Your Premier Destination for Personalized Healthcare Solutions

হার্শপ্রুং ডিজিজ (Hirschsprung Disease) কী, লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা | শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্যের গোপন কারণ

হার্শপ্রুং ডিজিজ (Hirschsprung Disease) • 05 Oct,2025 • 👁 9,162 Views

Category: সার্জারি রোগ

Logo

হার্শপ্রুং ডিজিজ একটি জন্মগত অন্ত্রের সমস্যা, যেখানে শিশুর বৃহদান্ত্রে স্নায়ু কোষ অনুপস্থিত থাকে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফোলা ও বমির মতো সমস্যা দেখা দেয়। জানুন এর কারণ, লক্ষণ, নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত।



হার্শপ্রুং ডিজিজ কী?


হার্শপ্রুং ডিজিজ হলো একটি বিরল জন্মগত অন্ত্রের রোগ যেখানে বৃহদান্ত্রের (Large Intestine) একটি অংশে স্নায়ুকোষের (nerve cells) অভাব থাকে। ফলে অন্ত্রের স্বাভাবিক চলাচল (peristalsis) বাধাগ্রস্ত হয় এবং বাচ্চার কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস জমা, ও অন্ত্রের ব্লকেজ হতে পারে।


হার্শপ্রুং ডিজিজ কেন হয়?


এটি মূলত জন্মগত রোগ, অর্থাৎ শিশুর জন্মের সময় থেকেই থেকে যায়। প্রধান কারণগুলো হলো:


  • জেনেটিক ত্রুটি (DNA মিউটেশন)

  • পরিবারে পূর্ব ইতিহাস থাকা

  • পুরুষ শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়

  • কিছু সিন্ড্রোম যেমন ডাউন সিন্ড্রোম রোগীর ঝুঁকি বেশি

  • গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের স্নায়ুর বিকাশজনিত সমস্যা


হার্শপ্রুং ডিজিজের প্রধান লক্ষণ


  • শিশুর বয়স ভেদে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত দেখা যায়ঃ

  • জন্মের পর ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মল না হওয়া

  • স্থায়ী ও মারাত্মক কোষ্ঠকাঠিন্য

  • পেটে অতিরিক্ত গ্যাস জমা ও ফোলা

  • বারবার বমি করা (কখনও সবুজ বা বাদামী রঙের)

  • ওজন না বাড়া বা খিদে না পাওয়া

  • ডায়রিয়া ও মারাত্মক ক্ষেত্রে এন্টারোকোলাইটিস (পেটের ভেতর মারাত্মক সংক্রমণ)


কাদের মধ্যে বেশি হয়?


  • নবজাতক ও ছোট শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়

  • ছেলে শিশুদের ঝুঁকি মেয়েদের তুলনায় প্রায় ৪ গুণ বেশি

  • যাদের পরিবারে এই রোগের ইতিহাস আছে

  • ডাউন সিন্ড্রোম বা অন্যান্য জেনেটিক সমস্যায় আক্রান্ত শিশুরা


হার্শপ্রুং ডিজিজের চিকিৎসা কী?


হার্শপ্রুং ডিজিজ ওষুধে পুরোপুরি ভালো হয় না, এর চূড়ান্ত চিকিৎসা হলো সার্জারি।



  • সার্জারি (Pull-through Surgery): অসুস্থ অন্ত্রের অংশ কেটে ফেলে সুস্থ অংশের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়।

  • কিছু ক্ষেত্রে অস্থায়ী কলোস্টমি (Colostomy) করতে হয়।

  • নিয়মিত শিশুকে চিকিৎসকের ফলো-আপে রাখা জরুরি।

  • সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পানীয় গ্রহণ নিশ্চিত করা।

  • হার্শপ্রুং ডিজিজের জটিলতা



সময়মতো চিকিৎসা না করলে কী জটিলতা হতে পারে?


  • মারাত্মক সংক্রমণ (এন্টারোকোলাইটিস)

  • অন্ত্র ফেটে যাওয়া

  • শিশুর বৃদ্ধি থেমে যাওয়া

  • জীবনহানির ঝুঁকি



হার্শপ্রুং ডিজিজ একটি গুরুতর জন্মগত রোগ হলেও সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও সার্জারির মাধ্যমে অধিকাংশ শিশু সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। যদি নবজাতক জন্মের পর মল না করে বা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগে, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।



Related Articles

Continue reading in সার্জারি রোগ

blog-image সার্জারি রোগ
ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি কী? সুবিধা, ঝুঁকি, কখন করা হয় ও কোন রোগে প্রয়োজন

ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি কী, এটি কেন করা হয়, এর সুবিধা ও ঝুঁকি কী, কোন কোন রোগে ল্যাপারোস্কোপিক অপারেশন করা হয় এবং কখন এ...

blog-image সার্জারি রোগ
ভ্যারিকোজ ভেইন (Varicose Vein): কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

ভ্যারিকোজ ভেইন কেন হয়, এর লক্ষণ কী, পায়ের শিরা ফুলে যাওয়ার কারণ, চিকিৎসা, অপারেশন, ঘরোয়া করণীয় ও প্রতিরোধের উপায় স...

blog-image সার্জারি রোগ
রাজশাহীতে কোলোরেক্টাল সার্জারি বিশেষজ্ঞ: কখন দেখাবেন?

রাজশাহীতে কোলোরেক্টাল সার্জারি ডাক্তার খুঁজছেন? পাইলস, ফিস্টুলা থেকে শুরু করে জটিল কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের চিকিৎসা পাওয়া...

blog-image সার্জারি রোগ
পাইলস অপারেশন কখন করতে হয়?

পাইলস্ (Hemorrhoids) এর অপারেশন কখন প্রয়োজন হয়, কী ধরনের অপারেশন করা হয়, ঝুঁকি ও সুস্থ হতে কতদিন লাগে—জানুন একজন সার্জার...

Emergency Contact

Emergency Call +880 1723-025514

Emergency E-mail

24/7 Email Support [email protected]

- OR -