মুখে ঘা হয় কোন ভিটামিনের অভাবে?
Healthy Lifestyle • 27 Feb,2026 • 👁 510 Views
Category: সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
মুখে ঘা কেন হয়? কোন ভিটামিনের অভাবে মুখে ঘা হয়, কীভাবে বুঝবেন, ঘরোয়া ও চিকিৎসা পদ্ধতি কী—জানুন বিস্তারিতভাবে।
ভূমিকা
মুখে ঘা (Mouth Ulcer) একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যা। অনেকেই মাঝেমধ্যে মুখের ভেতরে ছোট সাদা বা হলুদ দাগের মতো ক্ষত অনুভব করেন, যা খাওয়ার সময় জ্বালা বা ব্যথা করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিকর নয় এবং ৭–১৪ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তবে বারবার মুখে ঘা হওয়া শরীরের ভেতরের কোনো পুষ্টিহীনতার ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের অভাবে মুখে ঘা বেশি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে মুখের সাধারণ ঘাকে বলা হয় Aphthous ulcer।
এই ব্লগে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো—
মুখে ঘা কেন হয়
কোন ভিটামিনের অভাবে বেশি হয়
কীভাবে বুঝবেন এটি পুষ্টিহীনতার কারণে
কী পরীক্ষা করা দরকার
চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়
মুখে ঘা কী?
মুখের ভেতরের নরম অংশে (জিহ্বা, ঠোঁটের ভেতর, গাল, মাড়ি) ছোট গোলাকার বা ডিম্বাকৃতির ক্ষত তৈরি হলে তাকে মুখে ঘা বলা হয়। সাধারণত মাঝখানে সাদা বা হলুদ এবং চারপাশে লালচে বর্ডার থাকে।
মুখে ঘা হয় কোন ভিটামিনের অভাবে?
মুখে ঘা হওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে নিম্নোক্ত ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি—
১. ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12) এর অভাব
ভিটামিন বি১২ স্নায়ুতন্ত্র ও রক্ত তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘাটতি হলে—
বারবার মুখে ঘা
জিহ্বা লাল ও জ্বালা
দুর্বলতা
অ্যানিমিয়া দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে নিরামিষভোজী, বয়স্ক ব্যক্তি ও দীর্ঘদিন গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় ভোগা রোগীদের মধ্যে বি১২ ঘাটতি বেশি দেখা যায়।
২. ফলিক অ্যাসিড (Vitamin B9) এর অভাব
ফলিক অ্যাসিড রক্তকণিকা তৈরি ও কোষ বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ। এর অভাবে—
মুখে পুনঃপুন ঘা
ক্লান্তি
রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে।
৩. ভিটামিন বি৬ (Vitamin B6) এর অভাব
ভিটামিন বি৬ এর ঘাটতিতেও মুখে ঘা হতে পারে। পাশাপাশি—
ঠোঁট ফাটা
জিহ্বা জ্বালা
ত্বকের সমস্যা হতে পারে।
৪. আয়রন (Iron) এর অভাব
আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতা হয়, যা মুখের টিস্যুকে দুর্বল করে দেয়। ফলে সহজে ক্ষত তৈরি হয়।
লক্ষণ:
ফ্যাকাশে ভাব
চুল পড়া
দুর্বলতা
মুখে ঘা
৫. জিঙ্ক (Zinc) এর অভাব
জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্ষত দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। জিঙ্কের অভাবে—
ক্ষত দেরিতে ভালো হয়
বারবার মুখে ঘা হয়
আরও পড়ুনঃ বারবার মুখে ঘা হয় কেনো ?
মুখে ঘা হওয়ার অন্যান্য কারণ
সব মুখের ঘা ভিটামিনের অভাবে হয় না। আরও কিছু কারণ হলো—
মানসিক চাপ
হরমোন পরিবর্তন
অতিরিক্ত ঝাল খাবার
দাঁতের ধারালো অংশে ঘষা লাগা
ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হওয়া
ভাইরাল সংক্রমণ
কীভাবে বুঝবেন ভিটামিনের অভাবে ঘা হয়েছে?
নিচের লক্ষণগুলো থাকলে পুষ্টিহীনতা সন্দেহ করা যায়—
মাসে একাধিকবার ঘা হওয়া
দীর্ঘদিন না শুকানো
দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা
জিহ্বা লাল ও জ্বালাপোড়া
কখন পরীক্ষা করবেন?
বারবার মুখে ঘা হলে নিচের পরীক্ষা করা যেতে পারে—
CBC (Complete Blood Count)
Serum Vitamin B12
Serum Ferritin
Folate Level
মুখে ঘার চিকিৎসা
১. ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট
ঘাটতি অনুযায়ী ভিটামিন দেওয়া হয়।
২. আয়রন বা জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট
অ্যানিমিয়া থাকলে আয়রন প্রয়োজন।
৩. টপিক্যাল জেল
ব্যথা কমাতে অ্যানেসথেটিক জেল।
৪. মাউথওয়াশ
সংক্রমণ কমাতে অ্যান্টিসেপটিক মাউথওয়াশ।
মুখে ঘা এর ঘরোয়া প্রতিকার
লবণ পানিতে কুলি
মধু লাগানো
নারকেল তেল
ঝাল ও টক খাবার এড়ানো
মুখে ঘা এর জন্য উপকারি খাবার
ডিম
দুধ
মাছ
লাল শাক
কলিজা
ডাল
বাদাম
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
২ সপ্তাহেও না শুকালে
ঘা খুব বড় হলে
জ্বর বা ওজন কমার সাথে হলে
ঘা বারবার হলে
শিশুদের মুখে ঘা
শিশুদের ক্ষেত্রেও ভিটামিন ঘাটতি একটি কারণ হতে পারে, তবে ভাইরাল সংক্রমণও সাধারণ কারণ।
গর্ভাবস্থায় মুখে ঘা
গর্ভাবস্থায় ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি হলে মুখে ঘা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত সাপ্লিমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ।
মুখে ঘা ও ক্যান্সারের পার্থক্য
সাধারণ মুখের ঘা ১–২ সপ্তাহে ভালো হয়। কিন্তু যদি—
৩ সপ্তাহেও না শুকায়
শক্ত হয়ে যায়
রক্তপাত হয় তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
মুখে ঘা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও বারবার হলে এটি শরীরের পুষ্টিহীনতার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন বি১২, ফলিক অ্যাসিড, আয়রন ও জিঙ্কের অভাব গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার মাধ্যমে সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
নিজে নিজে দীর্ঘদিন ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
Doctor Service BD
Related Articles
Continue reading in সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা