ব্রেইন স্ট্রোক কি - ব্রেইন স্ট্রোক কেন হয়
ব্রেইন স্ট্রোক • 23 May,2025 • 👁 8,463 Views
Category: Uncategorized
ব্রেইন স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের বাধা এমন একটি স্বাস্থ্য জটিলতা, যা সময়মতো সনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে জীবনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বা স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করতে পারে। আমি নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন ডাক্তার ও রোগীর সঙ্গে কথা বলে এবং দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ থেকে যে তথ্যগুলো পেয়েছি, সেই ভিত্তিতেই নিচে বিস্তারিত আলোচনা করছি, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে বিষয়টি বুঝতে পারে এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।
ব্রেইন স্ট্রোক কী?
ব্রেইন স্ট্রোক হলো এমন একটি অবস্থা, যখন মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় বা মস্তিষ্কে রক্তপাত হয়। এতে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশ অক্সিজেন ও পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়ে কোষগুলো মারা যেতে থাকে। এই কোষমৃত্যু যত বেশি সময় ধরে হয়, তত বেশি শারীরিক ক্ষতি হয়।
ব্রেইন স্ট্রোক কত প্রকার?
ব্রেইন স্ট্রোক মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে:
-
ইসকেমিক স্ট্রোক (Ischemic Stroke):
এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরনের স্ট্রোক (প্রায় ৮৭% ক্ষেত্রে)। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী ব্লক হয়ে গেলে হয়। এটি আবার দুই রকম হয়:- থ্রম্বোটিক স্ট্রোক: মস্তিষ্কের ধমনীতে জমাট বাঁধা রক্তের কারণে
- এম্বোলিক স্ট্রোক: শরীরের অন্য কোথাও (যেমন: হৃদপিণ্ড) জমাট বাঁধা রক্ত মস্তিষ্কে পৌঁছে ব্লক করে
-
হেমোরেজিক স্ট্রোক (Hemorrhagic Stroke):
মস্তিষ্কের কোনো ধমনী ফেটে গেলে হয়। এতে রক্তপাত হয় এবং মস্তিষ্কে চাপ বাড়ে। এটি সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ বা ব্রেইন অ্যানিউরিজমের কারণে হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন:: উচ্চ রক্তচাপ এর কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার
আরও এক প্রকারের স্ট্রোক রয়েছে যা সচারাচর দেখা যায়:
- TIA (Transient Ischemic Attack):
একে মিনি স্ট্রোক বলা হয়। এটি অল্প সময়ের জন্য মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়, কিন্তু স্থায়ী ক্ষতি হয় না। তবে ভবিষ্যতে বড় স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে।
ব্রেইন স্ট্রোক কেন হয়?
স্ট্রোকের পিছনে কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে, যেমন:
- উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension)
- ডায়াবেটিস
- ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ
- হার্টের সমস্যা (যেমন: অ্যারিথমিয়া, এফিব্রিলেশন)
- অতিরিক্ত কোলেস্টেরল
- স্থূলতা ও অনিয়মিত জীবনধারা
- স্ট্রেস ও মানসিক চাপ
- পারিবারিক ইতিহাস বা বংশগত কারণ
স্ট্রোক হয়েছে কি না, তা কিভাবে বুঝব?
আমার অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো FAST পদ্ধতি মনে রাখা:
- F (Face drooping): মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া বা হাসলে অমিল
- A (Arm weakness): এক হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া বা তুলে রাখতে না পারা
- S (Speech difficulty): কথা জড়িয়ে যাওয়া, অস্পষ্ট কথা বলা
- T (Time to call emergency): এই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া
অন্যান্য উপসর্গ:
- হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা বা অন্ধত্ব
- শরীরের এক পাশে দুর্বলতা বা অবশতা
- হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা
- মাথাব্যথা (বিশেষ করে হেমোরেজিক স্ট্রোকে)
প্রেশার কত হলে স্ট্রোক হতে পারে?
যদিও নির্দিষ্ট একটি মান বলা কঠিন, তবে সাধারণভাবে যদি কারো রক্তচাপ থাকে:
- ১৮০/১২০ mmHg বা তার বেশি, তাহলে তা Hypertensive Crisis ধরা হয় এবং তা থেকে স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা অত্যন্ত বেশি।
তবে দীর্ঘদিন ১৪০/৯০ mmHg বা তার চেয়ে বেশি প্রেসার থাকলেও ধমনী দুর্বল হয়ে যায়, যা ভবিষ্যতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
ব্রেইন স্ট্রোকের চিকিৎসা কোন বিভাগের ডাক্তার দিয়ে থাকেন?
ব্রেইন স্ট্রোক হলে নিচের বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হতে হয়:
- নিউরোলজিস্ট (Neurologist): প্রধান চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ করেন।
- নিউরোসার্জন: যদি মস্তিষ্কে রক্ত জমে বা চাপ বাড়ে, তাহলে শল্য চিকিৎসা দরকার হয়
- ফিজিক্যাল মেডিসিন স্পেশালিস্ট: পুনর্বাসন ও থেরাপির জন্য
- কার্ডিওলজিস্ট: হৃদ্রোগ থাকলে সহ-পরিচর্যা করতে হয়
রাজশাহীর এসকল বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার জন্য তাদের সিরিয়াল দিতে আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন ০১৭২৩০২৫৫১৪ এই নাম্বারে।
ব্রেইন স্ট্রোক নির্ণয়ে যেসব পরীক্ষা করা হয়:
- CT Scan of Brain: দ্রুত স্ট্রোকের ধরন (ইসকেমিক না হেমোরেজিক) চিহ্নিত করতে
- MRI of Brain: আরও স্পষ্ট চিত্র ও মস্তিষ্কের ক্ষতির পরিমাণ জানতে
- Blood Pressure Measurement
- Blood Test (CBC, Glucose, Lipid Profile, Coagulation Profile)
- ECG/Echo: হৃদ্রোগ আছে কি না তা বোঝার জন্য
- Carotid Doppler Test: ঘাড়ের ধমনীতে কোনো ব্লক আছে কি না তা দেখার জন্য
ব্রেইন স্ট্রোক একটি তাৎক্ষণিক ও মারাত্মক অবস্থা। তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা। নিয়মিত প্রেসার মাপা, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম, ধূমপান বর্জন এবং স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ জানা থাকলে অনেকাংশে জীবন বাঁচানো সম্ভব।
Related Articles
Continue reading from our latest posts
Uncategorized
ক্যান্সার রোগ
Uncategorized