পাইলস অপারেশন কখন করতে হয়?
ডাঃ এমএস রায় • 27 Feb,2026 • 👁 550 Views
Category: সার্জারি রোগ
পাইলস্ (Hemorrhoids) এর অপারেশন কখন প্রয়োজন হয়, কী ধরনের অপারেশন করা হয়, ঝুঁকি ও সুস্থ হতে কতদিন লাগে—জানুন একজন সার্জারি বিশেষজ্ঞের বিস্তারিত গাইড।
ভূমিকা
পাইলস্ বা অর্শরোগ বর্তমানে অত্যন্ত সাধারণ একটি সমস্যা। অনেক রোগী দীর্ঘদিন ধরে রক্তপাত, ব্যথা বা মলদ্বার থেকে মাংসপিণ্ড বের হওয়ার সমস্যায় ভোগেন, কিন্তু অপারেশন নিয়ে ভয় বা ভুল ধারণার কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। ফলাফল—রোগ জটিল আকার ধারণ করে।
পাইলস্ এর সব ক্ষেত্রে অপারেশন প্রয়োজন হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওষুধ, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসায় ভালো হওয়া সম্ভব। তবে কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় সার্জারি অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
এই ব্লগে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো—
পাইলস্ কী
কত প্রকার
কোন অবস্থায় অপারেশন দরকার
কী ধরনের অপারেশন হ
অপারেশনের ঝুঁকি ও পুনরুদ্ধার
পাইলস্ (Hemorrhoids) কী?
পাইলস্ হলো মলদ্বার ও রেকটামের নিচের অংশের স্ফীত শিরা (Swollen veins)। এটি অনেকটা পায়ের ভেরিকোজ ভেইনের মতো, তবে অবস্থান মলদ্বারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় Hemorrhoids।
পাইলস্ এর প্রকারভেদ
পাইলস্ প্রধানত দুই ধরনের—
১. অভ্যন্তরীণ পাইলস্ (Internal Hemorrhoids)
রেকটামের ভেতরে থাকে
সাধারণত ব্যথাহীন
প্রধান লক্ষণ রক্তপাত
২. বাহ্যিক পাইলস্ (External Hemorrhoids)
মলদ্বারের বাইরে
ব্যথা ও অস্বস্তি বেশি
ফোলা ও চুলকানি থাকে
পাইলস্ এর গ্রেডিং (Internal Hemorrhoids Classification)
গ্রেড–১
শুধু রক্তপাত
বাইরে আসে না
গ্রেড–২
পায়খানার সময় বের হয়
নিজে নিজে ঢুকে যায়
গ্রেড–৩
হাত দিয়ে ঢোকাতে হয়
গ্রেড–৪
সবসময় বাইরে থাকে
ঢোকানো যায় ন
ব্যথা ও জটিলতা বেশি
পাইলস্ এর অপারেশন কখন করতে হয়?
সব রোগীর অপারেশন প্রয়োজন হয় না। নিচের পরিস্থিতিতে সার্জারি বিবেচনা করা হয়—
১. দীর্ঘদিনের রক্তপাত
যদি—
বারবার রক্তপাত হয়
রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়
ওষুধে নিয়ন্ত্রণ না হয়
তাহলে অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে
২. গ্রেড–৩ বা গ্রেড–৪ পাইলস্
গ্রেড–৩ ও গ্রেড–৪ অবস্থায় সাধারণত স্থায়ী সমাধানের জন্য সার্জারি সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
৩. তীব্র ব্যথা ও থ্রম্বোসিস
যদি বাহ্যিক পাইলস্ এ রক্ত জমাট (Thrombosed Hemorrhoid) হয়—
তীব্র ব্যথা
ফোলা
বসতে কষ্ট তাহলে জরুরি সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে।
৪. মলদ্বার থেকে স্থায়ী মাংসপিণ্ড বের হয়ে থাকা
যা—
ঢোকানো যায় না
সংক্রমণ হ
রক্তপাত অব্যাহত থাক
৫. ওষুধ ও নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা ব্যর্থ হলে
যেমন—
ব্যান্ডি
স্ক্লেরোথেরাপি
ইনফ্রারেড কোয়াগুলেশন এগুলো কাজ না করলে অপারেশন প্রয়োজন।
পাইলস্ এর অপারেশনের ধরন
১. Hemorrhoidectomy
এটি প্রচলিত সার্জারি পদ্ধতি।
সম্পূর্ণ পাইলস্ কেটে ফেলা হয়
স্থায়ী সমাধান দেয়
গুরুতর ক্ষেত্রে কার্যকর
২. Stapled Hemorrhoidopexy
স্ট্যাপলার ব্যবহার করে
কম ব্যথা
দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়
৩. Laser Surgery
আধুনিক পদ্ধতি
রক্তপাত কম
দ্রুত রিকভারি
৪. Rubber Band Ligation
ছোট পাইলস্ এ কার্যকর
ডে-কেয়ার প্রোসিডিউর
অপারেশনের আগে কী পরীক্ষা দরকার?
রক্ত পরীক্ষা
Hb লেভেল
রক্তচা
ডায়াবেটিস পরীক্ষা
প্রয়োজনে কোলনোস্কোপি
অপারেশনের ঝুঁকি কী?
যদিও নিরাপদ, তবুও সম্ভাব্য ঝুঁকি—
রক্তপাত
সংক্রমণ
মলদ্বারে ব্যথা
সাময়িক প্রস্রাবের সমস্যা অভিজ্ঞ সার্জনের মাধ্যমে করলে ঝুঁকি কম।
অপারেশনের পর কতদিনে সুস্থ হওয়া যায়?
সাধারণত ২–৪ সপ্তাহ
ব্যথা প্রথম সপ্তাহে বেশি
১–২ সপ্তাহে স্বাভাবিক কাজ
অপারেশনের পর করণীয়
আঁশযুক্ত খাবা
প্রচুর পানি
কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ানো
ভারী কাজ পরিহার
অপারেশন ছাড়া কি ভালো হওয়া যায়?
প্রাথমিক পর্যায়ে—
আঁশযুক্ত খাবার
ইসবগুল
সিটজ বাথ
ওষুধ কার্যকর হতে পারে।
পাইলস্ ও ক্যান্সারের পার্থক্য
অনেকেই ভয় পান—রক্তপাত মানেই ক্যান্সার।
তবে মনে রাখতে হবে, সব রক্তপাত পাইলস্ নয়। সন্দেহ হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ সার্জনের পরামর্শ নিতে হবে।
কখন জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তার দেখাবেন?
অতিরিক্ত রক্তপাত
মাথা ঘোরা
অসহনীয় ব্যথা
জ্বরসহ ফোলা
পাইলস্ একটি চিকিৎসাযোগ্য রোগ। ভয় বা লজ্জার কারণে চিকিৎসা দেরি করলে জটিলতা বাড়ে। সঠিক সময়ে সার্জারি করলে এটি স্থায়ীভাবে নিরাময় সম্ভব। সব ক্ষেত্রে অপারেশন প্রয়োজন হয় না, তবে নির্দিষ্ট অবস্থায় সার্জারি সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
ডাঃ এমএস রায়
পাইলস্, ফিশার, ফিস্টুলা, লেজার এন্ড ল্যাপারোস্কপিক সার্জন।
কনসালটেন্ট(কলোরেক্টাল, ল্যাপারোস্কপিক এন্ড জেনারেল সার্জারী)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল
Related Articles
Continue reading in সার্জারি রোগ
সার্জারি রোগ
সার্জারি রোগ
সার্জারি রোগ