Your Premier Destination for Personalized Healthcare Solutions

পালমোনারি হাইপারটেনশন কী? লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা

পালমোনারি হাইপারটেনশন • 03 Jan,2026 • 👁 246 Views

Category: বক্ষব্যাধি সমস্যা

Logo

পালমোনারি হাইপারটেনশন কী, কেন হয়, লক্ষণ, ঝুঁকি, চিকিৎসা ও শীতকালে কেন এই রোগ বেড়ে যায়—জানুন বিস্তারিত ও সহজ ভাষায়।


পালমোনারি হাইপারটেনশন কী? (Pulmonary Hypertension)

পালমোনারি হাইপারটেনশন (Pulmonary Hypertension) হলো একটি গুরুতর হৃদ্‌-ফুসফুসজনিত রোগ, যেখানে ফুসফুসে রক্ত বহনকারী ধমনীগুলোর (Pulmonary Arteries) ভেতরে অস্বাভাবিকভাবে রক্তচাপ বেড়ে যায়। এর ফলে হৃদ্‌যন্ত্রের ডান পাশকে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হার্ট ফেইলিউরের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

অনেকেই এটিকে সাধারণ উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন, কিন্তু পালমোনারি হাইপারটেনশন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি রোগ এবং এটি সরাসরি ফুসফুস ও হৃদ্‌যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।

পালমোনারি হাইপারটেনশন কীভাবে হয়?

স্বাভাবিক অবস্থায় হৃদ্‌যন্ত্র থেকে রক্ত ফুসফুসে গিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ করে আবার হৃদ্‌যন্ত্রে ফিরে আসে। কিন্তু পালমোনারি হাইপারটেনশনে ফুসফুসের রক্তনালিগুলো সরু, শক্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। এর ফলে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয় এবং চাপ বেড়ে যায়।

এই বাড়তি চাপ দীর্ঘদিন চলতে থাকলে হৃদ্‌যন্ত্রের ডান দিকের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোগীর শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা ও জীবনঝুঁকি তৈরি হয়।

পালমোনারি হাইপারটেনশনের প্রকারভেদ

চিকিৎসাবিজ্ঞানে পালমোনারি হাইপারটেনশনকে সাধারণত কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করা হয়—

প্রথমত, Pulmonary Arterial Hypertension (PAH), যা জেনেটিক, অটোইমিউন রোগ বা অজানা কারণে হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, হৃদ্‌যন্ত্রজনিত পালমোনারি হাইপারটেনশন, যেখানে হার্টের ভালভ বা বাম পাশের হার্টের সমস্যার কারণে ফুসফুসে চাপ বাড়ে।
তৃতীয়ত, ফুসফুসজনিত রোগ বা অক্সিজেনের ঘাটতি থেকে সৃষ্ট পালমোনারি হাইপারটেনশন, যেমন COPD বা দীর্ঘমেয়াদি হাঁপানি।
চতুর্থত, রক্ত জমাট (Pulmonary Embolism) থেকে হওয়া পালমোনারি হাইপারটেনশন।
পঞ্চমত, অন্যান্য জটিল বা বিরল কারণজনিত পালমোনারি হাইপারটেনশন।

পালমোনারি হাইপারটেনশনের লক্ষণ

এই রোগের লক্ষণ ধীরে ধীরে বাড়ে, ফলে অনেক সময় রোগী বুঝতেই পারেন না। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বিশেষ করে হাঁটা বা সিঁড়ি ভাঙার সময়।

  • সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া।

  • বুক ব্যথা বা চাপ অনুভব করা।

  • হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যাওয়া।

  • পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া।

  • ঠোঁট বা আঙুল নীলচে হয়ে যাওয়া (অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে)।

  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা মাথা ঘোরা।


পালমোনারি হাইপারটেনশনের কারণ

এই রোগের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। জন্মগত হৃদ্‌রোগ, দীর্ঘদিনের ফুসফুসের রোগ, অটোইমিউন রোগ, লিভার রোগ, এইচআইভি সংক্রমণ, কিছু ওষুধ ও জেনেটিক কারণ উল্লেখযোগ্য।

অনেক ক্ষেত্রে সঠিক কারণ শনাক্ত করা যায় না, যাকে Idiopathic Pulmonary Hypertension বলা হয়।

শীতকালে পালমোনারি হাইপারটেনশন কেন বেড়ে যায়?

শীতকাল পালমোনারি হাইপারটেনশন রোগীদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

প্রথমত, শীতে ঠান্ডা বাতাসের কারণে ফুসফুসের রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। এতে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং ফুসফুসে চাপ আরও বেড়ে যায়।

দ্বিতীয়ত, শীতকালে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ যেমন সর্দি, ফ্লু ও নিউমোনিয়া বেশি হয়। এসব সংক্রমণ ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং পালমোনারি হাইপারটেনশনকে আরও খারাপ করে তোলে।

তৃতীয়ত, ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের অক্সিজেন চাহিদা বাড়ে, কিন্তু অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ফুসফুস সেই অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে না।

চতুর্থত, শীতকালে শারীরিক কার্যকলাপ কমে যায়, ফলে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয় এবং হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ বাড়ে।

এই সব কারণ মিলেই শীতকালে পালমোনারি হাইপারটেনশন রোগীদের শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

পালমোনারি হাইপারটেনশন কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

এই রোগ নির্ণয়ের জন্য ইকোকার্ডিওগ্রাফি, বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, পালমোনারি ফাংশন টেস্ট, রক্ত পরীক্ষা এবং কখনও কখনও Right Heart Catheterization করা হয়, যা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা।

পালমোনারি হাইপারটেনশনের চিকিৎসা

এই রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায় না, তবে সঠিক চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে—

  • রক্তনালি প্রসারক ওষুধ,

  • অক্সিজেন থেরাপি,

  • রক্ত পাতলা করার ওষুধ,

  • ডাইইউরেটিক (শরীরের অতিরিক্ত পানি কমাতে),

  • গুরুতর ক্ষেত্রে সার্জারি বা ট্রান্সপ্লান্ট।

চিকিৎসা রোগীর কারণ ও অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

জীবনযাপনে করণীয়

  • রোগীদের ধূমপান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।

  • ঠান্ডা আবহাওয়ায় গরম কাপড় ব্যবহার করা জরুরি।

  • সংক্রমণ এড়াতে ভ্যাকসিন গ্রহণ করা উচিত।

  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে।

  • হালকা ব্যায়াম ও মানসিক চাপ কমানো গুরুত্বপূর্ণ।

কখন অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন?

হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে, অজ্ঞান হয়ে গেলে, বুকব্যথা বা পা অতিরিক্ত ফুলে গেলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।


কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাবেন


পালমোনারি হাইপারটেনশনের (Pulmonary Hypertension - PH) জন্য প্রধানত ফুসফুস বিশেষজ্ঞ (Pulmonologist) এবং হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ (Cardiologist)-এর কাছে যেতে হয়, কারণ এটি ফুসফুস ও হৃদপিণ্ড উভয়ের ওপর প্রভাব ফেলে ।



ডাঃ মোহাম্মদ জান্নাতুল রায়হান

এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমডি (বক্ষব্যাধি) বিএমইউ, এমএসিপি (আমেরিকা)

বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

সহকারী অধ্যাপক

বক্ষব্যাধি হাসপাতাল রাজশাহী

এক্স-জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা

বিএমডিসি রেজি নং: এ-৬০৩৫৯


ডাঃ আহমাদ যায়নুদ্দিন সানী

এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),এমডি (চেষ্ট মেডিসিন)

এজমা, যক্ষা ও বক্ষব্যাধী বিশেষজ্ঞ

অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

রেসপিরেটরী মেডিসিন

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহী



ডাঃ এম.এ. সবুজ হায়াত

এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), সিসিডি (বার্ডেম), ডি-কার্ড (বিএসএমএমইউ)

কার্ডিওলজি (হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং বাতজ্বর) বিশেষজ্ঞ

রেজিস্ট্রার, মেডিসিন

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


ডাঃ হাসনাতু রাব্বি

এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), ডি-কার্ড (কার্ডিওলজি)

কার্ডিওলজি (হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, বাত রোগ) বিশেষজ্ঞ

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor Service BD তে

পালমোনারি হাইপারটেনশন নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

পালমোনারি হাইপারটেনশন কি নিরাময়যোগ্য?
পুরোপুরি নয়, তবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য।

শীতকালে কি রোগীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন?
হ্যাঁ, ঠান্ডা ও সংক্রমণের কারণে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এই রোগে কি সাধারণ উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ কাজ করে?
না, আলাদা বিশেষায়িত ওষুধ প্রয়োজন।

কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে হবে?
কার্ডিওলজিস্ট বা পালমোনোলজি বিশেষজ্ঞ।

অক্সিজেন থেরাপি কি প্রয়োজন হয়?
অনেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়।


পালমোনারি হাইপারটেনশন একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ। শীতকালে এই রোগের ঝুঁকি ও উপসর্গ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। সময়মতো রোগ নির্ণয়, সঠিক চিকিৎসা ও সচেতন জীবনযাপনের মাধ্যমে রোগীর জীবনমান অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব।

ব্লগের উৎসঃ National Heart, Lung, and Blood Institute (NHLBI), NIH




Related Articles

Continue reading in বক্ষব্যাধি সমস্যা

blog-image বক্ষব্যাধি সমস্যা
অ্যাজমা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজশাহী

রাজশাহীতে অভিজ্ঞ অ্যাজমা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খুঁজছেন? হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, কাশি, ফুসফুসের রোগের চিকিৎসা, লক্ষণ ও কখন ডাক্তার...

blog-image বক্ষব্যাধি সমস্যা
COPD কী? লক্ষণ, কারণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

COPD কী ও কেন হয়? COPD-এর লক্ষণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধের উপায়, চিকিৎসা ও কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে হবে—ফুসফুসের এই দীর্ঘমেয়া...

blog-image বক্ষব্যাধি সমস্যা
যক্ষা রোগের লক্ষণ

যক্ষার লক্ষণ ও প্রতিকারযক্ষা (Tuberculosis) হলো একটি সংক্রামক ব্যাধি, যা Mycobacterium tuberculosis ব্যাকটেরিয়ার কারণে...

blog-image বক্ষব্যাধি সমস্যা
টিবি রোগ হলে করনীয় ? কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

টিবি (যক্ষ্মা) রোগ কী, এর প্রধান লক্ষণ, কারণ, প্রতিরোধ ও করণীয় জানুন। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে টিবি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য...

Emergency Contact

Emergency Call +880 1723-025514

Emergency E-mail

24/7 Email Support [email protected]

- OR -