লো ব্লাড প্রেসার হলে কী করবেন?
লো ব্লাড প্রেসার • 17 Jan,2026 • 👁 314 Views
Category: মেডিসিন রোগ
লো ব্লাড প্রেসার কী? কেন হয়, লক্ষণ কী, হঠাৎ লো প্রেসার হলে কী করবেন, কোন খাবার খাবেন, কখন হাসপাতালে যাবেন ও কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাবেন—বিস্তারিত জানুন।
লো ব্লাড প্রেসার কী? (What is Low Blood Pressure?)
লো ব্লাড প্রেসার বা Hypotension হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা যেখানে রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়। সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রক্তচাপ ১২০/৮০ mmHg স্বাভাবিক ধরা হয়। যখন রক্তচাপ ৯০/৬০ mmHg বা এর নিচে নেমে যায়, তখন তাকে লো ব্লাড প্রেসার বলা হয়।
সব সময় লো ব্লাড প্রেসার বিপজ্জনক নয়। অনেক মানুষ স্বাভাবিকভাবেই কম রক্তচাপ নিয়ে সুস্থ জীবনযাপন করেন। তবে হঠাৎ করে বা দীর্ঘদিন ধরে রক্তচাপ কম থাকলে তা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ—বিশেষ করে মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড ও কিডনিতে রক্ত সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারে, যা ঝুঁকিপূর্ণ।
লো ব্লাড প্রেসার কেন হয়? (Causes of Low Blood Pressure)
লো ব্লাড প্রেসারের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এগুলো বয়স, শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য রোগের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।
ডিহাইড্রেশন (পানি স্বল্পতা):
শরীরে পানি কমে গেলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়, ফলে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যেতে পারে। ডায়রিয়া, বমি, অতিরিক্ত ঘাম বা জ্বরের সময় এটি বেশি হয়।
হৃদরোগজনিত সমস্যা:
হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিওর, হার্টের ভালভের সমস্যা ইত্যাদির কারণে রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে গিয়ে লো ব্লাড প্রেসার হতে পারে।
হরমোনজনিত সমস্যা:
থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি, অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির সমস্যা (যেমন Addison’s disease) রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে।
রক্তস্বল্পতা (Anemia):
শরীরে রক্ত বা হিমোগ্লোবিন কম থাকলে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পরিবহন হয় না, ফলে লো প্রেসার দেখা দিতে পারে।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, ডাইইউরেটিক, ডিপ্রেশন বা পারকিনসনের কিছু ওষুধ রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে।
লো ব্লাড প্রেসারের ধরন (Types of Hypotension)
লো ব্লাড প্রেসার এক ধরনের নয়; এটি কয়েকভাবে প্রকাশ পেতে পারে।
১. Orthostatic Hypotension
হঠাৎ বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে দাঁড়ালে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায়। এতে মাথা ঘোরা বা চোখে অন্ধকার দেখা দেয়।
২. Postprandial Hypotension
খাবার খাওয়ার পর রক্তচাপ কমে যায়। বয়স্ক ও ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
৩. Chronic Hypotension
দীর্ঘদিন ধরে রক্তচাপ কম থাকে, তবে তেমন উপসর্গ নাও থাকতে পারে।
৪. Severe Hypotension (Shock)
হঠাৎ রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়, যা জীবননাশের কারণ হতে পারে।
লো ব্লাড প্রেসারের লক্ষণ কী কী?
লো ব্লাড প্রেসারের লক্ষণ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
মাথা ঘোরা বা ঝিমুনি
চোখে অন্ধকার দেখা
দুর্বলতা বা ক্লান্তি
বমি বমি ভাব
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
মনোযোগে সমস্যা
ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে ত্বক
দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস
হঠাৎ ব্লাড প্রেসার লো হলে কী করবেন?
হঠাৎ লো ব্লাড প্রেসার হলে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমে রোগীকে শুইয়ে দিন এবং পা সামান্য উঁচু করে রাখুন। এতে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়ে।
ঢিলা পোশাক পরাতে হবে এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।
রোগী যদি সচেতন থাকে, তাহলে ধীরে ধীরে পানি বা ওআরএস খাওয়ানো যেতে পারে।
হঠাৎ দাঁড় করাবেন না বা জোর করে বসাবেন না।
যদি অজ্ঞান হয়ে যায় বা অবস্থার উন্নতি না হয়, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
লো ব্লাড প্রেসারে কখন জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন?
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে—
বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
বুক ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট
বিভ্রান্তি বা কথা বলতে সমস্যা
প্রস্রাব কমে যাওয়া
তীব্র দুর্বলতা
লো ব্লাড প্রেসারের চিকিৎসা কী?
লো ব্লাড প্রেসারের চিকিৎসা নির্ভর করে এর কারণের ওপর।
ডিহাইড্রেশন হলে:
পানি, স্যালাইন বা ওআরএস দেওয়া হয়।
রক্তস্বল্পতা হলে:
আয়রন ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন দেওয়া হয়।
হরমোনজনিত সমস্যা হলে:
হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি দেওয়া হয়।
ওষুধজনিত কারণে হলে:
ডোজ কমানো বা ওষুধ পরিবর্তন করা হয়।
সব ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor Service BD তে
লো ব্লাড প্রেসারে কী খাবেন?
খাবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
লবণযুক্ত খাবার সীমিত পরিমাণে নেওয়া যেতে পারে (ডাক্তারের পরামর্শে)।
আয়রনসমৃদ্ধ খাবার যেমন—কলিজা, শাকসবজি, ডাল।
ভিটামিন বি১২ ও ফলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার।
অল্প অল্প করে বারবার খাবার খাওয়া ভালো।
লো ব্লাড প্রেসারে কী খাবেন না?
অতিরিক্ত অ্যালকোহল
খুব ভারী খাবার একসাথে
দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা
নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া
লো ব্লাড প্রেসার কি বিপজ্জনক?
সব সময় নয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে বা হঠাৎ খুব কমে গেলে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ এতে মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড ও কিডনি পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না।
লো ব্লাড প্রেসার প্রতিরোধে করণীয় কী?
পুরোপুরি প্রতিরোধ সম্ভব না হলেও ঝুঁকি কমানো যায়—
পর্যাপ্ত পানি পান
ধীরে ধীরে অবস্থান পরিবর্তন
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়া
কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে হবে?
লো ব্লাড প্রেসার হলে দেখাতে হবে—
এমবিবিএস, বিসিএস,এমডি (ইন্টারনাল মেডিসিন) বিএসএমএমইউ,
এমএসিপি (আমেরিকা)
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন বিভাগ)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী
এমবিবিএস, বিসিএস, সাস্থ্য
ডি(কার্ড) এফ,সি,পি,এস (মেডিসিন)এমডি (ইন্টারনাল মেডিসিন)
কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ
রাজশাহী মেডিকেল কলজে ও হাসপাতাল
লো ব্লাড প্রেসার নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: লো ব্লাড প্রেসার কি উচ্চ রক্তচাপের মতো ক্ষতিকর?
উত্তর: সব সময় নয়, তবে হঠাৎ কমে গেলে ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রশ্ন ২: লো ব্লাড প্রেসারে লবণ খাওয়া কি ভালো?
উত্তর: কিছু ক্ষেত্রে উপকারী, তবে ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি।
প্রশ্ন ৩: লো ব্লাড প্রেসার কি স্ট্রোকের কারণ হতে পারে?
উত্তর: খুব কম রক্তচাপ হলে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কমে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
প্রশ্ন ৪: লো ব্লাড প্রেসার কি আজীবন থাকে?
উত্তর: কারণের ওপর নির্ভর করে—অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
প্রশ্ন ৫: লো ব্লাড প্রেসারে ব্যায়াম করা যাবে?
উত্তর: হালকা ব্যায়াম করা যায়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
Related Articles
Continue reading in মেডিসিন রোগ
মেডিসিন রোগ
মেডিসিন রোগ