রাজশাহীতে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব বিষয়ে চিকিৎসা দেন কোন কোন ডাক্তার
Male Infertility • 19 Feb,2026 • 👁 221 Views
Category: চর্মরোগ / ডার্মাটোলজি সমস্যা
পুরুষের বন্ধ্যাত্ব (Male Infertility) বলতে বোঝায়— নিয়মিত ও সুরক্ষাবিহীন দাম্পত্য জীবনের পরও ১২ মাস বা তার বেশি সময় ধরে সন্তান ধারণ না হওয়া, যেখানে সমস্যার মূল কারণ পুরুষের দিক থেকে হয়ে থাকে। সাধারণভাবে পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা কম, শুক্রাণুর গতি বা গঠন অস্বাভাবিক হওয়া কিংবা শুক্রাণু তৈরি বা নিঃসরণে সমস্যা থাকলে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।
পুরুষের বন্ধ্যাত্ব কেন হয়?
পুরুষের বন্ধ্যাত্বের পেছনে একাধিক শারীরিক, হরমোনজনিত ও জীবনযাপন সম্পর্কিত কারণ থাকতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো শুক্রাণুর সংখ্যা কম হওয়া (Low sperm count), শুক্রাণু ঠিকমতো নড়াচড়া না করা (Poor motility) অথবা শুক্রাণুর গঠন ত্রুটিপূর্ণ হওয়া (Abnormal morphology)। এছাড়া অণ্ডকোষে শিরা ফুলে যাওয়া (ভ্যারিকোসিল), অণ্ডকোষে আঘাত, জন্মগত ত্রুটি, সংক্রমণ, মাম্পসের জটিলতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসও বড় কারণ।
জীবনযাপনজনিত কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, মাদক সেবন, অতিরিক্ত মোবাইল বা ল্যাপটপ কোলে রাখা, গরম পরিবেশে দীর্ঘসময় কাজ করা, মানসিক চাপ, স্থূলতা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। কিছু ওষুধ যেমন স্টেরয়েড, কেমোথেরাপি ও দীর্ঘদিনের কিছু ব্যথানাশকও শুক্রাণু উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
পুরুষের বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ কী কী?
পুরুষের বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নাও থাকতে পারে, সন্তান না হওয়াই প্রধান ইঙ্গিত। তবে কিছু ক্ষেত্রে সহায়ক লক্ষণ দেখা যেতে পারে। যেমন— যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া, বীর্যপাতের পরিমাণ কম হওয়া, অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা, অণ্ডকোষ ছোট মনে হওয়া, লিঙ্গে দৃঢ়তা ধরে রাখতে সমস্যা, শরীরে অতিরিক্ত দুর্বলতা বা হরমোনজনিত লক্ষণ (দাড়ি-গোঁফ কম হওয়া, স্তন সামান্য বড় হয়ে যাওয়া)। এসব লক্ষণ থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কখন ডাক্তার দেখাতে হবে?
যদি দম্পতি ১ বছর নিয়মিত ও সুরক্ষাবিহীন সহবাসের পরও সন্তান ধারণে ব্যর্থ হন, তাহলে অবশ্যই ডাক্তার দেখানো উচিত। বিশেষ করে যদি পুরুষের যৌন সমস্যা, অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা, পূর্বে যৌনরোগ, মাম্পস, ডায়াবেটিস, অপারেশন বা দীর্ঘদিনের ওষুধ সেবনের ইতিহাস থাকে, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রাজশাহীতে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব বিষয়ে চিকিৎসা দেন যেসব ডাক্তারঃ
এমবিবিএস, ডিডিভি,এমডি(চর্ম ও যৌন রোগ)
চর্ম, যৌন, সেক্স, এ্যালার্জি ও কুষ্ঠ রোগ বিশেষজ্ঞ
প্রাক্তন অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),ডিডিভি (চর্ম ও যৌন রোগ),এমএসিপি (আমেরিকা)
ফেলো ইন ডার্মাটো সার্জারী
এ্যাডভান্স ট্রেনিং ইন সেক্সুয়াল মেডিসিন (SAASM)
মেম্বার সোরিয়াসিস এওয়ারনেস ক্লাব
সহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌন বিভাগ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
এমবিবিএস, বিসিএস,এমসিপিএস (চর্ম ও যৌন),
ডিডিভি (বিএসএমএমইউ)
কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমডি (স্কিন অ্যান্ড ভিডি)
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor Service BD তে
কীভাবে পরীক্ষা করা হয়?
ডাক্তার প্রথমে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা করবেন। এরপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো বীর্য পরীক্ষা (Semen Analysis)। প্রয়োজনে হরমোন পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ডপলার স্টাডি বা জেনেটিক পরীক্ষাও করা হতে পারে।
পুরুষের বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা কী?
পুরুষের বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা কারণভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। যদি জীবনযাপনজনিত কারণে সমস্যা হয়, তাহলে ধূমপান ও মাদক পরিহার, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ কমানো ও সুষম খাদ্য গ্রহণে অনেক ক্ষেত্রেই উন্নতি হয়। ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রয়োজনীয় মিনারেল সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হতে পারে।
হরমোনজনিত সমস্যায় হরমোন থেরাপি দেওয়া হয়। ভ্যারিকোসিল বা গঠনগত সমস্যায় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। সংক্রমণ থাকলে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি যেমন আইইউআই, আইভিএফ বা আইসিএসআইয়ের সাহায্যেও সন্তান লাভ সম্ভব।
শেষ কথা
পুরুষের বন্ধ্যাত্ব কোনো লজ্জার বিষয় নয় এবং এটি চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। সময়মতো সঠিক ডাক্তারের কাছে গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফল চিকিৎসা সম্ভব। সন্তান না হওয়া মানেই শেষ নয়— সচেতনতা, পরীক্ষা ও নিয়মিত চিকিৎসাই সুস্থ দাম্পত্য জীবনের চাবিকাঠি।
Related Articles
Continue reading in চর্মরোগ / ডার্মাটোলজি সমস্যা
চর্মরোগ / ডার্মাটোলজি সমস্যা
চর্মরোগ / ডার্মাটোলজি সমস্যা
চর্মরোগ / ডার্মাটোলজি সমস্যা
চর্মরোগ / ডার্মাটোলজি সমস্যা