বাচ্চারা বিছানায় প্রস্রাব করে কেন?
বাচ্চারা বিছানায় প্রস্রাব করে কেন? • 11 Jan,2026 • 👁 606 Views
Category: শিশু স্বাস্থ্য বার্তা
বাচ্চারা কেন ঘুমের মধ্যে বিছানায় প্রস্রাব করে? কোন বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিক, কখন চিন্তার কারণ এবং কীভাবে এই সমস্যা সমাধান করবেন—অভিভাবকদের জন্য বিস্তারিত গাইড
বাচ্চাদের বিছানায় প্রস্রাব সমস্যা কতটা সাধারণ?
বাচ্চাদের বিছানায় প্রস্রাব করা একটি খুবই সাধারণ শৈশবকালীন সমস্যা, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নকটার্নাল এনিউরেসিস (Nocturnal Enuresis) বলা হয়। বিশেষ করে ৩ থেকে ৭ বছর বয়সী অনেক শিশুই ঘুমের মধ্যে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি কোনো রোগ নয়, বরং শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের একটি স্বাভাবিক অংশ। তবে বয়স বাড়ার পরও সমস্যা চলতে থাকলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।
কোন বয়স পর্যন্ত বিছানায় প্রস্রাব করা স্বাভাবিক?
সাধারণভাবে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত রাতে বিছানায় প্রস্রাব করাকে স্বাভাবিক ধরা হয়। কারণ এই বয়সের আগ পর্যন্ত অনেক শিশুর মূত্রথলি (Bladder) ও স্নায়ুতন্ত্র পুরোপুরি পরিপক্ব হয় না। তবে যদি ৬–৭ বছর বয়সের পরও নিয়মিতভাবে বিছানায় প্রস্রাব হতে থাকে, তখন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বাচ্চারা বিছানায় প্রস্রাব করে কেন?
মূত্রথলির অপরিপক্বতা
অনেক শিশুর মূত্রথলি ছোট বা দুর্বল হওয়ায় রাতে জমে থাকা প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে না। ঘুমের মধ্যে ব্লাডার পূর্ণ হলেও সঠিক সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছায় না, ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব হয়ে যায়।
গভীর ঘুমের অভ্যাস
কিছু শিশু খুব গভীর ঘুমায়। এ ধরনের শিশুরা প্রস্রাবের চাপ অনুভব করলেও ঘুম থেকে জেগে উঠতে পারে না। ফলে বিছানায় প্রস্রাব ঘটে, যদিও দিনের বেলায় তাদের কোনো সমস্যা থাকে না।
হরমোনজনিত কারণ
রাতে আমাদের শরীরে ADH (Antidiuretic Hormone) নামক একটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা প্রস্রাবের পরিমাণ কমায়। কিছু শিশুর শরীরে এই হরমোনের নিঃসরণ কম হলে রাতে বেশি প্রস্রাব তৈরি হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পারিবারিক বা জেনেটিক প্রভাব
যদি বাবা-মায়ের কেউ শৈশবে বিছানায় প্রস্রাবের সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাহলে শিশুর মধ্যেও একই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এটি একটি জেনেটিক প্রবণতা হিসেবেই ধরা হয়।
মানসিক চাপ ও আবেগজনিত কারণ
পরিবারে নতুন ভাইবোনের আগমন, স্কুলে ভর্তি, পরীক্ষার চাপ, বাবা-মায়ের ঝগড়া বা পরিবেশ পরিবর্তনের মতো মানসিক কারণেও শিশুরা আবার বিছানায় প্রস্রাব শুরু করতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation)
দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে পেটে জমে থাকা মল মূত্রথলির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে ব্লাডার স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না এবং রাতে প্রস্রাব ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়।
মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI)
কিছু ক্ষেত্রে প্রস্রাবে জ্বালা, ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ বা দুর্গন্ধ থাকলে এটি ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে, যা বিছানায় প্রস্রাবের কারণ হতে পারে।
বিছানায় প্রস্রাব করা কি কোনো রোগের লক্ষণ?
অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি কোনো রোগ নয়। তবে যদি শিশুর বয়স ৭ বছরের বেশি হয় এবং দিনে-রাতে উভয় সময় প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা হয়, ওজন কমে যায়, অতিরিক্ত পিপাসা লাগে বা প্রস্রাবে জ্বালা থাকে—তাহলে ডায়াবেটিস, ইউরিন ইনফেকশন বা স্নায়বিক সমস্যার সম্ভাবনা যাচাই করা দরকার।
বাচ্চারা বিছানায় প্রস্রাব করলে অভিভাবকদের করণীয় কী?
শিশুকে কখনোই বকা দেওয়া বা শাস্তি দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস কমে যায়। ঘুমানোর ১–২ ঘণ্টা আগে তরল পান কমাতে হবে এবং শোবার আগে অবশ্যই টয়লেটে যেতে উৎসাহ দিতে হবে। নিয়মিত ঘুমের রুটিন তৈরি করা ও কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে তা সমাধান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
যদি ৬–৭ বছর বয়সের পরও নিয়মিত বিছানায় প্রস্রাব চলতে থাকে,
যদি হঠাৎ করে আবার শুরু হয়,
যদি প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালা থাকে—
তাহলে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞ (Pediatrician) এর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি পেডিয়াট্রিক্স, ফেলো চাইল্ড নিউট্রিশন (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ
অধ্যাপক (শিশুরোগ)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ সঞ্চিতা সরকার তুলি
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (শিশুরোগ)
নবজাতক, কিশোর ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক (শিশুরোগ)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন Doctor Service BD তে
বাচ্চাদের বিছানায় প্রস্রাব করা বেশিরভাগ সময়েই স্বাভাবিক ও সাময়িক সমস্যা। ধৈর্য, সহানুভূতি ও সঠিক অভ্যাস গড়ে তুললে অধিকাংশ শিশুই ধীরে ধীরে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠে। সময়মতো সচেতন পদক্ষেপ নিলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা দুটোই বজায় রাখা সম্ভব।
বাচ্চাদের বিছানায় প্রস্রাব নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: কত বয়স পর্যন্ত বিছানায় প্রস্রাব করা স্বাভাবিক?
সাধারণত ৫ বছর বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিক ধরা হয়।
প্রশ্ন ২: বাচ্চাকে রাতে জাগিয়ে টয়লেটে নেওয়া কি ভালো?
সাময়িকভাবে উপকার হতে পারে, তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়।
প্রশ্ন ৩: এটি কি মানসিক সমস্যার লক্ষণ?
সবসময় নয়, তবে মানসিক চাপ থাকলে সমস্যা বাড়তে পারে।
প্রশ্ন ৪: ওষুধ ছাড়া কি এই সমস্যা ঠিক হয়?
হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সময়, অভ্যাস ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঠিক হয়ে যায়।
Related Articles
Continue reading in শিশু স্বাস্থ্য বার্তা
শিশু স্বাস্থ্য বার্তা
শিশু স্বাস্থ্য বার্তা
শিশু স্বাস্থ্য বার্তা
শিশু স্বাস্থ্য বার্তা