Your Premier Destination for Personalized Healthcare Solutions

বারবার মুখে ঘা হয় কেনো?

Healthy Lifestyle • 19 Feb,2026 • 👁 379 Views

Category: সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা

Logo

বারবার মুখে ঘা হওয়ার কারণ কী? ভিটামিনের অভাব, গ্যাস্ট্রিক, মানসিক চাপসহ সব কারণ, ঘরোয়া উপায়, চিকিৎসা ও কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাবেন—সব জানুন বিস্তারিতভাবে।


ভূমিকা

মুখের ভেতরে ছোট সাদা বা হলুদ রঙের ঘা—যাকে আমরা সাধারণভাবে মুখের ঘা বলি—এই সমস্যাটি প্রায় সবাই জীবনে একাধিকবার অনুভব করেন। কিন্তু যখন এই ঘা বারবার হয়, তখন তা শুধু সাময়িক অস্বস্তি নয়, বরং শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।

বারবার মুখে ঘা হলে—

  • খেতে কষ্ট হয়

  • কথা বলতে ব্যথা লাগে

  • মুখে জ্বালাপোড়া হয়

  • অনেক সময় জ্বর বা দুর্বলতাও আসে

অনেকেই প্রশ্ন করেন—
  “বারবার মুখে ঘা হয় কেন?”
  “এটা কি কোনো বড় রোগের লক্ষণ?”
  “কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে?”

এই ব্লগে আমরা কারণ, লক্ষণ, ঘরোয়া প্রতিকার, চিকিৎসা এবং কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে হবে—সবকিছু বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো।


মুখে ঘা কী?

মুখে ঘা বা Mouth Ulcer (Aphthous Ulcer) হলো মুখের ভেতরের নরম অংশে হওয়া ক্ষত। এটি সাধারণত দেখা যায়—

  • জিহ্বায়

  • ঠোঁটের ভেতরের দিকে

  • গালের ভেতরের অংশে

  • মাড়িতে

ঘা সাধারণত সাদা বা হলুদ রঙের হয় এবং চারপাশে লালচে প্রদাহ থাকে।


বারবার মুখে ঘা হওয়া বলতে কী বোঝায়?

যখন—

  • মাসে একাধিকবার মুখে ঘা হয়

  • একটি ঘা ভালো হতে না হতেই আরেকটি হয়

  • দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যা চলতে থাকে

তখন একে Recurrent Mouth Ulcer বলা হয়।


বারবার মুখে ঘা হওয়ার প্রধান কারণসমূহ

১. ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব (সবচেয়ে সাধারণ কারণ)

শরীরে যদি—

  • ভিটামিন B12

  • আয়রন

  • ফলিক অ্যাসিড

এর ঘাটতি থাকে, তাহলে মুখে ঘা হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাদের খাবার তালিকায় শাকসবজি, ফল ও প্রোটিন কম থাকে, তাদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

২. গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটি

অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক বা পাকস্থলীর অ্যাসিড বেড়ে গেলে মুখে ঘা হতে পারে। অনেক সময় মুখের ঘা গ্যাস্ট্রিকেরই বহিঃপ্রকাশ।

লক্ষণ—

  • বুক জ্বালা

  • টক ঢেকুর

  • পেট ফাঁপা

৩. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও ঘুমের অভাব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে মুখে ঘা বারবার হতে পারে।

৪. মুখে আঘাত লাগা

দাঁত ব্রাশ করতে গিয়ে জোরে ঘষা, দাঁতের ধারালো অংশ, ব্রেস বা কৃত্রিম দাঁতের কারণে মুখের ভেতরে ক্ষত তৈরি হতে পারে, যা পরে ঘা হয়ে যায়।

৫. ঝাল, গরম ও অম্লীয় খাবার

অতিরিক্ত—

  • মরিচ

  • ভাজাপোড়া

  • টক ফল

খেলে মুখের ভেতরের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

৬. মুখ ও দাঁতের অপরিচ্ছন্নতা

মুখ পরিষ্কার না রাখলে জীবাণু জমে গিয়ে মুখে ঘা সৃষ্টি করতে পারে।

৭. ধূমপান ও তামাক সেবন

ধূমপান ও জর্দা, গুল ব্যবহার মুখের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বারবার ঘা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

৮. হরমোনজনিত পরিবর্তন

বিশেষ করে কিশোর বয়স, গর্ভাবস্থা বা হরমোনের ওঠানামার সময় মুখে ঘা বেশি দেখা যায়।

৯. কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কিছু ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক বা কেমোথেরাপির ওষুধ মুখে ঘা তৈরি করতে পারে।

১০. কিছু জটিল রোগ

দীর্ঘদিন বারবার মুখে ঘা হলে কখনো কখনো এটি হতে পারে—

  • ডায়াবেটিস

  • অটোইমিউন রোগ

  • রক্তস্বল্পতা এর লক্ষণ।

মুখে ঘা এর লক্ষণ কি কি ?

  • মুখে জ্বালা

  • খেতে বা গিলতে ব্যথা

  • কথা বলতে কষ্ট

  • মুখে দুর্গন্ধ

  • কখনো হালকা জ্বর

  • দুর্বলতা

বারবার মুখে ঘা হলে কী করবেন?

১. খাবারের দিকে নজর দিন

ভিটামিন ও মিনারেলসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে—

  • শাকসবজি

  • ফলমূল

  • ডাল

  • মাছ

  • ডিম

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

পানি শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয় এবং মুখের শুষ্কতা কমায়।

৩. গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলকুচি

দিনে ২–৩ বার গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলকুচি করলে ঘা দ্রুত শুকায়।

৪. ঝাল ও টক খাবার এড়িয়ে চলুন

ঘা ভালো না হওয়া পর্যন্ত এসব খাবার পরিহার করুন।

৫. মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন

নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন এবং দিনে অন্তত ২ বার দাঁত পরিষ্কার করুন।

মুখে ঘা এর ঘরোয়া প্রতিকার 

মধু

প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে।

নারিকেল তেল

মুখের ভেতরে লাগালে জ্বালা কমে।

হলুদ

প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

 মনে রাখবেন, এগুলো সহায়ক মাত্র—চিকিৎসার বিকল্প নয়।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন যদি—

  • ঘা ১০–১৪ দিনের মধ্যে না সারে

  • ঘা খুব বড় বা ব্যথাযুক্ত হয়

  • ঘা বারবার হয়

  • জ্বর বা ওজন কমে যায়

কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে হবে?

 ডেন্টাল সার্জন (Dentist)

মুখ ও দাঁতজনিত কারণে ঘা হলে প্রথমে ডেন্টাল সার্জনের কাছে যেতে পারেন।

মুখে ঘা প্রতিরোধের উপায়

  • নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার

  • ধূমপান পরিহার

  • মানসিক চাপ কমানো

  • পর্যাপ্ত ঘুম

  • মুখ ও দাঁতের যত্ন

Frequently Asked Questions (FAQ) 

১. বারবার মুখে ঘা হওয়ার প্রধান কারণ কী?

বারবার মুখে ঘা হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ভিটামিন B12, আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের অভাব। এছাড়া গ্যাস্ট্রিক, মানসিক চাপ, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ঝাল খাবার ও মুখের অপরিচ্ছন্নতাও দায়ী হতে পারে।

২. মুখে ঘা কি গ্যাস্ট্রিকের কারণে হয়?

হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রেই মুখে ঘা গ্যাস্ট্রিক বা অতিরিক্ত অ্যাসিডিটির কারণে হয়। যাদের বুক জ্বালা, টক ঢেকুর বা পেট ফাঁপার সমস্যা আছে, তাদের মুখে ঘা হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

৩. মুখে ঘা কি কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ?

সাধারণত নয়। তবে যদি ঘা খুব ঘন ঘন হয়, দীর্ঘদিন না সারে, আকারে বড় হয় বা ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকে—তাহলে এটি কোনো ভেতরের রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তার দেখানো জরুরি।

৪. মুখে ঘা কত দিনে ভালো হয়?

সাধারণ মুখের ঘা সাধারণত ৭–১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। কিন্তু ১৪ দিনের বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৫. বারবার মুখে ঘা হলে কোন ভিটামিন খাওয়া দরকার?

ভিটামিন B12, আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড ঘাটতি থাকলে মুখে ঘা বেশি হয়। তবে পরীক্ষা ছাড়া নিজে নিজে ভিটামিন খাওয়া ঠিক নয়—ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।

৬. মুখে ঘা হলে কি ঝাল খাবার খাওয়া যাবে?

না। মুখে ঘা থাকা অবস্থায় ঝাল, টক ও অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়া উচিত নয়। এগুলো ঘা আরও জ্বালাপোড়া ও ব্যথাযুক্ত করে তোলে।

৮. শিশুদের মুখে বারবার ঘা হলে কী করবেন?

শিশুদের মুখে বারবার ঘা হলে তাদের খাবার তালিকা, ভিটামিন ঘাটতি ও মুখের পরিচ্ছন্নতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ঘা বেশি হলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা ডেন্টাল ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৯. মুখে ঘা কি সংক্রামক?

না, সাধারণ মুখের ঘা সংক্রামক নয়। এটি এক জন থেকে আরেক জনে ছড়ায় না।

১০. মুখে ঘা হলে কোন ডাক্তার দেখাতে হবে?

প্রাথমিকভাবে ডেন্টাল সার্জন বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ দেখানো যায়। যদি ঘা দীর্ঘদিন থাকে বা বারবার হয়, তাহলে ENT (নাক-কান-গলা) অথবা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।

১১. মুখে ঘা প্রতিরোধে কী কী করা উচিত?

সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, মুখ ও দাঁত পরিষ্কার রাখা, ধূমপান পরিহার করা এবং মানসিক চাপ কমানো—এই অভ্যাসগুলো মুখে ঘা প্রতিরোধে সহায়ক।

১২. মুখে ঘা কি নিজে নিজে ভালো না হলে বিপজ্জনক?

হ্যাঁ, যদি দীর্ঘদিন মুখে ঘা ভালো না হয়, তাহলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়াই নিরাপদ।


বারবার মুখে ঘা হওয়া কোনো ছোট সমস্যা নয়। এটি শরীরের ভেতরের পুষ্টিহীনতা, গ্যাস্ট্রিক বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দুর্বলতার ইঙ্গিত হতে পারে। সময়মতো সঠিক কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিলে এই সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।


Related Articles

Continue reading in সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা

blog-image সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
TSH পরীক্ষা: কী, কেন ও কখন করা হয়

TSH পরীক্ষা কী, কেন করা হয়, TSH রিপোর্ট কীভাবে বুঝবেন, TSH স্বাভাবিক মাত্রা কত, কখন এই পরীক্ষা করতে হয় —এসব বিষয়ে বিস...

blog-image সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
স্পাইনাল স্টেনোসিস (Spinal Stenosis) কী? কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

স্পাইনাল স্টেনোসিস কেন হয়, লক্ষণ কী, কোমর ও ঘাড়ের ব্যথা, চিকিৎসা ও করণীয়—এই বিস্তারিত গাইডে জানুন সবকিছু।স্পাইনাল স্টেনো...

blog-image সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
বুকের X-Ray: কেন করা হয়, এর প্রস্তুতি, খরচ ও রিপোর্ট

বুকের X-Ray কেন করা হয়, কীভাবে করা হয়, রিপোর্টে কী দেখা যায়, খরচ কত, গর্ভাবস্থায় নিরাপদ কিনা ও কখন বুকের এক্স-রে প্রয়োজন...

blog-image সাধারণ স্বাস্থ্য বার্তা
গ্লুকোমা: কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

গ্লুকোমা কী, কেন হয়, চোখের চাপ বাড়লে কী সমস্যা হয়, গ্লুকোমার ব্যথা কেমন, লক্ষণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে করণ...

Emergency Contact

Emergency Call +880 1723-025514

Emergency E-mail

24/7 Email Support [email protected]

- OR -