দাঁতের মাড়িক্ষয় কেন হয়? - দাঁতের মাড়িক্ষয় রোধে করণীয়
দাতের মাড়িক্ষয় • 01 Jul,2025 • 👁 9,603 Views
Category: Uncategorized
দাঁতের মাড়িক্ষয় (Gum Recession) হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে মাড়ির প্রাকৃতিক স্তর ধীরে ধীরে নেমে গিয়ে দাঁতের শিকড় উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এতে দাঁতে শীতলতা অনুভব হওয়া, রক্ত পড়া বা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এটি ধীরে ধীরে হলেও বেশ গুরুতর সমস্যায় রূপ নিতে পারে, যদি সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়া হয়।
দাঁতের মাড়িক্ষয় কী?
মাড়িক্ষয় বলতে দাঁতের আশেপাশের মাড়ি বা গাম টিস্যু ধীরে ধীরে সরে যাওয়া বা ক্ষয়ে যাওয়াকে বোঝায়। এর ফলে দাঁতের গোড়া বা রুট এক্সপোজ হয়ে যায়, যা দেখতে বাজে লাগে এবং ব্যথাও অনুভূত হতে পারে। যদি এই প্রক্রিয়া থামানো না যায়, তাহলে দাঁত নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে এবং পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।
দাঁতের মাড়িক্ষয় কেন হয়?
মাড়িক্ষয়ের মূল কারণগুলো হলো:
- দীর্ঘদিন দাঁতের ময়লা ও প্লাক জমে থাকা: সঠিকভাবে দাঁত না মাজলে দাঁতের গোড়ায় প্লাক ও টার্টার জমে মাড়ি আক্রান্ত হয়।
- খুব জোরে ও ভুলভাবে দাঁত ব্রাশ করা: অনেকে দাঁত জোরে ঘষে ব্রাশ করেন, এতে মাড়ির টিস্যু ক্ষয়ে যায়।
- হারমোনের পরিবর্তন: মহিলাদের প্রেগনেন্সি, মেনোপজ ইত্যাদি সময়ে মাড়ি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।
- জিনগত কারণে: পরিবারের কারো যদি মাড়ির সমস্যা থাকে, তাহলে তা উত্তরসূরিতেও আসতে পারে।
- তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার: ধূমপান বা গুটকা ইত্যাদি মাড়ির রক্ত চলাচল কমিয়ে দেয়, ফলে মাড়ি শুকিয়ে ক্ষয়ে যায়।
- দাঁতের ভুল ব্যাবহার বা দাঁত আঁচড়ানো (Bruxism): ঘুমের মধ্যে দাঁত কিঁচিয়ে চেপে ধরার ফলে দাঁতের গোড়ায় চাপ পড়ে।
- অন্য রোগ যেমন ডায়াবেটিস: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে মাড়ির রোগ সহজে হয়।
কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁতের মাড়িক্ষয় হয়?
- ভিটামিন C: এই ভিটামিন মাড়ির স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘাটতি হলে মাড়ি দুর্বল হয়ে পড়ে, রক্ত পড়ে এবং ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়।
- ভিটামিন D: হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। এর অভাবে দাঁত ও মাড়ি দুর্বল হয়।
- ভিটামিন A ও K: এগুলো ক্ষত সারাতে সাহায্য করে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
দাঁতের মাড়িক্ষয় রোধে করণীয়
১. সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করা শিখুন
শক্ত ব্রাশ নয়, নরম ব্রিসলের টুথব্রাশ ব্যবহার করুন। প্রতিদিন সকালে ও রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করুন।
-
প্লাক ও টার্টার নিয়ন্ত্রণে রাখুন
প্রতিবার খাবারের পর মুখ কুলকুচি করুন। বছরে অন্তত একবার ডেন্টাল স্কেলিং করান। -
ভিটামিন C ও D সমৃদ্ধ খাবার খান
যেমন: আমলকি, লেবু, টমেটো, গাজর, ডিমের কুসুম, ছোট মাছ, রোদে থাকা। -
মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন
জীবাণুনাশক মাউথওয়াশ মাড়ির ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে। -
ধূমপান ও তামাক বর্জন করুন
এগুলো মুখ ও মাড়ির সবচেয়ে বড় শত্রু। -
নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ করুন
প্রতি ৬ মাস পরপর একজন দাঁতের ডাক্তার দেখানো উচিত।
দাঁতের মাড়িক্ষয় হলে কোন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
এক্ষেত্রে ডেন্টাল সার্জন বা পিরিয়োডন্টিস্ট (মাড়ি রোগ বিশেষজ্ঞ) এর পরামর্শ নেওয়া উচিত। দাঁতের ক্লিনিকে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, স্কেলিং বা সার্জারি (যদি দরকার হয়) করা যায়।
যেকোনো ধরনের অসুস্থতার জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন। রাজশাহীর সেরা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার জন্য ০১৭২৩০২৫৫১৪ এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন
দাঁতের মাড়িক্ষয় একটি ধীরে ধীরে হওয়া সমস্যা হলেও তা দাঁত হারানোর কারণ হতে পারে। সঠিক সময়ের যত্ন, খাদ্যাভ্যাস এবং সচেতনতা থাকলে এই সমস্যা থেকে নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করা সম্ভব। মুখের যত্ন মানে শরীরের যত্ন—এই বিষয়টি আমাদের মানতেই হবে।
Related Articles
Continue reading from our latest posts
রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী / Rheumatology Specialist Rajshahi
গ্যাস্ট্রোলিভার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী
Uncategorized
মেডিসিন রোগ