হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর যে ৭টি সংকেত দেয়
ডাঃ হাসনাতু রাব্বি • 01 Mar,2026 • 👁 272 Views
Category: হৃদরোগ
হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দেয়। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমিভাবসহ ৭টি সতর্ক লক্ষণ বিস্তারিত জানুন এবং কখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন তা বুঝে নিন।
হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর যে ৭টি সংকেত দেয়
হার্ট অ্যাটাক বা চিকিৎসা পরিভাষায় মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (Myocardial Infarction) তখন ঘটে যখন হৃদপেশিতে রক্ত সরবরাহ হঠাৎ কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্বব্যাপী হৃদরোগ মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশেও হৃদরোগের হার দ্রুত বাড়ছে।
অনেক ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ ঘটে না—এর আগে শরীর সতর্ক সংকেত দেয়। এসব লক্ষণ দ্রুত চিনে ব্যবস্থা নিতে পারলে জীবন বাঁচানো সম্ভব।
১. বুকে চাপধরা বা জ্বালাপোড়া ব্যথা
হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী অনুভূতি, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা। অনেক রোগী বলেন—“বুকের ওপর যেন ভারী কিছু চাপা পড়ে আছে।” এই ব্যথা কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে বা আসা-যাওয়া করতে পারে। ব্যথা কাঁধ, ঘাড়, পিঠ বা চোয়ালেও ছড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে শারীরিক পরিশ্রমের সময় ব্যথা বাড়লে তা উপেক্ষা করা বিপজ্জনক।
২. শ্বাসকষ্ট (Breathlessness)
অল্প হাঁটাহাঁটি বা বিশ্রাম অবস্থায়ও যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তা হার্টের রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক সময় বুকের ব্যথা ছাড়াও শুধু শ্বাসকষ্টই প্রধান উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়, বিশেষ করে নারী ও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে।
৩. অস্বাভাবিক ঘাম (Cold Sweats)
হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম শুরু হওয়া—বিশেষ করে কোনো শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই—হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে। এই ঘাম সাধারণ ঘামের মতো নয়; শরীর ঠান্ডা ও আর্দ্র অনুভূত হয়। এর সাথে অস্থিরতা ও দুর্বলতাও থাকতে পারে।
৪. বমিভাব বা হালকা মাথা ঘোরা
হার্টে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে, ফলে মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অনুভূতি বা বমিভাব হতে পারে। অনেক সময় এটি গ্যাস্ট্রিক সমস্যা মনে হলেও, বুকের অস্বস্তির সাথে থাকলে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে।
৫. হাত, কাঁধ বা চোয়ালে ব্যথা
বাম হাতের ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের একটি পরিচিত লক্ষণ। তবে ডান হাত, দুই কাঁধ, ঘাড় বা চোয়ালেও ব্যথা হতে পারে। এই ব্যথা সাধারণত চাপধরা ধরনের এবং ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
আরও পড়ুনঃ হার্ট ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা
৬. অতিরিক্ত ক্লান্তি
স্বাভাবিক কাজ করতেই অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করা—বিশেষ করে কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে—হার্টের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণটি বেশি দেখা যায়। সিঁড়ি ভাঙতে বা হালকা কাজেই হাঁপিয়ে গেলে সতর্ক হওয়া উচিত।
৭. অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (Irregular Heartbeat)
হঠাৎ হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ধড়ফড় করা বা অনিয়মিত বিট অনুভব করা হার্টের বৈদ্যুতিক কার্যক্রমে সমস্যা নির্দেশ করতে পারে। যদি এর সাথে মাথা ঘোরা বা বুকের অস্বস্তি থাকে, তা জরুরি অবস্থা হতে পারে।
কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
নিচের যেকোনো পরিস্থিতিতে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান।
বুকের ব্যথা ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে
শ্বাসকষ্ট ও ঘাম একসাথে হলে
অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে
ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীর হঠাৎ বুকের অস্বস্তি হলে
হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসায় “Golden Hour” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ১ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে হৃদপেশির ক্ষতি অনেকাংশে কমানো যায়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন?
যাদের-
উচ্চ রক্তচাপ
ডায়াবেটিস
উচ্চ কোলেস্টেরল
ধূমপান
স্থূলতা
পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে । তাদের ঝুঁকি বেশি।
হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ হলেও এর আগে শরীর সতর্ক সংকেত দেয়। বুকের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘাম বা অতিরিক্ত ক্লান্তিকে কখনো হালকাভাবে নেবেন না। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া মানেই জীবন রক্ষা করা।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হৃদরোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। আপনার বা পরিবারের কারও মধ্যে উপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
ডাঃ হাসনাতু রাব্বি
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), ডি-কার্ড (কার্ডিওলজি)
কার্ডিওলজি (হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, বাত রোগ) বিশেষজ্ঞ
কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
Related Articles
Continue reading in হৃদরোগ