Your Premier Destination for Personalized Healthcare Solutions

গাউট (Gout): লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা | জানুন রাজশাহীর রিউম্যাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

Gout • 26 Jun,2026 • 👁 175 Views

Category: রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী / Rheumatology Specialist Rajshahi

Logo

গাউট (Gout) কেন হয়, এর লক্ষণ, ইউরিক অ্যাসিডের ভূমিকা, কী খাবেন, কী খাবেন না, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। প্রয়োজনে রাজশাহীতে রিউম্যাটোলজি (বাত ও ব্যথা রোগ) বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।


গাউট (Gout) 

গাউট (Gout) হলো একটি প্রদাহজনিত বাতের রোগ, যা শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে হয়ে থাকে। অনেকেই মনে করেন গাউট শুধু বয়স্কদের রোগ, কিন্তু বর্তমানে অল্প বয়সী পুরুষ এবং নারীদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি দীর্ঘমেয়াদে জয়েন্টের স্থায়ী ক্ষতি, কিডনিতে পাথর এবং চলাফেরায় গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

আপনার যদি হঠাৎ করে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে তীব্র ব্যথা, লালচে ভাব ও ফোলা দেখা দেয়, তাহলে এটি গাউটের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে রাজশাহীতে রিউম্যাটোলজি (বাত ও ব্যথা রোগ) বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর পরামর্শ নেওয়া উচিত।


গাউট (Gout) কী?

গাউট হলো এমন একটি প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিস, যা রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে গেলে সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড জয়েন্টে ছোট ছোট স্ফটিক (Urate Crystals) হিসেবে জমা হয়। এই স্ফটিকগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উত্তেজিত করে, ফলে তীব্র ব্যথা, ফোলা এবং প্রদাহ দেখা দেয়।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলের জয়েন্ট। তবে গোড়ালি, হাঁটু, কবজি, আঙুল এবং কনুইতেও গাউট হতে পারে।


গাউট কেন হয়?

গাউটের মূল কারণ হলো শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া (Hyperuricemia)। সাধারণত ইউরিক অ্যাসিড কিডনির মাধ্যমে প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়। কিন্তু যখন শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেশি তৈরি হয় অথবা কিডনি তা যথাযথভাবে বের করতে পারে না, তখন এটি রক্তে জমতে শুরু করে।

গাউট হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়া

  • কলিজা, মগজ, গরুর ভুঁড়ি ইত্যাদি বেশি খাওয়া

  • সামুদ্রিক মাছ ও শেলফিশ বেশি খাওয়া

  • অতিরিক্ত কোমল পানীয় ও ফ্রুক্টোজযুক্ত পানীয় পান করা

  • স্থূলতা

  • কিডনি রোগ

  • উচ্চ রক্তচাপ

  • ডায়াবেটিস

  • বংশগত কারণ

  • পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া

  • কিছু ওষুধ (যেমন Diuretics)


গাউটের লক্ষণ কী কী?

গাউটের লক্ষণ সাধারণত হঠাৎ শুরু হয় এবং রাতের বেলায় বেশি দেখা যায়।

গাউটের সাধারণ লক্ষণ

  • পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে তীব্র ব্যথা

  • জয়েন্ট ফুলে যাওয়া

  • লালচে হয়ে যাওয়া

  • আক্রান্ত স্থানে গরম অনুভূত হওয়া

  • সামান্য স্পর্শেও অসহ্য ব্যথা

  • হাঁটতে কষ্ট হওয়া

  • কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যথা থাকা

  • বারবার একই জয়েন্টে ব্যথা হওয়া


গাউটের ঝুঁকিতে কারা বেশি?

নিচের ব্যক্তিদের গাউট হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে—

  • ৩০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ

  • মেনোপজের পর নারীরা

  • যাদের পরিবারে গাউটের ইতিহাস রয়েছে

  • ডায়াবেটিস রোগী

  • উচ্চ রক্তচাপের রোগী

  • স্থূল ব্যক্তি

  • দীর্ঘদিন কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি


গাউট কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

একজন রাজশাহীতে রিউম্যাটোলজি (বাত ও ব্যথা রোগ) বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রোগীর ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে গাউট নির্ণয় করেন।

প্রয়োজন হতে পারে—

  • Serum Uric Acid

  • CBC

  • ESR

  • CRP

  • Kidney Function Test

  • Joint Fluid Analysis

  • X-ray

  • Ultrasound

  • Dual Energy CT Scan (বিশেষ ক্ষেত্রে)


গাউটের চিকিৎসা কী?

গাউটের চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো ব্যথা কমানো, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করা এবং ভবিষ্যতে পুনরায় আক্রমণ প্রতিরোধ করা।

চিকিৎসার মধ্যে থাকতে পারে—

  • ব্যথা ও প্রদাহ কমানোর ওষুধ

  • ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের ওষুধ

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম

  • আক্রান্ত জয়েন্ট উঁচু করে রাখা

  • বরফ সেঁক দেওয়া

  • নিয়মিত ফলো-আপ

নিজে নিজে ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা জরুরি।


গাউট হলে কী খাবেন?

সঠিক খাদ্যাভ্যাস গাউট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

খেতে পারেন

  • প্রচুর পানি

  • শাকসবজি

  • টক ফল

  • কম চর্বিযুক্ত দুধ

  • দই

  • সম্পূর্ণ শস্য

  • বাদাম

  • ডাল (পরিমিত)

  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল


গাউট হলে কী খাবেন না?

গাউট নিয়ন্ত্রণে কিছু খাবার সীমিত বা এড়িয়ে চলা উচিত।

এড়িয়ে চলুন

  • গরু ও খাসির লাল মাংস

  • কলিজা

  • মগজ

  • ভুঁড়ি

  • চিংড়ি

  • শামুক

  • সার্ডিন

  • অতিরিক্ত চিনি

  • কোমল পানীয়

  • অতিরিক্ত মিষ্টি

  • অ্যালকোহল


গাউট প্রতিরোধে করণীয়

গাউট প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • প্রতিদিন ২–৩ লিটার পানি পান করুন।

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

  • নিয়মিত হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন।

  • অতিরিক্ত লাল মাংস কম খান।

  • কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন।

  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ চালিয়ে যান।

  • নিয়মিত ইউরিক অ্যাসিড পরীক্ষা করুন।


গাউটের জটিলতা

চিকিৎসা না করলে গাউট থেকে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

  • স্থায়ী জয়েন্ট ক্ষতি

  • টোফাই (Tophi) তৈরি হওয়া

  • জয়েন্ট বিকৃতি

  • কিডনিতে পাথর

  • কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া

  • চলাফেরায় অক্ষমতা


কখন দ্রুত রিউম্যাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যাবেন?

নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি থাকলে দ্রুত রিউম্যাটোলজি (বাত ও ব্যথা রোগ) বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর পরামর্শ নিন—

  • হঠাৎ অসহ্য জয়েন্টের ব্যথা

  • বারবার গাউটের আক্রমণ

  • জয়েন্ট ফুলে যাওয়া

  • ইউরিক অ্যাসিড দীর্ঘদিন বেশি থাকা

  • কিডনিতে পাথরের ইতিহাস

  • ওষুধ খাওয়ার পরও ব্যথা না কমা

  • জয়েন্টে বিকৃতি দেখা দেওয়া


রাজশাহীতে রিউম্যাটোলজি (বাত ও ব্যথা রোগ) বিশেষজ্ঞ ডাক্তার 


ডাঃ মোছাঃ রূপালী ইয়াসমিন

এমবিবিএস, বিসিএস, এমডি-রিউম্যাটোলজি (বিএসএমএমইউ) ইসিআরডি (সুইজারল্যান্ড)

রিউম্যাটোলজি (বাত ও ব্যথা রোগ) বিশেষজ্ঞ

সহকারী অধ্যাপক ( রিউম্যাটোলজি )

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহী


চেম্বারঃ

ল্যাবএইড ডায়াগনষ্টিক রাজশাহী

সময়ঃ

শনি-বুধ বিকাল ৩টা-রাত ৮টা

রুম নং- ৫০৫




Frequently Asked Questions (FAQ)

১. গাউট কি সম্পূর্ণ ভালো হয়?

গাউট একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। তবে নিয়মিত চিকিৎসা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব

২. ইউরিক অ্যাসিড বেশি মানেই কি গাউট?

না। অনেকের ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলেও কখনও গাউটের লক্ষণ দেখা নাও দিতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের কাছাকাছি ইউরিক অ্যাসিড থাকলেও গাউটের আক্রমণ হতে পারে।

৩. গাউট কি শুধু পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে হয়?

না। যদিও পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়, তবে হাঁটু, গোড়ালি, কবজি, কনুই এবং আঙুলের জয়েন্টেও গাউট হতে পারে।

৪. গাউট হলে কি হাঁটা-চলা করা যাবে?

তীব্র ব্যথার সময় আক্রান্ত জয়েন্টকে বিশ্রাম দেওয়া ভালো। ব্যথা কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক চলাফেরা ও ব্যায়াম শুরু করা যায়।

৫. গাউট হলে কি ডিম খাওয়া যাবে?

হ্যাঁ। সাধারণভাবে ডিমে পিউরিনের পরিমাণ কম, তাই অধিকাংশ গাউট রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে ডিম খেতে পারেন।

৬. গাউট হলে কি সারাজীবন ওষুধ খেতে হয়?

সব রোগীর ক্ষেত্রে নয়। কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ইউরিক অ্যাসিড কমানোর ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট হতে পারে। এটি রোগের তীব্রতা ও পুনঃপুন আক্রমণের ওপর নির্ভর করে।


রাজশাহীতে যেকোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ও সিরিয়াল  নিন Doctor Service BD এর মাধ্যমে


Related Articles

Continue reading in রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী / Rheumatology Specialist Rajshahi

blog-image রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী / Rheumatology Specialist Rajshahi
ডাঃ এস এম জোবাইর হোসাইন / রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ

রিউমাটোলজি (রিউমাটোলজি, এসএলই, অস্টিওপোরোসিস) বিশেষজ্ঞ রাজশাহীডাঃ এস এম জোবাইর হোসাইনএমবিবিএস (ঢাকা),বিসিএস (স্বাস্থ্য)...

blog-image রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী / Rheumatology Specialist Rajshahi
রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী

রাজশাহীর সেরা রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সম্পর্কে জানুন। জয়েন্ট ব্যথা, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গাউট ও অটোইমিউন রোগের...

blog-image রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী / Rheumatology Specialist Rajshahi
ডাঃ মোছাঃ রূপালী ইয়াসমিন / রিউম্যাটোলজিস্ট

রিউম্যাটোলজি (বাত ও ব্যথা রোগ) বিশেষজ্ঞ রাজশাহীডাঃ মোছাঃ রূপালী ইয়াসমিনএমবিবিএস, বিসিএস, এমডি-রিউম্যাটোলজি (বিএসএমএমইউ)...

blog-image রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী / Rheumatology Specialist Rajshahi
হাঁটু ও কোমরের ব্যথা: রিউমাটোলজিস্ট কখন দেখাবেন?

হাঁটু ও কোমরের ব্যথা কেন হয়, কখন রিউমাটোলজিস্ট দেখাবেন, কী কী পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রয়োজন ও কী কী নিয়ম মেনে চলবেন এবং রাজশ...

Emergency Contact

Emergency Call +880 1723-025514

Emergency E-mail

24/7 Email Support [email protected]

- OR -