিশু স্বাস্থ্য বার্তা