Your Premier Destination for Personalized Healthcare Solutions

ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে করণীয় কী?

Sabbir Ahmed • 05 Jun,2026 • 👁 160 Views

Category: সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা

Logo

ইউরিক এসিড কেন বাড়ে, এর লক্ষণ কী, কোন খাবার খাওয়া উচিত, কী এড়িয়ে চলবেন, গাউটের সাথে ইউরিক এসিডের সম্পর্ক, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।


ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে করণীয় কী?


বর্তমানে অনেক মানুষ উচ্চ ইউরিক এসিড (High Uric Acid) সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, কম পানি পান করা, স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং কিডনির বিভিন্ন সমস্যার কারণে ইউরিক এসিড বেড়ে যেতে পারে। অনেকেই রক্ত পরীক্ষায় ইউরিক এসিড বেশি পাওয়ার পর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে সব ক্ষেত্রে ইউরিক এসিড বৃদ্ধি মানেই গুরুতর রোগ নয়। সঠিক জীবনযাপন, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ইউরিক এসিড দীর্ঘদিন বেশি থাকলে Gout, কিডনিতে পাথর এবং জয়েন্টের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে কী করতে হবে এবং কীভাবে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।


ইউরিক এসিড কী? 

ইউরিক এসিড হলো শরীরের একটি বর্জ্য পদার্থ, যা Purine নামক উপাদান ভাঙার ফলে তৈরি হয়। Purine স্বাভাবিকভাবেই শরীরে থাকে এবং কিছু খাবারেও পাওয়া যায়।

সাধারণত ইউরিক এসিড রক্তের মাধ্যমে কিডনিতে যায় এবং প্রস্রাবের সাথে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু যখন শরীরে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড তৈরি হয় বা কিডনি তা যথাযথভাবে বের করতে পারে না, তখন রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়।


ইউরিক এসিড কেন বাড়ে? 

১. অতিরিক্ত Purine সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া

কিছু খাবারে Purine বেশি থাকে, যা ইউরিক এসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে।

যেমন—

  • গরুর মাংস

  • খাসির মাংস

  • কলিজা

  • মগজ

  • সামুদ্রিক মাছ

  • চিংড়ি

২. কম পানি পান করা

পর্যাপ্ত পানি না খেলে কিডনি ইউরিক এসিড ভালোভাবে বের করতে পারে না।

৩. স্থূলতা

অতিরিক্ত ওজন শরীরে ইউরিক এসিড উৎপাদন বাড়িয়ে দিতে পারে।

৪. ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক সিনড্রোম

ডায়াবেটিস ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

৫. কিডনির রোগ

কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করলে ইউরিক এসিড শরীরে জমতে শুরু করে।

৬. কিছু ওষুধ

কিছু রক্তচাপের ওষুধ ও ডাইইউরেটিক ওষুধ ইউরিক এসিড বাড়াতে পারে।

৭. বংশগত কারণ

পরিবারে কারও ইউরিক এসিডের সমস্যা থাকলে ঝুঁকি বেশি হতে পারে।


ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?

অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ ইউরিক এসিডের কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।


জয়েন্টে ব্যথা

বিশেষ করে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল, গোড়ালি, হাঁটু এবং আঙুলের জয়েন্টে তীব্র ব্যথা হতে পারে।

জয়েন্ট ফুলে যাওয়া

ইউরিক এসিডের স্ফটিক জয়েন্টে জমে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।

লালচে ও গরম অনুভূতি

আক্রান্ত জয়েন্ট লাল এবং স্পর্শ করলে গরম অনুভূত হতে পারে।

রাতে ব্যথা বৃদ্ধি পাওয়া

গাউটের ব্যথা অনেক সময় রাতের দিকে বেশি হয়।

কিডনিতে পাথর হওয়া

দীর্ঘদিন ইউরিক এসিড বেশি থাকলে Kidney Stones হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।


ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে কী ধরনের ব্যথা হয়?

উচ্চ ইউরিক এসিডের কারণে সৃষ্ট ব্যথা সাধারণ ব্যথার মতো নয়। অনেক রোগী হঠাৎ তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত হন।

ব্যথার বৈশিষ্ট্য—

  • হঠাৎ শুরু হয়

  • জয়েন্ট স্পর্শ করলেই ব্যথা লাগে

  • রাতে বেশি হয়

  • জয়েন্ট ফুলে যায়

  • হাঁটাচলায় কষ্ট হয়

বিশেষ করে গাউটের আক্রমণের সময় ব্যথা অত্যন্ত তীব্র হতে পারে।


ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে করণীয় কী?

১. প্রচুর পানি পান করুন

ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা।

প্রতিদিন সাধারণত ২.৫–৩ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করুন (চিকিৎসক ভিন্ন পরামর্শ না দিলে)।

২. ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন

স্থূলতা ইউরিক এসিড বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো উপকারী।

৩. নিয়মিত ব্যায়াম করুন

হালকা হাঁটা, সাইক্লিং এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম বিপাকক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে।

৪. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন

যদি ইউরিক এসিড খুব বেশি হয় বা গাউটের সমস্যা থাকে, তাহলে চিকিৎসক ওষুধ দিতে পারেন।


ইউরিক এসিড কমাতে কী খাবেন?

কম চর্বিযুক্ত দুধ ও দই

এগুলো ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

তাজা ফলমূল

বিশেষ করে—

  • কমলা

  • মাল্টা

  • পেয়ারা

  • আপেল

  • চেরি

সবুজ শাকসবজি

বেশিরভাগ শাকসবজি নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর।

পর্যাপ্ত পানি

শরীর থেকে ইউরিক এসিড বের হতে সাহায্য করে।

পুরো শস্যজাতীয় খাবার

ওটস, লাল চাল, আটার রুটি উপকারী হতে পারে।


ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে কী খাবেন না?

অতিরিক্ত লাল মাংস

গরু ও খাসির মাংসে Purine বেশি থাকে।

কলিজা ও মগজ

এগুলো ইউরিক এসিড দ্রুত বাড়াতে পারে।

কিছু সামুদ্রিক মাছ

সার্ডিন, অ্যাঙ্কোভি এবং কিছু শেলফিশে Purine বেশি থাকে।

চিনিযুক্ত কোমল পানীয়

বিশেষ করে Fructose সমৃদ্ধ পানীয় ইউরিক এসিড বাড়াতে পারে।

অতিরিক্ত ফাস্টফুড

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে বাধা দেয়।

ইউরিক এসিড এবং গাউটের সম্পর্ক কী?

রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেশি হলে তা জয়েন্টে স্ফটিক আকারে জমা হতে পারে। এর ফলে Gout নামক প্রদাহজনিত বাত রোগ হয়।

সব উচ্চ ইউরিক এসিড রোগীর গাউট হয় না, তবে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।


ইউরিক এসিড নির্ণয়ের জন্য কী কী পরীক্ষা করা হয়?

Serum Uric Acid Test

রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা নির্ণয়ের প্রধান পরীক্ষা।

Kidney Function Test

কিডনির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়।

Urine Uric Acid Test

কিছু ক্ষেত্রে প্রস্রাবে ইউরিক এসিড পরিমাপ করা হয়।

Joint Fluid Analysis

গাউট সন্দেহ হলে জয়েন্টের তরল পরীক্ষা করা হতে পারে।


ইউরিক এসিড প্রতিরোধে করণীয়

  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন

  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন

  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন

  • অতিরিক্ত মাংস খাওয়া কমান

  • ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

  • পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন


কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

নিচের লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—

✔ হঠাৎ জয়েন্টে তীব্র ব্যথা হলে
✔ জয়েন্ট ফুলে গেলে
✔ হাঁটতে কষ্ট হলে
✔ বারবার গাউটের আক্রমণ হলে
✔ কিডনিতে পাথরের লক্ষণ দেখা দিলে
✔ রক্ত পরীক্ষায় ইউরিক এসিড বেশি পাওয়া গেলে


কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাবেন?

উচ্চ ইউরিক এসিড ও গাউটের সমস্যার জন্য Rheumatology বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অথবা Nephrology বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।


উপসংহার

উচ্চ ইউরিক এসিড একটি সাধারণ কিন্তু অবহেলা করলে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে এমন স্বাস্থ্য সমস্যা। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা বা গাউটের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে Gout, কিডনির জটিলতা এবং অন্যান্য সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।


FAQ: ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে করণীয়

১. ইউরিক এসিড কত হলে বেশি ধরা হয়?

সাধারণত পুরুষদের ক্ষেত্রে ৭ mg/dL এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৬ mg/dL-এর বেশি হলে উচ্চ ইউরিক এসিড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ল্যাবভেদে রেফারেন্স ভিন্ন হতে পারে।

২. বেশি পানি খেলে কি ইউরিক এসিড কমে?

হ্যাঁ, পর্যাপ্ত পানি কিডনির মাধ্যমে ইউরিক এসিড বের করতে সাহায্য করে।

৩. ইউরিক এসিড বাড়লে কি সবসময় গাউট হয়?

না। অনেকের ইউরিক এসিড বেশি থাকলেও কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে গাউটের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

৪. ডিম খেলে কি ইউরিক এসিড বাড়ে?

সাধারণত ডিমে Purine কম থাকে, তাই পরিমিত ডিম খাওয়া নিরাপদ।

৫. ইউরিক এসিড বেশি থাকলে কি কলা খাওয়া যায়?

হ্যাঁ, কলা সাধারণত নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচিত।

৬. ইউরিক এসিড বেশি থাকলে কোন ফল খাওয়া ভালো?

আপেল, কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, চেরি এবং বিভিন্ন মৌসুমি ফল উপকারী হতে পারে।

৭. ইউরিক এসিড কি সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়?

অনেক ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও চিকিৎসার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

৮. ইউরিক এসিডের জন্য হাঁটা কি উপকারী?

হ্যাঁ, নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।



Related Articles

Continue reading in সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা

blog-image সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
ভিটামিন বি১২ ঘাটতির ১০টি লক্ষণ

ভিটামিন বি১২ ঘাটতির লক্ষণ কী কী, কেন এই ঘাটতি হয়, শরীরে কী প্রভাব ফেলে, কোন খাবারে ভিটামিন বি১২ বেশি থাকে এবং চিকিৎসা স...

blog-image সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
শীতকালে ত্বক শুষ্ক হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

শীতকালে ত্বক শুষ্ক হওয়ার মূল কারণ ও কার্যকর সমাধান জানুন। শীতের রুক্ষতা দূর করে ত্বক নরম ও সুস্থ রাখতে কী করবেন—বিস্তারি...

blog-image সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
কোলেস্টেরল কমানোর খাবার

কোলেস্টেরল কমাতে কী খাবেন, কোন খাবার হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো, LDL কমানোর উপকারী খাবার, ডায়েট টিপস ও প্রতিরোধের উপায় জানুন...

blog-image সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
আলঝেইমার রোগের প্রাথমিক লক্ষণ কী কী? | Alzheimer’s Disease Early Symptoms

আলঝেইমার রোগের প্রাথমিক লক্ষণ কী কী, কীভাবে ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়, কখন সতর্ক হবেন ও চিকিৎসকের কাছে যাবেন—সব জানু...

Emergency Contact

Emergency Call +880 1723-025514

Emergency E-mail

24/7 Email Support [email protected]

- OR -