পাইলস অপারেশন কখন করতে হয়?
পাইলস্ (Hemorrhoids) এর অপারেশন কখন প্রয়োজন হয়, কী ধরনের অপারেশন করা হয়, ঝুঁকি ও সুস্থ হতে কতদিন লাগে—জানুন একজন সার্জারি বিশেষজ্ঞের বিস্তারিত গাইড।ভূমিকাপাইলস্ বা অর্শরোগ বর্তমানে অত্যন্ত সাধারণ একটি সমস্যা। অনেক রোগী দীর্ঘদিন ধরে রক্তপাত, ব্যথা বা মলদ্বার থেকে মাংসপিণ্ড বের হওয়ার সমস্যায় ভোগেন, কিন্তু অপারেশন নিয়ে ভয় বা ভুল ধারণার কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। ফলাফল—রোগ জটিল আকার ধারণ করে।পাইলস্ এর সব ক্ষেত্রে অপারেশন প্রয়োজন হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওষুধ, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসায় ভালো হওয়া সম্ভব। তবে কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় সার্জারি অপরিহার্য হয়ে পড়ে।এই ব্লগে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো—পাইলস্ কীকত প্রকারকোন অবস্থায় অপারেশন দরকারকী ধরনের অপারেশন হঅপারেশনের ঝুঁকি ও পুনরুদ্ধারপাইলস্ (Hemorrhoids) কী?পাইলস্ হলো মলদ্বার ও রেকটামের নিচের অংশের স্ফীত শিরা (Swollen veins)। এটি অনেকটা পায়ের ভেরিকোজ ভেইনের মতো, তবে অবস্থান মলদ্বারে।চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় Hemorrhoids।পাইলস্ এর প্রকারভেদপাইলস্ প্রধানত দুই ধরনের—১. অভ্যন্তরীণ পাইলস্ (Internal Hemorrhoids)রেকটামের ভেতরে থাকেসাধারণত ব্যথাহীনপ্রধান লক্ষণ রক্তপাত২. বাহ্যিক পাইলস্ (External Hemorrhoids)মলদ্বারের বাইরেব্যথা ও অস্বস্তি বেশিফোলা ও চুলকানি থাকেপাইলস্ এর গ্রেডিং (Internal Hemorrhoids Classification)গ্রেড–১শুধু রক্তপাতবাইরে আসে নাগ্রেড–২পায়খানার সময় বের হয়নিজে নিজে ঢুকে যায়গ্রেড–৩হাত দিয়ে ঢোকাতে হয়গ্রেড–৪সবসময় বাইরে থাকেঢোকানো যায় নব্যথা ও জটিলতা বেশিপাইলস্ এর অপারেশন কখন করতে হয়?সব রোগীর অপারেশন প্রয়োজন হয় না। নিচের পরিস্থিতিতে সার্জারি বিবেচনা করা হয়—১. দীর্ঘদিনের রক্তপাতযদি—বারবার রক্তপাত হয়রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়ওষুধে নিয়ন্ত্রণ না হয়তাহলে অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে২. গ্রেড–৩ বা গ্রেড–৪ পাইলস্গ্রেড–৩ ও গ্রেড–৪ অবস্থায় সাধারণত স্থায়ী সমাধানের জন্য সার্জারি সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।৩. তীব্র ব্যথা ও থ্রম্বোসিসযদি বাহ্যিক পাইলস্ এ রক্ত জমাট (Thrombosed Hemorrhoid) হয়—তীব্র ব্যথাফোলাবসতে কষ্ট তাহলে জরুরি সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে।৪. মলদ্বার থেকে স্থায়ী মাংসপিণ্ড বের হয়ে থাকাযা—ঢোকানো যায় নাসংক্রমণ হরক্তপাত অব্যাহত থাক৫. ওষুধ ও নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা ব্যর্থ হলেযেমন—ব্যান্ডিস্ক্লেরোথেরাপিইনফ্রারেড কোয়াগুলেশন এগুলো কাজ না করলে অপারেশন প্রয়োজন।পাইলস্ এর অপারেশনের ধরন১. Hemorrhoidectomyএটি প্রচলিত সার্জারি পদ্ধতি।সম্পূর্ণ পাইলস্ কেটে ফেলা হয়স্থায়ী সমাধান দেয়গুরুতর ক্ষেত্রে কার্যকর২. Stapled Hemorrhoidopexyস্ট্যাপলার ব্যবহার করেকম ব্যথাদ্রুত সুস্থ হওয়া যায়৩. Laser Surgeryআধুনিক পদ্ধতিরক্তপাত কমদ্রুত রিকভারি৪. Rubber Band Ligationছোট পাইলস্ এ কার্যকরডে-কেয়ার প্রোসিডিউরঅপারেশনের আগে কী পরীক্ষা দরকার?রক্ত পরীক্ষাHb লেভেলরক্তচাডায়াবেটিস পরীক্ষাপ্রয়োজনে কোলনোস্কোপিঅপারেশনের ঝুঁকি কী?যদিও নিরাপদ, তবুও সম্ভাব্য ঝুঁকি—রক্তপাতসংক্রমণমলদ্বারে ব্যথাসাময়িক প্রস্রাবের সমস্যা অভিজ্ঞ সার্জনের মাধ্যমে করলে ঝুঁকি কম।অপারেশনের পর কতদিনে সুস্থ হওয়া যায়?সাধারণত ২–৪ সপ্তাহব্যথা প্রথম সপ্তাহে বেশি১–২ সপ্তাহে স্বাভাবিক কাজঅপারেশনের পর করণীয়আঁশযুক্ত খাবাপ্রচুর পানিকোষ্ঠকাঠিন্য এড়ানোভারী কাজ পরিহারঅপারেশন ছাড়া কি ভালো হওয়া যায়?প্রাথমিক পর্যায়ে—আঁশযুক্ত খাবারইসবগুলসিটজ বাথওষুধ কার্যকর হতে পারে।পাইলস্ ও ক্যান্সারের পার্থক্যঅনেকেই ভয় পান—রক্তপাত মানেই ক্যান্সার।তবে মনে রাখতে হবে, সব রক্তপাত পাইলস্ নয়। সন্দেহ হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ সার্জনের পরামর্শ নিতে হবে।কখন জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তার দেখাবেন?অতিরিক্ত রক্তপাতমাথা ঘোরাঅসহনীয় ব্যথাজ্বরসহ ফোলাপাইলস্ একটি চিকিৎসাযোগ্য রোগ। ভয় বা লজ্জার কারণে চিকিৎসা দেরি করলে জটিলতা বাড়ে। সঠিক সময়ে সার্জারি করলে এটি স্থায়ীভাবে নিরাময় সম্ভব। সব ক্ষেত্রে অপারেশন প্রয়োজন হয় না, তবে নির্দিষ্ট অবস্থায় সার্জারি সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।ডাঃ এমএস রায়পাইলস্, ফিশার, ফিস্টুলা, লেজার এন্ড ল্যাপারোস্কপিক সার্জন। কনসালটেন্ট(কলোরেক্টাল, ল্যাপারোস্কপিক এন্ড জেনারেল সার্জারী)রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল
27 Feb,2026