Your Premier Destination for Personalized Healthcare Solutions

পলিসিস্টিক কিডনি রোগ (PKD) কী? কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা

NIDDK • 02 Jan,2026 • 👁 285 Views

Category: কিডনি রোগ

Logo

পলিসিস্টিক কিডনি রোগ কী, কেন হয়, এর লক্ষণ কী, কত প্রকার, চিকিৎসা ও কিডনি সুস্থ রাখার উপায়—জানুন বিস্তারিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য।


পলিসিস্টিক কিডনি রোগ (Polycystic Kidney Disease – PKD)

পলিসিস্টিক কিডনি রোগ বা Polycystic Kidney Disease (PKD) একটি জেনেটিক বা বংশগত কিডনি রোগ, যেখানে কিডনির ভেতরে অসংখ্য তরলভর্তি সিস্ট (cyst) তৈরি হয়। এই সিস্টগুলো সময়ের সঙ্গে বড় হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে কিডনির স্বাভাবিক গঠন ও কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দীর্ঘদিন নীরবে থাকে এবং দেরিতে ধরা পড়ে, যখন কিডনির ক্ষতি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো পলিসিস্টিক কিডনি রোগ। তবে সচেতনতা, নিয়মিত ফলোআপ ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে দীর্ঘদিন ভালো থাকা সম্ভব।

পলিসিস্টিক কিডনি রোগ কী?

পলিসিস্টিক কিডনি রোগ এমন একটি অবস্থা যেখানে কিডনির ভেতরে একাধিক সিস্ট তৈরি হয়। সিস্টগুলো মূলত তরলভর্তি থলি, যা কিডনির স্বাভাবিক টিস্যুকে চেপে ধরে। এর ফলে কিডনি ধীরে ধীরে বড় হয়ে যায় এবং রক্ত পরিশোধনের ক্ষমতা কমতে থাকে। একপর্যায়ে এটি ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) বা কিডনি ফেইলিউর এর দিকে নিয়ে যেতে পারে।

পলিসিস্টিক কিডনি রোগ কেন হয়?

পলিসিস্টিক কিডনি রোগের প্রধান কারণ হলো জেনেটিক বা বংশগত পরিবর্তন। এই রোগ সাধারণত বাবা-মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে আসে। কিডনির কোষে নির্দিষ্ট জিনের ত্রুটির কারণে সিস্ট তৈরি হয় এবং সেগুলো সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধি পায়।

কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের ইতিহাস না থাকলেও নতুন জেনেটিক মিউটেশনের কারণে এই রোগ দেখা দিতে পারে, তবে তা তুলনামূলকভাবে বিরল।

পলিসিস্টিক কিডনি রোগের ধরন

পলিসিস্টিক কিডনি রোগ প্রধানত দুই ধরনের—

১. অটোসোমাল ডমিন্যান্ট পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ (ADPKD)

এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরন। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে (৩০–৫০ বছর) লক্ষণ প্রকাশ পায়। বাবা বা মা আক্রান্ত হলে সন্তানের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ।

২. অটোসোমাল রিসেসিভ পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ (ARPKD)

এটি তুলনামূলকভাবে বিরল এবং সাধারণত জন্মের সময় বা শৈশবেই ধরা পড়ে। এই ধরনের রোগ অনেক সময় গুরুতর হয় এবং শিশু বয়সেই জটিলতা দেখা দিতে পারে।

পলিসিস্টিক কিডনি রোগের লক্ষণ কী কী?

পলিসিস্টিক কিডনি রোগের লক্ষণ শুরুতে খুব স্পষ্ট নাও হতে পারে। অনেক সময় রোগী বুঝতেই পারেন না যে তার কিডনিতে সমস্যা হচ্ছে। তবে সময়ের সঙ্গে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

পেট বা কোমরের পাশে ব্যথা অনুভূত হওয়া এই রোগের একটি সাধারণ লক্ষণ। কিডনি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে ভারী ভাব বা অস্বস্তি হয়। বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণ, প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ এবং মাথাব্যথাও হতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অকারণে ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা এবং ধীরে ধীরে পা বা মুখ ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

পলিসিস্টিক কিডনি রোগে উচ্চ রক্তচাপ কেন হয়?

পলিসিস্টিক কিডনি রোগে উচ্চ রক্তচাপ খুব সাধারণ একটি সমস্যা। কিডনির সিস্ট বড় হওয়ার ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ রক্তচাপ আবার কিডনির ক্ষতি আরও দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, তাই এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পলিসিস্টিক কিডনি রোগ কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

পলিসিস্টিক কিডনি রোগ নির্ণয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পরীক্ষা হলো আলট্রাসনোগ্রাম। এতে কিডনির ভেতরের সিস্ট সহজেই দেখা যায়। প্রয়োজনে সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করা হয়, যা সিস্টের আকার ও সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়।

রক্ত পরীক্ষা করে কিডনির কার্যক্ষমতা (ক্রিয়েটিনিন, ইউরিয়া) যাচাই করা হয় এবং প্রস্রাব পরীক্ষা করে সংক্রমণ বা রক্তের উপস্থিতি দেখা হয়। পারিবারিক ইতিহাস থাকলে জেনেটিক টেস্টও করা যেতে পারে।

পলিসিস্টিক কিডনি রোগের চিকিৎসা কী?

বর্তমানে পলিসিস্টিক কিডনি রোগ সম্পূর্ণ ভালো করার মতো কোনো চিকিৎসা নেই। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি ধীর করা এবং জটিলতা কমানো সম্ভব।

চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য হলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং কিডনির কার্যক্ষমতা যতদিন সম্ভব ধরে রাখা। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। প্রস্রাবের সংক্রমণ হলে দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা প্রয়োজন। ব্যথা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিরাপদ ব্যথানাশক ব্যবহার করা হয়।

কিডনির কার্যক্ষমতা অনেক কমে গেলে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে।

পলিসিস্টিক কিডনি রোগে ডায়েট ও জীবনযাপন

এই রোগে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লবণ কম খাওয়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত, তবে কিডনির অবস্থা অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। অতিরিক্ত প্রোটিন, প্রসেসড খাবার ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করা ভালো।

ধূমপান সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এটি কিডনির ক্ষতি দ্রুত বাড়ায়। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

পলিসিস্টিক কিডনি রোগে কী কী জটিলতা হতে পারে?

চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ না থাকলে পলিসিস্টিক কিডনি রোগে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো কিডনি ফেইলিউর। এছাড়া লিভার সিস্ট, মস্তিষ্কের রক্তনালির অ্যানিউরিজম, হৃদরোগ এবং বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণ হতে পারে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

যদি পরিবারের কারও পলিসিস্টিক কিডনি রোগ থাকে, তবে উপসর্গ না থাকলেও পরীক্ষা করা উচিত। কোমরের পাশে ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, বারবার ইউরিন ইনফেকশন বা অকারণে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিলে দ্রুত কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

পলিসিস্টিক কিডনি রোগ হলে কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাবেন?

এই রোগের জন্য অবশ্যই নেফ্রোলজি বিশেষজ্ঞ (কিডনি বিশেষজ্ঞ) এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে ইউরোলজিস্ট ও জেনেটিক কাউন্সেলরের পরামর্শও লাগতে পারে।

ডাঃ এ.কে.এম মনোয়ারুল ইসলাম

এমবিবিএস, ডিসিএম,এমডি(নেফ্রোলজি),

এফএসিপি(আমেরিকা)

কিডনী রোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (প্রাক্তন), কিডনী বিভাগ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor Service BD তে

পলিসিস্টিক কিডনি রোগ সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন

পলিসিস্টিক কিডনি রোগ কি পুরোপুরি ভালো হয়?
না, এটি সম্পূর্ণ সারে না, তবে সঠিক চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

এই রোগ কি বংশগত?
হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি বংশগত।

সব রোগীর কি কিডনি ফেইলিউর হয়?
না, নিয়মিত চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণে অনেকেই দীর্ঘদিন ভালো থাকেন।

পলিসিস্টিক কিডনি রোগে গর্ভধারণ নিরাপদ কি?
অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব, তবে অবশ্যই নেফ্রোলজিস্ট ও গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ প্রয়োজন।

এই রোগে কি ডায়ালাইসিস লাগতে পারে?
কিডনি কার্যক্ষমতা খুব কমে গেলে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন হতে পারে।


পলিসিস্টিক কিডনি রোগ একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বংশগত সমস্যা হলেও এটি মানেই যে জীবন থেমে যাবে—তা নয়। সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত ফলোআপ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সচেতনতার মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রোগটিকে অবহেলা না করা এবং শুরু থেকেই কিডনি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকা।

ব্লগের উৎসঃ National Institute of Diabetes and Digestive and Kidney Diseases (NIDDK)


Related Articles

Continue reading in কিডনি রোগ

blog-image কিডনি রোগ
প্রস্রাবে প্রোটিন কেন হয়? লক্ষণ, চিকিৎসা ও করণীয়

প্রস্রাবে প্রোটিন কেন হয়, লক্ষণ কী, কিভাবে কমানো যায়, কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন—রাজশাহীতে চিকিৎসা সহ বিস্তারিত জানুন।প্রস...

blog-image কিডনি রোগ
কিডনি ভালো রাখতে খাবার ও অভ্যাস

কিডনি ভালো রাখতে কী খাবেন ও কোন অভ্যাসগুলো মানবেন? কিডনি সুস্থ রাখার খাবার, দৈনন্দিন অভ্যাস, ক্ষতিকর বিষয় ও প্রয়োজনীয় স্...

blog-image কিডনি রোগ
কী কারণে কিডনিতে পাথর তৈরি হয়?

কিডনিতে পাথর কেন হয়? জানুন পানি কম পান, অতিরিক্ত লবণ, খাদ্যাভ্যাস ও অন্যান্য কারণে কীভাবে কিডনিতে পাথর তৈরি হয় এবং প্রতি...

blog-image কিডনি রোগ
কিডনি সুস্থ রাখতে করণীয়

কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি ভালো রাখার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস, সঠিক খাবার, পানি পান, ব্যায়াম ও জীবনযাপনের নিয়ম স...

Emergency Contact

Emergency Call +880 1723-025514

Emergency E-mail

24/7 Email Support [email protected]

- OR -